বিশ্ব

কোলেস্টেরলের ওষুধ স্ট্যাটিন নিয়ে নতুন গবেষণায় যা জানা গেল

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

যাদের বয়স ৭৫ বছরের বেশি, আগে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হয়নি, তারা স্ট্যাটিন বন্ধ করলেও তিন বছরে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে না—এমন তথ্য উঠে এসেছে নতুন এক গবেষণায়। তবে গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ফলাফল দেখে নিজের সিদ্ধান্তে স্ট্যাটিন বন্ধ করা উচিত নয়। ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি মেইল গবেষণাটি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। 

 

গত ১১ আগস্ট গবেষণাটি দ্য ল্যানসেট হেলদি লংজেভিটি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এরপর এটি নিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল অনলাইন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। 

 

তথ্য অনুসারে, ফ্রান্সের বোর্দো বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের গবেষকেরা গড়ে ৮০ বছর বয়সী ১ হাজার ১৬০ জনকে নিয়ে গবেষণাটি করেন। অংশগ্রহণকারীদের কারও আগে হৃদ্‌রোগ বা স্ট্রোকের ইতিহাস ছিল না। তাদের একদল স্ট্যাটিন চালিয়ে যান, অন্যদল ওষুধটি বন্ধ করেন।

 

তিন বছর পর দেখা যায়, স্ট্যাটিন বন্ধ করা দলের ৭ দশমিক ২ শতাংশ মারা গেছেন। স্ট্যাটিন চালিয়ে যাওয়া দলের মৃত্যুর হার ছিল ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ দুই দলের মধ্যে মৃত্যুর হারে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া যায়নি।

 

তবে স্ট্যাটিন বন্ধ করা ব্যক্তিদের মধ্যে বড় ধরনের হৃদ্‌রোগজনিত সমস্যা কিছুটা বেশি দেখা গেছে। এ দলের ৫ শতাংশের এমন সমস্যা হয়। ওষুধ চালিয়ে যাওয়া দলের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ৪ দশমিক ৪ শতাংশ।

 

হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রেও কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়। স্ট্যাটিন বন্ধ করা দলের ২ দশমিক ১ শতাংশের হার্ট অ্যাটাক হয়। অন্যদিকে, ওষুধ চালিয়ে যাওয়া দলের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ১ দশমিক ৪ শতাংশ। স্ট্যাটিন বন্ধ করা দলের ১৪ জনের নন-ফ্যাটাল স্ট্রোক হয়, যেখানে ওষুধ চালিয়ে যাওয়া দলের ১২ জনের এমন স্ট্রোক হয়।

 

তবে গবেষকেরা জানান, এসব পার্থক্য পরিসংখ্যানগতভাবে উল্লেখযোগ্য নয়। অর্থাৎ এই গবেষণার ফল থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে স্ট্যাটিন বন্ধ করলে হৃদ্‌রোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।

 

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, স্ট্যাটিন বন্ধ করার পর রক্তে এলডিএল বা ‘খারাপ’ কোলেস্টেরলের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তিন মাসের মধ্যে স্ট্যাটিন বন্ধ করা ব্যক্তিদের গড় এলডিএল ১১৫ থেকে বেড়ে ১৭১ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারে পৌঁছায়। যারা ওষুধ চালিয়ে গেছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই মাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত ছিল।

 

স্ট্যাটিন মূলত রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমিয়ে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে ব্যবহার করা হয়। যুক্তরাজ্যে প্রায় ৮০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক এই ওষুধ গ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে প্রায় ১৫ লাখের বয়স ৭৫ বছরের বেশি।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গবেষণাটি ছোট পরিসরে হওয়ায় এর ফল সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। বিশেষ করে যাদের আগে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা অন্য কোনো হৃদ্‌রোগ হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই গবেষণার ফল প্রযোজ্য নয়।

 

শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজির অধ্যাপক রবার্ট স্টোরি বলেন, গবেষণার ফল দেখে ৭৫ বছরের বেশি বয়সী অধিকাংশ স্ট্যাটিন ব্যবহারকারীর ওষুধ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।

 

ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রধান বৈজ্ঞানিক ও চিকিৎসা কর্মকর্তা ব্রায়ান উইলিয়ামসও সতর্ক করে বলেছেন, এই গবেষণা স্ট্যাটিনের উপকারিতা শেষ হয়ে গেছে—এমন প্রমাণ নয়। বরং কারও স্ট্যাটিন বন্ধ বা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করেই নেওয়া উচিত।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

১৭ বছর পর ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় চালু করছে ভেনেজুয়েলা

দীর্ঘ ১৭ বছর পর ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় চালু করতে সম্মত হয়েছে ভেনেজুয়েলা। একই সঙ্গে দুই দেশ কারিগরি সহযোগিতাও চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।   মঙ্গলবার ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।   ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজ ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন।   সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর ইসরাইল দেশটিতে উদ্ধারকর্মী ও মানবিক সহায়তা পাঠায়। এরপর দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ে।   ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফেলিক্স প্লাসেনসিয়া জানান, ভূমিকম্পের পর শুরু হওয়া জরুরি সহায়তা ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে দুই দেশ কারিগরি সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি কনস্যুলার সেবা চালুর জন্য একটি সমন্বয় ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হবে।   ভেনেজুয়েলায় প্রায় ৬ হাজার ইহুদি বসবাস করেন। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট শাভেজ ও তার উত্তরসূরি নিকোলাস মাদুরো দীর্ঘদিন ইসরাইলের নীতির বিরোধিতা করে আসছিলেন এবং ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ১২, ২০২৬

কোলেস্টেরলের ওষুধ স্ট্যাটিন নিয়ে নতুন গবেষণায় যা জানা গেল

আফগান গোয়েন্দা সংস্থার হাতে জাতিসংঘের দুই কর্মী আটক

গোমূত্র কিনছে যোগী সরকার, সমালোচনায় বিরোধীরা

ইরানের পরমাণু স্থাপনায় ‘রেকি’ করার দাবি সাবেক মোসাদ প্রধানের

  ইরানের ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনায় ‘অনেকবার’ গিয়েছিলেন ইসরায়েলের গোয়েন্দারা। ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সাবেক প্রধান ইয়োসি কোহেন এমন দাবি করেছেন। খবর সিবিএস নিউজের।   স্থানীয় কর্তৃপক্ষগুলোর একটি সম্মেলনে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) তিনি বলেন, স্থাপনাটি সম্পর্কে ভালোভাবে বোঝার জন্য আমরা ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনাটি অনেকবার পরিদর্শন করেছি।   তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ কোহেন ঠিক কখন এসব সফর হয়েছিল বা কারা সেখানে গিয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।   গত বছরের জুনে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে ইসরায়েল। তাদের ঘোষিত লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে দুর্বল করা।   ১২ দিনব্যাপী ওই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীও স্বল্প সময়ের জন্য ইসরায়েলের সঙ্গে যোগ দেয়। এসময় যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত বিমান ব্যবহার করে ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানে অবস্থিত ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালানো হয়।   সে সময় হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা সিবিএস নিউজকে বলেছিলেন, হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সতর্ক করেছিল।   কোহেন বলেন, আমেরিকানদের ওই স্থাপনায় বোমা হামলা ছিল আমার সব স্বপ্নের পূরণ।   ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরে দেশটির সঙ্গে পশ্চিমাদের মধ্যে বিরোধের একটি প্রধান কারণ হয়ে আছে। পশ্চিমাদের অভিযোগ পরমাণু অস্ত্র বানানোর চেষ্টা করছে তেহরান। তবে ইরান বার বার এমন দাবি নাকচ করে দিয়েছে।   প্রসঙ্গত, ২০১৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত মোসাদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন কোহেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ১২, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে প্রথম দেশ হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বাতিল করল লেবানন

সংগৃহীত ছবি

দক্ষিণ আফ্রিকায় অবৈধ খনি ধসে ১৪ শ্রমিকের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

আবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করল উত্তর কোরিয়া

ফাইল ছবি
হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তা: বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় লাফ

মধ্যপ্রাচ্যে জাহাজের ওপর হামলার জেরে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর আলোচনা সফল হওয়ার বিষয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। আর এর প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে, একলাফে অনেকটাই বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। বুধবার (১২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। জানা গেছে, অক্টোবরে সরবরাহের জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দাঁড়িয়েছে ৮৯ দশমিক ৬১ ডলারে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের তুলনায় যা প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি। সিডনিভিত্তিক অস্ট্রেলিয়ার প্রতিষ্ঠান কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটেরার বলেন, বাজার এখনো চুক্তির ব্যাপারে পুরোপুরি আশা হারায়নি, তবে মানুষের আস্থা যে স্পষ্টতই কমছে, তা বলা যায়। ওয়াটেরার আরও বলেন, দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি ছাড়া আলোচনা যত দীর্ঘায়িত হবে এবং দাবিগুলো যত জটিল হবে, দ্রুত কোনো কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে সংশয় ততই বাড়বে। মাসের শুরুর দিকে যে আশাবাদ ছিল, তা ধীরে ধীরে আরও সতর্ক এবং ঝুঁকি-নির্ভর অবস্থানের দিকে সরে যাচ্ছে। যুদ্ধের আগে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে হতো। এটি পুনরায় চালুর বিষয়ে চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে মিশ্র সংকেত আসায় গত এক সপ্তাহে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দেখা গেছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমান ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দোহা চায় ‘যত দ্রুত সম্ভব’ এই জলপথ খুলে দেওয়া হোক। অন্যদিকে তেহরান বলেছে, ওমানের সঙ্গে তাদের আলোচনাকে প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার ইস্যু থেকে আলাদা হিসেবে দেখছে তারা। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং অবরোধ তুলে নেওয়ার মতো নির্দিষ্ট কিছু শর্তে রাজি না হওয়া পর্যন্ত এটি বন্ধই থাকবে। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, প্রণালিটির ওপর ওয়াশিংটনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে; যদিও যুদ্ধের আগের তুলনায় বর্তমানে সেখানে জাহাজ চলাচলের মাত্রা একেবারেই নগণ্য। সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা উইন্ডওয়ার্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার মাত্র ১০টি জাহাজ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ অতিক্রম করেছে, যেখানে যুদ্ধের আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩০টি জাহাজ চলাচল করত। মঙ্গলবার প্রকাশিত সর্বশেষ বাজার পূর্বাভাসে যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বলেছে, ২০২৭ সালের শুরুর দিকের আগে মধ্যপ্রাচ্যে তেল উৎপাদন যুদ্ধপূর্ববর্তী অবস্থার কাছাকাছি ফেরার কোনো সম্ভাবনা তারা দেখছে না। এ ছাড়া ২০২৬ সালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম গড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৭ ডলার হতে পারে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক স্পার্টা কমোডিটিজের জ্যেষ্ঠ তেল বাজার বিশ্লেষক জুন গোহ বলেন, হরমুজ প্রণালির উভয় দিকে স্বাভাবিক চলাচল শুরু হলেই কেবল ওপেকের ক্রুড উৎপাদন বাড়তে পারে। তিনি আরও বলেন, কূটনৈতিক আলোচনায় নতুন করে আশার আলো না দেখা গেলে তেলের দাম মৌলিকভাবে ব্যারেলপ্রতি ৮৫ থেকে ৯০ ডলারের স্তরেই অবস্থান করবে। কারণ এখন পর্যন্ত এই আলোচনার খুব একটা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। সূত্র: আলজাজিরা

মারিয়া রহমান আগস্ট ১২, ২০২৬

ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় গত বছর ১৫৩ বেসামরিক নাগরিক নিহত: পেন্টাগন

ইসরায়েল নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিলো ভেনেজুয়েলা

মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম দেশ হিসেবে যে নজির গড়ল লেবানন

0 Comments