নতুন এক রাজনৈতিক অধ্যায়ে পদার্পণ করেছে বাংলাদেশ। বদলে যাওয়া রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করেছে বিএনপি। দলটির এই বিজয়ের কান্ডারী তারেক রহমান আজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
মঙ্গলবার বিকেলে বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এর আগে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন।
দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামের অগ্রসেনানী হিসেবে পরিচিত তারেক রহমান গত প্রায় দুই দশক ধরে লন্ডনে নির্বাসিত জীবনে থেকেও অত্যন্ত দূরদর্শী ও উদ্ভাবনী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন।
দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ এবং তা সুচারুভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁর যে পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে, তা এখন আরও স্পষ্ট। বিশেষ করে বৃহত্তর জাতীয় সংহতি প্রতিষ্ঠা এবং দেশের গণতন্ত্রের গতিপথ সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে তাঁর জোরালো ও গতিশীল তৎপরতা সেই সক্ষমতারই বহিঃপ্রকাশ।
রাজনৈতিক লড়াইয়ের অংশ হিসেবে তিনি নিজেকে দেশের ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে স্থাপন করেছেন। তিনি বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জামায়াতের নির্বাচনী মিত্র ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসভবনে গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
২০০৮ সাল থেকে প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থান করলেও নিজের প্রজ্ঞাসম্পন্ন নেতৃত্বের মাধ্যমে তারেক রহমান কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি নিজেকে নিয়ে এসেছেন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।
গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরলে তাঁকে এক বিশাল গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়। এর মাত্র কয়েক দিন পর ৩০ ডিসেম্বর তাঁর মা, মুসলিম বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির দীর্ঘদিনের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। তাঁর প্রয়াণের পর দলটির পক্ষ থেকে তারেক রহমানের ওপর চেয়ারম্যানের গুরুদায়িত্ব অর্পণ করা হয়।
আর গত বৃহস্পতিবারের (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলকে এক ঐতিহাসিক বিজয় এনে দিয়ে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন তারেক রহমান।
স্বল্পভাষী অথচ দৃঢ়প্রত্যয়ী এই নেতা দেশের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছেন। প্রতিহিংসা আর প্রতিশোধের রাজনীতির পরিবর্তে তিনি জাতীয় ঐক্য এবং সমঝোতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
নির্বাচনের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমাদের পথ ও মত ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে আমাদের এক থাকতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি, আর বিভাজনই আমাদের দুর্বলতা।’
তারেক রহমানের শৈশব ও কৈশোর-
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। দেশের গণতন্ত্র আর স্বাধীনতার লড়াইয়ের সেই উত্তাল দিনগুলোতে ঢাকায় তাঁর শৈশব ও কৈশোর কেটেছে।
এ দেশের রাজনীতির নানা চড়াই-উতরাইয়ের সাক্ষী তারেক রহমান। এমনকি মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালেও মা ও প্রয়াত ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর সঙ্গে তিনি কারাবন্দি ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে তিনি ছিলেন অন্যতম কনিষ্ঠ রাজনৈতিক বন্দি।
তাঁর পিতা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর নিশ্চিত ক্যারিয়ার ছেড়ে দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে একজন শীর্ষ সামরিক নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন।
শিক্ষা জীবন-
তারেক রহমান ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ থেকে মাধ্যমিক এবং আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। এরপর ১৯৮৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন; প্রথমে আইন বিভাগ এবং পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে পড়াশোনা করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক প্রজ্ঞা জন্মগত। তিনি দেখেছেন সত্তরের দশকের শেষের দিকে কীভাবে তাঁর বাবা রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেশ পরিচালনা করেছেন এবং বিএনপি গঠন করেছেন। তখন থেকেই রাজনীতির খুব কাছ থেকে বেড়ে উঠেছেন তিনি।
একইভাবে আশির দশকের পুরোটা সময়জুড়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর মায়ের আপসহীন নেতৃত্ব এবং সেই উত্তাল সংগ্রামের পর ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির বিশাল জয় তারেক রহমান খুব কাছ থেকে দেখেছেন। সেই বিজয়ের মধ্য দিয়েই বেগম খালেদা জিয়া প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই তারেক রহমান সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হন। তখন থেকেই তৃণমূলের সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেলামেশার মাধ্যমে তিনি রাজনীতির হাতেখড়ি ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
তাঁর শিক্ষা জীবনে তিনি সক্রেটিস, প্লেটো, অ্যারিস্টটল, হবস, লক, রুশো, ভলতেয়ার এবং কার্ল মার্কসের মতো বিশ্বখ্যাত রাজনৈতিক দার্শনিকদের কাজের সঙ্গে পরিচিত হন, যা তাঁর রাজনৈতিক চিন্তাধারাকে সমৃদ্ধ করেছে।
পরবর্তীতে ১৯৮৮ সালে নিজ জেলা বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতি শুরু করেন।
আলোচনায় আসা ও সাংগঠনিক দক্ষতা-
১৯৯১ সালের নির্বাচনে মায়ের সঙ্গে দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে তারেক রহমান দেশবাসীর নজরে আসেন।
পরবর্তীতে তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে তিনি এক অভিনব ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। জেলা পর্যায়ে দলীয় নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে তিনি গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার পদ্ধতি চালু করেন, যা ছিল অত্যন্ত আধুনিক ও গণতান্ত্রিক।
২০০১ সালে তিনি রাজধানীতে একটি কার্যালয় গড়ে তোলেন, সেখান থেকে বুদ্ধিজীবী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সুশাসন এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার ওপর গবেষণা চালানো হতো। তাঁর এই সুচিন্তিত পরিকল্পনা ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির বিশাল বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
দলের চেয়ারপার্সন এবং প্রধানমন্ত্রীর সন্তান হওয়া সত্ত্বেও তারেক রহমান কোনো ক্ষমতার মোহে পড়েননি। তিনি সরকারি কোনো পদ বা সংসদ সদস্য হওয়ার চেয়ে সারা দেশের তৃণমূল পর্যায়ে দলকে শক্তিশালী করতেই বেশি মনোযোগী ছিলেন।
তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে ২০০২ সালে বিএনপি তাঁকে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব দেয়। এই পদে থেকে তিনি সারা দেশে তৃণমূল পর্যায়ে সম্মেলন আয়োজন করেন, যা তাঁকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি মেশার সুযোগ করে দেয়।
দলীয় সূত্র ও তাঁর সহকারীদের মতে, ওই সময় বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে আসা ১৮ হাজারেরও বেশি চিঠির উত্তর দেন তিনি।
জনগণের সঙ্গে এই নিবিড় যোগাযোগের সময় তিনি কৃষকদের জন্য ভর্তুকি, বয়স্ক ভাতা এবং পরিবেশ সুরক্ষার মতো জনকল্যাণমূলক নানা উদ্যোগের প্রচার চালান। এ ছাড়া সমাজে নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে ছাত্রীদের জন্য উপবৃত্তি চালু করার ক্ষেত্রেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
ব্যক্তিগত জীবন-
ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৯৪ সালে তিনি হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জুবাইদা রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ডা. জুবাইদা সাবেক নৌবাহিনী প্রধান ও মন্ত্রী রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের কন্যা। এই দম্পতির একমাত্র সন্তান জাইমা রহমান বর্তমানে একজন ব্যারিস্টার এবং পেশাদার আইনজীবী।
২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ায় ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর অকাল মৃত্যু এবং দীর্ঘ সময় ধরে দেশের মানুষের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকারের অভাব, তারেক রহমানকে আরও বেশি মানবিক ও সংবেদনশীল নেতা হিসেবে গড়ে তুলেছে।
রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রাম-
২০০৭ সালের ৭ মার্চ কোনো পূর্ব নোটিশ বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই তৎকালীন সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার তারেক রহমানকে আটক করে। টানা ১৮ মাস তিনি বন্দি জীবন কাটান। ওই সময় রিমান্ডে থাকা অবস্থায় তাঁর ওপর চালানো হয় অমানুষিক ও পাশবিক নির্যাতন।
শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি হলে ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তৎকালীন পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মুক্তি পান। এর এক সপ্তাহ পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি বিদেশে যান।
কারাগারের সেই তিক্ত ও দুঃসহ অভিজ্ঞতা তাঁর মনোবল ভাঙতে পারেনি; বরং তা দেশ ও দলের প্রতি তাঁর অঙ্গীকার আর নৈতিক সাহসকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।
তারেক রহমানের দূরদর্শী রাজনৈতিক চিন্তা এখন কেবল দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সমাদৃত। তিনি ইতোমধ্যেই দেশের রাজনীতিবিদদের প্রতি প্রতিহিংসা আর সংঘাতের পথ পরিহার করার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।
লন্ডনে দীর্ঘ নির্বাসিত জীবনে তিনি দেশের ভবিষ্যতের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন। পাশাপাশি ভার্চুয়াল সভার মাধ্যমে নিজের ও দলের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।
বিশেষ করে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি এই কার্যক্রম এবং জনসম্পৃক্ততা আরও জোরদার করেন।
তারেক রহমান দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া, রাষ্ট্র সংস্কার, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং ভেঙে পড়া অর্থনীতি পুনর্গঠনের জন্য লড়াই করেন। এছাড়া শিক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ নির্বিশেষে সমাজে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করা তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
বাংলাদেশের হারানো গণতন্ত্র উদ্ধারের আন্দোলনে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁরই দিকনির্দেশনায় ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের প্রতিটি বড় আন্দোলনে বিএনপির লাখ লাখ নেতাকর্মী রাজপথে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
ছাত্র-জনতার সেই অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটে এবং তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।
স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে তারেক রহমানের পিতা এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এক অনন্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। ১৯৭৫ সালের একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল বাংলাদেশের দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি দেশে আবার বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন।
ঐতিহ্য ও রূপকল্প-
তারেক রহমানের মায়ের প্রধানমন্ত্রিত্বের সময়েই ১৯৯১-১৯৯৬ মেয়াদে বাংলাদেশে পুনরায় সংসদীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়।
বাবার আদর্শ আর মায়ের দেখানো পথ অনুসরণ করে তারেক রহমান সবসময়ই দলের মূল গণতান্ত্রিক নীতিতে অবিচল থেকেছেন। জনগণের মৌলিক অধিকার- অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা এবং ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তিনি নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন।
২০২৩ সালে তারেক রহমান দেশের ভবিষ্যৎ শাসনকাঠামো নিয়ে বিএনপির ‘৩১ দফা’ রূপরেখা ঘোষণা করেন, যা মূলত বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
এই রূপরেখায় রয়েছে দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট সংসদ, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা এবং সংবিধানে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মেয়াদসীমা, মানবাধিকার সুরক্ষা, বেকার ভাতা প্রদান, পরিবারবান্ধব নীতি এবং ব্রিটিশ মডেলে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার মতো আধুনিক ও জনবান্ধব সব পরিকল্পনা এতে তুলে ধরা হয়েছে।
বর্তমানে এই ‘৩১ দফা’ কর্মসূচিই রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে বিএনপির প্রধান নির্দেশিকা বা গাইডলাইন হিসেবে কাজ করছে।
সাহস ও প্রেরণার প্রতীক-
তারেক রহমানের জীবন ধৈর্য, তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং নীতিবান রাজনীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর মানবিক নেতৃত্ব আজ অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা।
১৯৮৮ থেকে ২০২৫- এই দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রায় তিনি বারবার কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। কিন্তু ধৈর্য, সহনশীলতা আর কৌশলগত সাংগঠনিক দক্ষতার মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন। নৈতিকতা, সহানুভূতি এবং আধুনিক ভিশনের এক বিরল সমন্বয়ই তাঁকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
তাঁর সুশৃঙ্খল জীবন এবং বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ার আদর্শিক নেতৃত্ব ও জনসেবার এক অনন্য শিক্ষা দেয়। দৃঢ় সংকল্প আর একাগ্রতা কীভাবে রূপান্তরমূলক পরিবর্তন আনতে পারে, তাঁর জীবনই তার প্রমাণ। বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি আজ এক অনিবার্য ও অবিচ্ছেদ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজের স্থান সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই ২০২৪-এ সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৮০টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি মামলার রায় দেওয়া হয়েছে। এসব মামলায় মোট আসামি ৪৬৩ জন। তাদের মধ্যে ১৭৪ জন গ্রেপ্তার হলেও ২৮৮ জন এখনো পলাতক। রবিবার (২১ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, দায়ের হওয়া ৮০ মামলার মধ্যে ৭৩টির কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ২২টি মামলা সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে এবং ৫১টি মামলা তদন্তাধীন। নিষ্পত্তি হওয়া সাতটি মামলায় মোট ৫৯ জন আসামিকে সাজা দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া একজন আসামি মারা গেছেন এবং একজন খালাস পেয়েছেন। সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী সংসদে জানান, দেশের বিভাগভিত্তিক হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। মন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ১০০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের স্থায়ী আসন রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত। তবে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে প্রধান বিচারপতি প্রয়োজনবোধে দেশের যেকোনো স্থানে হাইকোর্ট বিভাগের অধিবেশন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করতে পারেন। ঢাকার বাইরে সুপ্রিম কোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি ইতোমধ্যে আপিল বিভাগে নিষ্পত্তি হয়েছে। ‘আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বনাম বাংলাদেশ’ মামলায় আপিল বিভাগ ঢাকার বাইরে সুপ্রিম কোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ প্রতিষ্ঠাকে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে ঘোষণা করেছে। সরকারি আইনি সহায়তা কার্যক্রম আরো সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা’কে ‘বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর’-এ উন্নীত করা হয়েছে বলে সংসদে জানান আইনমন্ত্রী। কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, গত ৯ এপ্রিল ‘আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ পাসের মাধ্যমে এই রূপান্তর সম্পন্ন হয়েছে। আইনমন্ত্রী বলেন, নতুন কাঠামোর ফলে ঢাকার বাইরে অধিদপ্তরের শাখা কার্যালয় স্থাপন এবং মহানগর থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত আইনি সেবা সম্প্রসারণের আইনি ভিত্তি তৈরি হয়েছে। জনবল বৃদ্ধির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। আইনমন্ত্রী আরো জানান, সরকার নির্ধারিত ফি তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেক দক্ষ আইনজীবী লিগ্যাল এইডের প্যানেলভুক্ত হতে আগ্রহী হন না। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার ইতোমধ্যে প্যানেল আইনজীবীদের ফি ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে। ভবিষ্যতে তা আরো যৌক্তিক পর্যায়ে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনি সহায়তা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে সরকার ও ইউএনডিপির যৌথ উদ্যোগে ডিজিটাল লিগ্যাল এইড প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ ছাড়া উঠান বৈঠক, গণশুনানি, পথনাটক, সেমিনার ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে সরকারি আইনি সহায়তা কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা হচ্ছে। তবে সরকারি লিগ্যাল এইড সেবার সঙ্গে বেসরকারি এনজিওগুলোর ডিজিটাল সমন্বয়ে কিছু কারিগরি ও আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, তথ্য ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহির কাঠামোগত পার্থক্য, সমন্বিত ডেটা-শেয়ারিং নীতিমালার অভাব এবং ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ। এসব বাধা দূর করে একটি সমন্বিত ও নিরাপদ ডিজিটাল লিগ্যাল এইড ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।
দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজানুর ইসলামকে (৪০) জামিন দিয়েছে আদালত। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। রোববার (২১ জুন) বেলা পৌনে ১২টায় বগুড়ার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের সদর আমলি আদালতের বিচারক মেহেদী হাসান পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল হওয়া পর্যন্ত তার এই জামিন মঞ্জুর করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী তানজিম আল মিসবাহ জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে বগুড়া জেল সুপার মো. আসাদুর রহমান বলেন, জামিন সংক্রান্ত কোনো কাগজ এসে পৌঁছায়নি। জেল কোড অনুযায়ী, জামিনের কাগজ এলে কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেয়া হবে। রেজানুর ইসলামের আইনজীবী তানজিম আল মিসবাহ বলেন, ভুল বোঝাবুঝির জেরে এই মামলাটি দায়ের হয়েছিল। উভয়পক্ষই বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন এবং খুব শিগগিরই বিষয়টি নিজেদের মধ্যে মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে গাজীপুরের গাছা থানার বোর্ডবাজার এলাকা থেকে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ রেজানুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন শুক্রবার (১৯ জুন) আদালতের মাধ্যমে তাকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে গত ১৭ জুন বগুড়া সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন বগুড়া প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ তানভীর আলম রিমন। মামলায় পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশকসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়। পরে সদর থানা মামলাটি সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর বিভিন্ন ধারায় রেকর্ড করে তদন্তের দায়িত্ব দেয় ডিবি পুলিশকে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের প্রকাশক ও সম্পাদক মেহেদী হাসান, বার্তা সম্পাদক আশরাফ আলী ফারুকী, প্রতিবেদক সালেহ কায়সার, বগুড়া প্রতিনিধি মো. শামস ও জেলা প্রতিনিধি সাব্বির হাসান। মামলার আরজিতে বাদী উল্লেখ করেন, গত ১২ জুন বগুড়া প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেয়া হয়। এছাড়া গত ১৩ জুন প্রধানমন্ত্রীর জেলা সফরকে কেন্দ্র করে প্রতিমন্ত্রীকে জড়িয়ে উসকানিমূলক ও মানহানিকর মন্তব্য ছড়ানো হয়। কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব তথ্য প্রচার করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন ব্যক্তির নামে থাকা বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আদালতের নির্দেশে ২০২৫ সাল নাগাদ দেশে-বিদেশে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দের আদেশ থাকলেও, এর ৮০ শতাংশ স্থাবর সম্পদে রিসিভার নিয়োগ দিতে ব্যর্থ হয়েছে সংস্থাটি। ফলে মালিকানা কাগজে-কলমে অবরুদ্ধ থাকলেও অভিযুক্তরাই কৌশলে এসব সম্পদের সুবিধা ভোগ করছেন। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী গুলশান-২-এর ৭১ নম্বর সড়কে ‘ইস্টার্ন হারমোনি’ ভবনের একটি ফ্ল্যাটের মালিক ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক। ২০২৫ সালে আদালত এটি জব্দের আদেশ দিলেও সেখানে এখনও রিসিভার নিয়োগ করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে সেগুনবাগিচায় শেখ রেহানার নামে থাকা একটি ফ্ল্যাট জব্দের নির্দেশ থাকলেও এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তা বুঝে নিতে পারেনি দুদক। দুদকের নথি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মোট ৪০ হাজার কোটি টাকার সম্পদের মধ্যে দেশে রয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ৬ হাজার ১৩৭ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের স্থাবর সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে। তবে এই বিপুল সম্পদের সিংহভাগেরই রিসিভার নিয়োগ প্রক্রিয়া ঝুলে আছে। ফলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবার, এস আলম গ্রুপ, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান জাবেদসহ আওয়ামী লীগ আমলের সুবিধাভোগীরা এখনও এসব সম্পদের সুফল পাচ্ছেন। দুদকের উপ-পরিচালক আকতারুল ইসলাম জানান, আদালতের আদেশের পর অনুসন্ধানী কর্মকর্তা অনুমতি নিয়ে রিসিভার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেন। তবে মাঠপর্যায়ে সম্পদ বুঝে নেওয়ার ক্ষেত্রে লোকবলের অভাব ও সময়সাপেক্ষ তদন্ত প্রক্রিয়াকে বড় বাধা হিসেবে দেখছেন দুদকের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘নথিপত্র সংগ্রহ ও বিভিন্ন দপ্তরে তদন্তের জন্য প্রচুর সময়ের প্রয়োজন হয়। লোকবল সংকটের কারণে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ দ্রুত করা যাচ্ছে না।’ তবে এই যুক্তি মানতে নারাজ দুদকের সাবেক মহাপরিচালক মঈদুল ইসলাম। তার মতে, দুদকের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতার ঘাটতিই এই ব্যর্থতার প্রধান কারণ। তিনি বলেন, ‘সম্পদ থেকে অর্জিত আয় রিসিভারের কাছে জমা হওয়ার কথা। কিন্তু দুদক আবেদন করে সেই নিয়ন্ত্রণ না নেওয়ায় মূল অভিযুক্তরাই সম্পদ ভোগ করছেন।’ অবশ্য ধীরগতির মধ্যেও সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদসহ কয়েকজন প্রভাবশালীর সম্পদে রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে অর্থ জমা হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন ও সম্পদ সরকারি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুদককে আরও সক্রিয় ও কৌশলী হতে হবে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুর্নীতির অভিযোগে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নামে থাকা বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দের আদেশ দেয় আদালত। নিয়ম অনুযায়ী, এসব সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ ও আয় সংগ্রহের জন্য রিসিভার নিয়োগ করার কথা থাকলেও প্রশাসনিক ও আইনি দীর্ঘসূত্রতার কারণে তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। ফলে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন হওয়ার কথা থাকলেও সম্পদগুলো বাস্তবে পূর্বতন মালিকদের হাতেই থেকে যাচ্ছে।