হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে যাত্রীসেবা দিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি দ্বিতীয় আরেকটি গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অপারেটর নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। দেশের অন্যতম লাভজনক এই এভিয়েশন ব্যবসায় প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্তকে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, তৃতীয় টার্মিনাল থেকে চলাচলকারী এয়ারলাইন্সগুলো যাত্রী-সংক্রান্ত গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবার জন্য বিমান অথবা অন্য একটি অপারেটরকে বেছে নিতে পারবে। তবে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের কাজ এককভাবে বিমানের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কর্মকর্তারা জানান, গত ৩-৪ জুন বেবিচক ও তৃতীয় টার্মিনালের সামগ্রিক পরিচালনার দায়িত্ব নিতে যাওয়া জাপানি কনসোর্টিয়ামের মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
'যাত্রীসেবার জন্য দ্বিতীয় একটি গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অপারেটর নিয়োগ করা হবে। তবে নতুন টার্মিনালের কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের বিষয়টি এককভাবে বিমানের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে,' বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক টিবিএসকে বলেন।
এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে টার্মিনালটির যাত্রী ও কার্গো—উভয় সেবার জন্যই দ্বিতীয় অপারেটর নিয়োগ করা হবে বলে আগে যে ধারণা করা হচ্ছিল, তা থেকে সরে আসা হলো। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবার মান ও দক্ষতার অভাবের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর সমালোচনার মুখে পড়ছে বিমান।
বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশ করতে ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যের মেঞ্জিস অ্যাভিয়েশন, তুরস্কের চেলেবি অ্যাভিয়েশন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডনাটা, সুইজারল্যান্ডের সুইসপোর্টসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কোম্পানি আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
গত কয়েক মাসে কূটনীতিক ও কোম্পানির প্রতিনিধিরা লবিং তৎপরতা জোরদার করেছেন। নিজ নিজ দেশের কোম্পানিগুলোর পক্ষে কথা বলতে সংশ্লিষ্ট দেশের রাষ্ট্রদূতরা বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম এবং প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। চলতি মাসের শুরুর দিকে বিমান চলাচলমন্ত্রী লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে মেঞ্জিস অ্যাভিয়েশনের কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শনে যান।
সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করবে জাপানি কনসোর্টিয়াম
বেবিচক সূত্র জানায়, সম্ভাব্য দ্বিতীয় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলারদের সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করবে জাপানি কনসোর্টিয়াম। সেখান থেকে চূড়ান্ত বাছাই করবে বাংলাদেশ।
নাম না প্রকাশের শর্তে বেবিচকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা টিবিএসকে বলেন, 'জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী একাধিক কার্গো হ্যান্ডলার রাখার সুযোগ নেই।'
তিনি কর্মকর্তা বলেন, বিদ্যমান কার্গো টার্মিনালের সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ করা হলে ভবিষ্যতে দ্বিতীয় কার্গো হ্যান্ডলার নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, 'জাপানি পক্ষ সম্ভাব্য অপারেটরদের সংক্ষিপ্ত তালিকা দেবে। এরপর সংশ্লিষ্ট তাদের যোগ্যতা, লাইসেন্স, সরঞ্জাম ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা মূল্যায়ন করে কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে।'
জাতীয় নিরাপত্তা ও পরিচালনার মান পর্যালোচনা করা হবে
বেবিচক ও জাপানি কনসোর্টিয়ামের মধ্যে ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব ভাগাভাগি নিয়ে মতবিরোধের কারণে তৃতীয় টার্মিনাল প্রায় ১৮ মাস ধরে অলস পড়ে আছে। এই কনসোর্টিয়ামে রয়েছে জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিতোমো কর্পোরেশন, নিপ্পন কোয়েই ও নারিতা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট কর্পোরেশন।
বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কয়েক দফা আলোচনার মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান করা হয়েছে।
কনসোর্টিয়াম-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, 'সম্ভাব্য গ্রাউন্ড হ্যান্ডলারদের তালিকা থেকে বেবিচক মূলত দুটি বিষয় খতিয়ে দেখবে: জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের দৃষ্টিকোণ থেকে কোম্পানিটি গ্রহণযোগ্য কি না, আর তাদের পরিচালনার মান কেমন।'
চলতি মাসের শুরুর দিকে প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত বলেছিলেন, এ বছরের ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি সই হতে পারে। এছাড়া আগামী ১৬ ডিসেম্বর অথবা ২০২৭ সালের শুরুর দিকে টার্মিনালটি চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে বিমানের লাভজনক ব্যবসা
গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং প্রধানত যাত্রী ও কার্গো সেবা—এই দুই ভাগে বিভক্ত। যাত্রী হ্যান্ডলিংয়ের মধ্যে রয়েছে বোর্ডিং, ব্যাগেজ ও উড়োজাহাজের সহায়তামূলক কার্যক্রম।
ঢাকা বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন রাগীব সামাদ টিবিএসকে বলেন, মোট কাজের প্রায় ৭৫ শতাংশই যাত্রীকেন্দ্রিক, বাকি ২৫ শতাংশ কার্গো-সংক্রান্ত।
গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং বিমানের অন্যতম লাভজনক খাত। এখান থেকে তাদের বছরে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা আয় হয়। এয়ারলাইন্সগুলো প্রতিটি ফ্লাইটের জন্য বিমানকে ২ হাজার ২০০ থেকে ৬ হাজার ডলার ও কার্গোর ক্ষেত্রে কেজিতে ০.০৭ ডলার দেয়।
তা সত্ত্বেও সেবার মান নিয়ে বিমানকে ক্রমাগত সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। সেবার মান উন্নত করতে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো দীর্ঘদিন ধরে দ্বিতীয় একটি গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছিল।
৩৮টি বিদেশি এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন এয়ারলাইন্স অপারেটরস কমিটি ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই দাবি উত্থাপন করে।
তাদের এই দাবি এখন আংশিকভাবে পূরণ হতে চলেছে। কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের একক নিয়ন্ত্রণ বিমানের হাতেই থাকছে, তবে যাত্রীসেবার ক্ষেত্রে এয়ারলাইন্সগুলো নিজেদের পছন্দমতো অপারেটর বেছে নিতে পারবে।
বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো এত আগ্রহী কেন
ঢাকা বিমানবন্দর বর্তমানে বছরে প্রায় ৮০ লাখ যাত্রী ও ২ লাখ ৫০ হাজার টন কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে সক্ষম।
৫ লাখ ৪২ হাজার বর্গমিটার আয়তনের তৃতীয় টার্মিনাল এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যা বছরে আরও ১ কোটি ২০ লাখ থেকে ১ কোটি ৬০ লাখ যাত্রী এবং প্রায় ৫ লাখ টন পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের বাড়তি সক্ষমতা যোগ করবে।
খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্রমাগত যাত্রীসংখ্যা বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক অপারেটরদের কাছে এদেশের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ব্যবসা দিন দিন আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
বিমানবন্দরের তথ্যমতে, ২০২৩ সালে যেখানে যাত্রীসংখ্যা ছিল ১ কোটি ১৭ লাখ ও ২০২৪ সালে ১ কোটি ২৫ লাখ, সেখানে ২০২৫ সালে ঢাকা বিমানবন্দর ১ কোটি ২৭ লাখ ২০ হাজার যাত্রী হ্যান্ডল করেছে। মোট যাত্রীর মধ্যে ১ কোটি ৩ লাখ ১২ হাজার ছিলেন আন্তর্জাতিক রুটের এবং ২৪ লাখ ১১ হাজার ছিলেন অভ্যন্তরীণ রুটের।
বিমানের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সদস্য কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইএটিএ) প্রক্ষেপণ অনুসারে, আগামী এক দশকের মধ্যে ঢাকার যাত্রী চলাচল প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ২ কোটি ৫০ লাখে পৌঁছাতে পারে।
তিনি টিবিএসকে বলেন, 'বিশ্বের অধিকাংশ দেশে একাধিক গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এজেন্ট কাজ করে। এতে প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হয়, সেবার মান উন্নত হয় ও এয়ারলাইন্সগুলোও পছন্দমতো সেবাদাতা বেছে নেওয়ার সুযোগ পায়া। যাত্রীরাও সুফল পান।'
বিদেশি গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার বাছাইয়ের বিষয়ে ওয়াহিদুল আলম বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনার চেয়া যোগ্যতা ও পরিচালনগত সক্ষমতাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, যোগ্য অপারেটরদের সংক্ষিপ্ত তালিকা করার পর উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে চূড়ান্ত নির্বাচন করা উচিত, যাতে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়া ভালো আর্থিক ও কারিগরি সুবিধা নিশ্চিত করা যায়।
জোরালো হচ্ছে কূটনৈতিক লবিং
বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবায় তুরস্কের চেলেবি অ্যাভিয়াশনের আগ্রহের বিষয়টি নিয়া আলোচনা করতে ঢাকায় নিযুক্ত তুর্কি রাষ্ট্রদূত রামিস শেন গত মাসে বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দুবার সাক্ষাৎ করেছেন।
১২ মে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকের পর মন্ত্রণালয়ার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মন্ত্রীরা আশ্বস্ত করেছেন, বাছাই প্রক্রিয়ায় চেলেবি অ্যাভিয়েশনের প্রস্তাবটি যথাযথভাবে বিবেচনা করা হবে।
মন্ত্রণালয় জানায়, গত ২৪ মার্চ ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বিমান চলাচলমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকে মেঞ্জিস অ্যাভিয়েশনের আগ্রহের কথা জানান।
গত ২১ মে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ আলী আব্দুল্লাহ আলহমুদি দুবাই-ভিত্তিক বিমান ও ভ্রমণ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডনাটার পক্ষে মন্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এরপর ১৬ জুন সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে সুইসপোর্টের আগ্রহের বিষয়ে আলোচনা করেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
গত তিন মাসে দেশে যে উন্নয়ন কাজ হয়েছে আওয়ামী লীগের আমলে ১৫ বছরেও তা হয়নি বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (২০ জুন) মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় একাধিক উন্নয়ন কাজের উদ্ধোধন ও পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে, আপনাদের এলাকায় যত রাস্তাঘাট ও ব্রিজ আছে ইনশাআল্লাহ আমরা পাঁচ বছরের মধ্যে সব কমপ্লিট করে দেব। তিন মাসে যা কাজ হয়েছে আওয়ামী লীগের আমলে ১৫ বছরেও তা হয়নি। তিনি গজারিয়াবাসীর বহুল প্রত্যাশিত ফুলদী ব্রিজ নির্মাণ নিয়ে আরও বলেন, এই বছরের মধ্যেই ফুলদী ব্রিজের নির্মাণ কাজ শুরু হবে। মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় প্রথমে তিনি ভবেরচর বাজারস্থ ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুই তলা বিশিষ্ট গ্রামীণ বাজারের ভবন উদ্ধোধন করেন। পরবর্তীতে কালীগাছ তলায় ব্র্যাক অফিস-ইমামপুরের দুই কিলোমিটার রাস্তার পুনর্বাসন ও প্রশস্তকরণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে, রসূলপুর খেয়াঘাট এলাকায় ফুলদী ব্রিজ নির্মাণে সম্ভাব্য স্থানও পরিদর্শন করেন।
সহায়ক পরিবেশের পাশাপাশি প্রয়োজন হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফরে যাবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। শনিবার (২০ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ এখন থেকে বিদেশ সফরের সিদ্ধান্ত নিজস্বভাবে নেবে এবং কোন দেশ কখন সফর করা হবে তা সম্পূর্ণভাবে জাতীয় স্বার্থ ও দ্বিপাক্ষিক প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করবে। তিনি বলেন, সরকার এখন একটি পূর্ণাঙ্গ সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে, যেখানে বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা হচ্ছে বাস্তব প্রয়োজন ও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে, কোনো বাহ্যিক চাপের কারণে নয়। হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা কোন দেশে যাব, তা নির্ধারণ করব তখনই; যখন আমরা মনে করব সংশ্লিষ্ট দেশে দ্বিপাক্ষিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে আমাদের যাওয়া প্রয়োজন।’ যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের মতো বড় দেশগুলোতে সফরের সিদ্ধান্তের প্রশ্নে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘যখন আমাদের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রয়োজন হবে, তখন আমরা যাব। যখন চীন যাওয়া দরকার হবে, আমরা সেখানে যাব। সময় ও পরিস্থিতি অনুকূল হলে এবং প্রয়োজন হলে আমরা ভারতেও যাবো, মধ্যপ্রাচ্যেও সফর হবে। সবকিছুই জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। আমরা কোথায় যাব, সেটা অন্য কেউ নির্ধারণ করবে না। কারণ আমরা বৈধ সরকার, জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকার। আমাদের কাউকে খুশি করার জন্য নাচতে হবে না।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কোনো একক দেশ বা বাইরের কোনো বয়ানের দ্বারা প্রভাবিত নয়। কেউই আমাদের বলে দেবে না কখন বা কোথায় আমাদের যেতে হবে। আমরা কোনো নির্ভরশীল বা সরকারবিরোধী অবস্থান অনুসরণ করি না। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আমি শুধু এটুকুই বলব—এই মুহূর্তে বাংলাদেশ সব বড় অংশীদার দেশের সঙ্গে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। ওয়াশিংটন, বেইজিং, ইউরোপ কিংবা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া—সব ক্ষেত্রেই আমরা ভারসাম্য রেখে এগোচ্ছি। এটি সম্ভব হয়েছে কারণ আমরা দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে জনগণের বিশাল ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছি। ফলে আমরা এখন শক্ত অবস্থান থেকে কথা বলতে পারি, দর-কষাকষি করতে পারি। গত পনেরো বছরে কোনো সরকার তা পারেনি, কারণ জনগণের আস্থা ও বৈধতা তাদের ছিল না।’ হুমায়ুন কবির আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন একটি স্বাধীন বৈশ্বিক খেলোয়াড় হিসেবে কাজ করছে এবং জাতীয় স্বার্থকে কেন্দ্র করে সফট পাওয়ার শক্তি বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। গত কয়েক বছরে আপনারা পরাধীনতার নীতি দেখেছেন। আমরা এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বাধীন অবস্থান থেকে কাজ করছি।’ মালয়েশিয়া ও চীন সফরের সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মালয়েশিয়া ও চীন সফর পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে এবং তা সফল হবে। মালয়েশিয়া ও চীনে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হচ্ছেন ২৭ ও ২৮ জন, প্রয়োজন অনুযায়ী অংশগ্রহণ নির্ধারণ করেই এটা ঠিক করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আসন্ন মালয়েশিয়া সফরটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি একটি মুসলিম দেশে প্রথম সফরগুলোর একটি এবং সেখানে আসিয়ান সদস্যপদ ও শ্রমবাজার প্রসঙ্গে আলোচনা হবে। অন্যদিকে চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার। বিদেশ সফরের ব্যয় নিয়ে তিনি বলেন, সবকিছুই প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়, যাতে জনগণের অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় হয়। এগুলো অপচয়মূলক সফর নয়, বরং মূল্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, এখন সরকারের অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকার এটি, যেখানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অংশীদারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ চলছে।
বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুই ছেলে ও পৈতৃক বাড়ির নামানুসারে নবগঠিত ‘মীরবাড়ী’, ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শনিবার বিকালে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি এসেছে। এর আগে শুক্রবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফোন করে জেলা প্রশাসককে এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেন। এ খবরে জনগণের মাঝে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান এ তথ্য দিয়েছেন। বগুড়ার জেলা প্রশাসক জানান, শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলায় নবগঠিত ‘মীরবাড়ী’, ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে শনিবার বিকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার স্বাক্ষরিত চিঠি পেয়েছেন। এর আগে শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে ফোন দিয়ে নবগঠিত তিনটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশনা দিয়েছেন। শনিবার বিকাল ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে পাওয়া চিঠিতে নবগঠিত ‘মীরবাড়ী’, ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন করে স্থানীয় জগণের মতামত নিয়ে এলাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং ভোগোলিক পরিচিতিকে গুরুত্ব দিয়ে পুনরায় গণশুনানি করতে বলা হয়েছে। এদিকে চিঠি পাওয়ার পরপরই জেলা প্রশাসন থেকে তিনটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক কাজ শুরু করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক আরও বলেন, নতুন নাম চুড়ান্ত হওয়ার পর যথাযথা প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। এর আগে গত ১১ ও ১৪ জুন জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি এবং মোকামতলা উপজেলার আটটি ইউনিয়নের প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন করা হয়। এতে শিবগঞ্জ উপজেলায় মীরবাড়ি ইউনিয়ন এবং নবগঠিত মোকামতলা উপজেলায় সীমান্ত ইউনিয়ন, দিগন্ত ইউনিয়ন ও স্বর্ণগ্রাম ইউনিয়ন নামে চারটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়। নামগুলো প্রতিমন্ত্রীর পারিবারিক ও তার দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিল থাকায় নানা আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে কৈফিয়ত দিতে হয়েছে। স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে সচিত্র রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ায় দেশজুড়ে তোলপাড় ও হইচই শুরু হয়। তবে নবগঠিত ‘স্বর্ণগ্রাম’ ইউনিয়ন নিয়ে এখনও বিতর্ক রয়েছে। এলাকার অনেকে বলছেন, তিনটি ইউনিয়নের নামকরণ পরিবর্তনে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে সবাই খুশি হয়েছেন। কিন্তু প্রতিমন্ত্রীর ভাতিজি স্বর্ণ’র নামে গঠিত ‘স্বর্ণগ্রাম’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন হয়নি। এদিকে ইউনিয়ন নিয়ে আলোচনার মধ্যে প্রতিমন্ত্রী ৫৩ বছরের প্রাচীন শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে শিবগঞ্জ মীর শাহে আলম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় করার সিদ্ধান্ত নেন। এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। এ অবস্থায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপির নামে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামকরণের উদ্যোগ না নিতে শিক্ষা সচিবের প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গত ১ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে একটি আধা-সরকারি (ডিও) পত্র পাঠিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। শনিবার বিকালে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, ইউনিয়নগুলোর নাম পরিবর্তন হচ্ছে। তাই এখন তাকে নিয়ে আর কোন আলোচনা-সমালোচনা নেই। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের প্রেস সচিব আতিকুর রহমান আতিক জানান, স্বার্থসিদ্ধি হাসিলের জন্য অনেকে প্রতিমন্ত্রীর নাম ব্যবহারের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। তাই এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম নিজের নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামকরণে আপত্তি জানিয়ে শিক্ষা সচিবকে ডিও লেটার দিয়েছেন।