কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (TVET) স্নাতকদের জন্য শোভন কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং শিল্পখাতের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ জোরদারের লক্ষ্যে এডুকেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (Educo) এবং ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ESDO) যৌথভাবে "Leveraging Youth Employment in Bangladesh through Improving their Employability and Competitiveness to Fit with the 21st Century Job Market (LIFT)" প্রকল্পের আওতায় দেশের সাতটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেছে।
রাজধানীর আগারগাঁও-Gi বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র (BCFCC)- ‡Z ‡ejv 12 Uv †_‡K AbyôvbwU kyiæ nq| অনুষ্ঠানwU টিভিইটি খাZ‡K শিল্পের চাহিদাভিত্তিক করে গড়ে তোলা এবং দক্ষ তরুণ-তরুণীদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ChorogUsan for Children-এর অর্থায়নে পরিচালিত LIFT প্রকল্পটি Educo-এর কারিগরি সহায়তায় এবং ESDO-এর বাস্তবায়নে পরিচালিত হচ্ছে। বাজারের চাহিদাভিত্তিক কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (TVET), জীবনদক্ষতা উন্নয়ন, ক্যারিয়ার গাইডেন্স এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে কার্যকর সংযোগের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের সক্ষমতা বৃদ্ধি করাই প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, টিভিইটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, প্রকল্পের অংশীদার এবং টিভিইটি স্নাতকরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে LIFT প্রকল্পের কার্যক্রম ও অর্জন উপস্থাপন, একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণদের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং শিল্পখাতের সঙ্গে অংশীদারিত্ব জোরদারে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সাতটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—
এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে টিভিইটি স্নাতকদের জন্য ইন্টার্নশিপ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাটাচমেন্ট, কর্মক্ষেত্রভিত্তিক প্রশিক্ষণ (On-the-Job Learning), নিয়োগ এবং সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে। একই সঙ্গে শিল্পখাতের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে শ্রমবাজারের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চাহিদার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে এডুকো evsjv‡`k (Education and Development Foundation)-এর চাইল্ড লেবার এলিমিনেশন ম্যানেজার আফজাল কবির খান প্রকল্পের উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়া, প্রকল্পের উদ্দেশ্য এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (TVET)-এর মাধ্যমে শোভন কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণে অর্জিত ফলাফল তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাজার-চাহিদাভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণদের টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে কাজ করছে।
জিনজিয়ান হসপিটালিটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (XHTI)-এর ট্রেনিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার তানভীর আনোয়ার পনি বলেন, ৭২০ ঘণ্টার শিল্প-চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতি প্রশিক্ষণার্থীদের কর্মক্ষেত্রের জন্য পূর্ণাঙ্গভাবে দক্ষ ও যোগ্য করে তোলে। এ ধরনের সমন্বিত প্রশিক্ষণ তাদের শিল্প প্রতিষ্ঠানের বাস্তব চাহিদা পূরণে সক্ষম করে এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে।
অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা দক্ষ টিভিইটি স্নাতকদের নিয়োগ এবং শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে LIFT প্রকল্পের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ-এর সহকারী ব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ) সুদীপ্ত দেবনাথ অন্তু জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানে ইলেকট্রিক্যাল এবং রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং (RAC) ট্রেডের দক্ষ প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। তিনি এডুকোর LIFT প্রকল্পের সঙ্গে পূর্ববর্তী সফল অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে প্রকল্প থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণদের দক্ষতা ও কর্মক্ষমতার প্রশংসা করেন।
ইএসডিও (ESDO)-এর টিভেট প্রধান শাহরিয়ার মাহমুদ বলেন, প্রকল্পের প্রশিক্ষণ কারিকুলাম সম্পূর্ণভাবে শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা নতুন দক্ষতার চাহিদা জানালে তা যথাসম্ভব কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাতে প্রশিক্ষণার্থীরা যুগোপযোগী দক্ষতা অর্জন করে শোভন কর্মসংস্থানের সুযোগ লাভ করতে পারে।
এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর LIFT প্রকল্প বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের মধ্যকার ব্যবধান কমাতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে। শিল্পখাতের সঙ্গে ধারাবাহিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রকল্পটি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, প্রতিযোগিতামূলক এবং কর্মসংস্থানমুখী টিভিইটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
LIFT প্রকল্প সম্পর্কে: Leveraging Youth Employment in Bangladesh through Improving their Employability and Competitiveness to Fit with the 21st Century Job Market (LIFT) প্রকল্পের লক্ষ্য হলো গুণগত মানসম্পন্ন কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (TVET), জীবনদক্ষতা উন্নয়ন, ক্যারিয়ার গাইডেন্স এবং কর্মসংস্থান সংযোগ সেবার মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। প্রকল্পটি ChorogUsan for Children-এর অর্থায়নে, Educo-এর কারিগরি সহায়তায় এবং ESDO-এর বাস্তবায়নে সরকারি প্রতিষ্ঠান, টিভিইটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় পরিচালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় রাঙামাটির ছয়টি উপজেলায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে এবং গত দুই দিন ধরে সেখানে পানি কমতে শুরু করেছে। সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল থেকে রাঙামাটিতে বৃষ্টিপাত বন্ধ থাকায় আবহাওয়ার উন্নতি হলেও কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর ১০০ ফুট মিন সি লেভেল অতিক্রম করেছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে জেলার ৪৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে ৩ হাজার ৪৮৭ জন অবস্থান করছেন। এছাড়া এখনো ৭ হাজার ৬৪৬টি পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বরকল, লংগদু, বাঘাইছড়ি, নানিয়ারচর, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ইতোমধ্যে বরকল উপজেলার বিভিন্ন নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। বসতবাড়ির পাশাপাশি পেঁপে বাগান, ধানখেত ও বিভিন্ন সবজিক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় এক হাজার কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। উপজেলার চারটি আশ্রয়কেন্দ্রে ২২৪ জন আশ্রয় নিয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, অব্যাহত বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে হ্রদের পানি দ্রুত বাড়ছে, যার ফলে কৃষিজমি ও বসতঘর প্লাবিত হচ্ছে এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। অন্যদিকে, পানি কমতে শুরু করায় বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়ির অনেক প্লাবিত সড়ক ও বসতবাড়ি আবার দৃশ্যমান হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিজ উদ্যোগে কাদামাটি পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছেন। এদিকে পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটি-বান্দরবান সড়কের ব্রিজঘাট সেতু ধসে পড়ায় শনিবার থেকে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ধসের কারণে বাঘাইছড়ি-মারিশ্যা-দীঘিনালা সড়কের একটি অংশেও যান চলাচল বন্ধ আছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এ পর্যন্ত জেলায় ১৩৫টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। তবে কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়লেও সোমবার সকাল থেকে রাঙামাটি শহরের সঙ্গে ছয়টি উপজেলার নৌপথে লঞ্চ চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় পানির স্রোত বেশি থাকায় নৌযান চলাচলে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের (ডিস্যাবিলিটি ইনক্লুসিভ সোসাইটি) আদর্শ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, দয়া বা অনুদাননির্ভর নয়, অধিকারভিত্তিক সেবা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। সোমবার (১৩ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ‘শিশুস্বর্গ মডেল’ বাস্তবায়নবিষয়ক পাইলট প্রকল্প প্রণয়নে আয়োজিত অংশীজন পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের প্রতিটি জেলায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘শিশুস্বর্গ’ নামে বিশেষায়িত কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মীরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে চিকিৎসা, থেরাপি ও প্রয়োজনীয় সেবার সঙ্গে সংযুক্ত করবেন। তিনি বলেন, বর্তমানে সরকারি ডেটাবেজে প্রায় ৪৬ লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির তথ্য রয়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা বিবেচনায় অন্তত এক কোটি মানুষের কাছে রাষ্ট্রীয় সেবা ও অধিকার পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। ডা. মুহিত আরও বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের স্টিয়ারিং কমিটি এবং বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটির মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় মেট্রোরেলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য অর্ধেক ভাড়া বা বিনা ভাড়ায় যাতায়াতের সুবিধা ঘোষণা করেছে। অন্যান্য মন্ত্রণালয়ও তাদের সেবাকে আরও প্রতিবন্ধীবান্ধব করার উদ্যোগ নিচ্ছে। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসনিম, অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান, অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দীন মোহাম্মদ রুমীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি’র মৃত্যুতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত কাতার দূতাবাসে খোলা শোক বইয়ে সই করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার (১৩ জুলাই) সরকারের জ্যেষ্ঠতম মন্ত্রী হিসেবে তিনি শোকবার্তায় সই করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। শোকবার্তায় মন্ত্রী শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি’র মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশের জনগণ এবং ব্যক্তিগতভাবে কাতার সরকার, দেশটির রাজপরিবার ও জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা এবং আন্তরিক সহমর্মিতা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ কাতারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ, আন্তরিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করে। মন্ত্রী জানান, কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে শোক প্রকাশের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকার আগামী ১৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার) অর্ধদিবস রাষ্ট্রীয় শোক পালন করবে। এছাড়া কাতারের আমির, রাজপরিবার ও জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি ও সমবেদনা জানাতে জাতীয় সংসদের স্পিকারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল দোহা সফর করবে। উল্লেখ্য, রোববার এক বিবৃতিতে কাতারের আমিরের কার্যালয় দেশটির সাবেক আমিরের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে। মৃত্যুকালে আল থানির বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। ১৯৯৫ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কাতার শাসন করেছেন শেখ হামাদ। ২০১৩ সালে শেখ হামাদ ক্ষমতা ছেড়ে দেন। এরপর কাতারের আমির হন তার ছেলে শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি।