সারাদেশ

দফায় দফায় হামলা–পাল্টাহামলা : বরিশালে তাণ্ডব, বাস ভাঙচুর

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ১৫, ২০২৫ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

হাফ ভাড়া নিয়ে শিক্ষার্থীকে লাঞ্ছিত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় হামলা-পাল্টাহামলা ও সংঘর্ষ হয়েছে। এতে বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। শ্রমিকদের হামলায় সরকারি বিএম কলেজের প্রায় ৩০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

 

এ ঘটনার প্রতিবাদে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা পুরো বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। তারা একাধিক বাস কাউন্টার ভাঙচুর করে এবং বেশ কয়েকটি বাসে অগ্নিসংযোগ করে।

শ্রমিকদের দাবি, শিক্ষার্থীদের হামলায় তাদের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে এবং অর্ধশতাধিক বাস ভাঙচুর করা হয়েছে। আহত শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শনিবার রাত সোয়া ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ রাত সোয়া ৯টা পর্যন্ত চলে। উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও সেনা সদস্য মোতায়েন থাকে। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। বর্তমানে বাসস্ট্যান্ড এলাকা শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

বিএম কলেজের ছাত্র নেতা রাজু জানান, শনিবার বিকেলে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আবু বক্কর হিজলা থেকে সোহান হাওলাদার নামক বাসে বরিশালে ফিরছিলেন। তিনি শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে হাফ ভাড়া দিতে চাইলে বাসের সুপারভাইজার ও হেলপার ফুল ভাড়া দাবি করেন। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে শ্রমিকরা তাকে লাঞ্ছিত করে।

আবু বক্কর বিষয়টি সহপাঠীদের জানালে সন্ধ্যা ৬টার দিকে শিক্ষার্থীরা নথুল্লাবাদে গিয়ে প্রতিবাদ করে। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা থেকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, এবং ২৫–৩০ জন শ্রমিক একত্র হয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এতে প্রায় ৩০ শিক্ষার্থী আহত হয়।

অন্যদিকে পরিবহন শ্রমিক নেতা আরজু মৃধা জানান, কলেজ বন্ধের দিনে হাফ ভাড়া কার্যকর নয়। শিক্ষার্থী হাফ ভাড়া চাইতে গেলে ক্ষোভ দেখায় এবং পরে শতাধিক শিক্ষার্থী বাসস্ট্যান্ডে হামলা চালিয়ে বিভিন্ন পরিবহনের বাস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে ২০ জনের বেশি শ্রমিক আহত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বাস মালিক সমিতির সভাপতি জানান, কয়েক হাজার শিক্ষার্থী একযোগে তাণ্ডব চালায় এবং টার্মিনাল ভবন ভাঙার চেষ্টা করে। তারা ভেতরে অবরুদ্ধ থাকায় মোট ক্ষয়ক্ষতির হিসাব জানা সম্ভব হয়নি।

 

পুলিশ জানায়, কিছুসংখ্যক বাস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। সংঘর্ষের কারণে বরিশাল–ঢাকা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণে দগ্ধ ৩ জন

গাজীপুরে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের পর একটি বহুতল ভবনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনজন দগ্ধ হয়েছেন। বুধবার (১১ মার্চ) রাত পৌনে ১১টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা চৌরাস্তায় ‘সাহিদ সুপার ভিউ’ নামের একটি ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।   প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ বিকট শব্দে বৈদ্যুতিক খুঁটির ট্রান্সফরমারটি বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে আগুনের ফুলকি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে সেই আগুনের ফুলকি পাশের বহুতল ভবনের কয়েকটি কক্ষে গিয়ে পড়লে সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। দগ্ধরা হলেন—রবিউল ইসলাম (২৫), জাকির হোসেন (৩২) ও ইয়াসিন (৩৭)। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে শ্রীপুরের আল হেরা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।   স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা জানান, ‘সাহিদ সুপার ভিউ’ ভবনের নিচতলায় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে একটি বেসরকারি ব্যাংকের শাখাও রয়েছে। ভবনের তৃতীয় তলা থেকে সপ্তম তলা পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গুদাম ও ভাড়া দেওয়া ফ্ল্যাট রয়েছে। ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের পর আগুনের ফুলকি ছিটকে ভবনের কয়েকটি কক্ষে গিয়ে পড়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আশপাশে থাকা লোকজন আতঙ্কিত হয়ে ছুটাছুটি শুরু করলে তিনজন দগ্ধ হন এবং আরও কয়েকজন সামান্য আহত হন।   ঘটনার পর মাওনা-শ্রীপুর আঞ্চলিক সড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। এতে এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে সাময়িকভাবে আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়। ফলে কিছু সময়ের জন্য ইন্টারনেট সেবাও বিঘ্নিত হয় বলে স্থানীয়রা জানান। খবর পেয়ে শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা নূরুল করিম জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় এবং দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। দগ্ধ ব্যক্তিদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।   শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সঞ্জয় সাহা জানান, ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের পর আগুনের ফুলকি ছিটকে পড়ায় কয়েকজন দগ্ধ হন। আতঙ্কের কারণে ছুটাছুটি করতে গিয়ে আরও কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় কিছু সময়ের জন্য আতঙ্ক তৈরি হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের সঠিক কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি নিহত

ছবি : সংগৃহীত

নিজেকে জীবিত প্রমাণে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ইসমাইল

বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।

মানিকগঞ্জে আকস্মিক পরিদর্শনে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত
বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষে প্রাণ গেল একজনের

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে সজিব নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।   নিহত সজিব মিরসরাই উপজেলার মঘাদিয়া ইউনিয়নের খোরমাওয়ালা গ্রামের শাহ আলামের ছেলে। তিনি মুরাদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাবুদ্দিনের গ্যারেজে চাকরি করতেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে মুরাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে যুবদল নেতা শাহাবুদ্দিন ও আলিমের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে ওই ঘটনার জেরে সন্ধ্যার দিকে শাহাবুদ্দিনের সমর্থকরা আলিমের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ বিষয়ে আলিমের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, এলাকাবাসী তার স্বামীকে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য উৎসাহ দিচ্ছে। তবে ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাবুদ্দিন তার স্বামীর জনপ্রিয়তা মেনে নিতে পারছেন না। মঙ্গলবার পরিষদে চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। তিনি আরও বলেন, সন্ধ্যায় শাহাবুদ্দিনের অনুসারীরা চারটি সিএনজি ও দুটি মোটরসাইকেল নিয়ে এসে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং হামলা চালায়। এ সময় এলাকাবাসী তাদের প্রতিহত করতে গেলে কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অন্যদিকে শাহাবুদ্দিন বলেন, এলাকায় একটি রিকশার ব্যাটারি চুরির ঘটনায় সালিশি বৈঠক হয়েছিল। সেখানে তিনি ভুক্তভোগীর পক্ষে ছিলেন এবং আলিম চোরের পক্ষ নিয়েছিলেন। একপর্যায়ে ২০ হাজার টাকার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা হলে ১৫ দিনের জন্য ওই টাকার জামিনদার হন আলিম। কিন্তু দীর্ঘদিনেও টাকা না দেওয়ায় তাকে জিজ্ঞাসা করলে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। তিনি দাবি করেন, মঙ্গলবার তার এলাকায় একটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ইফতারের পর সজিবসহ কয়েকজন সমর্থক সিএনজিতে করে গোপ্তাখালীর দিকে যাওয়ার সময় আলিমের অনুসারীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। ওই হামলাতেই সজিব নিহত হন। সীতাকুণ্ড মডেল থানার কর্মকর্তা মহিনুর ইসলাম বলেন, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে সজিব নামে একজন নিহত হয়েছেন এবং ৭–৮ জন আহত হয়েছেন। সজিবের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ১১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর বাড্ডায় দেয়াল ধসে ২ শিশুর মৃত্যু

ছবি : সংগৃহীত

জিওব্যাগ ফেরত না দিলে কঠোর ব্যবস্থা, বাড়ি বাড়ি তল্লাশির হুঁশিয়ারি কিরনের

ছবি: সংগৃহীত

মাদকবিরোধী আন্দোলনে যুবদলকে এগিয়ে আসার আহ্বান মান্নানের

ছবি : সংগৃহীত
ধানের তুষে ভেজাল মসলা, কারখানা সিলগালা

বগুড়ায় ধানের তুষ ও নিম্নমানের পচা মরিচ সংরক্ষণের অভিযোগে দুই প্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেলা ১১টায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে এ জরিমানা করা হয়।   ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বগুড়া জেলার ফতেহ আলী বাজারের ছাতা পট্টির গলিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, র‍্যাব-১২ ও পুলিশের যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। তিনি বলেন, অভিযানকালে দোলন নামের একটি খুচরা মসলা বিক্রির দোকানে এক বস্তা ধানের তুষ এবং এক বস্তা পচা ও নিম্নমানের মরিচ সংরক্ষিত অবস্থায় পাওয়া যায়। এসব অপরাধের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে দোকানের মালিক দোলনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।   অভিযানের সময় ‘মৌরী হলুদ’ নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানে নষ্ট ও নিম্নমানের হলুদ ভালো হলুদের সঙ্গে মিশ্রণ করতে দেখা যায়। এ অপরাধে প্রতিষ্ঠানটির মালিক রোকনুজ্জামানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত দুই প্রতিষ্ঠানের কোনো ধরনের লাইসেন্স ছিল না। অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সাধারণ সম্পাদক ফজিলাতুন্নেসা ফৌজিয়া। এ সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারের আইন ও বিধি মেনে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ১০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না : ড. জালাল উদ্দিন

ছবি : সংগৃহীত

ঈদে বাড়তি ভাড়া আদায় করলে কঠোর ব্যবস্থা : পুলিশ সুপার

সংগৃহীত ছবি

সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাচ্চুর পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা

0 Comments