সারাদেশ

ঢালাইয়ের ৩ দিনেই উঠে যাচ্ছে পিচ, কাজ বন্ধ করল এলাকাবাসী

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

খুলনার কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের একটি সড়কে ঢালাইয়ের মাত্র তিন দিনেই হাতের চাপে উঠে যাচ্ছে পিচ। কোথাও কোথাও সামান্য টান দিতেই খসে পড়ছে কার্পেটিংয়ের আস্তরণ।

 

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মঙ্গলবার বিকালে সড়কের সংস্কারকাজ বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও নিয়ম না মেনে কাজ করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

 

এলজিইডির খুলনা জেলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুল ইসলাম সরদার বলেন, কয়রা উপজেলায় বর্তমানে কোনও উপজেলা প্রকৌশলী নেই। পাশের পাইকগাছা উপজেলার প্রকৌশলী অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এতে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিন ধরে মহারাজপুর ইউনিয়নের মাদারবাড়িয়া-রোনবাগ সড়কে পিচ ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। তিন দিন আগে পিচের বিভিন্ন অংশ ওঠে যেতে শুরু করলে বাকি অংশে পিচ ঢালাইয়ের সময় এলাকাবাসী বাধা দেন।

 

সেইসঙ্গে সড়কের পুরনো কালভার্ট অপসারণ না করেই তার ওপর দিয়ে পিচ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় লোকজন সড়কের দুটি স্থানের কিছু অংশের পিচ তুলে ফেলেন।

 

মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জামাল ফারুক বলেন, সড়কের কাজ শুরুর পর থেকেই নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ ছিল। স্থানীয় লোকজনের প্রতিবাদের মুখে সেই খোয়া অপসারণ করা হয়।

 

“এরপর দীর্ঘদিন ফেলে রাখা কাজ আবার শুরু হলেও ঢালাইয়ে খুব পাতলা করে পিচ দেওয়া হয়। পিচের নিচের অংশ পরিষ্কার না করেই ধুলাবালি ও মাটির ওপর ঢালাই করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে এলাকাবাসী বাধা দেন”, বলেন তিনি।

 

কয়রা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয় থেকে জানা গেছে, পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় একই প্যাকেজে মাদারবাড়িয়া উত্তর সীমানা থেকে রোনবাগ সড়কের এক কিলোমিটার উন্নয়ন, একটি আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ ও বেদকাশী এলাকার প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কের উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

 

২০২৪ সালের মার্চে ‘মেসার্স কামরুল অ্যান্ড ব্রাদার্স’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুই কোটি ৬৩ লাখ ৯৯ হাজার টাকার কাজটি পায়। কাজের মেয়াদ ছিল ২০২৪ সালের ৩ এপ্রিল থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি।

 

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজের দায়িত্বে থাকা মো. হাসানের দাবি, এলজিইডির নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। কাজে বড় ধরনের কোনও ত্রুটি নেই।

 

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, কয়রা উপজেলাজুড়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে চলমান একাধিক সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে। কোথাও সড়ক খুঁড়ে রাখা হয়েছে। কোথাও ইটের খোয়া কিংবা বালু ফেলে উধাও ঠিকাদার।

কয়রার বাসিন্দা সংবাদকর্মী ইউনুস আলী বলেন, উপজেলাজুড়ে এলজিইডির একাধিক সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বছরের পর বছর ধরে ঝুলে থাকলেও সংস্থাটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কোনো খোঁজ-খবর নেই। তারা নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত।

 

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এসব কাজ পড়ে থাকায় বর্ষায় কাদা-পানি আর শুকনা মৌসুমে ধুলাবালু-দুই মৌসুমেই চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহান শিক্ষার্থী, রোগী, শ্রমজীবী মানুষ ও যানবাহন চালকরা।

 

কয়রা উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় থেকে জানা গেছে, কয়রা সদর ইউনিয়নের মদিনাবাদ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মোড় থেকে ৪ নম্বর কয়রা গ্রাম পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হয়েছিল ২০২১ সালের ৩০ নভেম্বর। ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত এ সড়ক সংস্কারে বরাদ্দ হয় এক কোটি ২৩ লাখ টাকা। কাজ পায় ‘মেসার্স রাকা এন্টারপ্রাইজ’।

 

কয়েক মাস সড়ক খুঁড়ে ইটের খোয়া ফেলার পর চলে যায় প্রতিষ্ঠানটি। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও চার বছর পেরিয়ে গেছে, এখনো সড়কটি পড়ে আছে বেহাল অবস্থায়।

 

মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের বানিয়াখালী থেকে হড্ডা গ্রামের প্রায় ছয় কিলোমিটার সড়কের অবস্থাও করুণ। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া এ প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ছয় কোটি ৪৯ লাখ টাকা। কাজ পায় ‘মোহাম্মদ ইউনুচ অ্যান্ড ব্রাদার্স’।

 

নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও সড়কটি খোঁড়াখুঁড়ির পর বালু ফেলে কাজ বন্ধ আছে।

 

আমাদী ইউনিয়নে পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০২১ সালে হুদুবুনিয়া চান্নিরচক সড়কের দুই কিলোমিটার অংশ কার্পেটিং করার জন্য বরাদ্দ হয় এক কোটি ৭৪ লাখ টাকা। কাজের দরপত্র পায় রাকা সিয়াম (জেভি) নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

 

২০২১ সালের জুনে তারা কাজ শুরু করেন। কয়েক মাস রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির পর কাজ ফেলে চলে যান প্রতিষ্ঠানটির লোকজন। ২০২২ সালের ২৬ জুন কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। সেই সময়সীমা পেরিয়ে প্রায় চার বছর হতে চললেও কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেই।

 

গিলাবাড়ি-গড়ইখালী জিসি সড়ক, বামিয়া আর অ্যান্ড এইচ-বাঁশখাতি-মালিখালী-বগা বাজার-নারানপুর সড়ক, হরিনগর-নকশা সড়ক ও বায়াল হারনিয়া মাদ্রাসা থেকে শ্রীফলতলা সড়কের কাজও বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে।

 

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন দুই দফায় প্রায় দশ বছর একই স্থানে দায়িত্ব পালন করায় একটি নিজস্ব ঠিকাদারি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। দীর্ঘদিন উপজেলা প্রকৌশলী না থাকার সুযোগে তিনি একক ক্ষমতার অধিকারী হয়ে উঠেছেন।

 

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপসহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন।

 

এলজিইডির খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সরদার বলেন, কয়রাতে দীর্ঘদিন সংস্কার কাজ বন্ধ থাকা তিনটি প্রকল্প এর মধ্যে বাতিল করা হয়েছে। কাজ বন্ধ থাকা কিছু প্রকল্পে আবার টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে।

 

সেইসঙ্গে উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেনের নামে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
গাইবান্ধায় মাদকবিরোধী ম্যারাথন অনুষ্ঠিত

মাদকের কুফল সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং তরুণদের সুস্থ জীবনযাপনে উৎসাহিত করতে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ম্যারাথনের আয়োজন করেছে ‘কুঁড়েঘর ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সংগঠন।   আজ মঙ্গলবার সকালে উপজেলার মওলানা ভাসানী সেতুর দক্ষিণ প্রান্ত থেকে ম্যারাথনের উদ্বোধন করেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল প্রামাণিক।    এ সময় আয়োজক কুঁড়েঘর ফাউন্ডেশনের সদস্যরা, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। ম্যারাথনে বিভিন্ন পেশার শতাধিক তরুণ অংশ নেন।   ম্যারাথনটি মওলানা ভাসানী সেতুর দক্ষিণ প্রান্ত থেকে শুরু হয়ে সেতুর উত্তর প্রান্ত ঘুরে আবার দক্ষিণ প্রান্তে এসে শেষ হয়। চার কিলোমিটারের এ দৌড়ে অংশগ্রহণকারীরা নির্ধারিত টি-শার্ট পরে অংশ নেন।   ম্যারাথনে অংশ নেওয়া সাইফুল আলম বলেন, ‘মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এ ধরনের আয়োজন খুবই প্রয়োজন। খেলাধুলা ও শরীরচর্চার মাধ্যমে তরুণদের সুস্থ জীবনধারায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব।’   আরেক প্রতিযোগী আরমান মজুমদার বলেন, ম্যারাথনে অংশ নিয়ে পুরস্কার পেয়ে আমি আনন্দিত ও অনুপ্রাণিত। এ আয়োজন আমাদের মধ্যে শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মাদকবিরোধী সচেতনতা বাড়াতে সাহায্য করবে। মাদক মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে, পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি করে এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই মাদক থেকে দূরে থেকে খেলাধুলা ও ভালো কাজে তরুণদের যুক্ত থাকা উচিত।   আয়োজকেরা জানান, তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখা, শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করা এবং সমাজে মাদকবিরোধী সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   নিয়মিত খেলাধুলা ও শরীরচর্চার প্রতি তরুণদের আগ্রহ বাড়াতেও এ ধরনের আয়োজন ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।   ম্যারাথন শেষে অংশগ্রহণকারী প্রতিযোগীদের মধ্যে সনদ ও পদক বিতরণ করা হয়।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ২০, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

পাথরঘাটা হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট কাটাতে এক মাসের সময় দিলেন চিফ হুইপ

ছবি: সংগৃহীত

শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় উপকূলীয় এলাকায় কোস্ট গার্ড সদস্য মোতায়েন

ভাটারা এলাকায় অতিরিক্ত ডিআইজির বাসায় অভিযান, মাদকসহ আটক ৮৪ জন

সংগৃহীত ছবি
প্রধানমন্ত্রীর সফর সামনে রেখে চট্টগ্রামে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা

শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করতে আজ চট্টগ্রামে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর সফর ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সামনে চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য তুলে ধরতে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন।   সোমবার চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ঐতিহ্যবাহী জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও প্রস্তুতি তদারককালে এসব কথা বলেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।   জেলা প্রশাসক বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আমাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। এটি আমাদের অহংকার, আমাদের শক্তি। এই সম্প্রীতির চিত্র আমরা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরতে চাই।’   জেলা প্রশাসক জানান, প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। সেখান থেকে সরাসরি জেএম সেন হলে যাবেন। সেখানে মন্দির পরিদর্শন ও সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করবেন। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ এবং বক্তব্য দেবেন তিনি।   প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, এসআরবি, বিজিবিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপের সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি নৃত্য ও গীতাপাঠসহ বিভিন্ন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।    জেলা প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ তৈরি হয়েছে। উৎসবকে আরও আনন্দঘন করার পাশাপাশি চট্টগ্রামের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য তুলে ধরতে প্রশাসন ও পূজা উদ্‌যাপন কমিটি একসঙ্গে কাজ করছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২০, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, রিসোর্ট-কটেজে কম আগ্রহ

ছবি: সংগৃহীত

নাটোরে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪

সংগৃহীত ছবি

শরীয়তপুরে ইলিশ রক্ষা অভিযানে জেলেদের হামলা: আহত ২, আটক ৩৬

সংগৃহীত ছবি
দুর্গাপূজার ছুটিতে বিশেষ সময়সূচিতে চলবে মেট্রোরেল

‎দুর্গাপূজার ছুটিতে বিশেষ সময়সূচিতে চলবে মেট্রোরেল। আগামী ২০, ২১, ২২ ও ২৪ অক্টোবর স্বাভাবিক সময়সূচির আদলে ট্রেন চলাচল করলেও ২৩ অক্টোবর (শুক্রবার) মেট্রোরেল চলবে বিকেল থেকে।     এ সময় যাত্রীচাহিদা অনুযায়ী ট্রেনের চলাচলের বিরতি সমন্বয় করা হবে। ছুটির এই সময় ১০ থেকে ২০ মিনিট পরপর ট্রেন চলাচল করবে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকা মাস ট্রানজিট কম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) অপারেশন বিভাগের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।‎         ‎ডিএমটিসিএলের প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, নির্ধারিত চার দিনে উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিলগামী প্রথম ট্রেন ছাড়বে সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে।       অন্যদিকে মতিঝিল থেকে উত্তরা উত্তরগামী প্রথম ট্রেন ছাড়বে সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে। দিনের বেশির ভাগ সময় ১০ থেকে ১২ মিনিট পরপর ট্রেন চলবে। রাতে যাত্রী চাহিদা অনুযায়ী এ বিরতি বেড়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট হবে। এ চার দিনে দুই দিক মিলিয়ে মোট ১৭১টি ট্রিপ পরিচালনা করা হবে।       ২৩ অক্টোবর (শুক্রবার) উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিলগামী ট্রেন চলাচল শুরু হবে বিকেল ৩টায়। আর মতিঝিল থেকে উত্তরা উত্তরগামী ট্রেন চলবে বিকেল ৩টা ২০ মিনিট থেকে। এদিন দুই দিক মিলিয়ে মোট ৮২টি ট্রিপ পরিচালিত হবে।       ডিএমটিসিএল জানিয়েছে, যাত্রী চাপ সামাল দিতে উত্তরা উত্তর স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম ও ডিপোতে দুটি অতিরিক্ত ট্রেন প্রস্তুত রাখা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী এসব ট্রেন চালিয়ে চলাচলের বিরতি সমন্বয় করা হবে।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নাগরপুরে ছয় দশক ধরে একই আঙিনায় মসজিদ ও পূজামণ্ডপ

ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষক সংকটে ভুগছে ভাণ্ডারিয়ার একমাত্র সরকারি বালিকা বিদ্যালয়

ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহে মহাঅষ্টমীতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে অনুষ্ঠিত হলো কুমারী পূজা

0 Comments