বিশ্ব

পারমাণবিক শক্তির ভারসাম্যই শান্তি বজায় রেখেছে : রাশিয়া

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৪, ২০২৬
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি : সংগৃহীত
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সংঘাতের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে এবং পারমাণবিক প্রতিরোধই বর্তমানে বড় ধরনের যুদ্ধ ঠেকিয়ে রাখার একমাত্র কার্যকর শক্তি বলে মন্তব্য করেছে রাশিয়া। বুধবার (২৪ জুন) ১২তম আন্তর্জাতিক প্রিমাকভ রিডিংস ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এ কথা বলেন।

 

পেসকভ বলেন, বাস্তবে পারমাণবিক প্রতিরোধ ছাড়া এখন পৃথিবীতে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। এই শক্তিই কেবল বৈশ্বিক যুদ্ধ প্রতিরোধ করছে, যদিও এটি আঞ্চলিক সংঘাত ঠেকানোর নিশ্চয়তা দেয় না।

 

তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে আঞ্চলিক সংঘাতের সামগ্রিক সম্ভাবনা বাড়ছে এবং বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি ক্রমশ আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।

 

পেসকভ আরও বলেন, বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ফলে ভবিষ্যতে এমন নতুন ধরনের অ-পারমাণবিক অস্ত্রব্যবস্থা তৈরি হতে পারে, যেগুলোর ধ্বংসক্ষমতা পারমাণবিক অস্ত্রের সমতুল্য হবে।

 

শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ প্রসঙ্গে ক্রেমলিন মুখপাত্র যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম) এবং সংঘাত বন্ধে মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, মস্কো এসব উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

 

এর আগে মঙ্গলবার প্রিমাকভ রিডিংস ফোরামের উদ্বোধনী বার্তায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, রাশিয়া আন্তর্জাতিক আইনের সর্বজনীনভাবে বাধ্যতামূলক নীতিমালা, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অবিসংবাদিত কর্তৃত্ব, রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সম্মান, সমতা ও নিজস্ব উন্নয়নের পথ বেছে নেওয়ার অধিকারের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে।

সূত্র : তাস ও সিনহুয়া

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

মস্কোয় জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক পাঠাল জাপান

গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে রাশিয়ায় আটক এক সাংবাদিকের মুক্তির বিষয়ে আলোচনা করতে চলতি সপ্তাহে মস্কোয় এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিককে পাঠিয়েছে জাপান।   বুধবার টোকিও এ তথ্য জানায়।   রুশ কর্তৃপক্ষ গত সপ্তাহে জানায়, বিরোধপূর্ণ কয়েকটি দ্বীপের কাছাকাছি দেশটির সুদূর পূর্বাঞ্চলীয় সাখালিন দ্বীপে এক জাপানি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।   পরে ওই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়। তিনি হোক্কাইডো শিমবুন সংবাদপত্রের সাংবাদিক ইউকি ইমাই। রাশিয়ার ভূখণ্ডে ‘গুপ্তচরবৃত্তিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার’ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।   জাপান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে এখনো ইমাইয়ের মুক্তি নিশ্চিত করতে পারেনি।   টোকিও থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।   জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপবিষয়ক দেশটির শীর্ষ কূটনীতিক কিমিতাকে নাকামুরা মঙ্গলবার রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব এশিয়াবিষয়ক বিভাগের প্রধান লিউদমিলা ভরোবিওভার সঙ্গে বৈঠক করেন।   জাপানের মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা বুধবার নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘রাশিয়ায় আটক জাপানি নাগরিকের সঙ্গে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের যত দ্রুত সম্ভব সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া ও তাকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আমরা অনুরোধ জানিয়েছি।’   জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি রাশিয়ায় জাপানের গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।   অন্যদিকে, ইমাইয়ের সংবাদপত্রটি জোর দিয়ে বলেছে, তারা সরকারের কাছ থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করে। এদিকে, প্রতিবাদ জানাতে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত নিকোলাই নোজদ্রেভকে তলব করেছে টোকিও। একই সঙ্গে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মস্কোকে ইমাইয়ের সঙ্গে ‘ন্যায্য ও নিরপেক্ষ আচরণ’ করার আহ্বান জানিয়েছে।   রাশিয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কয়েকটি দেশের নাগরিককে গ্রেফতার করেছে। দেশটি এসব দেশকে ‘বন্ধুভাবাপন্ন নয়’ বলে অভিহিত করে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করার অভিযোগ আনা হয়েছে।   কিহারা বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। জাপানের উত্তর-পূর্ব উপকূলের অদূরে প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত কয়েকটি দ্বীপের মালিকানা নিয়ে দেশ দুটির মধ্যে কয়েক দশক ধরে বিরোধ চলছে। দ্বীপগুলো সাখালিনের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।   এ ছাড়া, ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার কারণে দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে জাপান। কিহারা বলেন, ‘জাপান-রাশিয়া সম্পর্ক বর্তমানে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।’   এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু না জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ঠিক এ কারণেই বিভিন্ন ইস্যুতে কূটনৈতিক কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ২১, ২০২৬

ডেটা সেন্টার নির্মাণে স্থানীয়দের লভ্যাংশ দেওয়ার আহ্বান ট্রাম্পের

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-নেপালের প্রসঙ্গ টেনে ভারতে ‘শাসন পরিবর্তনের’ হুঁশিয়ারি আরএসএস প্রধানের

ছবি: রয়টার্স
হুতি হামলা ঠেকাতে সৌদিতে টাইফুন যুদ্ধবিমান পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য

হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে সৌদি আরবকে রক্ষা করতে টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং জানিয়েছেন, এসব যুদ্ধবিমান কেবল প্রতিরক্ষামূলক দায়িত্ব পালন করবে।     হুতিদের ওপর কোনো আক্রমণ চালাবে না।   সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ও দেশটির জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হুতিদের হামলার পর যুক্তরাজ্য এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইরান-সমর্থিত হুতিরা ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। সৌদি আরব ওই সরকারকে সমর্থন দেয়।     ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী মঙ্গলবার এক লিখিত বিবৃতিতে বলেন, হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে সৌদি আরবের শহর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় যুক্তরাজ্যের যুদ্ধবিমানগুলো সহায়তা করবে।     সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, সম্প্রতি দেশটির বিভিন্ন বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত ১০ অক্টোবর রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৩ জন নিহত ও ৩০৮ জন আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।       এদিকে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর দাবি, দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় শাবওয়া প্রদেশের একটি সামরিক প্রশিক্ষণশিবিরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৭০ জনের বেশি নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন।     আতাক শহরের কাছে আল-আলাম ক্যাম্পে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয় বলে জানিয়েছেন বাহিনীর একজন মুখপাত্র। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র দাবি করেছেন, তারা সৌদি আরবের সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছেন।     ইয়েমেনে পাল্টাপাল্টি হামলায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। হুতি-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, ৩ সেপ্টেম্বর থেকে সৌদি বিমান ও কামানের হামলায় অন্তত ১৪১ জন নিহত এবং ৩৯৫ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ইয়েমেন সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৬ আগস্ট থেকে দেশজুড়ে চলা সংঘাতে অন্তত ১ হাজার ২৮২ জন নিহত হয়েছেন।   তবে হতাহতের এসব সংখ্যা ও হামলার বিবরণ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। সৌদি আরবের ভেতরে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পরিবহনে সহায়তার জন্য সামরিক উপদেষ্টা ও একটি এ৪০০এম পরিবহন বিমানও পাঠাবে যুক্তরাজ্য। এরই মধ্যে সৌদি আরবকে বিমান হামলা থেকে রক্ষায় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করছে যুক্তরাজ্য। পাশাপাশি সৌদি বাহিনীর অভিযানে ব্যবহৃত যুদ্ধবিমানগুলোকে আকাশে জ্বালানি সরবরাহ করছে ব্রিটিশ বাহিনী। এই জ্বালানি সরবরাহের মেয়াদ আরো ৯০ দিন বাড়ানো হয়েছে।     ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং এক বিবৃতিতে বলেন, রিয়াদ বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হুতিদের হামলা প্রমাণ করে, আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরো খারাপ করতে তারা কতটা দূর যেতে পারে। তিনি বলেন, এ কারণেই সৌদি আরবকে সহায়তা করতে যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সামরিক সহায়তার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। স্ট্রিটিং আরো বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সহিংসতার কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।       এতে পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে। এদিকে চলতি মাসের শুরুতে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি সৌদি আরবের আরো গভীরে হামলা চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, সৌদি আরবের অভ্যন্তরে তাদের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ২০, ২০২৬
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে পিট হেগসেথ। ছবি: সংগৃহীত

ইসরাইলে আকস্মিক সফর: নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

বাণিজ্য কূটনীতির লক্ষ্য নিয়ে ভারতে পৌঁছেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও

রয়টার্স ছবি

ফ্রান্সের বিক্ষোভকে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে হাতিয়ার করছেন ট্রাম্প

ফের তেহরান সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে শান্তিচুক্তির মধ্যস্থতার চেষ্টা চালানো পাকিস্তানের প্রভাবশালী সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির মঙ্গলবার তেহরান সফরে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে ইরানের কর্তৃপক্ষ। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেন, মুনিরের সঙ্গে আলোচনায় ‘চলমান দর-কষাকষি-সংশ্লিষ্ট বিষয়’ উঠে আসবে। তবে আলোচনার মূল বিষয় হবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা জোরদার করা।   তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।   হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধের কারণে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়েছে। এমন সময়ে মুনিরের এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।   সোমবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেন, হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তাহীনতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী। প্রণালীটি সাধারণত তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।    তবে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের শুরু করা যুদ্ধের পর ইরান সেখানে অবরোধ আরোপের চেষ্টা চালিয়েছে।   যুদ্ধের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে এখন পর্যন্ত ব্যর্থ আলোচনাগুলোতে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। জুনে দেশটি একটি সমঝোতা স্মারক তৈরিতে সহায়তা করেছিল। তবে ওই সমঝোতা বেশি দিন কার্যকর থাকেনি।    তেহরান এখনো মনে করে, যেকোনো শান্তিচুক্তির ভিত্তি হওয়া উচিত ওই সমঝোতা স্মারক।   জুনের ওই সমঝোতার পর মুনিরের এটি হবে পঞ্চম সফর।   সেপ্টেম্বরের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আর কোনো হামলা চালায়নি। তবে দেশটিতে আবারও যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বাকাই বলেন, ‘আমরা দিনরাত এই আশঙ্কার মধ্যেই রয়েছি। এখন কথা বলার সময়ও আবার যুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’   সোমবার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সফরের পর মুনিরের এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ২০, ২০২৬

ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুত আড়াই লক্ষাধিক মানুষ: জাতিসংঘ

লুলা ও বলসোনারোর প্রতি সমান আচরণের প্রমাণ দিতে মেটাকে ২৪ ঘণ্টার সময় দিল ব্রাজিলের আদালত

ফিলিপাইনে রেকর্ড গড়ল ডিজিটাল পেমেন্ট প্রতিষ্ঠান মাইন্টের আইপিও

0 Comments