জাতীয়

ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে বালু নদের অববাহিকায় গড়ে ওঠা অবকাঠামো

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ২৬, ২০২৬

রাজধানী ঢাকায় ঝুঁকিসংবেদনশীল ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং নিরাপদ নির্মাণমান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার ২০১৫ সালে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে।

 

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পরিচালিত প্রকল্পটির নাম আরবান রেজিলিয়েন্স প্রকল্প (ইউআরপি)। প্রকল্পের আওতায় ঢাকা মহানগর এলাকার ভূমির গুণগত মান পরীক্ষা করে দেখা গেছে, বালু নদের অববাহিকার প্রায় ১২০ বর্গকিলোমিটার এলাকা ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

 

মাটি দুর্বল এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ভূপৃষ্ঠের খুব কাছাকাছি হওয়ায় এ এলাকায় গড়ে ওঠা আবাসন প্রকল্প ও বৃহৎ অবকাঠামো ভূমিকম্পের সময় দ্রুত ধসে পড়তে পারে বলে সরকারি-বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণায় আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীর মূল নগর এলাকার বাইরে জলাশয় ও জলাভূমি ভরাট করে গত দুই দশকে গড়ে তোলা আবাসন প্রকল্প ও মেগা অবকাঠামোগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে।

 

ইউআরপি প্রকল্পের আওতায় ঢাকার চার শতাধিক স্থান থেকে মাটির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছে রাজউক। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, ঢাকার পুরনো অংশের তুলনায় সম্প্রসারিত এলাকাগুলো ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে বেশি। তবে এলাকাভেদে ঝুঁকির মাত্রায় পার্থক্য রয়েছে। এ বিবেচনায় ঢাকার মধ্যে বালু নদের অববাহিকায় গড়ে ওঠা অবকাঠামোগুলো সবচেয়ে বেশি ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে।

 

ঢাকায় ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে এ এলাকার আবাসন প্রকল্পগুলো মাটিতে ডেবে যাওয়ার পাশাপাশি ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইউআরপি প্রকল্পের পরিচালক ও রাজউকের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ড. আবদুল লতিফ হেলালী। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘আমরা পুরো ঢাকার মাটির অবস্থা পরীক্ষা করে দেখেছি। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা বালু নদের আশপাশের এলাকায়। এখানে যেসব অবকাঠামো ও আবাসন প্রকল্প গড়ে উঠেছে, সেগুলো মূলত পানির ওপর দাঁড়িয়ে আছে।’

 

ড. আবদুল লতিফ হেলালী আরো বলেন, ‘বনশ্রী থেকে শুরু করে আফতাবনগর, মাদানি এভিনিউ হয়ে বসুন্ধরা ৩০০ ফুট সড়ক ধরে আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত পুরো এলাকাই ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। অর্থাৎ বনশ্রীর পর থেকে যে অংশ জলাভূমি ভরাট করে উন্নয়ন করা হয়েছে সবই ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ধসে পড়বে। দেশে তো এখনো ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়নি। গত বছর যে বড় ভূমিকম্প হয়েছে, সেটি ছিল ৫ দশমিক ৪ মাত্রার। ৭ মাত্রার হলে বালু ভরাট করে গড়ে ওঠা এলাকায় সব সমান হয়ে যাবে।’

 

রাজউক পরিচালিত ইউআরপি প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ প্যানেলের চেয়ারম্যান ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী। রাজউকের মাঠপর্যায়ে সংগৃহীত তথ্য ও পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে তিনি পৃথক একটি গবেষণা করেন। ‘লিকুইফ্যাকশন পটেনশিয়াল অ্যাসেসমেন্ট অব দ্য ঢাকা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান এরিয়া (ডিএমডিপি) অব বাংলাদেশ ইউজিং সিপিটি-বেজড মেথড’ শীর্ষক গবেষণাটি ২০২৪ সালের মার্চে আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকাশনা প্লাটফর্ম স্প্রিংগার নেচার লিংকে প্রকাশিত হয়।

 

বালু নদের অববাহিকায় গড়ে ওঠা আবাসন প্রকল্পগুলো সম্পর্কে তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রাজউক পুরো ঢাকার চার শতাধিক জায়গা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছে। এর মধ্যে বালু নদের অববাহিকায় প্রায় ১২০ বর্গকিলোমিটার এলাকা ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে দেখা গেছে।

 

মেহেদী আনসারী জানান, ভূমির গঠনগত কারণে ভূমিকম্পের ঝুঁকি মূলত দুইভাবে বাড়তে পারে। কোনো এলাকার ভূগর্ভে নরম কাদামাটি বা আলগা বালির স্তর থাকলে ভূমিকম্পের কম্পন সেখানে কয়েক গুণ বেড়ে অনুভূত হয়। এ ঘটনাকে বলা হয় অ্যামপ্লিফিকেশন বা কম্পনের তীব্রতা বৃদ্ধি। অন্যদিকে ভূগর্ভে আলগা বালির স্তরের পাশাপাশি পানির স্তর ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি থাকলে ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে বালি ও পানি মিশে মাটি ভার বহনের সক্ষমতা হারায়। এতে ভবন মাটিতে ডেবে যেতে বা হেলে পড়তে পারে। এ ঘটনাকে বলা হয় লিকুইফ্যাকশন বা ভবন ডেবে যাওয়া। তিনি বলেন, ‘রাজউকের পরীক্ষায় দেখা গেছে, বালু নদের অববাহিকায় গড়ে ওঠা কোনো কোনো আবাসিক এলাকার ভূমির অবস্থা খুবই দুর্বল। কোথাও কোথাও সাত মিটার পর্যন্ত লুজ বালি। তারপর অন্তত ৩৫ মিটার পর্যন্ত নরম কাদামাটি। ফলে এখানে ভূমিকম্প হলে লিকুইফ্যাকশন এবং অ্যামপ্লিফিকেশন দুটোই হবে।’

 

বালু নদের অববাহিকার প্রায় ১২০ বর্গকিলোমিটার এলাকা মূলত জলাশয় ও জলাভূমি ছিল। ঢাকার পূর্ববর্তী পরিকল্পনাগুলোয় এলাকাটিকে সংরক্ষিত জলাধার হিসেবে রাখার সুপারিশ করা হয়েছিল। আবাসন ও অবকাঠামো নির্মাণের জন্য উপযোগী না হওয়ায় এটিকে প্রাকৃতিক জলাধার হিসেবে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ১৯৯৫ সালে প্রণীত ২০ বছর মেয়াদি ঢাকা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট প্ল্যানে (ডিএমডিপি ১৯৯৫-২০১৫) মোট পাঁচটি এলাকাকে সংরক্ষিত জলাধার হিসেবে রাখার সুপারিশ করা হয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি জলাধারই ছিল বালু নদের অববাহিকার ওই ১২০ বর্গকিলোমিটার এলাকার মধ্যে। রাজউকের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংরক্ষিত এসব জলাধার ধীরে ধীরে ভরাট করেই সেখানে বসতি ও অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।

 

ঢাকার জন্য প্রণীত সর্বশেষ বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায়ও (ড্যাপ ২০২২-৩৫) বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। ড্যাপে বলা হয়েছে, বালু নদের অববাহিকায় অবস্থিত আবাসন প্রকল্পগুলো ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। এ এলাকায় ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে বিশেষ নকশার ফাউন্ডেশন ব্যবহার করা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে ড্যাপের সাবেক প্রকল্প পরিচালক ও রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বনশ্রী থেকে শুরু করে আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত পুরো বালু নদের অববাহিকা ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। এর কারণ হলো এ পুরো এলাকা ছিল প্রাকৃতিক জলাধার। ভরাট করার কারণে এসব এলাকা ভূমিকম্পের তীব্র ঝুঁকিতে রয়েছে। ড্যাপে বিষয়টি আমরা ম্যাপের মাধ্যমে চিহ্নিত করে দিয়েছি।’

 

প্রায় চার বছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক ঢাকার ভূমির গঠন নিয়ে একটি গবেষণা করেন। ‘সিম্পলিফায়েড ইঞ্জিনিয়ারিং জিওমরফিক ইউনিট-বেজড সিসমিক সাইট ক্যারেক্টারাইজেশন অব দ্য ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান অব ঢাকা সিটি, বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণাটিতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার ভূমি ও মৃত্তিকার গঠনের সঙ্গে ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকির সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়।

 

গবেষণায় বলা হয়, ঢাকার ভূমি প্রধানত দুই ধরনের। সদরঘাট থেকে গাজীপুরের মধুপুর পর্যন্ত বিস্তৃত অংশটি প্লাইস্টোসিন যুগের লাল মাটি দিয়ে গঠিত। বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী এলাকা, পুরান ঢাকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিমানবন্দর, টঙ্গী, গাজীপুর ও সাভারের একাংশ এ ধরনের তুলনামূলক শক্ত ভূমির অন্তর্ভুক্ত। গবেষকদের মতে, এসব এলাকায় মাটির ধারণক্ষমতা বিবেচনায় পাঁচ থেকে ১০ তলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণে সাধারণত পাইলিংয়ের প্রয়োজন নাও হতে পারে। অন্যদিকে কেরানীগঞ্জ, হেমায়েতপুর, বালু নদের অববাহিকা ও নারায়ণগঞ্জের একাংশ সাম্প্রতিক প্লাবন সমভূমির অন্তর্ভুক্ত। বন্যা ও বর্ষার পানির সঙ্গে আসা পলি জমে এসব ভূমি এখনো গঠিত হচ্ছে। এ ধরনের এলাকায় ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে মাটির প্রকৃতি অনুযায়ী ৩০-৪০ মিটার পর্যন্ত গভীর পাইলিংয়ের প্রয়োজন হতে পারে। তবে যথাযথ পাইলিং করা হলেও ভূমিকম্পের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয় না।

 

গবেষণা দলের সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. জিল্লুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ঢাকার পুরনো অংশের প্লাইস্টোসিন যুগের সোপানভূমি প্রায় ১৮ থেকে ২৫ লাখ বছর আগে গঠিত হয়েছে। এ অংশের ভূমি শক্ত লাল কাদামাটি ও বালির স্তরের ওপর গড়ে উঠেছে। ঢাকাসহ সারা দেশে এ ধরনের ভূমির পরিমাণ মাত্র ৮ শতাংশ। এসব এলাকায় পাঁচ থেকে ১০ তলা আবাসিক ভবন নির্মাণে সাধারণত পাইলিং তেমন জরুরি নয়। অন্যদিকে ঢাকার সম্প্রসারিত অংশে জলাভূমি ও নিচু জমি ভরাট করে অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। এসব এলাকায় প্রকৌশলগত নিয়ম মেনে পাইলিং করে অবকাঠামো নির্মাণ অত্যাবশ্যক। তবে এখানে যথাযথ নিয়মে পাইলিং করা হলেও অবকাঠামোগুলো ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি থেকে মুক্ত বলা যায় না। ভূমিকম্পের সময় এ ধরনের দুর্বল ভূমি ডেবে যেতে পারে। তখন রাস্তা ও ভবন অক্ষত থাকলেও মাটি নিচে নেমে ভবনের ফাউন্ডেশন উন্মুক্ত হয়ে যেতে পারে কিংবা পুরো ভবন হেলে পড়তে পারে।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি : সংগৃহীত
মঙ্গলবার বঙ্গভবনে প্রথম অফিস করবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বঙ্গভবনে প্রথম অফিস করবেন। এদিন দুপুর ১২টায় বঙ্গভবনে যাবেন তিনি। রোববার (২৬ জুলাই) সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।   এর আগে শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী পাঁচ বছরের জন্য তিনি নির্বাচিত হলেও তিন বছর তিন মাস দায়িত্ব পালন শেষে পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগের পর একই দিনে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।   হাফিজ উদ্দিন আহমদ রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে তিনি স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে (স্মারক বই) মন্তব্য লেখেন এবং তাতে সই করেন।   এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানরাসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।   সেখান থেকে ফিরে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর জিয়া উদ্যানে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে এ শ্রদ্ধা জানান।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রীর পুলিশ প্রহরা প্রত্যাহার, কারণ জানাল ডিএমপি

ছবি : সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি থাকতেই শেয়ার কেলেঙ্কারি মামলার আসামি হন সাহাবুদ্দিন

ছবি : সংগৃহীত

পাউরুটিতে বিষাক্ত পটাশিয়াম ব্রোমেট বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

ছবি : সংগৃহীত
দেশের বাজারের ২৬টি টুথপেস্টে বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক, গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতেই ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে এক গবেষণায় দাবি করেছে পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো)।     রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীতে নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক বছরব্যাপী পরিচালিত এ গবেষণার ফল প্রকাশ করে সংস্থাটি।     গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে সর্বনিম্ন ২০টি থেকে সর্বোচ্চ ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ৩২০টি কণা পাওয়া গেছে ‘মেডিপ্লাস ফ্লুরাইড জেল’-এ।     এসডো জানায়, গবেষণার অংশ হিসেবে দেশের ২ হাজার ৭৬০ জন ভোক্তার ওপর জরিপ পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের ‘এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি ল্যাবরেটরিতে’ স্টিরিওমাইক্রোস্কোপি ও ফুরিয়ার ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড (এফটিআইআর) স্পেকট্রোস্কোপি প্রযুক্তি ব্যবহার করে নমুনা পরীক্ষা করা হয়।     প্রতিবেদনে বলা হয়, পরীক্ষা করা ২৫টি দেশীয় টুথপেস্টের মধ্যে ২২টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এছাড়া ভারতের পাঁচটির মধ্যে একটিতে, থাইল্যান্ডের দুটির মধ্যে একটিতে এবং ভিয়েতনামের দুটি টুথপেস্টের দুটিতেই এ ক্ষতিকর কণা শনাক্ত হয়েছে।     উদ্বেগের বিষয় হলো, শিশুদের জন্য তৈরি ছয়টি টুথপেস্টের চারটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।     গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১০০ গ্রাম হিসেবে মেডিপ্লাস ফ্লুরাইড জেলে ৩২০টি, ক্লোজ আপ রেড হটে ১৬০টি, ক্লোজ আপ মেন্থল ফ্রেশে ১৬০টি, কোডোমো আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলা স্ট্রবেরিতে ১৪০টি, সিগন্যাল গ্রিন টিতে ১২০টি, পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্টে ১০০টি, হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ারে ১০০টি এবং সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্টে ৮০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে।   শিশুদের টুথপেস্টের মধ্যে কোডোমো আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলায় ১৪০টি, মেরিল বেবি স্ট্রবেরিতে ৬০টি, মেরিল বেবি অরেঞ্জে ৪০টি এবং পেপসোডেন্ট কিড অরেঞ্জে ২০টি প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।     তবে গবেষণায় বাংলাদেশে উৎপাদিত জেনফ্রেশ, প্যারাসুট জাস্ট ফর বেবি (ম্যাঙ্গো) এবং ক্লোজ আপ রেড হট জিংক ফ্রেশ টেকনোলজিতে কোনো শনাক্তযোগ্য মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি। এছাড়া শিশুদের জন্য আমদানি করা কোডোমো অরেঞ্জ টুথপেস্টেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মারিয়া রহমান জুলাই ২৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

১৮ মন্ত্রীর পুলিশ এসকর্ট প্রত্যাহার, দায়িত্বমুক্ত ৯০ পুলিশ সদস্য

ছবি : সংগৃহীত

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: খুব শিগগিরই স্পিকারের সাক্ষাৎ চায় ইসি

ছবি: সংগৃহীত

ব্যাংক কর্মীদের শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ ২ মাসে নিষ্পত্তির নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত
এসডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের দরকার আরও ৪২১ বিলিয়ন ডলার

টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের অতিরিক্ত প্রায় ৪২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন প্রয়োজন হবে। সরকারের এসডিজি অর্থায়ন কৌশল পর্যালোচনায় এ অর্থ ঘাটতির তথ্য উঠে এসেছে।   রোববার (২৬ জুলাই) ঢাকায় ‘ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স অ্যাসেসমেন্ট (ডিএফএ) ও এসডিজি অর্থায়ন বিষয়ক জাতীয় ভ্যালিডেশন কর্মশালায়’ এ তথ্য জানানো হয়। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), ইউএনডিপি ও জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কের কার্যালয় যৌথভাবে কর্মশালাটির আয়োজন করে।   আয়োজকরা জানান, ২০২৬-২৭ থেকে ২০২৯-৩০ অর্থবছর পর্যন্ত প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত অর্থের বড় অংশ দেশীয় সরকারি-বেসরকারি উৎস, জলবায়ু অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে।   ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নের সময়সীমা এখন খুবই সীমিত। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও অগ্রাধিকার নির্ধারণ, সমন্বিত উদ্যোগ ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।   কর্মশালায় বক্তারা দেশীয় সম্পদ বাড়ানো, কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নে বেসরকারি খাতকে আরও সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন।   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান বাংলাদেশের পরিবর্তিত অর্থায়ন পরিস্থিতি তুলে ধরে সরকারি ও বেসরকারি খাত থেকে অর্থ সংগ্রহের বিভিন্ন পথ নিয়ে আলোচনা করেন। সংগৃহীত মতামতের ভিত্তিতে সরকারের ডিএফএ ও এসডিজি অর্থায়ন কৌশল চূড়ান্ত করা হবে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীতে নিরাপত্তায় যুক্ত হচ্ছে ১৫৫ অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরা

ছবি: সংগৃহীত

১৫ বছরের কমবয়সী ও দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা হজে যেতে পারবে না

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকায় সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা, সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে স্পষ্ট নয় তথ্য

0 Comments