জাতীয়

সুগন্ধি চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে নজরদারি করবে সরকার

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

 

দেশের বাজারে সুগন্ধি চালের দাম নিয়ন্ত্রণে এবার খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে কড়া নজরদারিতে নামছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম জানিয়েছেন, সংকটকালীন সময়েই শুধু নয়, সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে সব ধরনের ভোগ্যপণ্যের বাজার স্বাভাবিক রাখার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে এ বিষয়ে কেবল সাময়িক তৎপরতা না দেখিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই তদারকি জোরদারের তাগিদ দিয়েছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

 

রপ্তানির উন্মুক্ত সুযোগ থাকায় দেশে সরবরাহ সংকটে দাম বাড়ে সুগন্ধি চালের। বাজারে পোলাওয়ের চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকায়। এমন পরিস্থিতে সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমায় সরকার। তারপরও কমেনি দাম।

 

রাজধানীতে সরেজমিনে গেলে এক ক্রেতা বলেন, ‘সবার জন্য; সাধারণ মানুষ, মধ্যবিত্ত, উচ্চবিত্ত সবারই খাবারের পণ্য এটা। সেজন্য এই চালের দাম কমুক এটা আমরা চাই।’

 

আরেক ক্রেতা আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘আমাদের মতো লোকের জন্য সমস্যা বেশি। ইনকাম হয় তিন টাকা। খরচ হয় ১০ টাকা।’ 

 

সুগন্ধি চালের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে হোটেল-রেস্তোরাঁয়। বেড়েছে পোলাও, বিরিয়ানির দাম, কমেছে বিক্রি। রেস্তোরাঁ ব্যবসায়িদের অভিযোগ, কয়েকটি বড় করপোরেট গ্রুপ চাল মজুদ করে দাম বাড়াচ্ছে। 

 

রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ফিরোজ আলম সুমন বলেন, ‘বড় বড় কোম্পানি কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। সরকার যদি ভালোভাবে মনিটরিং করে তাহলে দাম এক সপ্তাহের মধ্যে কমে যাওয়া সম্ভব। এবং আমাদের ব্যবসার ওপর বড় একটা প্রভাব পড়েছে। বিদ্যুৎ, গ্যাস, তেল সব জিনিসের দাম বেশি। এখন আমরা রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী যারা আছি, নাজেহাল হচ্ছি।’  

 

খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম জানান, দেশে সুগন্ধি চালের উৎপাদন ভালো, মজুদও পর্যাপ্ত। দাম বৃদ্ধির কোনো কারণ নেই।

 

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এ কাজটাই করব, জনগণের যেন কোনো অসুবিধা না হয়। জনগণ যেন তার সামর্থ্য অনুযায়ী কিনতে পারে আমরা সেই ব্যবস্থা নেব। আপনারা দেখেছেন যে, দেশে খাদ্য মজুত ভালো অবস্থায় আছে। জনগণের যেন অসুবিধা না হয় সেভাবেই আমরা কাজ করব। 

 

দেশে কোনো ভোগ্যপণ্যের দাম একবার বাড়লে কমে না তেমন। এই বাস্তবতা মাথায় রেখে ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষার তাগিদ ক্যাবের।

 

ক্যাবের সহ সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বসে আলোচনা করতে পারে– কেন, কীভাবে সমস্যাগুলো তৈরি হচ্ছে।’   

 

সরকারি তথ্যমতে, ৪৫ হাজার টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির জন্য ২৭৮টি কোম্পানি অনুমোদন পেলেও গত তিন মাসে রপ্তানি হয়েছে মাত্র আড়াই হাজার টন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখার নির্দেশ

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান মনি ও সহকারী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. আবু সাঈদ আকন্দের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ায় এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।     বুধবার (২৮ অক্টোবর) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উন্নয়ন-৩ শাখা থেকে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেওয়া হয়। এতে সই করেন উপসচিব এ এস এম শাহরিয়ার৷       ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ওই দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন তথ্য সন্নিবেশ করে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পেপার কাটিংও সংযুক্ত করা হয়েছে। চিঠিতে এসব অভিযোগের বিষয়ে খতিয়ে দেখার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।       চিঠির বিষয়বস্তুতে ওই দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলের দুর্নীতিবাজ’ হিসেবে অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে।  

মারিয়া রহমান অক্টোবর ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে : হুমায়ুন কবীর

তিস্তা মহাপরিকল্পনার সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ পর্যায়ে : পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী

ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে ডিএনসিসির অভিযান অব্যাহত থাকবে: প্রশাসক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের বিকল্প নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের কোনো বিকল্প নেই। বুধবার জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।   এর আগে, জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোন প্রক্রিয়ায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন হবে, সেটির কর্মপরিধি, কত দিনের মধ্যে গঠন করতে হবে, কোন সার্চ বডি অথবা ইলেকশন কমিটির মধ্য দিয়ে করলে বিতর্কিত হবে না- সবই আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করব। এরপর জাতীয় সংসদে এই বিল উত্থাপনের পরে যখন বিতর্ক হবে, তখনও অনেক পরামর্শ ও প্রস্তাব আসতে পারে।   বিশেষ কমিটি এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর্যায়ে যেতে পারেনি উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, আমরা অনেক ধরনের পরামর্শ ও প্রস্তাব পেয়েছি। এসব প্রস্তাব বিভিন্ন বৈঠকে উত্থাপিত হয়েছে। বিশেষ করে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, বিশিষ্ট আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্রতিনিধি এবং শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে অনেক প্রস্তাব পেয়েছি। সম্পাদকমণ্ডলীর কাছ থেকেও পেয়েছি। বিভিন্ন সভায় যাদের সঙ্গে আমরা বসছি, তাদের কাছ থেকেও বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব পেয়েছি। সব একত্রিত করে কমিটির বৈঠকে আলোচনা করা হবে।   রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে পাওয়া প্রস্তাবসমূহ এবং এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সব ধরনের প্রস্তাব একত্রে পরবর্তীতে রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ২৮, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ-জাপান ছয় সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর, ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ প্রতিশ্রুতি

সংগৃহীত ছবি

নিরাপত্তাজনিত সতর্কতায় সাময়িকভাবে বন্ধ জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভার কার্যক্রম

ফাইল ছবি

‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত মন্তব্য নিয়ে আইজিপিকে সতর্ক করার কথা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
রমজানের আগে ভোজ্যতেলের দাম বাড়বে না, পর্যাপ্ত পণ্য আমদানির পথে : বাণিজ্যমন্ত্রী

আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত পণ্য আমদানির পাইপলাইনে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, রমজানকে কেন্দ্র করে বাজারে পণ্যের সংকট হওয়ার আশঙ্কা নেই। একই সঙ্গে আপাতত ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।   বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।   এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলাসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।   বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভোজ্যতেল, ছোলা, ডাল ও চিনিসহ আমদানিনির্ভর পণ্যের সরবরাহ এবং রমজানে সম্ভাব্য চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে সরকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে। আমদানির পাইপলাইনে থাকা পণ্যের পরিমাণ বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য যথেষ্ট।   তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, রমজানের আগে, চলাকালে কিংবা পরে বাজারে পণ্যের ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা নেই।   তবে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম ও জাহাজভাড়ার ওঠানামা আমদানি ব্যয় এবং দেশের বাজারে পণ্যের মূল্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে উল্লেখ করেন তিনি।   রমজানের আগে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই মুহূর্তে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।   তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে ছোলার দাম কিছুটা বেড়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমদানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার সতর্ক রয়েছে।   আমদানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের কোনো সমস্যার কথা এখন পর্যন্ত জানাননি বলে উল্লেখ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।   তবে কোনো আমদানিকারক এলসির মার্জিন বা অন্য কোনো ব্যাংকিং জটিলতায় পড়লে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।   বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) শুরু হওয়া প্রথম দফার আলোচনা দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।   মন্ত্রী জানান, আলোচনা এগিয়ে নিয়ে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে মালয়েশিয়ার সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।   এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, ওমান, নিউজিল্যান্ড ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গেও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা চলছে।   স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মন্তব্য করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।   তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে সহায়তা করবে। বিশেষ করে তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে এ ধরনের চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২৮, ২০২৬

শুধু সার্টিফিকেট নয়, দক্ষতার জন্যই উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

২ লাখ ৪৫ হাজার যুবকের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করল কেয়ার বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী আকাজাওয়া রিয়োসেই।

বাংলাদেশ বর্তমানে বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় দেশ: জাপানের বাণিজ্যমন্ত্রী

0 Comments