অর্থনীতি

বাংলাদেশ-নেপাল ৮ম বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ১৫, ২০২৬ 0

 রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টানে ১৩-১৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে ৮ম বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

সভায় বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এবং নেপালের বাণিজ্য সচিব ড. রাম প্রসাদ ঘিমিরের নেতৃত্বে নেপাল প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করে।

সভায় উভয় দেশের বাণিজ্য সচিব দু’দেশের মধ্যকার বিরাজমান চমৎকার সম্পর্কের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

এ সময় তাদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। 

বিশেষ করে, বাণিজ্য বৃদ্ধিতে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ), ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, ট্যারিফ, প্যারাট্যারিফ ও নন-ট্যারিফ বাধা হ্রাস, পণ্যের বাজার প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি ও পেমেন্ট ব্যবস্থার সহজীকরণ, উভয় দেশের পণ্যের পারস্পরিক বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, বন্দর অবকাঠামো উন্নয়ন, রেল সংযোগ সম্প্রসারণ, কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও ট্রানজিট সুবিধা কার্যকর করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। 

এ ছাড়া সভায় পর্যটন উন্নয়ন ও বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ সম্ভাবনা, এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও বাংলাদেশ-নেপাল-ভারত ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করা হয়।

সভায় বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (টিপিএ) চূড়ান্তকরণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। 

এ সময় উভয় পক্ষ পিটিএ’র ড্রাফট টেক্সট, রুলস অব অরিজিন টেক্সট ও পণ্যের তালিকা (রিকোয়েস্ট লিস্ট গেস অফার লিস্ট) দ্রুত চূড়ান্ত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। প্রাথমিক পর্যায়ে সীমিত পণ্যের আওতায় পিটিএ বাস্তবায়ন করে, পরবর্তীতে তা ধীরে ধীরে সম্প্রসারণের বিষয়ে বাংলাদেশ পক্ষ তাদের অবস্থান তুলে ধরে। এ লক্ষ্যে, আগামী তিন মাসের মধ্যে ট্রেড নেগোসিয়েটিং কমিটি (টিএনসি)’র সভার মাধ্যমে পিটিএ’র ড্রাফট টেক্সট, রুলস অব অরিজিন টেক্সট ও পণ্যের তালিকা চূড়ান্তকরণের জন্য সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকসমূহের (এমওইউ) বাস্তবায়ন এবং স্যানিটারি অ্যান্ড ফাইটোস্যানিটারি (এসপিএস)  ও টেকনিক্যাল ব্যারিয়ার্স টু ট্রেড (টিবিটি) সংক্রান্ত বিষয়ে উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে উভয় দেশ একমত পোষণ করে। 

এ সময় ব্যবসায়িক ভিসা, পেশাজীবী ও তাদের পরিবারের জন্য ভিসা এবং পর্যটন ভিসা সহজীকরণের মাধ্যমে পারস্পরিক যাতায়াত, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পর্যটন বৃদ্ধিতে উভয় দেশ একমত হয়। 

এছাড়াও ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ করার জন্য উভয় দেশ সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রদান করে।

উভয় পক্ষ পণ্যের বাজার প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, পেমেন্ট সিস্টেম সহজীকরণ ও নির্ভরযোগ্য লেনদেন ব্যবস্থাপনা জোরদারে একমত হন। 

এছাড়াও সভায় নন-ট্যারিফ বাধা, পণ্যের মান পরীক্ষা প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও সম্ভাবনাময় পণ্যের জন্য বিশেষ প্রচারণার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। 

এ সময় দু’পক্ষ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার বিষয়ে একমত পোষণ করে।

বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য উন্নয়ন জোরদারের লক্ষ্যে সরকারি (এ২এ) ও বেসরকারি (ই২ই) পর্যায়ে ট্রেড ফেয়ার, প্রদর্শনী ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দলের সফর বিনিময় নিয়ে আলোচনা হয়। 

উভয় পক্ষ নিয়মিত বাণিজ্য মেলা আয়োজন, বাজার সংক্রান্ত তথ্য বিনিময়, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও এমএসএমই (মাইক্রো, স্মল ও মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজেস) পর্যায়ে সহযোগিতা জোরদারে সম্মত হয়। 

একই সঙ্গে নবম বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের সভা পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে নেপালে আয়োজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
চিপের রমরমা ব্যবসায় ইতিহাস গড়ল স্যামসাং, বাজারমূল্য ছাড়াল ১ ট্রিলিয়ন ডলার

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির জন্য উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন চিপের চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায়, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের বাজারমূল্য বুধবার প্রথমবারের মতো ১ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। এই খাতে দ্রুত বর্ধমান চাহিদার ফলে কোম্পানির শেয়ারমূল্য লাফিয়ে বেড়েছে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান শেয়ারবাজার কসপি সূচক ইতিহাসে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। কোম্পানিটি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। দেশীয় প্রতিদ্বন্দ্বী এসকে হাইনিক্স-এর সঙ্গে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন চিপ সরবরাহের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দ্রুত পরিবর্তনশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শিল্পের সঙ্গে তাল মেলাতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এ সব চিপের ওপর নির্ভর করছে, ফলে এর চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে। গত সপ্তাহে কোম্পানিটি জানায়, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে তাদের মুনাফা রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে।  এই ঘোষণা এমন এক সময় এসেছে, যখন দক্ষিণ কোরিয়া সরকার যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পাশাপাশি বিশ্বের শীর্ষ তিনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শক্তির একটি হিসেবে নিজেদের অবস্থান গড়ে তুলতে জোরালোভাবে কাজ করছে। বুধবার সকালের লেনদেনে স্যামসাংয়ের শেয়ারের দাম প্রায় ১২ শতাংশ বেড়ে যায়, যার ফলে বাজারমূল্য প্রথমবারের মতো ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। একই সময়ে এসকে হাইনিক্স-এর শেয়ারও প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এর প্রভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান শেয়ারবাজার সূচক কসপি ৫ শতাংশেরও বেশি বেড়ে প্রথমবারের মতো ৭,০০০ পয়েন্ট ছাড়িয়ে যায়। গত এক বছরে এআই প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারের কারণে স্যামসাংয়ের শেয়ারমূল্য প্রায় ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। আন্তর্জাতিক আর্থিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, স্যামসাং এখন তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির পর দ্বিতীয় এশীয় প্রতিষ্ঠান, যার বাজারমূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াল। গত সপ্তাহে কোম্পানিটি জানায়, তাদের পরিচালন মুনাফা বছরে ৭৫০ শতাংশ বেড়ে প্রথম প্রান্তিকে রেকর্ড ৫৭.২ ট্রিলিয়ন ওন (প্রায় ৩৯.৩ বিলিয়ন ডলার) হয়েছে। স্যামসাং এই প্রবৃদ্ধির পেছনে ‘এআই প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও দ্রুত বাজারে সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা’-কে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।  কোম্পানিটি আশা করছে, দ্বিতীয় প্রান্তিকেও এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণের কারণে মেমরি চিপের চাহিদা অব্যাহত থাকবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ০৬, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

শেয়ারবাজারে দরপতন, লেনদেন ৭৬৭ কোটি টাকা

ছবি: সংগৃহীত

আইসিবিকে ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করলো বিএসইসি

রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল। ফাইল ছবি

দেশের প্রতিটি জেলায় জমির শ্রেণি বিন্যাস করে দেওয়ার আহবান রিহ্যাব প্রেসিডেন্টের

ছবি : সংগৃহীত
ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়িতে ঋণ মিলবে ৮০ লাখ টাকা, বাড়ল ব্যক্তিগত ঋণের সীমাও

দেশে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ি ক্রয়ে ঋণের সীমা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব গাড়ি কিনতে একজন গ্রাহক ব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন, যা আগে ছিল ৬০ লাখ টাকা। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত ঋণের সীমাও বাড়ানো হয়েছে।  আজ মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে জারি করা এক সার্কুলারে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, সাধারণ গাড়ির ক্ষেত্রে ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ৬০ লাখ টাকা অপরিবর্তিত থাকলেও ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ির জন্য বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় এসব পরিবেশবান্ধব গাড়ির ক্ষেত্রে ঋণ প্রদানে ব্যাংকগুলোকে আরও নমনীয় হতে বলা হয়েছে। সাধারণ গাড়ির জন্য ঋণ-ইক্যুইটি অনুপাত ৬০:৪০ থাকলেও, ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ির ক্ষেত্রে তা বাড়িয়ে ৮০:২০ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, কোনো হাইব্রিড বা ইলেকট্রিক গাড়ির দাম এক কোটি টাকা হলে ব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা ঋণ পাওয়া যাবে, বাকি ২০ লাখ টাকা গ্রাহককে নিজস্ব অর্থায়নে বহন করতে হবে। এছাড়া ব্যক্তিগত ঋণের ক্ষেত্রেও সীমা বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। জামানত ছাড়া একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ঋণ নিতে পারবেন। তবে যথাযথ জামানত থাকলে ব্যাংকগুলো বেশি ঋণ দিতে পারবে, কিন্তু কোনো অবস্থায়ই তা ৪০ লাখ টাকার বেশি হবে না। ব্যক্তিগত ঋণের সীমা নিয়ে সার্কুলারে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে দেশে ভোক্তা পণ্যের বাজার দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্রমবর্ধমান মাথাপিছু আয়ের পাশাপাশি দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ভোক্তার খরচ করার সামর্থ্য বাড়িয়েছে। বিদ্যমান বাজারমূল্য এবং ভোক্তাপণ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে বিবেচনায় নিয়ে ভোক্তা ঋণেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সার্কুলারে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোকে এমনভাবে ভোক্তা অর্থায়ন (কনজ্যুমার ফাইন্যান্স) করতে হবে, যাতে কোনোভাবেই তা মোট ঋণের প্রবৃদ্ধির হার ব্যাংকের মোট ঋণের প্রবৃদ্ধির হারকে অতিক্রম না করে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ০৫, ২০২৬ 0

প্যারিসে জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর বাণিজ্যমন্ত্রীদের বৈঠক

ফাইল ছবি

ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে চামড়া ব্যবসায়ীদের ঋণ বিতরণে নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের

ছবি: সংগৃহীত

শেয়ারবাজারে দরপতন: সূচক ও লেনদেনে কমতির ধারা

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া: বাণিজ্যমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্যচুক্তি বর্তমান সরকারের উদ্যোগে নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে “উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া”—এমন মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।   মঙ্গলবার (৫ মে) সচিবালয়ে মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত কোনো চুক্তি ব্যক্তিগত চুক্তির মতো নয় যে ইচ্ছামতো বাতিল করা যাবে।”   বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চ-এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।   মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই বাণিজ্যচুক্তি পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। “যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তিতে ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা থাকে। তাই এ চুক্তি নিয়ে অযথা উদ্বেগের কিছু নেই,” যোগ করেন তিনি।   সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়েও কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নিজেদের অবস্থান ইতোমধ্যে তুলে ধরা হয়েছে।   দেশের স্বার্থ রক্ষাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, “চুক্তির কোনো ধারা যদি বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী হয়, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।” এ কারণে এ বিষয়ে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।   উল্লেখ্য, গত ৯ ফেব্রুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত অতিরিক্ত শুল্কের প্রভাব কমাতে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

মোঃ নাহিদ হোসেন মে ০৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

টিকে গ্রুপের গ্যাস বিল জালিয়াতি : চাপ কারসাজিতে ১৩.৭২ কোটি টাকা আত্মসাৎ

ফাইল ছবি

পশ্চিমবঙ্গে ভোট গণনাকে ঘিরে বুড়িমারী স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি স্থগিত

এপ্রিল মাসে তুরস্কের বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে পৌঁছেছে ৩২.৩৭ শতাংশে

0 Comments