অর্থনীতি

বাংলাদেশ-নেপাল ৮ম বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ১৫, ২০২৬

 রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টানে ১৩-১৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে ৮ম বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

সভায় বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এবং নেপালের বাণিজ্য সচিব ড. রাম প্রসাদ ঘিমিরের নেতৃত্বে নেপাল প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করে।

সভায় উভয় দেশের বাণিজ্য সচিব দু’দেশের মধ্যকার বিরাজমান চমৎকার সম্পর্কের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

এ সময় তাদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। 

বিশেষ করে, বাণিজ্য বৃদ্ধিতে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ), ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, ট্যারিফ, প্যারাট্যারিফ ও নন-ট্যারিফ বাধা হ্রাস, পণ্যের বাজার প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি ও পেমেন্ট ব্যবস্থার সহজীকরণ, উভয় দেশের পণ্যের পারস্পরিক বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, বন্দর অবকাঠামো উন্নয়ন, রেল সংযোগ সম্প্রসারণ, কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও ট্রানজিট সুবিধা কার্যকর করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। 

এ ছাড়া সভায় পর্যটন উন্নয়ন ও বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ সম্ভাবনা, এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও বাংলাদেশ-নেপাল-ভারত ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করা হয়।

সভায় বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (টিপিএ) চূড়ান্তকরণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। 

এ সময় উভয় পক্ষ পিটিএ’র ড্রাফট টেক্সট, রুলস অব অরিজিন টেক্সট ও পণ্যের তালিকা (রিকোয়েস্ট লিস্ট গেস অফার লিস্ট) দ্রুত চূড়ান্ত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। প্রাথমিক পর্যায়ে সীমিত পণ্যের আওতায় পিটিএ বাস্তবায়ন করে, পরবর্তীতে তা ধীরে ধীরে সম্প্রসারণের বিষয়ে বাংলাদেশ পক্ষ তাদের অবস্থান তুলে ধরে। এ লক্ষ্যে, আগামী তিন মাসের মধ্যে ট্রেড নেগোসিয়েটিং কমিটি (টিএনসি)’র সভার মাধ্যমে পিটিএ’র ড্রাফট টেক্সট, রুলস অব অরিজিন টেক্সট ও পণ্যের তালিকা চূড়ান্তকরণের জন্য সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকসমূহের (এমওইউ) বাস্তবায়ন এবং স্যানিটারি অ্যান্ড ফাইটোস্যানিটারি (এসপিএস)  ও টেকনিক্যাল ব্যারিয়ার্স টু ট্রেড (টিবিটি) সংক্রান্ত বিষয়ে উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে উভয় দেশ একমত পোষণ করে। 

এ সময় ব্যবসায়িক ভিসা, পেশাজীবী ও তাদের পরিবারের জন্য ভিসা এবং পর্যটন ভিসা সহজীকরণের মাধ্যমে পারস্পরিক যাতায়াত, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পর্যটন বৃদ্ধিতে উভয় দেশ একমত হয়। 

এছাড়াও ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ করার জন্য উভয় দেশ সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রদান করে।

উভয় পক্ষ পণ্যের বাজার প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, পেমেন্ট সিস্টেম সহজীকরণ ও নির্ভরযোগ্য লেনদেন ব্যবস্থাপনা জোরদারে একমত হন। 

এছাড়াও সভায় নন-ট্যারিফ বাধা, পণ্যের মান পরীক্ষা প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও সম্ভাবনাময় পণ্যের জন্য বিশেষ প্রচারণার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। 

এ সময় দু’পক্ষ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার বিষয়ে একমত পোষণ করে।

বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য উন্নয়ন জোরদারের লক্ষ্যে সরকারি (এ২এ) ও বেসরকারি (ই২ই) পর্যায়ে ট্রেড ফেয়ার, প্রদর্শনী ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দলের সফর বিনিময় নিয়ে আলোচনা হয়। 

উভয় পক্ষ নিয়মিত বাণিজ্য মেলা আয়োজন, বাজার সংক্রান্ত তথ্য বিনিময়, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও এমএসএমই (মাইক্রো, স্মল ও মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজেস) পর্যায়ে সহযোগিতা জোরদারে সম্মত হয়। 

একই সঙ্গে নবম বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের সভা পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে নেপালে আয়োজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
তহবিলে ধস, তবু বেতন-ভাতায় উৎসব

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস লিমিটেড বিভিন্ন সময় মুনাফা করার কথা বললেও তাদের বিপুল দেনার কথা উল্লেখ করে না। কার্যত লোকসানি এই প্রতিষ্ঠান ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২ হাজার কোটি টাকার বেশি দেনা রেখে ৯৩৭ কোটি টাকার মুনাফা ঘোষণা করে। এদিকে আয় না বাড়লেও নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার মধ্যেই হঠাৎ গত মাসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করা হয় প্রায় ১৮৫ শতাংশ। এমনকি চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহীসহ কয়েকজন বড় কর্তার বেতন কয়েকগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে বছরে ১০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়বে সংস্থাটির। অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকার বিমানকে লাভজনক করতে না পারলেও প্রায় তিন হাজার ৬শ কোটি টাকার ফান্ড রেখে যায়। গত চার মাসে সেই ফান্ড ১২শ কোটিতে নেমেছে।   এদিকে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অনেকটা ‘ঢেলে সাজানো’ হয়েছে কর্তাদের চেয়ার। চুক্তি করা হয়েছে ১৪টি বোয়িং কেনার। নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে প্রধান নির্বাহী ও উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক। অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি বিমান সংস্থার ক্যাশ রিজার্ভ বা ফান্ড দুই-তৃতীয়াংশ কমে যাওয়া আতঙ্কের লক্ষণ। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা আইকাওর নিয়ম অনুযায়ী যেকোনো সংকটে অন্তত ৬ মাসের পরিচালন ব্যয় ফান্ডে জমা থাকতে হয়। বর্তমান ফান্ডের যে অবস্থা তাতে বড় কোনো বৈশ্বিক সংকট এলে তা সামাল দেওয়া কঠিন হবে বিমানের। দিন দিন কমছে ফান্ড : বিমান সূত্র জানায়, একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মৌলিক সূত্র হলো আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা করা এবং লোকসান কমানো, সেখানে বিমান হাঁটছে সম্পূর্ণ উল্টো পথে। একদিকে কমছে ফান্ডের পরিমাণ, অন্যদিকে অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা। চার মাস আগে বিমানের নামে থাকা বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩৬শ কোটি টাকার মতো ফান্ড ছিল। বর্তমানে সেটি ১২শ কোটি টাকায় নেমেছে। নতুন সরকার যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৪টি বোয়িং কেনার চুক্তি করে। চুক্তির সময় ৪শ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। পুরনো ট্যাক্সবাবদ খরচ হয়েছে প্রায় ৪শ কোটি টাকা। দাম বেড়ে যাওয়ায় চার মাসে ফুয়েলের জন্য খরচ হয়েছে ৩শ কোটি টাকার বেশি । বাকি অর্থ বেতনসহ আনুষঙ্গিক কাজে খরচ হয়’। পে-স্কেল বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে বেতন বৃদ্ধি : নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার মধ্যেই হঠাৎ প্রায় সাড়ে তিন হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা প্রায় ১৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে বিমানের পরিচালনা পর্ষদ। পাশাপাশি খাদ্য ভর্তুকি দ্বিগুণ করাসহ অস্থায়ী কর্মীদের দৈনিক মজুরিও বাড়ানো হয়। তা ছাড়া পে-স্কেল সুবিধা যুক্ত হওয়ার কথাও রয়েছে। গত ২০ মে বলাকার বোর্ডরুমে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২ জুন বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন স্বাক্ষরিত একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়। সভায় ককপিট ক্রু ব্যতীত বিমান, বাংলাদেশ ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টার (বিএফসিসি) ও বিমান পোলট্রি কমপ্লেক্সের (বিপিসি) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাতা পুনর্র্নির্ধারণের অনুমোদন দেওয়া হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত নবম জাতীয় বেতন কমিশন গত ২১ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের প্রতিবেদন পেশ করে। প্রতিবেদনে সর্বনিম্ন বেতন স্কেল ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন স্কেল ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়। তখন বেসামরিক কর্মচারীদের পাশাপাশি জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন ও সশস্ত্র বাহিনীর জন্যও বেতন কমিটির প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। তিনটি প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে বাস্তবায়নের সুপারিশ তৈরির জন্য বিএনপি সরকার গত মাসে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের সময় নবম পে-স্কেল আগামী জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ফলে নবম পে-স্কেলের সঙ্গে গত মাসে বর্ধিত বেতন-ভাতাও পাবেন বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। শীর্ষ কর্তাদের বেতন কাঠামো : বিমান আগের চেয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। আর শীর্ষ কর্তাদের বেড়েছে কয়েকগুণ। এখানে এমডির বেতন অন্য যেকোনো সংস্থার চেয়ে বেশি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দায়িত্বে থাকা সাবেক এমডি ড. সাফিকুর রহমান প্রথম ছয় মাস আড়াই লাখ টাকা বেতন পান। তবে গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায় চাকরিচ্যুত হওয়ার আগপর্যন্ত তিনি ৫ লাখ টাকা বেতন পেয়েছেন। বর্তমান এমডি সবমিলিয়ে ১৪ লাখ টাকা বেতন পাচ্ছেন। তার মধ্যে ট্যাক্সবাবদ চার লাখ টাকা বাদ দিয়ে পাচ্ছেন ১০ লাখ টাকা। উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বেতন ১০ লাখ টাকার মধ্যে ২ লাখ টাকা ট্যাক্স বাবদ কাটা হচ্ছে। আগের চেয়ারম্যান সম্মানী বাবদ পেয়েছেন এক লাখ টাকা, বর্তমান চেয়ারম্যান পাচ্ছেন ১০ লাখ টাকার মতো। ঊর্ধ্বতনদের বেতন নিয়ে ক্ষোভ : বিমানের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, কিছু কর্মকর্তার সুযোগ-সুবিধা ও বেতন এক লাফেই বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। ধুঁকতে থাকা সংস্থাটির কয়েকজন বড় কর্মকর্তার পেছনে মোটা অংকের ব্যয় করা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে খোদ বিমানের ভেতরেই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিমানের প্রশাসনের একাংশের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ, ঊর্ধ্বতন মহলের অনিয়ম, ফান্ড কমে যাওয়া, ‘হঠাৎ’ বেতন বৃদ্ধির ঘটনাও আমাদের ভাবিয়ে তুলছে। দীর্ঘদিন ধরেই বিমান লাভের মুখ দেখছে না। অথচ খরচ বাড়ছেই। অতিরিক্ত ব্যয় বাড়বে প্রায় শত কোটি : এমনিতেই বিমানের আয় কমে এসেছে। এরই মধ্যে বিমানের প্রধান আয়ের খাত গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং হাতছাড়া হচ্ছে। এটি পরিচালনা করার কথা জাপানের একটি সংস্থার। এ খাত থেকে বিমানের বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় হতো। এই বিষয়ে বিমানের এক কর্মকর্তার মতে, কর্মীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিন ভাতা অপরিবর্তিত থাকার বিষয়টি বিবেচনায় ভাতা পুনর্র্নির্ধারণ যৌক্তিক হতে পারে। তবে একই সঙ্গে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, সেবার মান উন্নয়ন ও আর্থিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও জরুরি। অন্যথায় অতিরিক্ত ব্যয় প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বর্তমানে বেতন বাবদ ৪২ কোটি টাকা খরচ হয় বিমানের। বেতন বৃদ্ধির ফলে মাসে ব্যয় বাড়বে ৮ কোটি টাকা, যা বছরে গিয়ে ঠেকবে শত কোটিতে। এর সঙ্গে নবম পে-স্কেলের সুবিধা যোগ হলে বিমানের খরচ আরও অনেক বেড়ে যাবে।  ১৪টি নতুন বোয়িং কেনার চুক্তি : ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিমান লোকসানি প্রতিষ্ঠান ছিল। মাঝে মাঝে বিমান মুনাফার কথা জানালেও তাদের বিপুল দেনার কথা উল্লেখ করে না। বিমানের বর্তমানে ২৪টি আন্তর্জাতিক রুট, ৮টি অভ্যন্তরীণ রুট রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক রুট চালু থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে তা বন্ধ রয়েছে শর্ত পূরণ করতে না পারায়। জাপানের নারিতা রুট বন্ধ হয়ে গেছে। ২০০৭ সালের ২৩ জুলাই বিমানকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তর করা হয় যা সম্পূর্ণভাবে সরকারি মালিকানাধীন। ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে ২১০ কোটি ডলারে তিনটি মডেলের ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান। উড়োজাহাজগুলো আসতে লেগেছে ১১ বছর। পরে বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও দুটি ড্রিমলাইনার কেনা হয়। এর বাইরে বোম্বার্ডিয়ার ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজ আছে পাঁচটি। মাসখানেক আগে নতুন করে ১৪টি বোয়িং কেনার চুক্তি করা হয়। ৬শ কোটি টাকার রাজস্ব হাতছাড়া : এক সময় বিমানের লাভজনক কার্গো পরিবহন রুট ছিল লন্ডন-ঢাকা। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিরা প্রতিবছর এ রুটে বিপুল পরিমাণ কার্গো পরিবহন করেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপ এবং প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে সেই বাজার এখন বিদেশি এয়ারলাইনসের দখলে চলে গেছে। এ কারণে ৬শ কোটি টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সংস্থাটি। বিমানের নতুন পরিচালনা বোর্ড পুনর্গঠনের পর লন্ডন-ঢাকা রুটের কার্গো পরিবহন হাতছাড়ার তদন্ত শুরু হয়েছে। সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা বোর্ডের সাবেক সদস্য কাজী ওয়াহিদুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিমানে পেশাদারিত্বের বিকল্প নেই। কিন্তু সব সরকারই বিমানের বড় পদে ‘নিজেদের’ লোক বসায়। কিন্তু কোনো সরকারের আমলেই বিমান উন্নতি করতে পারেনি। বড় পদগুলোয় অ্যাভিয়েশনের লোকজন না থাকলে কখনো উন্নতি হবে না। অথচ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অ্যাভিয়েশনের লোকজনই উড়োজাহাজ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে। বিমানকে রাজনীতির বাইরে রাখতে হবে। বিমানের রুট কমে এসেছে। তাই উড়োজাহাজ বৃদ্ধির সঙ্গে রুটও বাড়াতে হবে। ফান্ডের টাকা বৃদ্ধি করতেই হবে। দীর্ঘদিন ধরেই বিমানের আয়ের তুলনায় খরচ বেশি। তাই আয় বাড়ানো ছাড়া বিকল্প পথ নেই। তিনি আরও বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ুক তা চাই। তবে আয় না বাড়িয়ে বেতন বৃদ্ধি করা সমীচীন নয়। একটি নির্দিষ্ট কাঠামোতে বেতন ঠিক করতে হবে। বড় বড় পদে যাকে-তাকে এনে নিয়োগ বন্ধ করতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে সরকারকে। অন্যথায় আরও ৫০টি উড়োজাহাজ আনলেও বিমানের উন্নতি হবে না। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে গিয়ে কথা বলার চেষ্টা করা হয় বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা ও প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে। কিন্তু তাদের পাওয়া যায়নি। পরে টেলিফোন করলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সিইও কাইজার সোহেল আহমেদকে একাধিকবার ফোন দিলে তিনিও ফোন রিসিভ করেননি। সংস্থাটির মুখপাত্র ও মহাব্যবস্থাপক বুসরা ইসলামও ফোন রিসিভ করেননি। পরে এই প্রতিবেদক এসএমএস করলে বুসরা ইসলাম জবাব দেন ‘আমি অসুস্থ, বাসায়’।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বিএসইসির পক্ষে আদালতের রায়, স্বস্তিতে সংশ্লিষ্টরা

ছবি : সংগৃহীত

হঠাৎ ইসলামী ব্যাংকের সতর্কবার্তা জারি

ছবি : সংগৃহীত

শেয়ারবাজার চাঙ্গা হচ্ছে না কেন?

ছবি : সংগৃহীত
তেল কারসাজি: ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ টিকে গ্রুপের বিরুদ্ধে

ভোজ্যতেলের বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও সরবরাহে কারসাজির মাধ্যমে মাত্র দুই মাসে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা করে ৫০০ কোটি টাকার বেশি মুনাফা করেছে চট্টগ্রামভিত্তিক শিল্পগোষ্ঠী টিকে গ্রুপের প্রতিষ্ঠান শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটিকে ৩২ কোটি টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন।   অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে তেল সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ, বাজারে সংকটের পরিবেশ তৈরি এবং মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিপুল মুনাফা করেছে কম্পানিটি।   অনলাইন নিউজ পোর্টাল এনপিবি নিউজের অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২২ সালে সরবরাহ ঘাটতির কথা বলে দেশের ৮টি প্রতিষ্ঠান সরকারকে তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য করে। অথচ তখন এ আটটি কম্পানির গুদামে তেলের কোনো সংকট ছিল না। এই সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা ছিল টিকে গ্রুপের প্রতিষ্ঠান শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। শবনম ভেজিটেবল অয়েল কম্পানির সঙ্গে জড়িত একটি সরবরাহ আদেশে দেখা যায়, কম্পানিটি তার পরিবেশকদের কাছে তেল সরবরাহে প্রায় ২৫ দিন সময় নেয়। যেখানে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে চাহিদাকৃত পণ্য সরবরাহ করার নিয়ম রয়েছে। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন ও পরিবেশক নিয়োগ আদেশ ২০১১ এর অনুচ্ছেদ ৯-এর(৩) অনুযায়ী একটি সাপ্লাই অর্ডারের মেয়াদ থাকে ১৫ দিন। এর বেশি মেয়াদ কোনোভাবেই বাড়ানো যাবে না।   অথচ এই আইনের তোয়াক্কা না করেই শবনম ভেজিটেবল অয়েল ও এর পরিবেশকদের মধ্যে একটি পরোক্ষ চুক্তি হয়। যা বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা আইন ২০১২-এর ধারা ১৫-এর উপধারা ১ অনুযায়ী অন্যায়। এই পরোক্ষ যোগসাজশে ভোজ্যতেলের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করায় বাজারে কৃত্রিম সংকট দেখা দেয় এবং তেলের চাহিদা বাড়ে। আর আট কম্পানির এই কারসাজির ফলে তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয় সরকার।   এর প্রমাণও মেলে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে। সে মাসে ভোজ্যতেলের দাম এক লাফে বাড়ে ৮ টাকা। ১৬০ টাকা প্রতি লিটারে বিক্রি হওয়া তেল ১৬৮ টাকা নির্ধারণ করলেও এই দামে বিক্রি হয়নি। বরং সে সময় ১৭৫ টাকার নিচে তেল পাওয়া যায়নি। এনপিবির অনুসন্ধানে দেখা যায়, শবনম ভেজিটেবল অয়েল কম্পানি তাদের তৎকালীন উৎপাদন ক্ষমতার পুরোটা কাজে লাগায়নি। কৃত্রিম সংকট তৈরি করার লক্ষ্যে তাদের ক্ষমতার অর্ধেকে নামিয়ে আনে তেলের উৎপাদন। এ সময় কম্পানিটি যা উৎপাদন করত তার পুরোটাও বাজারে সরবরাহ করেনি। সে সময়ে কম্পানিটির অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের ব্যাপক মজুদ পাওয়া যায়।   ২০২২ সালের এপ্রিলে রমজান মাস উপলক্ষে তেলের চাহিদা অনেক বেশি বেড়ে যায়। ঠিক এ সময়টিকেই বেছে নেয় কম্পানিটি তেলের সিন্ডিকেট করে বাজার নিয়ন্ত্রণের।   সরকারি সংস্থা টিসিবির তথ্য মতে, ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসের তুলনায় মে মাসে সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে ৩০ শতাংশ। বাজারে তেলের ঘাটতির অজুহাতে ২২ দশমিক ৪৭ ও ২৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ দাম বাড়ে ভোজ্যতেলের। ঠিক এ সময়ে তেল পরিবেশকরা তাদের সাপ্লাই অর্ডার বা পরিবেশন আদেশ হাতবদল করে দাম বাড়ায়। এরমধ্যেই শবনম ভেজিটেবল অয়েল কম্পানিটি তাদের কাছে থাকা পণ্যের আদেশ অনুযায়ীও তেল সরবরাহ করেনি।   ২০২২ সালের এই সময়টিতে তেলের দাম বাড়িয়ে টিকে গ্রুপের কম্পানি শবনম অয়েল প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা করে। এ ছাড়া শুধু ৫০০ কোটি টাকার বেশি মুনাফা করে। যার পুরোটাই সাধারণ মানুষের পকেটের টাকা। সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি দিয়ে সরকারকে জিম্মি করে মানুষের পকেট কেটে মুনাফা করে টিকে গ্রুপ।   এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন একটি অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে। সেখানে কম্পানির কাছে লিখিত জবাব জানতে চায় কমিশন। এ ছাড়া শুনানিও অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থাপিত যুক্তি তর্ক এবং আইনের বিশ্লেষণ করে কমিশন কম্পানিটির কারসাজির ব্যাপারে নিশ্চিত হয়।   অভিযোগ ও জরিমানাসহ তেল সিন্ডিকেটের সার্বিক বিষয়ে কথা বলতে টিকে গ্রুপের ডিরেক্টর মোস্তফা হায়দারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে এনপিবি নিউজ। তার ব্যক্তিগত নাম্বারে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পাশাপাশি তার হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে মেসেজ করা হলেও তিনি তার রিপ্লাই দেননি। পরবর্তীতে টিকে গ্রুপের হেড অব ব্রান্ডের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।   এ বিষয়ে টিকে গ্রুপের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হয় কম্পানিটির এমডি মো. আবুল কালামের সঙ্গে। প্রতিযোগিতা কমিশন কর্তৃক তেল সিন্ডিকেটের অভিযোগে জরিমানার প্রসঙ্গটি তুলতেই ‘আমি জানি না’ বলে ফোন কেটে দেন তিনি। এরপরে একাধিকবার ফোন দিয়েও তার বক্তব্য জানা যায়নি। পরবর্তীতে তার ব্যক্তিগত নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।   তবে কম্পানি সূত্রে জানা গেছে, জরিমানার বিষয়টি এমডি আবুল কালামসহ কম্পানির ঊর্ধ্বতন সবাই জানেন। এ বিষয়ে তাদের আলোচনাও হয়েছে। তারা হাইকোর্টে প্রতিযোগিতা কমিশনের রায়কে চ্যালেঞ্জ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।   মুনাফা ৫০০ কোটির বিপরীতে জরিমানা মাত্র ৩২ কোটি বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের আইনে জরিমানা করার নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। কোনো কম্পানির কারসাজির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সে কম্পানির বার্ষিক টার্নওভারের ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করতে পারে। কিন্তু এক্ষেত্রে দেখা যায়, শবনম ভেজিটেবল অয়েল কম্পানির ২০২২ সালের বার্ষিক টার্নওভার ছিল ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি।   সেখানে কমিশন জরিমানা করেছে মাত্র ৩২ কোটি টাকা। যেখানে তেল সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করায় শুধু লাভই হয়েছিল ৫০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ জরিমানা করার সর্বোচ্চ সীমার মাত্র শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে কম্পানিটিকে।   জরিমানা করার বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হয় প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপারসনের সঙ্গে। তিনি এ বিষয়ে কমিশনের সদস্য আফরোজা বিলকিসের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে কমিশনের আইন শাখার সদস্য আফরোজা বিলকিস বলেন, ‘এই কম্পানির বিরুদ্ধে কমিশনে এইটাই প্রথম মামলা। তাই আমরা সর্বোচ্চ জরিমানা না করে একটা অংকের জরিমানা করেছি। সবাইকেই তো আসলে রিফর্মের সুযোগ দিতে হয়। আমরাও তাই দিয়েছি। যদি এরপরে আরো কোনো মামলা হয় তবে আরো বেশি জরিমানা করা হবে। এ ছাড়া কম্পানিটি একা এই অপরাধ করেনি। আরো চার-পাঁচটি কম্পানি জড়িত ছিল। সবার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’   এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব তানভীর আহমেদ বলেন, ‘প্রতিযোগিতা কমিশন যেহেতু মামলায় রায় দিয়েছে এতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এ ব্যাপারে যদি বাণিজ্যমন্ত্রী মনে করেন কম্পানির কাছ থেকে ব্যাখ্যা নেবেন তবে মন্ত্রণালয় থেকে আমরা চিঠি দেব।’   এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলেও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের পরিচালক যুগ্মসচিব সেবাস্টিন রেমা কোনো কথা বলতে রাজি হননি। উল্লেখ্য, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে সরকার এখনো কাউকে নিয়োগ দেয়নি।   এ বিষয়ে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সহসভাপতি নাজের হোসাইন বলেন, ‘জরিমানা যত টাকাই করুক, এক টাকাও শেষমেশ আদায় হয় না। শুরুর দিকে একটু হইচই হয়, পরবর্তী বাণিজ্য সচিবের কাছে গেলেই মাফ হয়ে যায়। এটাই সমস্যা। আপিল অথরিটি সম্পূর্ণ জরিমানা মাফ করে দিতে পারে। আমরা এই আইনের সংশোধন চেয়েছি।’

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করতে বিনিয়োগে সহায়তার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

শেয়ারবাজারে আম্বানির মেগা ধামাকা

ছবি : সংগৃহীত

রপ্তানি আয়ের প্রণোদনায় বাড়ছে করের চাপ

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকা জমার রেকর্ড

সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে গত বছর বাংলাদেশিদের টাকা জমার পরিমাণ নজিরবিহীন বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত বার্ষিক এক নথিতে এই তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশিরা যে হারে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংক অর্থ জমা করেছেন, তা ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড।     সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (এসএনবি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে সুইস বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশি নাগরিক ও ব্যাংকগুলোর জমা রাখা অর্থের পরিমাণ ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ আমানতের পরিমাণ বেড়ে ৮৩৪.২ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে পৌঁছেছে; যা বাংলাদেশি ১২ হাজার ৭৬০ কোটি টাকার বেশি। বর্তমানে এক সুইস ফ্রাঁ বাংলাদেশি ১৫২ টাকার বেশি।   এসএনবির তথ্য অনুযায়ী, সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশি ও বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর টাকা জমার এই হার ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২১ সালে সুইজারল্যান্ডের শতাধিক ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত ৮৭১.১ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে পৌঁছায়। যা দেশটির ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ পরিমাণ জমা করা অর্থ।   কিন্তু গত বছর আমানতের উল্লম্ফনে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশি গ্রাহকদের মোট তহবিলের পরিমাণ ২০২১ সালের সর্বকালের সর্বোচ্চ ৮৭১.১ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁর ঠিক নিচে অবস্থান করছে।   এসএনবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই উল্লম্ফনের পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর ৪৩ শতাংশ আমানত বৃদ্ধি; যা এক বছর আগের ৫৭৬ দশমিক ৬ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৮২২.৭ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে দাঁড়িয়েছে।   এছাড়া গত বছর সুইস বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশিদের মোট আমানতের ৯৮ দশমিক ৬ শতাংশই ছিল বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর। যেখানে তার আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে এই হার ছিল ৯৭ দশমিক ৮ শতাংশ; যা ২০২৩ সালের ২০ শতাংশ এবং ২০২১ সালের ৩৫ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি।     তবে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশের ব্যক্তিগত গ্রাহক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে জমা রাখা আমানতের পরিমাণ ২০২৪ সালের তুলনায় কমেছে। ২০২৪ সালের ১২ দশমিক ৬ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ থেকে প্রায় ১০ শতাংশ কমে গত বছর বাংলাদেশি ব্যক্তিগত গ্রাহক অ্যাকাউন্টের আমানত ১১.৪ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে নেমেছে।   • সুইস ব্যাংকে টাকা জমায় দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় বাংলাদেশ এসএনবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ আমানত নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ভারতীয় নাগরিক ও দেশটির ব্যাংকগুলো। যদিও আগের বছরের তুলনায় তাদের আমানত ৮ শতাংশ কমেছে।     বাংলাদেশ ৮৩৪ দশমিক ২ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এবং ভারতের বিপরীতে বাংলাদেশের আমানতের পরিমাণ বেড়েছে ৪১ শতাংশ। এছাড়া সুইস ব্যাংকে আমানতের উল্লম্ফন দেখা গেছে আফগানিস্তানের নাগরিক ও ব্যাংকগুলোর।   ২০২৪ সালের তুলনায় গত বছর দেশটি থেকে সুইস ব্যাংকে অর্থ আমানতের হার প্রায় ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। সুইস ব্যাংকে আফগানিস্তানের নাগরিক ও ব্যাংকগুলোর মোট আমানতের পরিমাণ মাত্র ৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ।   • অতীতের রেকর্ড কী বলছে? প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০২১ সালে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা রাখা অর্থের পরিমাণ ৮৭১.১ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে পৌঁছায়। যা দেশটির ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থ জমা।   তবে ২০২০ সালে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ তার আগের বছরের তুলনায় কম ছিল। ওই বছর সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ ছিল ৫৬ কোটি ৩০ লাখ সুইস ফ্রাঁ; যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ হাজার ২০৩ কোটি টাকার বেশি।   তার আগের বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে দেশটির বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা করা অর্থের পরিমাণ ছিল ৬০ কোটি ৩০ লাখ ফ্রাঁ। ২০১৮ সালে এই অর্থের পরিমাণ ছিল ৬২ কোটি সুইস ফ্রাঁ। আর ২০১৭ সালে এর পরিমাণ ছিল ৬৬ কোটি ১৯ লাখ সুইস ফ্রাঁ।   সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের ‘মোট দায়ের’ মধ্যে ব্যক্তিগত, ব্যাংক এবং অন্যান্য উদ্যোগের আমানতসহ সব ধরনের তহবিল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাজার হাজার মানুষ সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বৈধ-অবৈধ পথে উপার্জিত অর্থ গচ্ছিত রাখেন। দেশটির কঠোর গোপনীয় ব্যাংকিং নীতির কারণে সারা দুনিয়ার মানুষ সেখানে অর্থ জমা রাখেন।   সুইজারল্যান্ডের আইনে গ্রাহকদের গোপনীয়তা দৃঢ়ভাবে রক্ষার নিয়ম রয়েছে। এ আইনের ফলে দেশটির ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের তথ্য কারও কাছে প্রকাশে বাধ্য নয়।   ফলে কারা, কেন অথবা কীভাবে অর্থ ব্যাংকে রাখছেন, সে সম্পর্কে ব্যাংকগুলো কাউকে কোনো তথ্য দেয় না। তবে সম্প্রতি গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ও সমালোচনা দেখা দেওয়ায় সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশগুলোর অনুরোধের ভিত্তিতে সরকারকে কিছু ক্ষেত্রে তথ্য সরবরাহ করে। যে কারণে অনেকে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংক থেকে বিশ্বের অন্যান্য দেশে তাদের অর্থ সরিয়ে নিচ্ছেন।   সূত্র: এসএনবি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

এক বছরে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ বেড়েছে ৪১%

ছবি: সংগৃহীত

জাহাজের লিজ ভাড়া পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণের অনুমোদন বাংলাদেশ ব্যাংকের

ছবি : সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংকের পুরোনো মালিকানা ফেরাতে ইতিবাচক বিএবি চেয়ারম্যান

0 Comments