অর্থনীতি

জার্মানিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ১৫, ২০২৬ 0

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ভোগ্যপণ্যের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ‘অ্যাম্বিয়েন্তে ফ্রাঙ্কফুর্ট-২০২৬’ জার্মানির মেসে ফ্রাঙ্কফুর্টে ৬ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।

বিশ্বব্যাপী একটি প্রধান ওয়ান-স্টপ সোর্সিং গন্তব্য হিসেবে স্বীকৃত ‘অ্যাম্বিয়েন্তে’ বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক ভোগ্যপণ্য মেলা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে। যা বিশ্বজুড়ে পণ্যের উৎপাদক, প্রদর্শক এবং পেশাদার ক্রেতাদের আকর্ষণ করে। আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বরাবরের মতো অ্যাম্বিয়েন্তে ফ্রাঙ্কফুর্ট ২০২৬-এ যথারীতি বাংলাদেশের উজ্জ্বল উপস্থিতি থাকবে। এ বছর মোট ৩৮ জন প্রদর্শক নিয়ে অংশগ্রহণ করবে বাংলাদেশ। যারা বিভিন্ন নতুনত্ব ও সৃজনশীলতা দিয়ে পণ্য খাতে দেশের সক্ষমতা প্রদর্শন করবে এবং বিশ্বব্যাপী ভোক্তা বাজারে এর ক্রমবর্ধমান রপ্তানি সম্ভাবনা প্রতিফলিত করবে।

অ্যাম্বিয়েন্তে ফ্রাঙ্কফুর্টে গ্লোবাল সোর্সিং, ডাইনিং, লিভিং, গিভিং, বিউটি অ্যান্ড বাথ, অফিস অ্যান্ড স্কুল সাপ্লাই, গিফট, প্যাকেজিং এবং ডেকোরেশনসহ পণ্যের ব্যাপক পরিসর রয়েছে, যা প্রদর্শনকারীরা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে তুলে ধরে।

মোট ৩২টি বাংলাদেশি কোম্পানি সরাসরি প্রদর্শক হিসেবে অংশগ্রহণ করবে। যার মধ্যে রয়েছে ঢাকা হ্যান্ডিক্রাফটস, অপরাজেও, আরএফএল প্লাস্টিকস, প্রকৃতি, বিডি ক্রিয়েশন, এএসকে হ্যান্ডিক্রাফটস, আকিজ সিরামিকস, সিওআরআর-দ্য জুট ওয়ার্কস, প্রতীক সিরামিকস লিমিটেড, সান ট্রেড, থানাপাড়া সোয়ালোস ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি, হাজীগঞ্জ হ্যান্ডিক্রাফটস লিমিটেড, মনি জুট গুডস অ্যান্ড হ্যান্ডিক্রাফটস, পিপলস সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ, আর্টিসান হাউস বিডি, জুলহাশ হ্যান্ডিক্রাফটস, সৈয়দপুর এন্টারপ্রাইজ, প্যারাগন সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ, হ্যান্ড টাচ, কনএক্সপো, গোল্ডেন জুট প্রোডাক্ট, গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্রাফটস, আর্টিসান সিরামিকস, আর্থ বাউন্ড, এএসআইএক্স বিডি, ক্রিয়েশন, ক্রাফটস ভিলেজেস, আভা ক্লে টাইলস বাংলাদেশ, পারিজাত ট্রেডিং, শাইনপুকুর সিরামিকস এবং এএস বাংলা জুটেক্স।

এছাড়াও, টেকসই এবং কারুশিল্প-ভিত্তিক উৎপাদন খাতের প্রতিনিধিত্ব করে এরকম আরও ৫টি প্রতিষ্ঠান রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) মাধ্যমে এ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করবে। যার মধ্যে রয়েছে ইকো ক্রেভ, সোনালী আঁশ ইন্ডাস্ট্রিজ, জুট ক্রাফটস, মাফ ক্রাফট বিডি এবং তারাঙ্গো।

অ্যাম্বিয়েন্তে ফ্রাঙ্কফুর্টকে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য ইউরোপীয় এবং বৈশ্বিক বাজারের সাথে সম্পৃক্ততা জোরদার করতে, ব্র্যান্ডের দৃশ্যমানতা বৃদ্ধি করতে, টেকসই এবং কারিগরের হাতে তৈরি পণ্যের প্রচার করতে এবং বিশ্বব্যাপী ভোক্তা, বাজার ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনার সাথে সেতুবন্ধনের একটি কৌশলগত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অর্থনীতি

আরও দেখুন
সুতা আমদানি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপনের অভিযোগ

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত কিছু তথ্যকে সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, স্পিনিং খাত ও সুতা আমদানি বিষয়ে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে এক বিবৃতিতে বিটিএমএ সভাপতি জানান, বিটিএমএর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিটিএমএ, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র সঙ্গে আলোচনা করেই ট্যারিফ কমিশন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করে। ওই প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কেবল ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা (এইচএস কোড ৫২০৫, ৫২০৬ ও ৫২০৭) বন্ড সুবিধার বাইরে রাখার সুপারিশ করেছে। এতে নতুন করে কোনো শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়নি এবং বর্তমানে সেফগার্ড ডিউটি আরোপেরও কোনো সিদ্ধান্ত নেই। শওকত আজিজ বলেন, বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত সুতা আমদানির মাধ্যমে তৈরি পোশাক খাতের দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বাস্তবে কোনো সুবিধা পাচ্ছে না। বরং এই সুবিধার মূল উপকারভোগী হচ্ছে বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো। অন্যদিকে, দেশীয় স্পিনিং মিলগুলো বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেও পার্শ্ববর্তী দেশের সরকারের দেওয়া প্রতি কেজিতে প্রায় ৫০ সেন্ট ভর্তুকির কারণে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে এবং টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। তিনি আরো বলেন, এসব বাস্তবতা বিবেচনায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) এমন কিছু সুতাকে বন্ড সুবিধার আওতামুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে, যেগুলোর শতভাগ সরবরাহ সক্ষমতা দেশীয় মিলগুলোর রয়েছে। এই প্রস্তাব দেওয়ার আগে সরকার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও কর্মকর্তারা তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে একাধিকবার আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন। বিটিএমএ সভাপতি জানান, এর আগেও অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে বিটিএমএ, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতারা একমত হয়েছিলেন যে, যেসব সুতা শতভাগ স্থানীয়ভাবে উৎপাদন সম্ভব, সেগুলো বন্ড সুবিধার বাইরে আনা যেতে পারে। অথচ সেই সমঝোতাকে উপেক্ষা করে এখন বিষয়টিকে একতরফা সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা কাম্য নয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের পর রপ্তানির ক্ষেত্রে অন্তত ৪০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজনের শর্ত পূরণ করতে হবে। একই ধরনের শর্ত যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। এ প্রেক্ষাপটে দেশীয় স্পিনিং ও টেক্সটাইল শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া জরুরি। বিটিএমএ সভাপতি আশা প্রকাশ করেন, সরকার দেশের শিল্পখাতকে অর্থনৈতিক আধিপত্যবাদের হুমকি থেকে রক্ষা করতে দ্রুত ও যথাযথ পদক্ষেপ নেবে। 

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

সব রেকর্ড ছাপিয়ে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

এলপিজি আমদানির অনুমতি পেল বিপিসি

ছবি : সংগৃহীত

সয়াবিন ও চিনির দাম ঊর্ধ্বমুখী, কমেছে ডিমের দাম

ছবি : সংগৃহীত
বৈশ্বিক ঝুঁকি ও অভ্যন্তরীণ চাপে নড়বড়ে দেশের অর্থনীতি

বড় বড় সমস্যার মুখোমুখি এখন দেশের অর্থনীতি। আন্তর্জাতিক বাজারে নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক ও বিনিয়োগে কড়াকড়ির পাশাপাশি দেশের রপ্তানি ও বিনিয়োগে এর প্রভাব পড়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতি এবং ঋণের চাপ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ঝুঁকি দেশের অর্থনীতিকে ক্রমেই দুর্বল করে তুলছে। সময়মতো ঝুঁকি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।   সম্প্রতি প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ)-এর বৈশ্বিক ঝুঁকি মূল্যায়নে চলতি বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রথম ও দ্বিতীয় বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে অপরাধ ও অবৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং ভূ-অর্থনৈতিক বিরোধকে। এসব ঝুঁকি কেবল কূটনৈতিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে রপ্তানি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ প্রবাহে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শক্তিশালী দেশগুলো নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন বাধা সৃষ্টি করছে। এতে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ কঠিন হয়ে উঠছে। রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এই পরিবর্তনে বিশেষভাবে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতির টানাপোড়েন এখন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতিকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। তিনি বলেন, দেশের সামনে অন্তত পাঁচটি বড় ঝুঁকি রয়েছে, যা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা, যুক্তরাষ্ট্র-চীনের কৌশলগত প্রতিযোগিতা, বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা এবং সাপ্লাই চেইন পুনর্গঠনের মতো বিষয়গুলো আমদানি-রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, মূল্যস্ফীতি, রেমিট্যান্স ও বিনিয়োগ প্রবাহের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি আরও বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি ধীরে ধীরে বিভক্ত হয়ে পড়ছে, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বেশি নেতিবাচক প্রভাব বয়ে আনছে। শুধু অভ্যন্তরীণ সংস্কার যথেষ্ট নয়, বৈশ্বিক ভূ-অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার কৌশল নিতে হবে। সতর্ক না হলে ঝুঁকি আরও বাড়বে। এ জন্য সুশাসন জোরদার, অপরাধ দমন, প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সংস্কার এবং বৈদেশিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ জরুরি। ডব্লিউইএফের তথ্যমতে, দেশের অর্থনীতিতে তৃতীয় বড় ঝুঁকি হলো মূল্যস্ফীতি। দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে এবং শিল্প ও ব্যবসা খাতে উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা স্বস্তি মিললেও পুরোপুরি স্থিতি এখনো আসেনি। চতুর্থ ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে অর্থনৈতিক ধীরগতি। বৈশ্বিক মন্দার আশঙ্কা, অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ মিলিয়ে প্রবৃদ্ধি কমার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পূর্বাভাসেও এই আশঙ্কার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। পঞ্চম এবং বড় ঝুঁকি হলো ঋণের বোঝা। সরকারি, করপোরেট ও পারিবারিক পর্যায়ে ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। জাতীয় বাজেটে সুদ পরিশোধে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হওয়ায় উন্নয়ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের ফাঁদে আটকে পড়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।   বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এসব ঝুঁকি আলাদা নয়; বরং একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করছে। অপরাধ ও অবৈধ অর্থনীতি বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, ভূ-অর্থনৈতিক বিরোধ বাজার সংকুচিত করে, আর মূল্যস্ফীতি ও ঋণের চাপ সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১৭, ২০২৬ 0

বাংলাদেশ-নেপাল ৮ম বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত

জার্মানিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ

জাতীয় পরিকল্পনায় আঞ্চলিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাণিজ্য অন্তর্ভুক্তির আহ্বান সিপিডির

ছবি : সংগৃহীত
আজকের স্বর্ণের বাজারদর : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার প্রভাবে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম বেড়েছে। ভরিতে ৪ হাজার ২০০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩২ হাজার ৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে এবং বুধবারও একই দামে স্বর্ণ বিক্রি হবে।   সোমবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বাড়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩২ হাজার ৫৫ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ২১ হাজার ৪৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ ১ লাখ ৮৯ হাজার ৮৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮৮১ টাকা। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত হবে। তবে গহনার নকশা ও মানভেদে মজুরির পরিমাণে তারতম্য হতে পারে।   স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও বেড়েছে। ভরিতে ৪০৯ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৫ হাজার ৭১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

শেয়ার শূন্য ৫ ব্যাংক অডিটরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা

ছবি : সংগৃহীত

সর্বকালের সর্বোচ্চ দামে পৌঁছাল স্বর্ণ

১০ জানুয়ারি পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবাহ ৫৭.২ শতাংশ বৃদ্ধি

0 Comments