ভারতের রাজস্থানের আজমের জেলায় চাঞ্চল্যকর এক পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের বিরুদ্ধে নিজের বাবা, সৎমা, দাদি ও চাচাতো বোনকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ বলছে, প্রায় পাঁচ মাস ধরে পরিকল্পনা করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় এবং পরে ঘটনাটিকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে সাজানোর চেষ্টা করা হয়।
শনিবার (৩০ মে) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি। গত ২৮ মে আজমের শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরের শ্রীরামপুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- সাবেক সরপঞ্চ রাম সিং চৌধুরী, তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী সূর্যজ্ঞান দেবী, মা পুসি দেবী এবং চাচাতো বোন মহিমা চৌধুরী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ মে ভোর ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে আজমের শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরের শ্রীরামপুরা গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। পরে নিহতদের মরদেহ একটি মাহিন্দ্রা স্করপিও গাড়িতে তুলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে জ্বলন্ত গাড়িটি উদ্ধার করা হয়।
প্রথমে ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলে দাবি করা হলেও তদন্তে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পুলিশ দেখতে পায়, গাড়ির সামনের আসনে কেউ ছিল না এবং নিহতদের একজনের শরীরে আগুন লাগার আগেই ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। এরপরই দুর্ঘটনার পরিবর্তে হত্যাকাণ্ডের সন্দেহ জোরালো হয়।
তদন্তকারীদের দাবি, পারিবারিক কলহ, দ্বিতীয় বিয়ে, উত্তরাধিকার ও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ এবং দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকেই এ হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। কিশোরটি নিয়মিত অপরাধভিত্তিক ওয়েব সিরিজ দেখত এবং পুলিশের তদন্ত পদ্ধতি ও প্রমাণ নষ্ট করার কৌশল সম্পর্কেও জানার চেষ্টা করত।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে রাম সিং ও তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মদ্যপানের পর ঘুমিয়ে পড়েন। ভোরে কিশোরটি বাবার ঘরে ঢুকে প্রথমে তাঁকে ছুরিকাঘাত করে। চিৎকার শুনে সৎমা, দাদি ও চাচাতো বোন এগিয়ে এলে তাদেরও হত্যা করা হয়। পরে মরদেহগুলো গাড়িতে তুলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, যাতে ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলে মনে হয়।
পুলিশ জানায়, পরিবারের সদস্যদের শোকের মধ্যেও অভিযুক্ত কিশোরের অস্বাভাবিক শান্ত আচরণ তদন্তকারীদের সন্দেহের কারণ হয়ে ওঠে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে হত্যার বিষয়ে তথ্য দেয় বলে দাবি পুলিশের।
এ ঘটনায় কিশোরের মা, বোন এবং কিশোরটিকে আটক করা হয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এটি সাম্প্রতিক সময়ে রাজস্থানের অন্যতম আলোচিত ও ভয়াবহ পারিবারিক হত্যাকাণ্ড।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি, দ্য নিউজমিল
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় মোবাইল ফোনে আর্জেন্টিনা–ইংল্যান্ডের ফুটবল ম্যাচ দেখতে গিয়ে খালে পড়ে আহাদ নূর নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় দুই দিন পর শুক্রবার সকালে উপজেলার সাপমরা খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আহাদ নূর (২৬) মোহনগঞ্জ উপজেলার মাঘান (মাইজহাটি) গ্রামের কাঁচা মিয়ার ছেলে। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে বসবাস করতেন। কয়েক দিন আগে তিনি চাচা কালা মিয়ার বাড়িতে বেড়াতে মোহনগঞ্জে এসেছিলেন। মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, গত বুধবার দিবাগত গভীর রাতে মাঘান গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সাপমরা খালের পাড়ে বসে মোবাইল ফোনে আর্জেন্টিনা–ইংল্যান্ডের ফুটবল ম্যাচ দেখছিলেন আহাদ। একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত খালের পানিতে পড়ে যান। তিনি সাঁতার জানতেন না বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। পরদিন সকাল থেকে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করলেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। শুক্রবার সকালে স্থানীয় লোকজন খালে একটি লাশ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। ওসি হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, লাশটি অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল। এটি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ভেসে ওঠে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খেলা দেখতে গিয়ে খালের পাড় থেকে পানিতে পড়ে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে। মাঘান–সিয়াধার ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মাসুদ বলেন, আহাদের চাচার বাড়ি খালের পাড়েই। বুধবার রাতে তিনি খালের কিনারায় বসে মোবাইলে খেলা দেখছিলেন। সম্ভবত অসাবধানতাবশত খালে পড়ে যান। বর্তমানে খালটিতে পানির গভীরতা অনেক বেশি। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, আহাদ সাঁতার জানতেন না। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি কবরস্থান থেকে ৯টি কঙ্কাল চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের আঁধারে সংঘটিত এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) দিবাগত রাতে উপজেলার সূত্রাপুর ইউনিয়নের চাঁনপুর টেকি বাড়ি কেন্দ্রীয় কবরস্থানে এ চুরির ঘটনা ঘটে। সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসী জানান, কবরস্থানটিতে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা ও আগাছা জমে ছিল। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে ওই আগাছা পরিষ্কার করতে গিয়ে কয়েকটি কবর খোঁড়া অবস্থায় দেখতে পান তারা। পরে কবরের ওপরের মাটি সরিয়ে দেখা যায়, ভেতরে কোনো কঙ্কাল বা লাশ নেই। বিষয়টি মুহূর্তে এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সেখানে মৃতদের স্বজনরা এসে ভিড় করতে থাকেন। এ সময় এলাকাবাসী কবরস্থানে কিছু জামাকাপড় ও কবর খোঁড়ার সরঞ্জাম পড়ে থাকতে দেখেন। তারা জানান, ওই কবরস্থানের ৯টি কবরে কঙ্কাল নেই। তবে সকালেই খোঁড়া কবরগুলো মাটি দিয়ে ভরাট করে ফেলেন কবরস্থানের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা। কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কঙ্কাল চুরির খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।’
দীর্ঘদিন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ) মো. তোহিদুল ইসলামকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মো. তোহিদুল ইসলাম ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালের চিকিৎসকের সনদ সংযুক্ত করে ১০ দিনের ছুটির আবেদন পাঠালেও তার অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এসময় তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানায় সংশ্লিষ্ট থানার মাধ্যমে একাধিক নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি সাক্ষ্য দিতে হাজির হননি। তার বড় ভাইও কর্তৃপক্ষকে জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে পরিবারের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, অনুমতি ছাড়া ৬০ দিনের বেশি অনুপস্থিত থাকায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ‘পলায়নের’ অভিযোগে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়। অভিযোগের বিষয়ে একাধিকবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। পরবর্তীতে তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে আনা ‘পলায়নের’ অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে প্রতিবেদন দেন। এরপর দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তাতেও তিনি সাড়া দেননি। তদন্ত প্রতিবেদন, অভিযোগের গুরুত্ব এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনার পর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। পরে বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মতামতের জন্য পাঠানো হলে কমিশনও বরখাস্তের পক্ষে মত দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতি গত ১২ জুলাই তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রস্তাবে অনুমোদন দেন। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুসারে মো. তোহিদুল ইসলামকে ‘পলায়ন’-এর দায়ে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।