প্রবাসী

কুয়েতে অবৈধ ভবনে অভিযান, আবাসন সংকটে বাংলাদেশিসহ প্রবাসীরা

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

কুয়েতের জিলিব আল-শুয়ুখ এলাকায় অবৈধ ও অনিরাপদ আবাসিক ভবনের বিরুদ্ধে বড় ধরনের যৌথ অভিযান চালিয়েছে দেশটির সরকার। অভিযানের ফলে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের বহু প্রবাসী আবাসন সংকটে পড়েছেন।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ ফাহাদ ইউসুফ সৌদ আল-সাবাহের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ অভিযানে কুয়েত সেনাবাহিনী, ন্যাশনাল গার্ড, ফায়ার ফোর্স এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি সংস্থা অংশ নেয়।

 

অভিযানে অনিরাপদ ভবন, রাষ্ট্রীয় জমি দখল, অতিরিক্ত ঘনবসতিপূর্ণ আবাসন, আবাসিক আইন লঙ্ঘনকারী ব্যক্তি এবং লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত ভবনগুলোর পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে, লঙ্ঘনের ঘটনা নথিভুক্ত করে এবং জরিমানা আরোপ করে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও প্রবাসীদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থা করা হয়।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ ফাহাদ ইউসুফ সৌদ আল-সাবাহ বলেন, জিলিব আল-শুয়ুখে শুরু হওয়া এ অভিযান পর্যায়ক্রমে কুয়েতের অন্যান্য এলাকাতেও পরিচালিত হবে। জননিরাপত্তা ও পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় কোনো ধরনের আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন। প্রয়োজন হলে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙে ফেলার কথাও উল্লেখ করেন।

 

জানা গেছে, জিলিব আল-শুয়ুখ এলাকাকে নতুনভাবে পরিকল্পিত নগরীতে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে নতুন আবাসিক ভবন ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স দেওয়া সীমিত রাখা হয়েছে। তুলনামূলক কম ভাড়া এবং কর্মস্থলে যাতায়াতের সুবিধার কারণে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের কাছে এলাকাটি জনপ্রিয়।

 

সর্বশেষ অভিযানে বহু ভবনের পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় অনেক প্রবাসী বাসস্থান হারিয়েছেন। আশপাশের এলাকায় বাসার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ভাড়াও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে অনেকেই নতুন বাসা খুঁজে পাচ্ছেন না, কর্মস্থলে যাতায়াতেও সমস্যার মুখে পড়ছেন।

 

স্থানীয় সূত্রের দাবি, আবাসনের অভাবে কিছু প্রবাসী খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দ্রুত বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

প্রবাসী

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
মালয়েশিয়ায় মামুনুল হকের সমাবেশে প্রবাসীদের ব্যাপক উপস্থিতি

মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যের কেলাংয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের সমাবেশে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশ নিয়েছেন। সমাবেশে নতুন সদস্যদের সংগঠনে যোগদান এবং স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   একই সঙ্গে মাওলানা আব্দুস শহীদকে সভাপতি ও মো. হৃদয় মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে সংগঠনটির কেলাং স্টেট শাখার ২১ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।   শনিবার (২৪ অক্টোবর) বাদ মাগরিব কেলাংয়ে এ সমাবেশ ও দায়িত্বশীলদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। সভায় মালয়েশিয়ায় সংগঠনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা, নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি এবং স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়।   অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মুফতি মোহাম্মদুল্লাহ, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মো. ফয়সাল আহমাদ, মালয়েশিয়া কেন্দ্রীয় শাখার সভাপতি মুফতি তাকি উল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হাবিবুর রহমান কাউসার।   এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মী ও দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন। দায়িত্বশীলদের সর্বসম্মতিক্রমে গঠিত নতুন কমিটির মাধ্যমে কেলাং অঞ্চলে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে সভায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সাংগঠনিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে কার্যক্রম জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।   বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক ২২ অক্টোবর মালয়েশিয়া সফরে যান। সফর শেষে ২৬ অক্টোবর রাতে তার ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

মালয়েশিয়ায় ১ লাখ ২৫ হাজার পেশাজীবী হাফেজ তৈরির উদ্যোগ

ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে আইনজীবী হিসেবে সনদ পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তাসিন

সংগৃহীত ছবি

সৌদিতে বিমানবন্দর ও তেল শোধনাগারে হামলায় নিহত ৪, আহত দুই বাংলাদেশি

ছবি: সংগৃহীত
সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, গ্রেপ্তার হয়েছিলেন পৃথক অভিযোগে

সৌদি আরবের মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা দুই বাংলাদেশির একজন সাইবার বা তথ্যপ্রযুক্তি আইন লঙ্ঘনের এবং আরেকজন ব্যভিচারের অভিযোগে আটক হয়ে তিন বছরের বেশি সময় ধরে বন্দি ছিলেন।   ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিবকে পাঠানো জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের শ্রম কল্যাণ উইংয়ের গত ১৮ অক্টোবরের এক চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশি পুরুষটি ২০২৩ সালের ১ অগাস্ট গ্রেপ্তার হন। তাকে রাখা হয়েছিল জেদ্দা সংশোধনাগারে।   আর ওই বছরের ২ অগাস্ট গ্রেপ্তার বাংলাদেশি নারীকে রাখা হয়েছিল জেদ্দা মহিলা কারাগারে।   দুজনেই সৌদি আরবের আল মাজাল কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। একজনের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়, অপরজনের টাঙ্গাইলে। তবে এসব অভিযোগে এর আগে গ্রেপ্তার কোনো বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নজির নেই বলে কনস্যুলেটের শ্রম কল্যাণ উইং বলছে।   শ্রম কল্যাণ উইং বলছে, মক্কার একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজে লিপ্ত’ হওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশি নারী-পুরুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করলেও তাদের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে ওই ঘটনার আগে সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানায় নানা অপরাধের অভিযোগে আটক বাংলাদেশিদের তথ্য চেয়েছিল জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট।   সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ওই অনুরোধের পর চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর একটি তালিকা দেওয়া হয়। সেই তালিকায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুজনের নাম-পরিচয় থাকলেও শাস্তির কোনো তথ্য ছিল না। শ্রম কল্যাণ উইংয়ের চিঠিতে বলা হয়, তালিকার সাত নম্বর কলামে রায় ঘোষিত বন্দিদের সাজার সংক্ষিপ্ত বিবরণ থাকার কথা। কিন্তু এই দুজনের নামের পাশে কোনো সাজার কথা ছিল না।   শ্রম কল্যাণ উইংয়ের চিঠিতে এ দুজনকে আলাদা অভিযোগে গ্রেপ্তারের কথা বলা হলেও সৌদি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে তাদের বিরুদ্ধে ‘অনৈতিক কাজে লিপ্ত’ হওয়ার অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া বন্দি তালিকার ওই তথ্যের বরাতে শ্রম কল্যাণ উইংয়ের চিঠিতে বলা হয়, বিভিন্ন ধরনের চারিত্রিক মামলায় ৩০৬ জন বাংলাদেশির আটক থাকলেও এর আগে কোনো বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার প্রমাণ নেই।   এক সপ্তাহ আগে গত ১৪ অক্টোবর দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর দেয় সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে এ সিদ্ধান্তের আগে তা সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ‘কিছু না জানানোর’ কথা বলা হয় বাংলাদেশ মিশনের তরফে।   সৌদি প্রেস এজেন্সির ওই খবরে বাংলাদেশি এক নারী ও পুরষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা লেখা হয়। এরপর সৌদি কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে গত ১৫ অক্টোবর চিঠি দিয়ে দুজনের বিষয়ে তথ্য ও বিস্তারিত জানতে চায় জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট।   জেদ্দা কনস্যুলেটের এক কর্মকর্তা বলেন, যে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা বলা হচ্ছে, তাদের বিচার চলা বা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে কোনো নোটিফিকেশন, কূটনৈতিক পত্র বা তথ্য দূতাবাসকে কোনো মাধ্যমে দেয়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ। ১৭ অক্টোবর সাংবাদিকদের প্রশ্নে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, “আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা এখনও কোনো খবর, সংবাদ পাইনি। আমরা সংবাদটা পাওয়ার জন্য এবং আসলেই কী ঘটেছে, তাদের বিস্তারিত কী, তারা কবে কাজ করতে গিয়েছে, তাদের বাংলাদেশের পরিচয়টা কী, এইসব বিস্তারিত জানার জন্য আমরা চিঠি দিয়েছি। “পরিচয় বলতে আমরা নামটা জানি। দুজনের নাম জানি। এছাড়া বাইরে ওরা কতদিন ধরে ওখানে কাজ করছে বা তাদের এম্প্লয়ার কে ছিল, কী ব্যাপার— সেই বিস্তারিত জানার জন্যই কিন্তু আমরা চিঠিটা দিয়েছি।”   তাদের মৃত্যুদণ্ডকে দুর্ভাগ্যজনক হিসেবে অভিহিত করে সৌদি আরবের স্থানীয় আইনের কঠোরতার কথাও সাংবাদিকদের প্রশ্নে তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।   সবশেষ ১৮ অক্টোবর ঢাকায় সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ বিন জাফর এইচ বিন আবিয়ার সঙ্গে বৈঠক করে মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনার তথ্য চায় সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, “রাষ্ট্রদূতকে বৈঠকে ডেকে এর আগে সৌদি সরকারের কাছে পাঠানো নোট ভার্বালের একটি কপি হস্তান্তর করা হয়েছে।”   এর পরিপ্রেক্ষিতে জেদ্দা কনস্যুলেটের চিঠিতে বলা হয়, “রায়ের কপি পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠানো হবে।”   ওই চিঠিতে বলা হয়, জেদ্দা কনস্যুলেটের আওতায় সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের কারাগারে বিভিন্ন চারিত্রিক মামলায় আটক ৩০৬ বাংলাদেশির মধ্যে ১৪৭ জনের সাজা ঘোষিত হয়েছে। এর মেয়াদ সর্বনিম্ন ১ মাস থেকে সর্বোচ্চ ১৫ বছর। সাইবার অপরাধে মক্কায় আরও তিনটি পৃথক মামলায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হয়েছে।   চিঠিতে বিচার প্রক্রিয়ায় কনস্যুলেটের সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরা হয়। বলা হয়, সৌদি ক্রিমিনাল কোর্টসহ অন্য আদালতে শুনানির সময় অনুবাদক নিয়োগ দেওয়া হয় দেশটির ‘মারকাযুত তারজামাহ আল মুওয়াহহিদ’ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। ফলে আসামির পক্ষে অনুবাদক হিসেবে মিশনের যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকে না।   সাধারণত মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধে গ্রেপ্তার বাংলাদেশির পরিবার দূতাবাস বা কনস্যুলেটে, কিংবা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আইনি সহায়তার আবেদন করে। কিন্তু এ দুজনের পরিবার তা করেনি, কোনো যোগাযোগও করেনি। সৌদি কর্তৃপক্ষও আনুষ্ঠানিকভাবে বা অনানুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুদণ্ডের রায় বা তা কার্যকরের বিষয়ে কিছু জানায়নি।   মৃত্যুদণ্ডের ধারায় চলা বিচার এবং রায় কার্যকরের বিষয়ে সৌদি সরকার থেকে বাংলাদেশ মিশনকে ‘না জানানো’ হয়ে থাকলে সেটিকে ‘বিস্ময়কর’ বলছেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ।   সৌদি আরবে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করে আসা গোলাম মসীহ বলেন, “আমার কাছে তো খুব অবাক লাগল যে, এত সিরিয়াস একটা কেইস, আর ডিসিশন তো এক দিনেই হয়নি, একটা নির্দিষ্ট সময় ধরে হয়েছে। “ওভার দ্য পিরিয়ড হলে এইটা তো নলেজে অবশ্যই থাকা উচিত ছিল। নলেজের বাইরে কীভাবে গেল? এইটা সম্ভবপর না। আমার সময়ে সবাই তাই দেখেছে, আমার সময় সেটাই হচ্ছিল।” ‘জানানো হয়নি’ বলে দায় এড়ানোর সুযোগ দেখেন না রেফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) নির্বাহী পরিচালক তাসনীম সিদ্দিকী। তার কথায়, “জানাটা আমার দায়িত্ব, আমার কাজের অংশ, তাই না। সুতরাং, এইটা আমি এভাবেই বলব যে, এসব বিষয় আরও অনেক বেশি খবর নেওয়ার দরকার, আরও অনেক বেশি সচেতন থাকা দরকার।”

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মরদেহ ফেরানো হবে: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

সৌদিতে দুই প্রবাসীর মৃত্যুদণ্ড: বিস্তারিত তথ্য চাইল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

প্রতীকী ছবি

কম্বোডিয়া থেকে ১৮০০ বাংলাদেশিকে ফেরাতে বিশেষ ফ্লাইটের আহ্বান

ছবি: সংগৃহীত
দুবাইয়ে বাংলাদেশি কনসাল জেনারেলের সঙ্গে হাটহাজারী সমিতির নতুন কমিটির বৈঠক

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশিদের ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন ও ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার প্রত্যাশাসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করেছেন দুবাইয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল রাশেদুজ্জামান এবং হাটহাজারী সমিতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের নবগঠিত কমিটির নেতারা।   বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত সৌজন্য সাক্ষাতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা, ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।   সাক্ষাৎকালে সমিতির নেতারা প্রবাসীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দাবি ও সমস্যা তুলে ধরেন। পাশাপাশি ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও গতিশীল করার বিষয়েও মতবিনিময় হয়।   এ সময় নবগঠিত কমিটির নেতারা কনসাল জেনারেল রাশেদুজ্জামানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। প্রবাসীদের কল্যাণ, বাংলাদেশি কমিউনিটির উন্নয়ন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে উভয় পক্ষ আলোচনা করেন।   সাক্ষাতে সমিতির যাঁরা উপস্থিত ছিলেন হাটহাজারী সমিতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ এস আসাদ নূর, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মুজিবুল হক মনজু, সহসভাপতি মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, মাওলানা মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, সাইফুল্লাহ চৌধুরী ও মোহাম্মদ মোরশেদ জামান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।   এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ জবরুল আলম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন খোকন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল হাসান রুবেল এবং অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।   প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রত্যাশা, বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হলে ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং প্রবাসীদের সার্বিক কল্যাণে ইতিবাচক অগ্রগতি আসবে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

লন্ডনে কুমিল্লা-৬ আসনের এমপি মনিরুল হক চৌধুরীকে সংবর্ধনা দিল যুক্তরাজ্য বিএনপি

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে ফ্লাইট বন্ধ হওয়ায় বিমানবন্দরে হাজারো প্রবাসীর তীব্র ভোগান্তি

ছবি: সংগৃহীত

রিয়াদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাংলাদেশি মাদরাসাশিক্ষকসহ নিহত ১২

0 Comments