বাঘের বেশে সিরিজে ফিরল বাংলাদেশ দল। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৩৪ রানের ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করতে নেমে ১৮৬ রানের বড় পুঁজি দাঁড় করায় টাইগাররা। জবাবে জিম্বাবুয়ে ১৫২ রানের বেশি করতে পারেনি।
বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে এদিন টসে হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল বাংলাদেশ। দুই ওপেনার সাইফ হাসান এবং তানজিদ হাসান তামিম শুরু থেকে এগিয়েছেন সাবলীল ব্যাটিংয়ে। উইকেটের চারপাশে শট খেলেছেন। দলের বোর্ডে রানও তুলেছেন। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে বিনা উইকেটে ৫৪ রান তোলে বাংলাদেশ।
পাওয়ারপ্লে শেষেও চলেছে সাইফ-তানজিদের উইলোবাজি। দুজনের ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশের ইনিংস। সাইফ কিছুটা খোলসবন্দী থাকলেও তানজিদ ছিলেন আগ্রাসী। শতরান পার করেছে ওপেনিং জুটি। দুই ওপেনারই ছুঁয়ে ফেলেন ফিফটি।
তবে ফিফটির পর বেশি দূর আগাতে পারেননি দুজন। ওপেনিং জুটি ভাঙে ১২০ রানের মাথাতে। ৪৫ বলে ৫৫ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরে যান সাইফ হাসান। পরের ওভারেই ফিরেছেন তানজিদ। ৪৪ বলে ৫৮ রান করে বিদায় নেন তিনি।
দুই ওপেনারের বিদায়ে যেন ধস নামে টাইগার ইনিংসে। ১২০ রান থেকে ১৪১ রান পর্যন্ত যেতেই ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ দল। অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় ৫ বলে ৬ রান করেছেন। পারভেজ হোসেন ইমন খেলেন ২ বলে ১ রানের ইনিংস। নুরুল হাসান সোহান প্রথম বলে চার মেরে পরের বলেই হয়েছেন আউট।
শেষ দিকে কিছুটা লড়াই চালিয়ে গেছেন ফর্মে থাকা ইয়াসির আলি চৌধুরী। সাতে নেমে যোগ দেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনও। শেষ ওভারে চার ছক্কায় ২৮ রান তোলেন সাইফউদ্দিন। ২০ ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮৬ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ দল। ১০ বলে ৩১ রান করে শেষ পর্যন্ত টিকে ছিলেন সাইফউদ্দিন। ১২ বলে ২২ রান করে অপরাজিত ছিলেন ইয়াসির।
জিম্বাবুয়ের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন রিচার্ড এনগারাভা এবং ব্র্যাড ইভান্স। ১ উইকেট শিকার করেছেন সিকান্দার রাজা।
জবাব দিতে নেমে প্রথম ওভারেই ১৫ রান তোলেন জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনার তাদিওয়ানাশে মারুমানি এবং ব্রায়ান বেনেট। তবে ওভারের শেষ বলে মারুমানিকে ফিরিয়ে দেন শেখ মেহেদী হাসান। পরের ওভারেই ব্রায়ান বেনেটকে বিদায় করেন নাহিদ রানা। ৫ বলে ১১ রান করে ফিরেছেন বেনেট।
পাওয়ারপ্লের মধ্যে আরও এক উইকেট হারিয়েছে জিম্বাবুয়ে। ৭ বলে ৪ রান করা ডিয়ন মেয়ার্সকে ফেরান শেখ মেহেদী। এরপর মিল্টন শুম্বা এবং অধিনায়ক সিকান্দার রাজা মিলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। মিল্টন ধীরেসুস্থে এগোলেও রাজা ছিলেন আগ্রাসী। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৫৬ রান তোলে জিম্বাবুয়ে।
পাওয়ারপ্লে শেষেই থেমেছেন রাজা। ১২ বলে ২৮ রান করে বিদায় নেন তিনি। মিল্টন ধুঁকতে ধুঁকতে ২০ বলে ১৯ রান করেছেন। এরপর চেষ্টা করেছেন রায়ান বার্লও। ১৯ বলে ২৯ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলা বার্লকে ফেরান রিশাদ হোসেন। তাতে জিম্বাবুয়ের জেতার প্রায় সব আশাই শেষ হয়ে যায়। তবুও শেষ দিকে লড়ে গেছেন ব্র্যাড ইভান্স এবং রিচার্ড এনগারাভা। শেষ ২ ওভারে দরকার ছিল ৪০ রান। শেষের আগের ওভারে ইভান্সকে ফেরান মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। সেই ওভারে রান দিয়েছেন মাত্র ২। শেষ ওভারে জিম্বাবুয়ের দরকার ৩৮ রান। শেষ ওভারে ৪ বলের বেশি টেকেনি জিম্বাবুয়ের ইনিংস। ১৫২ রানে অলআউট হয়েছে তারা। কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকেছেন রিশাদ হোসেন।
বাংলাদেশের হয়ে ৪ উইকেট নিয়ে দলের সেরা বোলার রিশাদ। এছাড়া ৩ উইকেট শিকার করেছেন শেখ মেহেদী হাসান। ১টি করে উইকেট নেন নাহিদ রানা, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন এবং সাইফ হাসান।
তিন ম্যাচের সিরিজে এখন ১-১ সমতা। ১৯ জুলাইয়ের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি এখন সিরিজ নির্ধারণী।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
বার্সেলোনা আতলেতিকের সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টেনে কাতারের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব আল-মারখিয়া এসসিতে পাড়ি জমিয়েছেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রজার মার্টিনেজ। ২২ বছর বয়সী এই ফুটবলারের দলবদরটি বার্সেলোনা ও কাতারি ক্লাবটির মধ্যে চুক্তির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। রজার মার্টিনেজের নতুন চুক্তির মেয়াদ প্রকাশ করা হয়নি। তবে ভবিষ্যতে তাকে অন্য কোনো ক্লাবের কাছে বিক্রি করা হলে সেই ট্রান্সফার ফি থেকে নির্দিষ্ট একটি অংশ পাওয়ার সুযোগ থাকবে বার্সেলোনার। ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে ফ্রি ট্রান্সফারে বার্সেলোনায় ফেরেন রজার। তবে ক্লাবটির রিজার্ভ দলের হয়ে প্রথম মৌসুমটা প্রত্যাশামতো কাটেনি ইনজুরির কারণে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ডান হাঁটুর মিনিস্কাসে চোট পান তিনি। গুরুতর ওই চোটের কারণে অস্ত্রোপচারও করাতে হয় তরুণ এই মিডফিল্ডারকে। ইনজুরির আগে বার্সেলোনা আতলেতিকের হয়ে ১৪টি ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন রজার। এসব ম্যাচে তার নামের পাশে ছিল দুটি অ্যাসিস্ট। চোট থেকে পুরোপুরি ফিরে এসে নিয়মিত ম্যাচ খেলে নিজের পুরোনো ছন্দ ফিরে পাওয়াই এখন রজারের অন্যতম লক্ষ্য। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই আল-মারখিয়ার স্পোর্টিং প্রকল্প ও আর্থিক প্রস্তাবে আগ্রহী হয়ে কাতারে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। কাতারের ক্লাব আল-মারখিয়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রজার মার্টিনেজকে দলে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। নতুন খেলোয়াড়কে স্বাগত জানিয়ে তাকে ক্লাবের নতুন মিডফিল্ডার হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। বার্সেলোনার রিজার্ভ দল থেকে কাতারের ফুটবলে নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাওয়া রজারের সামনে এখন মূল লক্ষ্য হবে নিয়মিত ম্যাচ খেলে নিজের ফিটনেস ও পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে আনা।
ব্রাজিল ২০২৬ সাল শেষ করছে এশিয়ার আরেকটি সফরের মাধ্যমে, যেখানে সিঙ্গাপুরে তারা দুটি ম্যাচ খেলবে। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন বুধবার রাতে ২০২৬ সালে তাদের শেষ দুটি ম্যাচের তারিখ ও প্রতিপক্ষের নাম ঘোষণা করেছে। জাতীয় দলটি আবারও এশিয়া সফর করবে এবং ১৪ নভেম্বর জাপান ও ১৭ নভেম্বর সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হবে। দুটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে। প্যারাগুয়েকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি ছোট টুর্নামেন্টের প্রত্যাশা থাকলেও তা নিশ্চিত করা হয়নি। নভেম্বরের এই ম্যাচগুলোর আগে ব্রাজিল আগামী ২৫ ও ২৯ সেপ্টেম্বর দুবার অস্ট্রেলিয়া এবং ৯ অক্টোবর ভারতের মুখোমুখি হবে। এই প্রীতি ম্যাচগুলোর জন্য স্কোয়াড ঘোষণা করা হবে ৯ সেপ্টেম্বর। কোচ কার্লো আনচেলত্তি বলেছেন, নভেম্বরের প্রীতি ম্যাচগুলো ব্রাজিলিয়ান জাতীয় দলের নতুন সাইকেলে একাধিক পরীক্ষার সুযোগ হিসেবে কাজ করবে। সিবিএফ-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে আনচেলত্তি বলেন, “সিঙ্গাপুরের প্রীতি ম্যাচগুলো আগামী বছরগুলোর জন্য ব্রাজিলিয়ান জাতীয় দল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। জাপান ও সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হওয়া আমাদের দলের আচরণকে ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ দেবে, যা প্রাথমিক পর্যায়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আমাদের শক্তি পরীক্ষা করতে এবং খেলোয়াড় বাছাইয়ের বিকল্প বাড়াতে কাজ করছি। লক্ষ্য হলো ভারসাম্যের সঙ্গে উন্নতি করা, যাতে সামনের বড় চ্যালেঞ্জগুলোর জন্য দলকে প্রস্তুত করা যায়।”
তিন ম্যাচের সব কয়টি ড্র করে চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ মৌসুম শুরু করেছিল শেফিল্ড ইউনাইটেড। ক্লাবটির জার্সিতে হামজা চৌধুরী মাঠে ফিরলেন, ঘুরে দাঁড়াল প্রিমিয়ার লিগে ফেরার লড়াইয়ে থাকা শেফিল্ড ইউনাইটেডও। বোল্টন ওয়ান্ডারার্সের বিপক্ষে নাটকীয় এক ম্যাচে ৩-২ গোলের জয়ে উচ্ছ্বাস ঢেকে রাখতে পারেননি বাংলাদেশি এই মিডফিল্ডার। এই জয়কেই সামনের পথচলার প্রেরণা হিসেবে দেখছেন তিনি। রাইট-ব্যাক হিসেবে শুরু করে পুরো ম্যাচ খেলেছেন হামজা। প্রথম মিনিটেই গোল হজম করে পিছিয়ে পড়া শেফিল্ড ইউনাইটেড অবশ্য চতুর্থ মিনিটেই দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। বিরতির পর ৬৭ মিনিটে ফের পিছিয়ে পড়ে ‘ব্লেড’ ডাকনামের ক্লাবটি। পরের মিনিটেই আবার সমতায় ফেরে হামজার দল—স্কোরলাইন হয় ২-২। শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে রোমেল্লে ডোনোভানের গোলে লেখা হয় জয়ের ভাগ্য। শৈশবের ক্লাব লেস্টার সিটি ছেড়ে শেফিল্ড ইউনাইটেডে পাড়ি জমানোর পর চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে এটিই ছিল হামজার প্রথম ম্যাচ। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ধারে থেকে এই ক্লাবের হয়ে ১৯ ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। এবার অবশ্য পাকাপাকিভাবে, এক বছরের চুক্তিতে নাম লিখিয়েছেন ক্লাবটিতে। ম্যাচ শেষে নিজের প্রত্যাবর্তন নিয়ে হামজা চৌধুরী বলেন, ‘এখানে (ব্রামাল লেনে) আবারও ফিরতে পেরে আমি ভীষণ রোমাঞ্চিত। অবশ্যই এই রাতের ফলটা আমাদের জন্য বিশাল।’ ২৮ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার আরও যোগ করেন, ‘আপনি তো জানেনই যে, আমাদের মূল লক্ষ্য পরবর্তী পর্বে উত্তরণ। আমাদের এখানে এসে সেরা উপায়ে জবাব দেওয়া প্রয়োজন ছিল এবং সত্যি বলতে কী, ছেলেরা ঠিক সেটাই করেছে।’ শেফিল্ড ইউনাইটেডের ঘরের মাঠ ব্রামাল লেনে এই ম্যাচ যেন পরিণত হয়েছিল এক রোলার কোস্টার রাইডে। দুই দফায় পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ছিনিয়ে নেওয়া জয়ে বুনো উল্লাসে মেতে ওঠেন দর্শকরা। এ প্রসঙ্গে হামজা বলেন, ‘আমরা ম্যাচটা যেভাবে চেয়েছিলাম, শুরুটা তেমন হয়নি। প্রথম মিনিটেই গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ার পর খেলায় ফেরার জন্য ছেলেরা দারুণ সাহস দেখিয়েছে। এরপর সরাসরিই আমরা খেলায় প্রভাব বিস্তার করি। আমার মনে হয়, প্রথমার্ধের দীর্ঘ সময়জুড়ে আমরা সেই প্রভাব বজায় রেখেছিলাম, যদিও আমরা যেভাবে চেয়েছিলাম সেভাবে সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি। ধীরে ধীরে ওরা খেলায় ফিরে আসে। আমরা এমন একটা গোল হজম করি, যা অতো সহজে আমাদের দেওয়া উচিত হয়নি।’ সবশেষ ৯ ম্যাচে অপরাজিত থাকা শেফিল্ড ইউনাইটেড চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের চতুর্থ ম্যাচে এসে পেল প্রথম জয়ের দেখা। ৪ ম্যাচ থেকে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ক্লাবটি এখন লিগ টেবিলের দশম স্থানে। সেখান থেকে ওপরে ওঠার দিকেই এখন চোখ হামজার, ‘আবারও বলব, ম্যাচে ফিরে আসার জন্য ছেলেরা দারুণ সাহস দেখিয়েছে। শেষ মুহূর্তে রোম (রোমেল্লে ডোনোভান) জয় নিশ্চিত করল, যা সত্যিই দারুণ। এসব অনুভূতিই বারবার আমার মধ্যে এই জায়গায় ফিরে আসার আকুলতা তৈরি করে দেয়। এটি এক বিশেষ স্টেডিয়াম, আর সমর্থকরাও বিশেষ। হ্যাঁ, আমি সত্যিই সময়টা উপভোগ করেছি, আর আশা করি এই পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করেই আমরা এগিয়ে যেতে পারব এবং আগামী শনিবার আবারও লড়াইয়ে নামব।’