সর্বশেষ

চট্টগ্রামের ডিসি পার্কে ফুল উৎসবে মারামারি, দর্শনার্থীর বাস ভাঙচুর

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ২৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত ডিসি পার্কে আজ শনিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। পার্কে দর্শনার্থী নিয়ে আসা শ্যামলী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস পার্কিং এলাকার ইজারাদারের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে ভাঙচুরের শিকার হয়েছে।


সূত্র জানায়, বাসটি পার্কিংয়ের ভেতরে আড়াআড়িভাবে দাঁড় করানোর কারণে পার্কিংয়ের ইজারাদারের পক্ষের লোকজন বাসটিকে সরানোর নির্দেশ দেন। বাসের কর্মীরা জানান, পার্কের ভেতরে কয়েকজন দর্শনার্থী এখনও রয়ে গেছেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয় এবং একপর্যায়ে বাসের কাচ ভাঙচুর করা হয়।
ঘটনার সময় পার্কে উপস্থিত ছিলেন সীতাকুণ্ডের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে দুই পক্ষকে সমাধানমূলক বৈঠকের জন্য ডেকে বসান। পরে ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয় এবং বাসটি গন্তব্যের পথে ছেড়ে দেওয়া হয়।


মামলার পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যায় ছয়-সাতজন যুবক ডিসি পার্কের সামনে দাঁড়ানো বাসের কাচ ভাঙছেন। ডিসি পার্ক সূত্র জানিয়েছে, বাসটি নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও পার্কিং থেকে বের হতে বিলম্ব হওয়ায় এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
ম্যাজিস্ট্রেটের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে, তবে পার্কিং ব্যবস্থাপনায় দর্শনার্থীদের নিরাপদ এবং ব্যস্ত সময়ে যানজট এড়াতে আরও নজরদারি প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সর্বশেষ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
তারেক রহমানের সমাবেশস্থল ঘুরে দেখলেন সিএমপি কমিশনার

চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে বিএনপির সমাবেশস্থল পরিদর্শন করেছেন মেট্রোপলিটন (সিএমপি) পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ।    শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিন তদারকি করেন তিনি।    এসময় সিএমপি কমিশনার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টসমূহে মোতায়েনকৃত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা পর্যালোচনা করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে তিনি সিসিটিভি মনিটরিং, টহল কার্যক্রম ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।    এসময় সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে (অর্থ ও প্রশাসন) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।   এর আগে দলীয় মহাসমাবেশে যোগ দিতে দীর্ঘ দুই দশক পর চট্টগ্রাম পৌঁছেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ৭টা ২০ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বিজি-১৪৭ চট্টগ্রাম পৌঁছে। এরপর তিনি চট্টগ্রামের পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে যান।    দলীয় সূত্র জানায়, রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় তিনি তরুণদের সঙ্গে একটি পলিসি ডায়ালগে অংশ নেবেন। এরপর বেলা সাড়ে ১১টায় পলোগ্রাউন্ড মাঠের মহাসমাবেশে যোগ দেবেন। চট্টগ্রাম সফর শেষে ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক পথসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।   এদিকে, দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর দলের প্রধান হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম চট্টগ্রাম সফরকে কেন্দ্র করে বন্দরনগরীতে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক উত্তাপ, উৎসবমুখর পরিবেশ ও ব্যাপক প্রত্যাশা। নগরীর প্রধান সড়ক, মোড় ওন অলিগলিতে ব্যানার–ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে এলাকা। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে বাড়তি আগ্রহ ও উদ্দীপনা।   মহাসমাবেশ উপলক্ষ্যে পলোগ্রাউন্ড মাঠের পশ্চিম পাশে প্রায় দুই হাজারের বেশি বাঁশের খুঁটি ব্যবহার করে নির্মাণ করা হয়েছে ১০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬০ ফুট প্রস্থের একটি বিশাল মঞ্চ। আয়োজকদের দাবি এই মঞ্চে একসঙ্গে প্রায় দেড় হাজার মানুষ বসতে পারবেন। মঞ্চের সামনে রাখা হচ্ছে আরও পাঁচ হাজারের বেশি চেয়ার।   মাঠ ও আশপাশের এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে দুই শতাধিক মাইক ও ১০টি শক্তিশালী সাউন্ডবক্স। পলোগ্রাউন্ড মাঠ থেকে কদমতলী ও টাইগারপাস পর্যন্ত এলাকায় ব্যবহৃত হবে প্রায় ২০০টি মাইক। শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠ সমতল করা হয়েছে, চারপাশে বসানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যারিকেড।   মহাসমাবেশ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম নগরী রাখা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তার আওতায়। প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। মঞ্চসহ পুরো এলাকাকে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ভাগ করা হয়েছে- রেড জোন, ইয়েলো জোন ও গ্রিন জোন। মঞ্চকে রেড জোন ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে কেবল বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা, স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এবং বৃহত্তর চট্টগ্রামের ২৩টি আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীরা অবস্থান করতে পারবেন। মঞ্চের সামনের অংশ ইয়েলো জোন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে সাংবাদিক ও নারীদের জন্য আলাদা ব্লক থাকবে। পুরো মাঠকে রাখা হয়েছে গ্রিন জোন হিসেবে।   তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৫ সালে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন। সে সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নিয়ে তিনি নগরীর লালদিঘী ময়দানে এক জনসভায় বক্তব্য দেন।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ২৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

বিএনপিতে রাজাকার বেশি: ডা. সুলতান

ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রামের ডিসি পার্কে ফুল উৎসবে মারামারি, দর্শনার্থীর বাস ভাঙচুর

ছবি : সংগৃহীত

নিরাপত্তার শঙ্কায় জিডি করলেন হাদির ভাই

ছবি : সংগৃহীত
ফরিদপুরে অনুমোদন পেল ১৮ হাজার পোস্টাল ভোটার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ফরিদপুরে ১৮ হাজার ভোটারের পোস্টাল ভোটের আবেদন অনুমোদন পেয়েছে নির্বাচন কমিশন। এটি নির্বাচন ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা নির্দিষ্ট কারণে নির্বাচনী এলাকা থেকে সরাসরি ভোট দিতে না পারা ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করবে। নির্বাচন কমিশনের সূত্র জানায়, আবেদনকারীদের মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও অন্যান্য যোগ্য ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন, যারা ভোটের দিন নিজের স্থায়ী ঠিকানায় উপস্থিত থেকে ভোট দিতে পারবে না। কমিশনের পক্ষ থেকে এই পোস্টাল ভোটের অনুমোদন দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, যাতে ভোটাররা নির্ধারিত সময়ে এবং নিরাপদভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। ফরিদপুর জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদিত পোস্টাল ভোটারদের জন্য পৃথক ব্যালট কিট পাঠানো হবে। এতে থাকবে ভোট প্রদানের নিয়মাবলি, ব্যালট পেপার ও খাম। ভোটাররা ঠিক মতো ভোট প্রদান ও খাম সিল করার পর এগুলো সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসে ফেরত পাঠাবেন। এরপর নির্বাচন কমিশন এই পোস্টাল ভোটগুলোর গণনা স্থানীয় নির্বাচনী ফলাফলের সঙ্গে একত্র করবে। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বলেন, “নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পোস্টাল ভোটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ও সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারেন, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে আমরা সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছি। এটি নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করবে। নির্বাচন কমিশন আশা করছে, এই পদক্ষেপ দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ বাড়াবে এবং যারা সরাসরি ভোট দিতে পারছেন না, তাদের ভোটাধিকার সুরক্ষিত থাকবে।

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ২৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

নাশকতার আশঙ্কা : সিলেটে উচ্চ ক্ষমতার ভারতীয় বিস্ফোরকের চালান জব্দ

ছবি : সংগৃহীত

প্রচারের প্রথম দিনেই আচরণবিধি লঙ্ঘন জামায়াতের,দুই প্রার্থীর জরিমানা

ছবি : সংগৃহীত

ইতিহাস গড়ছেন কারাবন্দিরা, পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন ১২৯ জন

ছবি : সংগৃহীত
একীভূত পাঁচ ব্যাংকের নতুন যাত্রা থমকাল, নিরাপত্তা বিবেচনায় উদ্বোধন বাতিল

নিরাপত্তাজনিত শঙ্কার কারণে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নির্ধারিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে এই অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সম্ভাব্য ঘেরাও কর্মসূচি ও অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা থেকেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়–সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটির কিছু আমানতকারী এবং চট্টগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন ব্যাংক কর্মকর্তার পক্ষ থেকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণার প্রস্তুতির তথ্য পাওয়া যায়। এ সংক্রান্ত বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। ফলে অনুষ্ঠানস্থলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর এবং অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের মধ্যে আলোচনা হয়। আলোচনায় সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ একটি নতুন ব্যাংকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার প্রভাব এবং জননিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পরে সব দিক বিবেচনায় নিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকার কথা ছিল অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করার কথা ছিল সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়ার। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয় ও আর্থিক খাতের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা, ব্যাংকার এবং বিভিন্ন পর্যায়ের আমন্ত্রিত অতিথিদের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটির সাম্প্রতিক কার্যক্রম, তারল্য পরিস্থিতি এবং ব্যবস্থাপনা–সংক্রান্ত কিছু বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিলেন কয়েকজন আমানতকারী ও ব্যাংক কর্মকর্তা। তাঁদের অভিযোগ ছিল, একীভূত হতে যাওয়া ব্যাংকগুলোর অতীত আর্থিক অবস্থা, খেলাপি ঋণ এবং ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়ে নানা প্রশ্নের স্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনও পাওয়া যায়নি। এই প্রেক্ষাপটে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিন ঘেরাও কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতির তথ্য পাওয়ায় বিষয়টি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়। পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হচ্ছে। বর্তমানে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং চলতি সপ্তাহেই এই নিয়োগ চূড়ান্ত হতে পারে বলে জানা গেছে। এরপর উপব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা, কোম্পানি সচিবসহ শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক দেশের প্রথম রাষ্ট্রায়ত্ত শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক। শরিয়াহ নীতিমালা অনুসরণ করে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো এবং ইসলামি ব্যাংকিং খাতে রাষ্ট্রের অংশগ্রহণ জোরদার করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। যে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে এই নতুন ব্যাংক গঠন করা হচ্ছে, সেগুলো হলো—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক। এই পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে এক্সিম ব্যাংক একসময় ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠনের সাবেক এক শীর্ষ নেতার মালিকানাধীন ছিল। অপর চারটি ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামভিত্তিক একটি শিল্পগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা রয়েছে। এসব ব্যাংকে নামে ও বেনামে শেয়ার মালিকানা এবং ঋণ সুবিধা গ্রহণ নিয়ে অভিযোগও সামনে এসেছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল হলেও সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু ও সাংগঠনিক কাঠামো চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ২৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

দূষণ থেকে সার

ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচনী জনসভায় রুমিন ফারহানার ভোট চুরি নিয়ে সতর্কবার্তা

ছবি : সংগৃহীত

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পথসভায় হামলা : ময়লা পানি ও ডিম নিক্ষেপ

0 Comments