ওপার বাংলার বনগাঁর এক অনুষ্ঠানে অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর হেনস্তার ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি, তারই মধ্যে বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া জানালেন ওপার বাংলার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা শুভশ্রী গাঙ্গুলী। সোশ্যাল মিডিয়ায় যখন ক্ষোভ আর প্রতিবাদের ঝড়, তখন সহকর্মীদের নিরাপত্তা ও সম্মানের প্রশ্নে সরব হয়ে কড়া বার্তা দিলেন তিনি—তার বক্তব্যে স্পষ্ট, তারকাদের জন্য মঞ্চ কখনও আতঙ্কের জায়গা হতে পারে না।
সম্প্রতি একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে শুভশ্রী জানান, শিল্পীদের সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তার মতে, ইদানীং সেলিব্রেটিরা, বিশেষ করে নারী তারকারা এক শ্রেণির মানুষের কাছে ‘সফট টার্গেট’ হয়ে দাঁড়াচ্ছেন।
সহকর্মী মিমি চক্রবর্তীর অপদস্থ হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে শুভশ্রী বলেন, ‘বিগত কিছু সময় ধরে একটা বিষয় আমরা লক্ষ করছি সেলিব্রেটিরা, বিশেষ করে নারী তারকারা মানুষের কাছে খুব বেশি সফট টার্গেট হয়ে যাচ্ছেন। এই ব্যাপারটা কি আমরা মেনে নিচ্ছি, আমরা কি এই ধরনের আচরণের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছি?
তার কথায়, ‘যা ঘটছে তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমাদের সকলের উচিত একসঙ্গে এর প্রতিবাদ করা। আমাদের মাথায় রাখতে হবে যে আমরা প্রত্যেকে এক একজন শিল্পী। আমরা সম্মানের জন্য কাজ করি। অবশ্যই আমরা পারিশ্রমিক পাই, কিন্তু যারা আমাদের পারিশ্রমিক দেন তারা আমাদের মাথা কিনে নেননি।’
শুভশ্রীর ভাষ্য, ‘যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিকর মন্তব্য করেন, তাদের বলতে চাই এই সমাজটা আপনাদেরও। সমাজকে সুস্থ রাখার দায়িত্ব শুধু আমাদের একার নয়, এই দায়বদ্ধতা আপনাদেরও আছে। তাই যা করবেন, একটু ভেবেচিন্তে করবেন।’
গত ২৯ জানুয়ারি মিমি চক্রবর্তীকে হেনস্তার দায়ে অভিযুক্ত তনয় শাস্ত্রীকে তার নিজ বাসভবন থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বনগাঁর সেই অনুষ্ঠানে মঞ্চে ওঠার মাত্র কয়েক মিনিটের মাথায় মিমিকে যেভাবে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে এখনও টালিপাড়ায় ক্ষোভ বিরাজ করছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বীভৎসতা ও অশালীনতার অভিযোগে জটিলতায় পড়েছে শাকিব খান অভিনীত চলচ্চিত্র ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন ঢাকা’। ছবিটির সেন্সর সনদ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড। পিআইডির বরাতে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সেন্সর বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই কিছু গান ও দৃশ্য সংযোজন করে ছবিটি প্রদর্শন করা হয়েছে। একইসঙ্গে, অনুমোদিত কপিতে ধূমপান ও মাদক সেবনের সতর্কবার্তা পরিবর্তন বা টেম্পার করার অভিযোগও উঠেছে। এসব অনিয়মের প্রেক্ষিতে ছবিটির সার্টিফিকেশন সনদ (এলএল নং ১০/২০২৬, তারিখ: ১৬ মার্চ ২০২৬) স্থগিত করা হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ‘তোমাকে ছাড়া’ শিরোনামের একটি গান এবং ভারতের মরুভূমি প্রেক্ষাপটে নির্মম হত্যাযজ্ঞের বীভৎস দৃশ্য ছবিতে যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া সেন্সর বোর্ড পূর্বে যেসব দৃশ্য বাদ দিতে বলেছিল—যেমন চাপাতি দিয়ে হাত কেটে ফেলা, গলার রগ কেটে দেওয়ার দৃশ্য, এবং নারীদের অশালীন ও অরুচিকর উপস্থাপন—সেগুলো পুনরায় সংযোজনের অভিযোগও রয়েছে। এ বিষয়ে পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ জানান, এখনো তিনি আনুষ্ঠানিক কোনো স্থগিতাদেশের নোটিশ হাতে পাননি। তবে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সেন্সর বোর্ড থেকে একটি নোটিশ পেয়েছিলেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তার জবাবও দেওয়া হয়েছে। সেন্সরবিহীন দৃশ্য প্রদর্শনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি ব্যাখ্যা দেন, ‘ভুলবশত সিনেমা হলে ছবিটির ইন্ডিয়ান বা ওটিটি ভার্সন প্রদর্শিত হয়েছিল। যখন সেন্সর বোর্ড থেকে নোটিশ আসে, তখন ছবিটি আর হলে চলছিল না। আমরা জানিয়েছিলাম, ভবিষ্যতে শুধুমাত্র অনুমোদিত সংস্করণই প্রদর্শন করা হবে এবং সে অনুযায়ী কাজও চলছিল।’ তিনি আরও বলেন, আনুষ্ঠানিক নোটিশ হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ এবং প্রযোজক শিরিন সুলতানার এই অ্যাকশনধর্মী চলচ্চিত্রটি গত ২১ মার্চ ফিতরে উপলক্ষে দেশজুড়ে মুক্তি পেয়েছিল। ছবিটিতে আরও অভিনয় করেছেন তাসনিয়া ফারিন ও জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডুসহ অনেকে।
দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা সি. জোসেফ বিজয়, যিনি ভক্তদের কাছে ‘থালাপতি বিজয়’ নামে পরিচিত, তামিল সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম বড় তারকা। অভিনয় জীবনের শুরু থেকে কঠোর পরিশ্রম ও ধৈর্যের মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান গড়ে তোলেন। বর্তমানে তাকে ঘিরেই সিনেমা নির্মাণের প্রবণতা দেখা যায়, যা তার জনপ্রিয়তা ও বাজারমূল্যের প্রমাণ। রজনীকান্ত ও কমল হাসানের পর কলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী তারকা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন তিনি। বিজয়ের ক্যারিয়ার শুরু হয় শিশু শিল্পী হিসেবে, ১৯৮৪ সালে ‘ভেট্রি’ সিনেমার মাধ্যমে। পরে রজনীকান্তের ‘নান সিগাপ্পু মানিথান’সহ কয়েকটি ছবিতে কাজ করেন তিনি। ১৯৯২ সালে ‘নালাইয়া থেরপু’ সিনেমার মাধ্যমে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন বিজয়। তবে শুরুতে তার অভিনয় জীবন খুব সহজ ছিল না; একাধিক সিনেমা ব্যর্থ হওয়ায় তাকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। ১৯৯৪ সালে ‘রাসিগান’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি প্রথম বাণিজ্যিক সফলতা পান, যা তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এই সিনেমাতেই প্রথমবার তাকে ভক্তরা ‘ইলাইয়া থালাপতি’ নামে ডাকতে শুরু করেন। তামিল ভাষায় ‘ইলাইয়া থালাপতি’ অর্থ ‘তরুণ সেনাপতি’। ধীরে ধীরে এই নামটি তার পরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠে এবং ভক্তরাও এটি ব্যাপকভাবে গ্রহণ করে নেন। দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে তিনি ‘ইলাইয়া থালাপতি’ নামে পরিচিত ছিলেন। তবে বয়স ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে সঙ্গে তার নেতৃত্বগুণ ও জনপ্রিয়তা আরও বাড়তে থাকায় ২০১৭ সালে নির্মাতা অ্যাটলি ও বিজয় যৌথভাবে তার উপাধি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। তখন থেকে তাকে শুধু ‘থালাপতি’ অর্থাৎ ‘সেনাপতি’ বা ‘নেতা’ নামে ডাকা হয়। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে তাকে আরও পরিণত ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন একজন তারকা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, যা তার ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে। বর্তমানে অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনেও তিনি সক্রিয় হয়েছেন এবং নেতৃত্বের ভূমিকায় নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করছেন।
ছোটপর্দার পরিচিত অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ইকরা আত্মহত্যা করেছেন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় এই ঘটনা ঘটে। বর্তমানে অভিনয়ের কাজে নেপালে অবস্থানরত আলভী খবরটি নিশ্চিত করে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। মিরপুর পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম আলমগীর জাহান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শনিবার দুপুরে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে থানায় ফোন আসে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, মৃত নারী অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী। স্ত্রীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট দেন জাহের আলভী। তিনি লেখেন, “আজ দুপুরে মিরপুর ডিওএইচএসের বাসায় আমার স্ত্রী ইকরা আত্মহত্যা করেছে। আমি বর্তমানে নেপালে শুটিংরত। খবরটা শোনার পর থেকে কথা বলার মতো অবস্থায় নেই”। নিজের একমাত্র সন্তানের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও লেখেন, “আমি বুঝতে পারছি না আমাদের সন্তান আর আমার কথা না ভেবে সে কেন এভাবে চলে গেল”। শোকাতুর এই অভিনেতা সাংবাদিক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে কিছুটা সময় চেয়েছেন। তিনি জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঢাকা ফেরার চেষ্টা করছেন এবং ফিরে সবার সাথে কথা বলবেন। সেই সাথে সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে কোনো ধরণের বিভ্রান্তিকর তথ্য না ছড়ানোর জন্য তিনি বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন। ২০১০ সালের ৯ নভেম্বর ভালোবেসে ইকরাকে বিয়ে করেছিলেন জাহের আলভী। দীর্ঘ ১৫ বছরের এই দাম্পত্য জীবনে তাঁদের ‘রিজিক’ নামে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে ইতোমধ্যে বিনোদন অঙ্গনসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।