জুলাই সনদ স্বাক্ষরকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ‘জুলাই যোদ্ধা’ ব্যানারে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে। মামলাগুলো শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের করা হয়েছে।
থানা সূত্রে জানা গেছে, চারটি মামলার সবকটির বাদী পুলিশ। এর মধ্যে একটি মামলার বাদী একজন ট্রাফিক সার্জেন্ট এবং বাকি তিনটি মামলার বাদী শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ। মামলাগুলোর আসামি অজ্ঞাত, প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ জনকে অজ্ঞাত পরিচয়ে আসামি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁর নাম রিমন চন্দ্র বর্মন।
শনিবার শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমাউল হক জানান, চারটির মধ্যে একটি মামলা সংরক্ষিত এলাকায় জোরপূর্বক প্রবেশের অভিযোগে করা হয়েছে। অন্য তিনটি মামলায় পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর এবং কন্ট্রোল রুমে আগুন দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার দুপুরে ‘জুলাই যোদ্ধা’ ব্যানারে একদল আন্দোলনকারী জুলাই সনদে তিনটি দাবি অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অবস্থান নেন। দুপুর দেড়টার দিকে সংসদ ভবনের ১২ নম্বর গেটে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়।
একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা সংসদ ভবনের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়। পাল্টা বিক্ষোভে আন্দোলনকারীরা বোতল, চেয়ার ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং সড়কে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে পুলিশের কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর হয় ও কয়েকজন আহত হন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১৬ শিশু ভর্তি হওয়ায় বর্তমানে ওয়ার্ডটিতে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৯৪ জন শিশু। হাসপাতাল সূত্র জানায়, মৃত চার শিশুর মধ্যে দুইজন ছেলে ও দুইজন মেয়ে। তারা ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। চিকিৎসকদের তথ্যমতে, হামের উপসর্গের পাশাপাশি নিউমোনিয়া, জন্মগত হৃদ্রোগ, অপুষ্টি এবং অন্যান্য জটিলতায় আক্রান্ত ছিল এসব শিশু। মৃতদের মধ্যে একজন চার মাস বয়সী কন্যাশিশু ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বাসিন্দা। এছাড়া নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার চার মাস বয়সী এক ছেলে শিশু, ফুলপুর উপজেলার তিন মাস বয়সী এক শিশু এবং সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার আট মাস বয়সী এক কন্যাশিশুও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৯ শিশু। বর্তমানে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৯৪ শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। চলতি বছরের ১৭ মার্চ থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২ হাজার ৩৭৮ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ২২৬ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। একই সময়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোট ৫৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ স্টোর অফিসার ঝন্টু সরকার জানান, মার্চের মাঝামাঝি থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু ভর্তি বাড়তে শুরু করে। রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ডে একাধিক মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারের ডেক সিলগালা করার ৩ দিনের মাথায় প্রত্যাহার হওয়া ডিসি সারওয়ার আলমের অন্দরমহলের খবর নিয়ে আলোচনায় সরব সোস্যাল মিডিয়া, টকশো অ্যাক্টিভিস্ট, বুদ্ধিজীবী ও সচেতন মহল। ফিল্মের ফাটাকেস্ট চরিত্রের মতো জনপ্রিয় অভিযানের পেছনে তার আসল উদ্দেশ্য নিয়েও কথা উঠছে। স্বচ্ছতার নামে শাহজালালের মাজারের ৭০০ বছরের ঐতিহ্য ও প্রথাকে তাড়াহুড়ো করে ডিসির ক্ষমতাবলে তছনছ করার পেছনে রাজনৈতিক কোন এজেন্ডা আছে কি না এমন জিজ্ঞাসা তৈরি হয়েছে। শাহজালালের মাজারের দানের টাকার হিসাব নিকাশের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে মাজারের ৩টি ডেক ও একটি দানবাক্স সিলগালা করা হলেও ডিসি অফিসের এলআর ফান্ড, কবি নজরুল অডিটোরিয়ামের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা, সারওয়ার আলমের উপর ঋণের শর্তভঙ্গ করার দায়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিপুল জরিমানার বিষয়টি এখন সিলেটে আলোচিত। এছাড়া শাহজালালের মাজারে তাড়াহুড়ো করে নিজে উপস্থিত থেকে দানের টাকা গণনা ও ডিসির পক্ষ থেকে ৫ লাখ টাকা মাজারে প্রদানকে ডিসির ‘রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি’ বলা হচ্ছে। এ ব্যাপারে সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলনের সিলেটের সমন্বয়ক আব্দুল করিম চৌধুরী বলেন, ‘সদ্য বিদায়ী ডিসি মাজার বিরোধী কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়ে বদলি হন। যেখানে মাজারের দানের টাকা গুনে গুনে ডিসি দেখালেন প্রচুর টাকা আসে, সেখানে যাওয়ার আগে মাজার তহবিলে ৫ লাখ টাকা দিয়ে রীতিমতো পলিটিক্যাল স্ট্যান্টবাজি করলেন।’ অনুসন্ধানে জানা যায়, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভেজাল বিরোধী অভিযানের মধ্য দিয়ে এই সারওয়ার আলমের জনপ্রিয়তার (!) অভিষেক হয়। সে সময় আওয়ামী লীগের আস্থাভাজন হতে গিয়ে শেখ মুজিব, শেখ হাসিনাকে বন্দনা করে ফেইসবুকেও নিয়মিত পোস্ট করতেন তিনি। ২০১৮ সালে রাজনৈতিক বিরোধের সূত্রে আওয়ামীলীগ প্রয়াত ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রতিষ্ঠিত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ রাখার ভূয়া অভিযোগের ভিত্তিতে ১৫ লক্ষাধিক টাকা জরিমানা করায়। আর এই অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন নির্বাহী ম্যাজিস্টেট এই সারওয়ার আলম। আওয়ামী এজেন্ডা বাস্তবায়নে এই সারওয়ার আলম গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে একরকম তছনছ করে দেন। অবশ্য আওয়ামীলীগের ক্ষমতার শেষের দিকে রহস্যজনক কারণে সারওয়ার আলমের প্রমোশন আটকে দেওয়া হয়। এদিকে স্বচ্ছতার জন্য বিভিন্ন অভিযান ও মাজারের ডেক সিলগালা করলেও খোদ সারওয়ার আলমের বিরুদ্ধে গাড়ি ক্রয়ে শর্তভঙ্গ করায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তাকে ৬ লক্ষ ২৫ হাজার টাকারও বেশি জরিমানা করে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গাড়ি সেবা শাখা থেকে প্রাধিকারপ্রপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণ ও গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালা অনুযায়ী এই জরিমানা করা হয়। চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গাড়ি সেবা শাখার স্বাক্ষরিত চিঠিতে এই জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে সিলেট থেকে বিদায় নেওয়ার আগে এই জরিমানা আদায় করা হয়েছিল কি না তা জানা যায়নি। এছাড়া জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে সদ্য বিদায়ী ডিসি ৫ লাখ টাকা দান করার পর ডিসি অফিসের ‘এলআর ফান্ড’ (যা বেসরকারি খাত থেকে আসে) এর টাকার স্বচ্ছতা ও হিসাব-নিকাশ নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এ ব্যাপারে। ২৪ জুন বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক বলেন, ‘এটা দীর্ঘদিনের প্র্যাকটিস। এটি আমাদের নজরে আছে। তবে যা করার আলোচনার মাধ্যমে করতে হবে। পরিবর্তন করতে হলে সময় দিতে হবে। হুট করে কিছু করা যাবে না।’ বদলি হওয়া ডিসি সারওয়ার আলমের ব্যাপারে ক্ষমতাসীনদের ‘মর্জি’ বুঝে চলা এমন কথা প্রচলিত আছে। এর সত্যতা খোঁজতে ২০১৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর তারিখে সারওয়ার আলমের ফেইসবুক পোস্টের একটি স্ক্রিনশট এই প্রতিবেদকের হাতে আসে। যেখানে তিনি শেখ হাসিনার প্রশংসা করে লিখেন ‘আমাদের প্রেরণার বাতিঘর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার দীঘায়ূ ও সুস্বাস্থ্য কামনা করছি। ধন্য পিতার ধন্য কন্যা আপনি বাঙালির হৃদয়ে বেঁচে থাকুন হাজার বছর। আপনার নেতৃত্বে আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে উন্নত বাংলাদেশ ইনশাআল্লাহ।’ এর আগে ২০১৭ সালের ২০ জুলাই ‘আমি হতবাক !!!’ শিরোনামে তিনি শেখ মুজিবর রহমানকে নিয়ে শিশুদের ছবি আঁকা প্রসঙ্গে ভিন্নধর্মী একটি পোস্টে লিখেন ‘আমরা ভাবি না পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রীর মতো শিশুরা যারা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে স্বচক্ষে না দেখে মানসপটে ধারণ করে তুলির মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। সে সেমস্থ শিশুরা আমাদের মতো তথাকথিত সুবিধাবাদীদের চেয়ে কত পবিত্র এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে সত্যিকারভাবে অনুপ্রাণিত।’ এদিকে গত ১৭ জুন মৌলভীবাজারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনকে স্বাগত জানিয়ে তিনি লিখেন ‘পূণ্যভূমি সিলেটে স্বাগতম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। একজন অসাধারণ মানুষের সাধারণ চলাফেরা। আপনার জন্য শুভকামনা। এগিয়ে যাক বাংলাদেশ।’ ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের একান্ত সচিবের দায়িত্ব পালন করেন সারওয়ার আলম। ইন্টেরিম সরকারের আমলে সিলেটের ভোলাগঞ্জের পাথরকান্ডে গত বছরের ১৮ আগস্ট সিলেটের ডিসি হিসাবে নিয়োগ পান তিনি। ছাত্রাবস্থায় একটি ইসলামি সংগঠনের হল সভাপতি ছিলেন বলে জানা গেলেও এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করা যায়নি। কিন্তু হযরত শাহজালালের মাজারে ডিসি সারওয়ারের নাটকীয়তায় তার গোপন রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে কৌতুহল তৈরি হয়েছে। এদিকে ডিসিকে প্রত্যাহারের প্রতিবাদে ও তাকে পূণর্বহালের দাবিতে সিলেটে মাজার সংস্কৃতি বিরোধী মতের মানুষ মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। ডিসিকে শ্লোগান দিয়ে তার অফিস পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন। ডিসি তাদের সাথে করমর্দন করেছেন ও চক্ষুসজল হয়েছেন। প্রশ্ন উঠছে তাহলে রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ডে পেছনে রেখে ডিসি মাজারে ‘প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ’ করতে নেমেছিলেন। একটি সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফরের প্রাক্ষালে ডিসি সারওয়ারের এ ধরনের স্পর্শকাতর পদক্ষেপ ভিন্ন কিছুর ইঙ্গিত দেয়। মাজারের ডেগ সিলগালার পরপর তাকে প্রত্যাহার করা না হলে সিলেটের মাজার সংস্কৃতির পক্ষের লোকজনের সাথে ডিসির পক্ষে বিক্ষোভ মিছিলে নামা লোকদের বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটতে পারতো। এ থেকে একপক্ষের রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতো। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে মাজার কর্তৃপক্ষ, ওলি আউলিয়াভক্ত মানুষ ও বিপক্ষের লোকজন দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছেন। মাজারের পক্ষের লোকেরা ৭০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মাজারে ডিসির এই প্রশাসনিক হস্তক্ষেপকে সুনির্দিষ্ট একটি দলের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের অংশ মনে করছেন। মাজারপন্থীদের বিরুদ্ধে ন্যারেটিভ উৎপাদনের উপলক্ষ তৈরি করতে পরিকল্পিতভাবে প্রশাসনিক এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেককে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। সিলেটের কবি ও সাংবাদিক কবির য়াহমদ তার ফেইসবুক পোস্টের দীর্ঘ লেখার এক জায়গায় লিখেন- ‘মাজারপুজা ও শরীয়ত বিরোধী’ যে চিরাচরিত প্রোপাগান্ডা, তা এখনও সমানভাবে চলমান থাকলেও এর সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন এক মাত্রা। তা হলো- মাজারের সংশ্লিষ্টরা আর্থিকভাবে চরম দুর্নীতিগ্রস্থ এবং তারা মানুষের মানত ও দানের টাকার ছয়-নয় করে। এই অর্থ আত্মসাতের ন্যারেটিভটি আগে আড়ালে-আবডালে উচ্চারিত হলেও তা প্রমাণ করতে হলে যে মাজারে গিয়ে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, সেই সুযোগ এতাদিন মাজার বিদ্ধেষীরা করে উঠতে পারেনি’। উল্লেখ্য, এই মাজারের ব্যাপারে উচ্চ আদালতের রায় থাকার পরও ডিসি কেন এককভাবে ডাইরেক্ট অ্যাকশনে গেলেন তা বোধগম্য নয় বলে মাজার কর্তৃপক্ষের অভিযোগ। ডিসির এই দ্রুত পদক্ষেপের ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গত বুধবার (২৪ জুন) সিলেটে সাংবাদিকদের প্রসঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আর্থিক হিসাব নিকাশে স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগে কিছুটা তাড়াহুড়ো হয়েছে। এ বিষয়ে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনাই করা হয়নি। এটা ৭০০ বছরের একটি ট্রাডিশন।’ এদিকে ২৬ জুন শুক্রবার শাহজালালের মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে শুক্রবার বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ১২ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি করেছেন। মন্ত্রী নিজে এই কমিটির প্রধান হিসাবে দায়িত্বে আছেন। এই কমিটি একমাসের মধ্যে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার একটি ‘যৌক্তিক পদ্ধতি’ নির্ধারণ করবে। শাহজালালের মাজারের ডেক সিলগালা ইস্যুতে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও বুদ্ধিজীবী ব্রাত্য রাইসু লিখেন, ‘সারওয়ার আলম সাহেবকে প্রশংসা করার আগে ১ মিনিট থামতে হবে। ভাবতে হবে. যিনি মাজার ধ্বংস ঠেকানোর ব্যাপারে কী কী কাজ করেছিলেন? যদি কিছু না কইরা থাকেন, তাইলে আরো ১ মিনিট থামতে হবেভ ভাবতে হবে, মাজার ধ্বংস যারা করছেন তাদের অপরাধকে সারোয়ার আলমের কারণে তেমন অপরাধ না বইলা মনে হইতেছে কি না? যদি তেমন মনে হয়, তবে সারোয়ার আলমের সাম্প্রতিক মাজার বিয়য়ক অ্যাকশন একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতেছে, তিনি চান বা না চান। এই পর্যায়ে আইসা ১ মিনিট নীরবতা পালন করতে হব। কেন সেইটা বলবো না।’ সাংবাদিক ও কথা সাহিত্যিক মাহবুব মোর্শেদ লিখেন, মাজার ভাঙার সময় বড়কর্তাদের এগিয়ে আসতে দেখা না গেলেও মাজারের দানবাক্সের হিসাব নিতে দেখা যায় তাদের আগ্রহের শেষ নাই।’ এ ব্যাপারে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও টকশো আলোচক সারোয়ার তুষার বলেন, ‘সারওয়ার আলম সাহেব ট্রাংক কিনলেন। সিসি ক্যামেরা ফিট করলেন। টাকা কে দিলো? এই অর্থ কি সরকারি নাকি স্থানীয়ভাবে আহরিত এল আর ফান্ড? এই অর্থের আয় ব্যয় কি অডিট হয়? এই ফান্ডে যারা টাকা দেন তারা কি সবাই সৎ পথে আয় করে?
সীমান্তে বিজিবির কঠোর নজরদারির কারণে কাউকে অবৈধভাবে পুশ-ইন হতে দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শুক্রবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া সীমান্তে কাউকে পুশ-ইন করানো কোনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃত প্রক্রিয়া নয়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ১০ হাজার মানুষকে পুশব্যাকের যে দাবি করা হয়েছে, তার কোনো সত্যতা বা দালিলিক প্রমাণ বাংলাদেশ সরকারের কাছে নেই। মন্ত্রী জানান, যদি ভারতের কাছে অবৈধভাবে অবস্থান করা বাংলাদেশি নাগরিকদের তালিকা থাকে, তবে তা কূটনৈতিক বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পাঠাতে হবে। বাংলাদেশ সরকার নিয়ম অনুযায়ী জাতীয়তা যাচাই করে সত্যতা সাপেক্ষে আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের ফিরিয়ে নেবে। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর রাজনৈতিক এজেন্ডার অংশ হিসেবে সীমান্তে এ ধরনের তৎপরতা প্রদর্শনের চেষ্টা করা হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিজিবি বর্তমানে সীমান্ত সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং যেকোনো অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করতে সক্ষম। ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী দুটি চাঞ্চল্যকর মামলার অগ্রগতির বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি জানান, শহীদ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের প্রধান তিন অভিযুক্তকে ভারতের বনগাঁ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও আইনি পরোয়ানা ভারত সরকারের কাছে পাঠিয়েছে। সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, তাকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফেডারেল পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার মাত্র তিন দিনের মধ্যে যাবতীয় আইনি নথিপত্র প্রস্তুত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে। বর্তমানে বেনজীর আহমেদ ইউএই পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন এবং বাংলাদেশ সরকার এখন সেখানকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।