সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারের ডেক সিলগালা করার ৩ দিনের মাথায় প্রত্যাহার হওয়া ডিসি সারওয়ার আলমের অন্দরমহলের খবর নিয়ে আলোচনায় সরব সোস্যাল মিডিয়া, টকশো অ্যাক্টিভিস্ট, বুদ্ধিজীবী ও সচেতন মহল। ফিল্মের ফাটাকেস্ট চরিত্রের মতো জনপ্রিয় অভিযানের পেছনে তার আসল উদ্দেশ্য নিয়েও কথা উঠছে। স্বচ্ছতার নামে শাহজালালের মাজারের ৭০০ বছরের ঐতিহ্য ও প্রথাকে তাড়াহুড়ো করে ডিসির ক্ষমতাবলে তছনছ করার পেছনে রাজনৈতিক কোন এজেন্ডা আছে কি না এমন জিজ্ঞাসা তৈরি হয়েছে।
শাহজালালের মাজারের দানের টাকার হিসাব নিকাশের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে মাজারের ৩টি ডেক ও একটি দানবাক্স সিলগালা করা হলেও ডিসি অফিসের এলআর ফান্ড, কবি নজরুল অডিটোরিয়ামের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা, সারওয়ার আলমের উপর ঋণের শর্তভঙ্গ করার দায়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিপুল জরিমানার বিষয়টি এখন সিলেটে আলোচিত। এছাড়া শাহজালালের মাজারে তাড়াহুড়ো করে নিজে উপস্থিত থেকে দানের টাকা গণনা ও ডিসির পক্ষ থেকে ৫ লাখ টাকা মাজারে প্রদানকে ডিসির ‘রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি’ বলা হচ্ছে। এ ব্যাপারে সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলনের সিলেটের সমন্বয়ক আব্দুল করিম চৌধুরী বলেন, ‘সদ্য বিদায়ী ডিসি মাজার বিরোধী কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়ে বদলি হন। যেখানে মাজারের দানের টাকা গুনে গুনে ডিসি দেখালেন প্রচুর টাকা আসে, সেখানে যাওয়ার আগে মাজার তহবিলে ৫ লাখ টাকা দিয়ে রীতিমতো পলিটিক্যাল স্ট্যান্টবাজি করলেন।’
অনুসন্ধানে জানা যায়, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভেজাল বিরোধী অভিযানের মধ্য দিয়ে এই সারওয়ার আলমের জনপ্রিয়তার (!) অভিষেক হয়। সে সময় আওয়ামী লীগের আস্থাভাজন হতে গিয়ে শেখ মুজিব, শেখ হাসিনাকে বন্দনা করে ফেইসবুকেও নিয়মিত পোস্ট করতেন তিনি। ২০১৮ সালে রাজনৈতিক বিরোধের সূত্রে আওয়ামীলীগ প্রয়াত ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রতিষ্ঠিত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ রাখার ভূয়া অভিযোগের ভিত্তিতে ১৫ লক্ষাধিক টাকা জরিমানা করায়। আর এই অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন নির্বাহী ম্যাজিস্টেট এই সারওয়ার আলম। আওয়ামী এজেন্ডা বাস্তবায়নে এই সারওয়ার আলম গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে একরকম তছনছ করে দেন। অবশ্য আওয়ামীলীগের ক্ষমতার শেষের দিকে রহস্যজনক কারণে সারওয়ার আলমের প্রমোশন আটকে দেওয়া হয়।
এদিকে স্বচ্ছতার জন্য বিভিন্ন অভিযান ও মাজারের ডেক সিলগালা করলেও খোদ সারওয়ার আলমের বিরুদ্ধে গাড়ি ক্রয়ে শর্তভঙ্গ করায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তাকে ৬ লক্ষ ২৫ হাজার টাকারও বেশি জরিমানা করে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গাড়ি সেবা শাখা থেকে প্রাধিকারপ্রপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণ ও গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালা অনুযায়ী এই জরিমানা করা হয়। চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গাড়ি সেবা শাখার স্বাক্ষরিত চিঠিতে এই জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে সিলেট থেকে বিদায় নেওয়ার আগে এই জরিমানা আদায় করা হয়েছিল কি না তা জানা যায়নি।
এছাড়া জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে সদ্য বিদায়ী ডিসি ৫ লাখ টাকা দান করার পর ডিসি অফিসের ‘এলআর ফান্ড’ (যা বেসরকারি খাত থেকে আসে) এর টাকার স্বচ্ছতা ও হিসাব-নিকাশ নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এ ব্যাপারে। ২৪ জুন বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক বলেন, ‘এটা দীর্ঘদিনের প্র্যাকটিস। এটি আমাদের নজরে আছে। তবে যা করার আলোচনার মাধ্যমে করতে হবে। পরিবর্তন করতে হলে সময় দিতে হবে। হুট করে কিছু করা যাবে না।’
বদলি হওয়া ডিসি সারওয়ার আলমের ব্যাপারে ক্ষমতাসীনদের ‘মর্জি’ বুঝে চলা এমন কথা প্রচলিত আছে। এর সত্যতা খোঁজতে ২০১৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর তারিখে সারওয়ার আলমের ফেইসবুক পোস্টের একটি স্ক্রিনশট এই প্রতিবেদকের হাতে আসে। যেখানে তিনি শেখ হাসিনার প্রশংসা করে লিখেন ‘আমাদের প্রেরণার বাতিঘর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার দীঘায়ূ ও সুস্বাস্থ্য কামনা করছি। ধন্য পিতার ধন্য কন্যা আপনি বাঙালির হৃদয়ে বেঁচে থাকুন হাজার বছর। আপনার নেতৃত্বে আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে উন্নত বাংলাদেশ ইনশাআল্লাহ।’ এর আগে ২০১৭ সালের ২০ জুলাই ‘আমি হতবাক !!!’
শিরোনামে তিনি শেখ মুজিবর রহমানকে নিয়ে শিশুদের ছবি আঁকা প্রসঙ্গে ভিন্নধর্মী একটি পোস্টে লিখেন ‘আমরা ভাবি না পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রীর মতো শিশুরা যারা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে স্বচক্ষে না দেখে মানসপটে ধারণ করে তুলির মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। সে সেমস্থ শিশুরা আমাদের মতো তথাকথিত সুবিধাবাদীদের চেয়ে কত পবিত্র এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে সত্যিকারভাবে অনুপ্রাণিত।’
এদিকে গত ১৭ জুন মৌলভীবাজারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনকে স্বাগত জানিয়ে তিনি লিখেন ‘পূণ্যভূমি সিলেটে স্বাগতম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। একজন অসাধারণ মানুষের সাধারণ চলাফেরা। আপনার জন্য শুভকামনা। এগিয়ে যাক বাংলাদেশ।’
৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের একান্ত সচিবের দায়িত্ব পালন করেন সারওয়ার আলম। ইন্টেরিম সরকারের আমলে সিলেটের ভোলাগঞ্জের পাথরকান্ডে গত বছরের ১৮ আগস্ট সিলেটের ডিসি হিসাবে নিয়োগ পান তিনি। ছাত্রাবস্থায় একটি ইসলামি সংগঠনের হল সভাপতি ছিলেন বলে জানা গেলেও এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করা যায়নি। কিন্তু হযরত শাহজালালের মাজারে ডিসি সারওয়ারের নাটকীয়তায় তার গোপন রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে কৌতুহল তৈরি হয়েছে। এদিকে ডিসিকে প্রত্যাহারের প্রতিবাদে ও তাকে পূণর্বহালের দাবিতে সিলেটে মাজার সংস্কৃতি বিরোধী মতের মানুষ মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। ডিসিকে শ্লোগান দিয়ে তার অফিস পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন। ডিসি তাদের সাথে করমর্দন করেছেন ও চক্ষুসজল হয়েছেন। প্রশ্ন উঠছে তাহলে রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ডে পেছনে রেখে ডিসি মাজারে ‘প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ’ করতে নেমেছিলেন।
একটি সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফরের প্রাক্ষালে ডিসি সারওয়ারের এ ধরনের স্পর্শকাতর পদক্ষেপ ভিন্ন কিছুর ইঙ্গিত দেয়। মাজারের ডেগ সিলগালার পরপর তাকে প্রত্যাহার করা না হলে সিলেটের মাজার সংস্কৃতির পক্ষের লোকজনের সাথে ডিসির পক্ষে বিক্ষোভ মিছিলে নামা লোকদের বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটতে পারতো। এ থেকে একপক্ষের রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতো।
বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে মাজার কর্তৃপক্ষ, ওলি আউলিয়াভক্ত মানুষ ও বিপক্ষের লোকজন দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছেন। মাজারের পক্ষের লোকেরা ৭০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মাজারে ডিসির এই প্রশাসনিক হস্তক্ষেপকে সুনির্দিষ্ট একটি দলের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের অংশ মনে করছেন। মাজারপন্থীদের বিরুদ্ধে ন্যারেটিভ উৎপাদনের উপলক্ষ তৈরি করতে পরিকল্পিতভাবে প্রশাসনিক এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেককে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
সিলেটের কবি ও সাংবাদিক কবির য়াহমদ তার ফেইসবুক পোস্টের দীর্ঘ লেখার এক জায়গায় লিখেন- ‘মাজারপুজা ও শরীয়ত বিরোধী’ যে চিরাচরিত প্রোপাগান্ডা, তা এখনও সমানভাবে চলমান থাকলেও এর সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন এক মাত্রা। তা হলো- মাজারের সংশ্লিষ্টরা আর্থিকভাবে চরম দুর্নীতিগ্রস্থ এবং তারা মানুষের মানত ও দানের টাকার ছয়-নয় করে। এই অর্থ আত্মসাতের ন্যারেটিভটি আগে আড়ালে-আবডালে উচ্চারিত হলেও তা প্রমাণ করতে হলে যে মাজারে গিয়ে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, সেই সুযোগ এতাদিন মাজার বিদ্ধেষীরা করে উঠতে পারেনি’।
উল্লেখ্য, এই মাজারের ব্যাপারে উচ্চ আদালতের রায় থাকার পরও ডিসি কেন এককভাবে ডাইরেক্ট অ্যাকশনে গেলেন তা বোধগম্য নয় বলে মাজার কর্তৃপক্ষের অভিযোগ। ডিসির এই দ্রুত পদক্ষেপের ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গত বুধবার (২৪ জুন) সিলেটে সাংবাদিকদের প্রসঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আর্থিক হিসাব নিকাশে স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগে কিছুটা তাড়াহুড়ো হয়েছে। এ বিষয়ে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনাই করা হয়নি। এটা ৭০০ বছরের একটি ট্রাডিশন।’ এদিকে ২৬ জুন শুক্রবার শাহজালালের মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে শুক্রবার বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ১২ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি করেছেন। মন্ত্রী নিজে এই কমিটির প্রধান হিসাবে দায়িত্বে আছেন। এই কমিটি একমাসের মধ্যে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার একটি ‘যৌক্তিক পদ্ধতি’ নির্ধারণ করবে।
শাহজালালের মাজারের ডেক সিলগালা ইস্যুতে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও বুদ্ধিজীবী ব্রাত্য রাইসু লিখেন, ‘সারওয়ার আলম সাহেবকে প্রশংসা করার আগে ১ মিনিট থামতে হবে। ভাবতে হবে. যিনি মাজার ধ্বংস ঠেকানোর ব্যাপারে কী কী কাজ করেছিলেন? যদি কিছু না কইরা থাকেন, তাইলে আরো ১ মিনিট থামতে হবেভ ভাবতে হবে, মাজার ধ্বংস যারা করছেন তাদের অপরাধকে সারোয়ার আলমের কারণে তেমন অপরাধ না বইলা মনে হইতেছে কি না? যদি তেমন মনে হয়, তবে সারোয়ার আলমের সাম্প্রতিক মাজার বিয়য়ক অ্যাকশন একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতেছে, তিনি চান বা না চান। এই পর্যায়ে আইসা ১ মিনিট নীরবতা পালন করতে হব। কেন সেইটা বলবো না।’
সাংবাদিক ও কথা সাহিত্যিক মাহবুব মোর্শেদ লিখেন, মাজার ভাঙার সময় বড়কর্তাদের এগিয়ে আসতে দেখা না গেলেও মাজারের দানবাক্সের হিসাব নিতে দেখা যায় তাদের আগ্রহের শেষ নাই।’
এ ব্যাপারে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও টকশো আলোচক সারোয়ার তুষার বলেন, ‘সারওয়ার আলম সাহেব ট্রাংক কিনলেন। সিসি ক্যামেরা ফিট করলেন। টাকা কে দিলো? এই অর্থ কি সরকারি নাকি স্থানীয়ভাবে আহরিত এল আর ফান্ড? এই অর্থের আয় ব্যয় কি অডিট হয়? এই ফান্ডে যারা টাকা দেন তারা কি সবাই সৎ পথে আয় করে?
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ভারত থেকে আসছে নতুন প্রজন্মের লিংকে হফম্যান বুশ (এলএইচবি) কোচ। আজ বুধবার (১২ আগস্ট) ভারতের কাপুরথালার রেল কোচ কারখানা (আরসিএফ) থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য তৈরি প্রথম রেকটি বের হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে বিশেষভাবে এসব কোচ তৈরি করা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, কাপুরথালার রেল কোচ কারখানা থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য তৈরি প্রথম এলএইচবি রেকটি ১২ আগস্ট বের হবে। রেকটিতে তিনটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শয্যাযান, তিনটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চেয়ার কোচ, ১২টি সাধারণ চেয়ার কোচ এবং দুটি বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কোচ রয়েছে। তবে ভারতীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সাধারণ চেয়ার কোচের সংখ্যা ১১টি উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে রেকটি ১৯ না ২০ কোচের—এ নিয়ে কিছুটা অসঙ্গতি রয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ভারত থেকে দর্শনা সীমান্ত দিয়ে রেকটি বাংলাদেশে প্রবেশের পর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় নেওয়া হতে পারে। সেখানে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও কারিগরি যাচাই শেষে কোচগুলো যাত্রীবাহী ট্রেনে যুক্ত করার প্রস্তুতি নেওয়া হবে। তবে রেকটি কখন দর্শনা সীমান্তে পৌঁছাবে এবং কবে সৈয়দপুরে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক সময়সূচি জানানো হয়নি। ২০০ কোচের চুক্তির প্রথম চালান নতুন কোচগুলো একটি বড় সরবরাহ চুক্তির অংশ। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান রাইটসের (RITES) মাধ্যমে ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ কেনার চুক্তি করে। কাপুরথালার রেল কোচ কারখানায় এসব কোচ তৈরি হচ্ছে। মোট সাত ধরনের কোচ সরবরাহ করার কথা রয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই চুক্তির অংশ হিসেবেই প্রথম রেকটি ১২ আগস্ট কারখানা থেকে বের হচ্ছে। চলতি বছরের মে মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, দুই মাসের মধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছে প্রথম ২০ কোচের একটি রেক সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে রাইটস। ২০০টি কোচ সরবরাহের চুক্তির মূল্য প্রায় ৯১৫ কোটি ভারতীয় রুপি। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো চালান সরবরাহ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। বাংলাদেশে এলএইচবি কোচ নতুন নয় তবে এবারের চালানকে বাংলাদেশে প্রথম এলএইচবি কোচ আসা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর আগে ২০১৫-১৬ সালে ভারতীয় রেল কোচ কারখানা বাংলাদেশ রেলওয়েকে ১২০টি ব্রডগেজ এলএইচবি যাত্রীবাহী কোচ সরবরাহ করেছিল। প্রায় এক দশক পর আবারও ভারত থেকে নতুন যাত্রীবাহী কোচ সরবরাহ শুরু হচ্ছে। নতুন চালানের বিশেষত্ব হলো, বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রয়োজন অনুযায়ী কোচগুলোর নকশা ও বিভিন্ন কারিগরি ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও আরামের পাশাপাশি বাংলাদেশের বিশেষ পরিচালন পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। যেসব সুবিধা থাকছে নতুন কোচগুলোতে যাত্রীদের জন্য বেশ কিছু নতুন সুবিধা রাখা হয়েছে। কোচগুলোতে স্টেইনলেস স্টিলের হাতল ও পাদানি রয়েছে। আসনগুলো হেলানো যায় এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচে ফ্যানের পাশাপাশি সমন্বিত সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থা ও যাত্রী সতর্কীকরণ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে আংশিক খোলা যায় এমন জানালা, শিশু পরিচর্যার জন্য আলাদা কক্ষ এবং নামাজের কক্ষ। এসব সুবিধা বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রীদের প্রয়োজন বিবেচনায় যুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশের বিশেষ পরিচালন পরিস্থিতির কথাও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে কোচ তৈরিতে। বিশেষ করে ট্রেনের ছাদে যাত্রী ওঠার ঝুঁকি বিবেচনায় কোচের ছাদ শক্তিশালী করা হয়েছে বলে ভারতীয় রেল মন্ত্রণালয়ের তথ্য থেকে জানা গেছে। কোচগুলো ইউরোপীয় মান EN 15227 অনুযায়ী সংঘর্ষের ক্ষেত্রে বেশি নিরাপদ রাখার মতো করে তৈরি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় যাত্রীদের নিরাপত্তা বাড়াতে কোচের মূল কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। কোচগুলোর বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা ৪১৫ ভোল্টে পরিচালনার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। এটি ভারতীয় রেলের প্রচলিত কোচগুলোর ৭৫০ ভোল্টের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার চেয়ে আলাদা। কোন ট্রেনে চলবে, এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি প্রথম রেক বাংলাদেশে আসার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে—কোচগুলো কোন ট্রেনে যুক্ত হবে। নতুন কোনো আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা হবে, নাকি পুরোনো কোনো ট্রেনের কোচ পরিবর্তন করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে আগে জানানো হয়েছিল, নতুন কোচ পাওয়ার পর বিভিন্ন রুটে নতুন রেক চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ২০টি কোচ দিয়ে একটি পূর্ণ রেক তৈরি করে নতুন যাত্রীসেবা চালুর সম্ভাবনার কথাও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে কোচগুলো যাত্রী পরিবহনে যুক্ত করার আগে পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। এরপর কোন রুটে এগুলো ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ১৯ না ২০ কোচ, রয়েছে অসঙ্গতি প্রথম রেকের কোচসংখ্যা নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে অসঙ্গতি রয়েছে। দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও ফ্রি প্রেস জার্নাল ২০ কোচের রেকের কথা জানিয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, রেকটিতে ১২টি সাধারণ চেয়ার কোচ, তিনটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শয্যাযান, তিনটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চেয়ার কোচ ও দুটি বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কোচ রয়েছে। অন্যদিকে ইকোনমিক টাইমস, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও টাইমস অব ইন্ডিয়া প্রথম রেকটিকে ১৯ কোচের বলে উল্লেখ করেছে। এসব প্রতিবেদনে সাধারণ চেয়ার কোচের সংখ্যা ১১টি বলা হয়েছে। বাকি কোচের বিন্যাস একই—তিনটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শয্যাযান, তিনটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চেয়ার কোচ ও দুটি বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কোচ। ফলে বাংলাদেশে রেকটি পৌঁছানোর পর কোচের সংখ্যা ও ধরন সরাসরি যাচাই করাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য হবে। সংসদেও জানানো হয়েছিল ২০০ কোচ আনার কথা চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সংসদে রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছিলেন, ভারত থেকে ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ আমদানি করা হবে। ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এসব কোচ বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে রাইটস বাংলাদেশ রেলওয়েকে ১২০টি ব্রডগেজ এলএইচবি যাত্রীবাহী কোচ, ৩৬টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ ও ১০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সরবরাহ করেছে। চলতি বছরের মে মাসে রাইটসের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাহুল মিথাল জানিয়েছিলেন, প্রথম রেক সরবরাহের পর চলতি অর্থবছরে আরও অন্তত তিন থেকে চারটি রেক সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে। প্রথম রেক সরবরাহের পর উৎপাদনের গতিও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছিলেন। রেল বহরে নতুন সম্ভাবনা বাংলাদেশ রেলওয়ের দীর্ঘদিনের অন্যতম সমস্যা পুরোনো কোচ। যাত্রীদের আরাম ও নিরাপত্তা বাড়াতে আধুনিক কোচ যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা দীর্ঘদিন ধরেই বলা হচ্ছে। সেই বিবেচনায় ভারত থেকে নতুন এলএইচবি কোচের এই চালানকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন কোচ যুক্ত হলে যাত্রীদের জন্য আধুনিক সুবিধা বাড়ার পাশাপাশি ট্রেনের মানও উন্নত হতে পারে। তবে শুধু নতুন কোচ আনা হলেই এর সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাবে না। কোচগুলোর সঠিক পরীক্ষা, সময়মতো চালু করা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং উপযুক্ত রুটে ব্যবহার নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম রেক বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর তাই নজর থাকবে—কবে কোচগুলো যাত্রী পরিবহনে নামছে, কোন ট্রেনে যুক্ত হচ্ছে এবং ২০০ কোচের পুরো চালান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে কি না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ভৌগোলিক ও সাংবিধানিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বসবাসকারী সকল নাগরিকের একটিই পরিচয়-আমরা সবাই ‘বাংলাদেশি’ এখানে কোনো ‘আদিবাসী’ গোষ্ঠী নেই। আমরা সকলেই বাংলাদেশের ‘অধিবাসী’। সংবিধান অনুযায়ী দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা সমানভাবে সুরক্ষিত। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে চিটাগাং হিল ট্র্যাকটস রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিএইচটিআরএফ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জন্য ‘আদিবাসী’ পরিচয় অপ্রাসঙ্গিক’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ তথ্য জানানো হয়েছে। সিএইচটিআরএফের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান পলাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানায় বসবাসরত সকল নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এ দেশের সকল রাজনৈতিক দল ও অংশীজন সর্বসম্মতিক্রমে সম্মত হয়েছেন যে, বাংলাদেশের ভূখণ্ডের সর্বস্তরের মানুষের পরিচয় হবে ‘বাংলাদেশি’। এই জাতীয় ঐক্য ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার মূল ভিত্তি। অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য সাংবিধানিক সুরক্ষার বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্র তার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, উপজাতি ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে রক্ষা, বিকাশ ও সংরক্ষণে পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, জাতীয় মূলধারার সাথে সমতা আনার লক্ষ্যে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, নারী ও শিশুদের কল্যাণে রাষ্ট্র বিশেষ সুবিধা ও কোটা ব্যবস্থা বজায় রেখেছে, যা সংবিধানেও স্বীকৃত। পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন বহুভাষী ও বহুজাতিক রাষ্ট্রের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে শত শত ভাষা প্রচলিত থাকা সত্ত্বেও পৃথক 'আদিবাসী' সত্তার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি, বরং অনগ্রসরদের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে মূলধারায় যুক্ত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ২০০৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর গৃহীত জাতিসংঘের 'ইউনাইটেড নেশনস ডিক্লারেশন অন দ্য রাইটস অব ইনডিজিনাস পিপলস' (ইউএনডিআরআইপি) সনদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শুরু থেকেই স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করেছিল। তিনি বলেন, বাংলাদেশ উক্ত ভোটাভুটিতে ভোটদানে বিরত ছিল এবং বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী রাষ্ট্রও এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। তিনি আরও বলেন, এ আন্তর্জাতিক ডিক্লারেশন বা আইএলও কনভেনশন ১৬৯ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই প্রযোজ্য নয় এবং বাংলাদেশ এর অংশীদার নয়।
গোপালগঞ্জ শহরে দীর্ঘ সময় ধরে চলা তীব্র লোডশেডিংকে কেন্দ্র করে গ্রাহকদের ক্ষোভ বাড়ছে। সম্ভাব্য হামলা ও নাশকতার আশঙ্কায় ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) জেলা পুলিশ সুপারের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি দিয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ওজোপাডিকো গোপালগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে দপ্তর, পাওয়ার হাউস এবং চরপাথালিয়ায় অবস্থিত দুটি ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদারের অনুরোধ জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন কম এবং জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম বরাদ্দ পাওয়ায় ঘন ঘন লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এতে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে এবং বিদ্যুৎ অফিস, স্থাপনা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, গোপালগঞ্জে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৮ মেগাওয়াট, কিন্তু বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে ৯ থেকে ১০ মেগাওয়াট। এ কারণে বাধ্য হয়ে বারবার লোডশেডিং করতে হচ্ছে। জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, তিনি এখনো চিঠিটি হাতে পাননি। চিঠি পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।