শারীরিক স্বাস্থ্যের মতোই মানসিক স্বাস্থ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ, তবুও আমাদের অজান্তেই অনেক দৈনন্দিন অভ্যাস মানসিক সুস্থতার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও এসব অভ্যাস প্রায়ই নিরীহ বলে মনে হয়, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এগুলো মানসিক চাপ, উদ্বেগ, অবসাদ এবং আবেগগত ক্লান্তির কারণ হতে পারে।
‘ইন্ডিয়া টিভি’র এক প্রতিবেদনে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট অনুষ্কা মোদি এমন কিছু অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসের কথা বলেছেন যা মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে।সেই সাথে কীভাবে সার্বিকভাবে ভালো থাকা সে কথাও উল্লেখ করেছেন। যেমন-
সকালে স্ক্রল করা
ঘুম থেকে ওঠার সাথে সাথেই ফোন হাতে তুলে নিলে, দিন শুরু হওয়ার আগেই আপনার মস্তিষ্ক অতিরিক্ত উত্তেজিত হয়ে উঠতে পারে। অবিরাম নোটিফিকেশন, সোশ্যাল মিডিয়ার আপডেট এবং অপ্রয়োজনীয় খবর মানসিক জঞ্জাল তৈরি করতে পারে। স্ক্রিন ব্যবহার করার আগে অন্তত ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। শরীরচর্চা করুন, ডায়েরি লিখুন অথবা দিনের সূচনা উপভোগ করুন।
নিজের সবচেয়ে বড় সমালোচক হওয়া
যে অভ্যাসগুলো মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে তার মধ্যে অন্যতম হলো নিজের সাথে নেতিবাচক কথা বলা। ক্রমাগত নিজের সমালোচনা করলে আত্মবিশ্বাস কমে যেতে পারে, আত্ম-সন্দেহ বাড়তে পারে এবং আপনাকে মানসিকভাবে আটকে রাখতে পারে। নিজের সাথে কঠোরভাবে কথা বলার পরিবর্তে, ধৈর্য এবং সহানুভূতি দেখান। কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাওয়া কোনো ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে আপনি যেভাবে সমর্থন করতেন, নিজের সাথেও ঠিক সেভাবেই আচরণ করুন।
একসাথে একাধিক কাজ করা
অনেকে মনে করেন, একসাথে একাধিক কাজ করলে তারা বেশি কাজ করতে পারেন, কিন্তু প্রায়ই এর ফল হয় উল্টো। একসাথে একাধিক কাজ করলে আপনার মনোযোগ কমে যেতে, কর্মদক্ষতা হ্রাস পেতে এবং মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারে। একাগ্রতা এবং মানসিক স্বচ্ছতার জন্য একবারে একটি কাজে সম্পূর্ণ মনোযোগ দিন।
বিরতি না নেওয়া
বিরতি না নিয়ে একটানা কাজ করলে তা অবসাদ, উদ্বেগ এবং ক্রমাগত মানসিক ক্লান্তির কারণ হতে পারে। ব্যস্ত থাকলে নিজেকে সক্রিয় মনে হলেও, আপনার মস্তিষ্কেরও বিশ্রাম এবং শক্তি সঞ্চয়ের জন্য সময়ের প্রয়োজন। সারাদিন ধরে ছোট ছোট বিরতি নিলে তা শক্তি পুনরুদ্ধার করতে এবং মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
বাইরে না যাওয়া
সারাদিন ঘরের ভেতরে কাটালে উদ্বিগ্ন, অলস এবং বিচ্ছিন্ন বোধ করতে পারেন। কয়েক মিনিটের জন্য বাইরে গেলেও মন ভালো লাগবে। যখনই সম্ভব বাইরের আলো-বাতাস গায়ে লাগান। এতে আপনার মেজাজ ভালো থাকবে। মানসিক চাপও কমবে।
অভিযোগ করা
ক্রমাগত অভিযোগ করা নেতিবাচক চিন্তাগুলিতে আরও শক্তিশালী করে । সেই সঙ্গে প্রতিবন্ধকতা থেকে এগিয়ে যাওয়াকে আরও কঠিন করে তোলে। আপনার আবেগ চেপে রাখার বা বারবার সমস্যা নিয়ে ভাবার পরিবর্তে, মনের কথা প্রকাশ করুন। এক্ষেত্রে ডায়েরি লেখা, বিশ্বস্ত কোনো বন্ধুর সাথে কথা বলা বা একজন থেরাপিস্টের সাহায্য নেওয়া স্বাস্থ্যকর উপায় হতে পারে।
সব কিছুতে হ্যাঁ বলা
সবকিছুতে হ্যাঁ বলা সহায়ক বলে মনে হতে পারে, কিন্তু এই অভ্যাস মানুষকে মানসিকভাবে ক্লান্ত এবং ভারাক্রান্ত করে তোলে। অতিরিক্ত প্রতিশ্রুতি অপ্রয়োজনীয় চাপ এবং বিরক্তি তৈরি করতে পারে। মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে না বলতে শিখুন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বড় আয়োজনের একক কনসার্ট নিয়ে শ্রোতাদের সামনে হাজির হতে যাচ্ছেন দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও সুরকার বাপ্পা মজুমদার। ‘মুনলাইট মেলোডিজ’ নামের এই বিশেষ আয়োজন আগামী ৯ অক্টোবর রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনসার্টটির ঘোষণা দেন বাপ্পা মজুমদার। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানের পোস্টার প্রকাশ করে ভক্তদের তারিখটি মনে রাখার অনুরোধ জানান তিনি। কনসার্টটির আয়োজন করছে ম্যাভিক্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান। তবে অনুষ্ঠানের টিকিট বিক্রি এখনো শুরু হয়নি। আয়োজকদের পক্ষ থেকে শিগগিরই টিকিট বিক্রি শুরুর কথা জানা গেছে। তখনই টিকিটের মূল্য, বিক্রির পদ্ধতি ও অন্যান্য নিয়ম-শর্ত সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে। বাপ্পা মজুমদারের একক কনসার্টের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বেশ আগ্রহ। শিল্পীর ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যের ঘরে অনেক ভক্ত উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ ইতোমধ্যে কনসার্টে উপস্থিত থাকার কথাও জানিয়েছেন। বাংলা সংগীতাঙ্গনে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সক্রিয় বাপ্পা মজুমদার। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি যেমন অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন, তেমনি সুর ও সংগীতায়োজনের মাধ্যমেও নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন। একক কনসার্টের দিক থেকে অবশ্য তাকে নিয়মিত দেখা যায় না। ২০২২ সালে প্রথমবার বড় পরিসরে একক কনসার্ট করেন তিনি। এরপর ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে দ্বিতীয় একক শো আয়োজন করা হয়। গত বছরের জুলাইয়েও একটি একক পরিবেশনায় অংশ নেন বাপ্পা, যদিও সেটি ছিল তুলনামূলক ছোট পরিসরের আয়োজন। নতুন গান প্রকাশের পাশাপাশি বিভিন্ন কনসার্ট ও ইনস্ট্রুমেন্টাল সংগীতের মাধ্যমে এখনো শ্রোতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এই শিল্পী। ‘মুনলাইট মেলোডিজ’ তার ভক্তদের জন্য সেই ধারাবাহিকতায় আরেকটি বিশেষ আয়োজন হতে যাচ্ছে।
‘আলহামদুলিল্লাহ’ একটি ছোট্ট শব্দেই বদলে গেল উপস্থাপিকা ইসরাত পায়েলের জীবনের গল্প। এত দিন মঞ্চের আলোয় অন্যদের গল্প বললেও এবার নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় খবরটি নিজেই জানালেন তিনি। বিয়ের ছবি প্রকাশ করে জানালেন, পরিবারের সম্মতিতেই ব্যবসায়ী আল-আমিন চৌধুরীর সঙ্গে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিয়ের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন ইসরাত পায়েল। ছবিতে লাল জমকালো শাড়িতে স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হাসিমুখে দেখা যায় তাকে। ছবির সঙ্গে পায়েল লেখেন, ‘আসসালামু আলাইকুম। আলহামদুলিল্লাহ, পরিবারের সম্মতিতে আল-আমিন চৌধুরীর সাথে আমার বিয়ে হয়েছে।’
গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের হত্যার পেছনে থাকা সামরিক ব্যবস্থাকে অনুসন্ধান করা ইসরায়েলি তথ্যচিত্র ‘নাজা’ ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের পর ২৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের করতালি পেয়েছে। উৎসবের ইতিহাসে এটি অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী করতালির ঘটনা। ৮০ মিনিটের তথ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছেন ইসরায়েলি নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র্যাচেল সোর। দুজনই ২০২৫ সালে সেরা তথ্যচিত্র বিভাগে অস্কারজয়ী ‘নো আদার ল্যান্ড’-এর পরিচালক। ওই ছবিতে ফিলিস্তিনি সহপরিচালক বাসেল আদরা ও হামদান বাল্লালের সঙ্গে তারা অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ এবং ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার চিত্র তুলে ধরেছিলেন। ‘নাজা’ নির্মাণে প্রায় তিন বছর সময় নিয়েছেন আব্রাহাম ও সোর। এ সময় তারা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক ও বর্তমান সদস্যদের সাক্ষাৎকার নেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে সাক্ষাৎকারদাতাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তাদের মুখ ও কণ্ঠ ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে। সাক্ষাৎকারগুলোর বেশির ভাগই তেল আবিবের বিভিন্ন ছাদে রাতের আঁধারে ধারণ করা হয়। তথ্যচিত্রটির নামও ইসরায়েলি সামরিক ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। ‘নাজা’ ইসরায়েলি গোয়েন্দা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত একটি শব্দ, যা কোনো বিমান হামলায় সম্ভাব্য বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। ছবিতে সাক্ষাৎকার দেওয়া সামরিক কর্মকর্তারা গাজায় লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের পদ্ধতি এবং এআইনির্ভর প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে কথা বলেছেন। বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে ‘ল্যাভেন্ডার’ নামের একটি এআই-সহায়ক ব্যবস্থা। নির্মাতাদের দাবি, গাজায় নজরদারি করা টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক থেকে সংগৃহীত ফোনকল, মানুষের চলাচল এবং পারস্পরিক যোগাযোগের তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য হত্যার লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে ‘ল্যাভেন্ডার’ ব্যবহার করা হয়েছে। তথ্যচিত্রের এক সাক্ষাৎকারদাতা এই প্রক্রিয়াকে ‘কারখানার মতো’ বলে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিপুলসংখ্যক লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের ক্ষেত্রে এটি ছিল একটি পদ্ধতিগত ব্যবস্থা। আরেক সাক্ষাৎকারদাতা বলেন, দূর থেকে পুরো প্রক্রিয়া পরিচালিত হওয়ায় বিষয়টি তার কাছে অনেকটা ভিডিও গেমের মতো মনে হতো। সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়া কয়েকজন ইসরায়েলি সামরিক সদস্য বেসামরিক মানুষের বাড়িঘর ধ্বংস, মানবিক আইন উপেক্ষা এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি সামরিক বাহিনীর মধ্যে তৈরি হওয়া ঘৃণার পরিবেশ নিয়েও কথা বলেছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানতেন যে হামলার জন্য চিহ্নিত অনেক বাড়িতেই পরিবার বসবাস করত। নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম জানিয়েছেন, পশ্চিমা দেশগুলো ইসরায়েলকে দেওয়া সমর্থন পুনর্বিবেচনা করুক এবং নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপ নিয়ে চাপ সৃষ্টি করুক—এটাই তার প্রত্যাশা। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনে মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক সমাধানের পক্ষে কাজ করা ব্যক্তিদের অবস্থান শক্তিশালী করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি। আব্রাহাম ও সোর ‘+৯৭২ ম্যাগাজিন’-এ যৌথভাবে লিখেছেন, তাদের অনুসন্ধানে গাজায় ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষ হত্যাকে শুধু যুদ্ধের অনিচ্ছাকৃত বা দুঃখজনক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাদের তথ্যচিত্রের উপসংহার অনুযায়ী, এসব হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত ও হিসাব করে পরিচালিত কর্মকাণ্ডের অংশ ছিল। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে ‘নাজা’ শেষ মুহূর্তে যুক্ত হয়। জুলাইয়ে উৎসবের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশের প্রায় এক মাস পর ছবিটিকে প্রতিযোগিতায় নেওয়া হয়। নির্মাতারা জানিয়েছেন, প্রায় তিন বছর ধরে কাজ চলায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তারা ছবিটি সম্পন্ন করার চেষ্টা করছিলেন। ভেনিসে প্রদর্শনী শেষে আব্রাহাম ও সোরকে আবেগাপ্লুত দেখা যায়। দর্শকদের মধ্যেও ছিল তীব্র প্রতিক্রিয়া। কয়েকজন দর্শক ফিলিস্তিনি পতাকা তুলে ধরেন। ছবিটির নির্বাহী প্রযোজক ও অস্কারজয়ী নির্মাতা জোনাথন গ্লেজারও নির্মাতাদের পাশে দাঁড়িয়ে করতালিতে অংশ নেন। ‘দ্য জোন অব ইন্টারেস্ট’-এর প্রযোজক জেমস উইলসনের সঙ্গে গ্লেজার এই তথ্যচিত্রের প্রযোজনার সঙ্গেও যুক্ত। এর আগে ভেনিসে সবচেয়ে দীর্ঘ স্ট্যান্ডিং ওভেশনের রেকর্ড ছিল ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রজব’ ছবির দখলে। ২০২৫ সালে গাজাভিত্তিক ওই ছবির প্রদর্শনী শেষে নির্মাতা কাউথের বেন হানিয়া প্রায় ২২ থেকে ২৩ মিনিট করতালি পেয়েছিলেন। পরে ছবিটি উৎসবের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পুরস্কারও অর্জন করে। এবারের উৎসবে বেন হানিয়া বিচারকমণ্ডলীর সদস্য। এবারের ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতায় জায়গা পাওয়া একমাত্র তথ্যচিত্র ‘নাজা’। আগামীকাল শনিবার উৎসবের পুরস্কার ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে প্রায় ২৫ মিনিটের কাছাকাছি দর্শক অভ্যর্থনা ছবিটিকে এবারের উৎসবের আলোচিত চলচ্চিত্রগুলোর একটি করে তুলেছে। গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে নির্মিত ‘নাজা’তে যুদ্ধের প্রযুক্তি, এআইয়ের ব্যবহার এবং বেসামরিক মানুষের জীবনের ওপর এর প্রভাব অনুসন্ধান করা হয়েছে। ভেনিসে দীর্ঘস্থায়ী দর্শক প্রতিক্রিয়ার পর এসব বিষয় নিয়ে ছবিটির আলোচনা আরও বিস্তৃত হয়েছে।