জাতীয়

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ঢাকায় আসছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৭ সদস্য

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২২, ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় সংসদ সদস্যদের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। প্রতিনিধি দলে ৭ জন সদস্য (এমইপি বা ইউরোপীয় সংসদ সদস্য) অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। সূত্রমতে, এই ৭ জন এমইপি আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় পৌঁছাবেন এবং ইইউর মূল পর্যবেক্ষক মিশনের সহায়তায় নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন।


আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবার সবচেয়ে বড় পরিসরে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন মোতায়েন করেছে, যা ২০০৮ সালের পর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মিশন। এই মিশনের অংশ হিসেবে নির্বাচনের ঠিক আগে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশে আসছে। তারা ঢাকায় নির্বাচনের আগ মুহূর্তের পরিবেশ এবং নির্বাচনী পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

গেল ২৪-এর প্রেক্ষাপটে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। সরকারের পক্ষ থেকে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচনকে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইইউ এই রূপান্তরকে সমর্থন করছে এবং বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে এই মিশন মোতায়েন করেছে।

হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজা কালাসের সিদ্ধান্তে মিশনের প্রধান (প্রধান পর্যবেক্ষক) হিসেবে নিয়োগ পান লাতভিয়ার ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ইভার্স ইজাবস।


ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের কাঠামো:

মিশনের কোর টিমে রয়েছেন ১১ জন বিশ্লেষক, যারা ঢাকাভিত্তিক কাজ করছেন। এ ছাড়া গত ১৭ জানুয়ারি থেকে দেশের ৬৪ জেলায় মোতায়েন রয়েছেন ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক। তারা নির্বাচনী প্রস্তুতি, প্রচারণা, ভোটার তালিকা যাচাইসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। নির্বাচনের ঠিক আগে এক সপ্তাহের জন্য আরও ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক আসবেন, যারা ভোটগ্রহণের দিন সরাসরি মাঠে উপস্থিত থাকবেন।


ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৭ সদস্যের আগমন:

ইইউ ইলেকশন অবজারভেশন মিশনের অংশ হিসেবে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এই প্রতিনিধি দল নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে আসবে। তারা ভোটগ্রহণ, ভোট গণনা এবং ফলাফল সংকলন প্রক্রিয়া সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবেন। ঢাকায় অবস্থানকালে তারা প্রধান উপদেষ্টা, নির্বাচন কমিশনার, পররাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

তারা প্রচারণার স্বাধীনতা, ভোটার দমনের অভিযোগ, মানবাধিকার পরিস্থিতিসহ নির্বাচনী পরিবেশের নানা দিক মূল্যায়ন করবেন। নির্বাচন শেষে প্রাথমিক প্রতিবেদনে অবদান রাখবেন এবং পরে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সুপারিশ প্রদান করবেন, যা নির্বাচন-পরবর্তী কয়েক মাসের মধ্যে প্রকাশিত হবে।


বাংলাদেশের নির্বাচন ঘিরে ইইউর প্রত্যাশা:

ইইউ চায় আসন্ন নির্বাচন স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য হোক। তারা ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ, উল্লেখযোগ্য ভোটার উপস্থিতি এবং জনগণের আস্থা ফিরে আসা দেখতে চায়। ইইউর মতে নির্বাচন হতে হবে শান্তিপূর্ণ, সহিংসতা ও ভোটার দমনমুক্ত এবং প্রচারণায় সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।


ইইউ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ—ভোটার তালিকা যাচাই, প্রার্থী নিবন্ধন, প্রচারণা, ভোটগ্রহণ, গণনা ও ফলাফল ঘোষণা—আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে সম্পন্ন হওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে। পাশাপাশি নারী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু, নৃগোষ্ঠী ও আঞ্চলিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

ইইউ এই নির্বাচনকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, আইনের শাসন ও মানবাধিকার শক্তিশালী করার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে দেখছে। প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস জানিয়েছেন, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জনগণের আস্থা অর্জন করা। তাদের লক্ষ্য নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করা।


সরকারের মূল্যায়ন:

সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, ২০০৮ সালের পর প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠানোয় নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে। এতে ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে, রাজনৈতিক দলগুলো সংযত আচরণে উৎসাহিত হবে এবং সহিংসতার ঝুঁকি কমবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, বাণিজ্য—বিশেষ করে ইইউর সঙ্গে—এবং সহযোগিতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।


আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে ইইউর অবস্থান:

গেল ২৪-এর প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটি আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। এ বিষয়ে ইইউ প্রকাশ্যে সরাসরি মন্তব্য না করে নীরব অবস্থান নিয়েছে। প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস এটিকে একটি জটিল রাজনৈতিক বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, জাতীয় পুনর্মিলন ও ট্রানজিশনাল জাস্টিসের মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে সরাসরি মন্তব্য করা তাদের কাজ নয়।

তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি যদি নির্বাচনের অংশগ্রহণমূলকতা বা ভোটার টার্নআউটে প্রভাব ফেলে, তাহলে ইইউ মিশন তা পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদনে উল্লেখ করবে। রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বা নিষিদ্ধকরণের বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ না করে ইইউ মূলত নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর এর প্রভাব মূল্যায়ন করবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
৬ হাজার ৪৬৫ জন অমুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিলের সুপারিশ জামুকার

২০১০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৬৫ জন অমুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল করার সুপারিশ করেছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)।   মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়।   বৈঠকে জানানো হয়, ২০১০ সালে জামুকা গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত ১৮ হাজার ৪১৭ জনকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৭৬৮ জন শহীদ, ১৯৮ জন যুদ্ধাহত, ৫২৯ জন বীরাঙ্গনা এবং ১৬ হাজার ৯২২ জন সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা।   জামুকার কার্যক্রম সম্পর্কে বৈঠকে আরো জানানো হয়, বীরাঙ্গনা হিসেবে অন্তর্ভুক্তির জন্য ২২২টি আবেদন বর্তমানে অপেক্ষমাণ রয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী সময়ে গঠিত উপকমিটির যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সুপারিশ পাওয়া ১০৪ জন মুক্তিযোদ্ধার গেজেটভুক্তিও অপেক্ষমাণ।   এ ছাড়া ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে করা ২০২টি আবেদন শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে।   সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, জামুকা, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তরের কার্যক্রম সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করা হয়।   কমিটির সভাপতি মনিরুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, ফজলুর রহমান, আব্দুল হান্নান, আমীর এজাজ খান ও রোকেয়া বেগম উপস্থিত ছিলেন।   এদিকে জামায়াতের অনুরোধে কমিটির সদস্য ও জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।   তাঁকে সংসদীয় কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার জন্য জামায়াতের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলেও সূত্রটি বলছে। আগামী ২৭ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে জানা গেছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ দ্রুত শেষ করতে সচিবের বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত

সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ভোটাধিকার প্রয়োগে কড়াকড়ি

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য বাড়াতে দুটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব

ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন : সিইসির সহায়তায় ইসির ২০ কর্মকর্তা নিয়োগ

আগামী ২০ আগস্ট গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নির্বাচনী কর্তা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সহায়ক কর্মকর্তা হিসেবে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদসহ ২০ জন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।       ইসির উপ-সচিব উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।       এতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ২০২৬ আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠানের জন্য ৬ আগস্ট সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এই নির্বাচনে নির্বাচনী কর্তা হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার দায়িত্ব পালন করবেন। উক্ত নির্বাচন পরিচালনায় নির্বাচনী কর্তাকে দাপ্তরিক সহায়তা প্রদানসহ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত ভোটগ্রহণের দিনে অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট দুপুর ২টায় ঢাকার শেরেবাংলানগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে দায়িত্ব পালনের জন্য ২০ কর্মকর্তাকে নিয়োগ করা হলো।       অফিস আদেশ অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ, যুগ্ম সচিব মো. মঈন উদ্দীন খান, উপসচিব রাশেদুল ইসলাম, পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম, উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন, উপসচিব মুনীর হোসাইন খান, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আশ্রাফুল আলম, সিনিয়র সচিবের একান্ত সচিব মো. মোখলেছুর রহমান, সিনিয়র সহকারী সচিব এ টি এম শামীম মাহমুদ, সিনিয়র সহকারী সচিব সৈয়দ আফজাল আহাম্মেদ, সিনিয়র সহকারী সচিব মো. রশিদ মিয়া, একান্ত সচিব এ এস এম জাকির হোসেন, একান্ত সচিব এস এম হাবিবুর রহমান, সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী, সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম, একান্ত সচিব মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, সিনিয়র সহকারী সচিব আসমা দিলারা জান্নাত, একান্ত সচিব রৌশন আরা বেগম, সিনিয়র সহকারী সচিব আরাফাত আরা ও সিনিয়র সহকারী সচিব এ এস এম ইকবাল হাসান।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি সফরের নিমন্ত্রণ পেলেন প্রধানমন্ত্রী, থমকে আছে ভারত সফর

শেখ হাসিনার সরকার চুক্তি করেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বারোটা বাজিয়েছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

এমপিও শিক্ষকদের বদলি নিয়ে মাউশির নতুন বিজ্ঞপ্তি

ছবি: সংগৃহীত
গুম প্রতিরোধ আইনের খসড়া নিয়ে প্রশ্ন, স্বাধীন তদন্তের দাবি বক্তাদের

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত প্রস্তাবিত আইন নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীরা। তারা বলেছেন, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গুমের অভিযোগের কার্যকর তদন্ত নিশ্চিত করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধ করতে হবে।   মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত ‘জাতীয় মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধ খসড়া আইন, ২০২৬: আইনি পর্যালোচনা ও করণীয় নির্ধারণ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গুমসংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারির সাবেক সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস।   বক্তারা বলেন, গুমের অভিযোগের তদন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিবর্তে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কোনো প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানটির কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলেও তারা মত দেন।   এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, আগের সরকারের সময় গুমের ঘটনায় অনেক মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। কেউ ফিরে এসে তাদের আটকে রাখার বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন, আবার অনেকে আর ফিরে আসেননি। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার এখনো যথাযথ বিচার পায়নি।   তিনি অভিযোগ করেন, প্রস্তাবিত মানবাধিকার কমিশন আইনে কমিশনের তদন্ত ক্ষমতা সীমিত করার সুযোগ রাখা হয়েছে। কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বাহিনীর তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করতে হলে কমিশনের স্বাধীনভাবে কাজ করা কঠিন হবে। পাশাপাশি কমিশনের নেতৃত্বে নিয়োগের ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক প্রভাবের সুযোগ থাকা উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।   গুম প্রতিরোধ আইনের খসড়া প্রসঙ্গে আখতার হোসেন বলেন, যেসব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ উঠতে পারে, তাদেরই তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হলে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হবে। এতে প্রকৃত ঘটনা আড়াল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   মানবাধিকারকর্মী ও আলোকচিত্রী শহীদুল আলম বলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। দেশের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্র পরিচালনায় নিরাপত্তা বাহিনীর প্রভাবের পরিবর্তে জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।   রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, কার্যকর রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে জাতীয় পর্যায়ে ঐকমত্য ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব প্রয়োজন। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ড ও রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতি নিয়েও সমালোচনা করেন।   সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ও সংবিধান সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ড. শরীফ ভূঁইয়া বলেন, মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ আইন সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে। তবে এ জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দলীয়করণ বন্ধ করতে হবে এবং নিয়োগের পরও সরকারের হস্তক্ষেপের সুযোগ রাখা যাবে না।   বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ব্যারিস্টার তানিম হোসেন শাওন বলেন, গুমের ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব পুলিশকে দেওয়া হলে প্রস্তাবিত আইনের মূল উদ্দেশ্যই দুর্বল হয়ে পড়বে। তার মতে, গুমের অভিযোগ তদন্তে একটি স্বাধীন কমিশনের ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।   গোলটেবিল বৈঠকে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া ফুয়াদ, গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুর, এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির উপপ্রধান সারোয়ার তুষারসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন।   বক্তারা মানবাধিকার রক্ষায় স্বাধীন প্রতিষ্ঠান গঠন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং গুমের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।   গোলটেবিল বৈঠক সঞ্চালনা করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক অ্যাডভোকেট আরমান হোসাইন।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক আরও ইতিবাচক রাখতে চায় ভারত: জয়সওয়াল

গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম

রোহিঙ্গা ফেরাতে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াচ্ছে সরকার

0 Comments