বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, নিজেদেরকে সমৃদ্ধ করার জন্য ও নিজেদের চিন্তা চেতনাকে শাণিত করার জন্য মারুফ কামাল খানের ‘রাজনীতির সদরে-অন্দরে’ বইটি প্রত্যেকেরই পড়া উচিত। আমার ধারণা এই বইটি কালোত্তীর্ণ হবে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি সাংবাদিক মারুফ কামাল খান রচিত ‘রাজনীতির সদরে-অন্দরে’র মোড়ক উন্মোচনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এই আয়োজন।
প্রকাশনা সংস্থা সূচিপত্রের প্রধান নির্বাহী সাঈদ বারীর সভাপতিত্বে প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন ও সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
বইটি নিয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাঈদ, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, প্রকাশনা সংস্থা আবিষ্কারের স্বত্তাধিকারী দেলোয়ার হাসান প্রমুখ।
এ সময় নজরুল ইসলাম খান বলেন, এই বইটি একবার পড়েছি, আরও একবার পড়বো। এই বইটা না পড়া পর্যন্ত রাজনীতির অন্দরের অনেক কিছুই জানা যাবে না। এ দেশের রাজনীতিতে যারা নন্দিত তাদের জন্য কথা বলার অনেক লোক আছে, কিন্তু যারা নিন্দিত তাদের কথা বলার লোক নেই। মারুফ কামাল খান তার বইতে জীবনের ও রাজনীতির কিছু ভালো দিক তুলে ধরেছেন। তার লেখনীতে মারুফ কামাল খান বুঝিয়েছেন তিনি সাধারণ নয় অসাধারণ। যাদেরকে ভুলে যাওয়া হয়েছিল বা যাদেরকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল মারুফ কামাল খান তার এই বইতে তাদেরকে তুলে ধরেছেন। এই বইয়ের প্রতিটি অধ্যায় আপনাকে ভাবতে শেখাবে। এই বইটি ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘রাজনীতির সদরে-অন্দরে’ বইটিতে মারুফ কামাল খান তার স্মৃতি ও সত্য ঘটনাগুলো যেভাবে শৈল্পিকভাবে তুলে ধরেছেন তা থেকে জ্ঞান আহরণ করা নির্ভর করবে পাঠকের শ্রেণীভেদের উপর। ইতিহাসের পন্ডিতরা যেভাবে বুঝবেন ইতিহাসের স্বল্পজ্ঞানীরা বইটি ঠিক তেমনভাবেই বুঝবেন। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রবাহমান ধারা যেভাবে আবর্তিত হয়েছে সেই বিষয়গুলোও এই বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে। মানবজগতের বিচিত্র চরিত্রগুলো সামনে নিয়ে এসেছেন। তা কখনো কখনো সুকুমার বৃত্তি ও কখনো কখনো এর বিপরীত।
সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, আমরা এখন বইয়ের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি। বই পড়ার অভাবে আমাদের মানসিকতা নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা ভয়ংকর অন্ধকার যুগে ধাবিত হচ্ছি৷ অন্ধকার যুগ থেকে আলোর পথে ধাবিত হওয়ার জন্য বই পড়া জরুরি। মারুফ কামাল খানের এই বইটি আমাদের রাজনীতির অঙ্গনে নতুনমাত্রা যোগ করবে বলেই আমি মনে করি। জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের মাধ্যমে বইটি সারাদেশের সকল লাইব্রেরিতে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এসময় মন্ত্রী মঞ্চে উপস্থিত জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগমকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
সালেহ শিবলী বলেন, ইতিহাসের চলমান চিত্র ফুটে উঠেছে বইটিতে। এই বই পড়লে আমাদের রাজনৈতিক মনোজগতে বিরাট পরিবর্তন আসবে বলে আমি মনে করি।
সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাঈদ বলেন, জ্ঞান ও মেধা, মননের চর্চা না হয়, লেখার স্বাধীনতা না থাকে তাহলে আমরা এগিয়ে যেতে পারবো না। যে সংবিধান বাহাত্তর সালে রচনা করেছিলাম সেই সংবিধান ছুঁড়ে ফেলার কথা যখন বলা হয় তখন সেটা মানতে খুবই কষ্ট হয়। আমরা এখনো ‘আমিত্ব’ শব্দে আটকে আছি। আমিত্বর সঙ্গে থাকে গর্ব, অহংকার ও দম্ভ। ‘আমিত্ব’ থেকে বের হয়ে যেদিন ‘আমরা’য় ফিরে আসতে পারবো সেদিনই আমাদের সফলতা আসবে।
আফসানা বেগম বলেন, মারুফ কামাল খান সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন, তার রাজনীতির উত্থান পতন দেখেছেন। এই বইটি পড়ে আমরা রাজনীতির অনেক বিষয় জানতে পারবো এবং সমৃদ্ধ হতে পারবো বলে আশা করছি।
দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার বলেন, মারুফ কামাল খানের অবজারভেশন সাংবাদিকতার অবজারভেশন। দেশনেত্রীর সঙ্গে মারুফ কামাল খানের যেই বিস্তর অভিজ্ঞতা এটা খুব কম মানুষেরই আছে। তিনি দেশনেত্রীকে যতটা কাছ থেকে দেখেছেন এবং তার সম্পর্কে জেনেছেন এরকম সৌভাগ্য খুব মানুষেরই হয়েছে। আর এই বইতে তার রাজনীতির বহুমুখী অভিজ্ঞতা স্থান পেয়েছে। আমরা যতবার সোশ্যাল ইতিহাস ও রাজনীতির কথা বলতে যাব ততবারই মারুফ কামাল খানের এই বইটা আমাদের কাজে লাগবে। মারুফ কামাল খান অসাধারণ লেখনী দিয়ে বইটিকে উপভোগ্য করে তুলেছেন।
কাদের গণি চৌধুরী বলেন, ‘লেখা যে এত দারুণভাবে টানে মারুফ কামাল খানের এই বইটি না পড়লে আমি বুঝতাম না। বাংলাদেশের রাজনীতির ভেতরের ও বাইরের নানা আকর্ষণীয় তথ্য এই বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে। সাএবক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার একটি বিবৃতি দিয়েই এই বইটির প্রথম লেখা। শেখ হাসিনাকে যখন গ্রেফতার করা হয় তখন আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন একটা কড়া বিবৃতি দিয়ে দাও। তখন এই বিবৃতি দেওয়া হয়। সেদিন শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারের পর প্রথম প্রতিবাদ করেছিলো বেগম খালেদা জিয়া। আর সেই বিবৃতিই এই বইতে সবার আগে স্থান পেয়েছে। সভ্যতা শিখতে হলে বেগম খালেদা জিয়ার কাছে শিখতে হবে, সভ্যতা শিখতে হলে তারেক রহমানের কাছে শিখতে হবে।’
অনুভূতি প্রকাশে লেখক মারুফ কামাল খান বলেন, আপনারা বিচারক আমি পাঠকের কাঠগড়ায়। আমি অভিভূত ও উচ্ছসিত। আপনাদের এই ভালোবাসা অব্যাহত থাকলে আমি ভবিষ্যতে আরো লেখার অনুপ্রেরণা পাব।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, নিজেদেরকে সমৃদ্ধ করার জন্য ও নিজেদের চিন্তা চেতনাকে শাণিত করার জন্য মারুফ কামাল খানের ‘রাজনীতির সদরে-অন্দরে’ বইটি প্রত্যেকেরই পড়া উচিত। আমার ধারণা এই বইটি কালোত্তীর্ণ হবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি সাংবাদিক মারুফ কামাল খান রচিত ‘রাজনীতির সদরে-অন্দরে’র মোড়ক উন্মোচনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এই আয়োজন। প্রকাশনা সংস্থা সূচিপত্রের প্রধান নির্বাহী সাঈদ বারীর সভাপতিত্বে প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন ও সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বইটি নিয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাঈদ, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, প্রকাশনা সংস্থা আবিষ্কারের স্বত্তাধিকারী দেলোয়ার হাসান প্রমুখ। এ সময় নজরুল ইসলাম খান বলেন, এই বইটি একবার পড়েছি, আরও একবার পড়বো। এই বইটা না পড়া পর্যন্ত রাজনীতির অন্দরের অনেক কিছুই জানা যাবে না। এ দেশের রাজনীতিতে যারা নন্দিত তাদের জন্য কথা বলার অনেক লোক আছে, কিন্তু যারা নিন্দিত তাদের কথা বলার লোক নেই। মারুফ কামাল খান তার বইতে জীবনের ও রাজনীতির কিছু ভালো দিক তুলে ধরেছেন। তার লেখনীতে মারুফ কামাল খান বুঝিয়েছেন তিনি সাধারণ নয় অসাধারণ। যাদেরকে ভুলে যাওয়া হয়েছিল বা যাদেরকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল মারুফ কামাল খান তার এই বইতে তাদেরকে তুলে ধরেছেন। এই বইয়ের প্রতিটি অধ্যায় আপনাকে ভাবতে শেখাবে। এই বইটি ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে। বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘রাজনীতির সদরে-অন্দরে’ বইটিতে মারুফ কামাল খান তার স্মৃতি ও সত্য ঘটনাগুলো যেভাবে শৈল্পিকভাবে তুলে ধরেছেন তা থেকে জ্ঞান আহরণ করা নির্ভর করবে পাঠকের শ্রেণীভেদের উপর। ইতিহাসের পন্ডিতরা যেভাবে বুঝবেন ইতিহাসের স্বল্পজ্ঞানীরা বইটি ঠিক তেমনভাবেই বুঝবেন। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রবাহমান ধারা যেভাবে আবর্তিত হয়েছে সেই বিষয়গুলোও এই বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে। মানবজগতের বিচিত্র চরিত্রগুলো সামনে নিয়ে এসেছেন। তা কখনো কখনো সুকুমার বৃত্তি ও কখনো কখনো এর বিপরীত। সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, আমরা এখন বইয়ের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি। বই পড়ার অভাবে আমাদের মানসিকতা নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা ভয়ংকর অন্ধকার যুগে ধাবিত হচ্ছি৷ অন্ধকার যুগ থেকে আলোর পথে ধাবিত হওয়ার জন্য বই পড়া জরুরি। মারুফ কামাল খানের এই বইটি আমাদের রাজনীতির অঙ্গনে নতুনমাত্রা যোগ করবে বলেই আমি মনে করি। জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের মাধ্যমে বইটি সারাদেশের সকল লাইব্রেরিতে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এসময় মন্ত্রী মঞ্চে উপস্থিত জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগমকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। সালেহ শিবলী বলেন, ইতিহাসের চলমান চিত্র ফুটে উঠেছে বইটিতে। এই বই পড়লে আমাদের রাজনৈতিক মনোজগতে বিরাট পরিবর্তন আসবে বলে আমি মনে করি। সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাঈদ বলেন, জ্ঞান ও মেধা, মননের চর্চা না হয়, লেখার স্বাধীনতা না থাকে তাহলে আমরা এগিয়ে যেতে পারবো না। যে সংবিধান বাহাত্তর সালে রচনা করেছিলাম সেই সংবিধান ছুঁড়ে ফেলার কথা যখন বলা হয় তখন সেটা মানতে খুবই কষ্ট হয়। আমরা এখনো ‘আমিত্ব’ শব্দে আটকে আছি। আমিত্বর সঙ্গে থাকে গর্ব, অহংকার ও দম্ভ। ‘আমিত্ব’ থেকে বের হয়ে যেদিন ‘আমরা’য় ফিরে আসতে পারবো সেদিনই আমাদের সফলতা আসবে। আফসানা বেগম বলেন, মারুফ কামাল খান সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন, তার রাজনীতির উত্থান পতন দেখেছেন। এই বইটি পড়ে আমরা রাজনীতির অনেক বিষয় জানতে পারবো এবং সমৃদ্ধ হতে পারবো বলে আশা করছি। দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার বলেন, মারুফ কামাল খানের অবজারভেশন সাংবাদিকতার অবজারভেশন। দেশনেত্রীর সঙ্গে মারুফ কামাল খানের যেই বিস্তর অভিজ্ঞতা এটা খুব কম মানুষেরই আছে। তিনি দেশনেত্রীকে যতটা কাছ থেকে দেখেছেন এবং তার সম্পর্কে জেনেছেন এরকম সৌভাগ্য খুব মানুষেরই হয়েছে। আর এই বইতে তার রাজনীতির বহুমুখী অভিজ্ঞতা স্থান পেয়েছে। আমরা যতবার সোশ্যাল ইতিহাস ও রাজনীতির কথা বলতে যাব ততবারই মারুফ কামাল খানের এই বইটা আমাদের কাজে লাগবে। মারুফ কামাল খান অসাধারণ লেখনী দিয়ে বইটিকে উপভোগ্য করে তুলেছেন। কাদের গণি চৌধুরী বলেন, ‘লেখা যে এত দারুণভাবে টানে মারুফ কামাল খানের এই বইটি না পড়লে আমি বুঝতাম না। বাংলাদেশের রাজনীতির ভেতরের ও বাইরের নানা আকর্ষণীয় তথ্য এই বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে। সাএবক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার একটি বিবৃতি দিয়েই এই বইটির প্রথম লেখা। শেখ হাসিনাকে যখন গ্রেফতার করা হয় তখন আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন একটা কড়া বিবৃতি দিয়ে দাও। তখন এই বিবৃতি দেওয়া হয়। সেদিন শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারের পর প্রথম প্রতিবাদ করেছিলো বেগম খালেদা জিয়া। আর সেই বিবৃতিই এই বইতে সবার আগে স্থান পেয়েছে। সভ্যতা শিখতে হলে বেগম খালেদা জিয়ার কাছে শিখতে হবে, সভ্যতা শিখতে হলে তারেক রহমানের কাছে শিখতে হবে।’ অনুভূতি প্রকাশে লেখক মারুফ কামাল খান বলেন, আপনারা বিচারক আমি পাঠকের কাঠগড়ায়। আমি অভিভূত ও উচ্ছসিত। আপনাদের এই ভালোবাসা অব্যাহত থাকলে আমি ভবিষ্যতে আরো লেখার অনুপ্রেরণা পাব।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখল বাংলাদেশের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আলী’। ভারতের ব্যাঙ্গালুরু আন্তর্জাতিক শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের (বিআইএসএফএফ) ১৬তম আসরে ‘এশিয়ান আই কম্পিটিশন’ বিভাগে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেয়েছে আদনান আল রাজীব পরিচালিত সিনেমাটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টের মাধ্যমে এ সুখবর জানান ‘আলী’র প্রযোজক তানভীর হোসেন। তিনি উৎসবের ‘এশিয়ান আই প্রতিযোগিতা’ বিভাগে চলচ্চিত্রটির বিজয়ী হওয়ার খবর জানিয়ে উৎসব কর্তৃপক্ষ, জুরি সদস্য হরিশ মাল্যা, রজত গোস্বামী ও সেন্থিল কুমারসহ পুরো টিম এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রযোজকের পোস্টের মন্তব্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন নির্মাতা আদনান আল রাজীবও। ‘আলী’ চলচ্চিত্রের গল্প উপকূলীয় অঞ্চলের এক কিশোরকে ঘিরে। সমাজে প্রচলিত লিঙ্গবৈষম্য ও নানা সাংস্কৃতিক নিষেধাজ্ঞার বাধা পেরিয়ে সংগীতের জগতে নিজের পরিচয় তৈরি করতে চায় সে। ব্যক্তিস্বাধীনতা ও প্রচলিত সামাজিক রীতির বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর এই গল্পে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন আল-আমিন। এর আগে ২০২৫ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবের শর্ট ফিল্ম বিভাগে স্পেশাল মেনশন অর্জন করে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে আলোচনায় আসে ‘আলী’। এবার ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা চলচ্চিত্রের স্বীকৃতি পাওয়ায় বাংলাদেশের স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য এটি নতুন এক অর্জন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
‘টক্সিক’ ছবির ঝলক প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই আলোচনায় কিয়ারা আডবাণী ও যশের রসায়ন। ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের জন্য সমালোচিতও হয়েছেন কিয়ারা। সেই প্রসঙ্গে আগেই জবাব দিয়েছিলেন যশ। এবার ছবিতে একাধিক যৌনদৃশ্য নিয়ে মুখ খুললেন দক্ষিণী তারকা। ‘টক্সিক’ ছবিতে শুধু কিয়ারার সঙ্গেই নয়। তারা সুতারিয়ার সঙ্গেও বেশ কিছু ঘনিষ্ঠ দৃশ্য রয়েছে যশের। একটি দৃশ্যে যশকে নগ্নও দেখা গেছে। তবে অভিনেতার বক্তব্য, ছবিতে যৌন দৃশ্য থাকলেও কোনও অশালীনতা নেই। তিনি বলেন, অশালীনতা মোটেই সমর্থনযোগ্য নয়। আপনারা ভালো করে দেখলে বুঝবেন, আমি তো চুম্বন করিনি। সব কিছুরই একটা সীমা আছে, আমরা সেটা বুঝি। যৌনতার দৃশ্য কীভাবে ক্যামেরাবন্দি করা হবে, সেই বিষয়েও কথা বলেন যশ। তার কথায়, বিষয়গুলি সুন্দর ভাবে ক্যামেরাবন্দি করতে হয়। এই ছবিটি আসলে নতুন প্রজন্মের দর্শকের জন্য। উদার মন নিয়ে ছবিটি দেখার কথাও বলেন তিনি। সেই সঙ্গে স্পষ্ট করে দেন, এই ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে দেখলেই সবচেয়ে ভালো স্বাদ উপভোগ করা যাবে। ‘টক্সিক’ ছবিতে ‘তবাহী’ নামে একটি গানে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে দেখা গিয়েছে যশ ও কিয়ারাকে। সেই গানের ভিডিও মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই বিতর্কে কিয়ারা। অনেকে বলেছেন, সন্তানের মা হয়ে কীভাবে এমন দৃশ্যে অভিনয় করতে পারলেন! এই বিষয়টিতে নায়িকার পাশে দাঁড়িয়েছেন যশ। ছবির ঝলক-মুক্তি অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে যশ জানান, ঝলকে দর্শক কিয়ারার চরিত্রের খুব সামান্য অংশই দেখেছেন। ছবিতে অভিনেত্রীর কাজ আরও অনেক বেশি নজর কাড়বে। কিয়ারার নিষ্ঠা ও পরিশ্রমেরও প্রশংসা করেন তিনি। যশ বলেন, একজন অভিনেতা হিসেবে অনেক সময় নানা ধরনের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। কিন্তু সেগুলো নিয়ে ভাবার প্রয়োজন নেই। নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী কাজ করে যেতে হবে। মানুষ শেষ পর্যন্ত সেই কাজেরই প্রশংসা করবে। হয়তো আমরা সময়ের থেকে একটু এগিয়ে আছি।