জাতীয়

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ দ্রুত শেষ করতে সচিবের বৈঠক

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের গতি ত্বরান্বিত করার বিষয়ে সেতু সচিবের সাথে বৈঠকে করেছেন প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি চায়না রেলওয়ে ব্যুরো গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেডের (সিআরসিসি) উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।

 

 

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বৈঠকে সিআরসিসি-এর চেয়ারম্যান মি. ইউ ইয়ানকুন (Mr. Wu Yankun) প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্ব দেন।

 

 

বৈঠকে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক জনাব মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, বর্তমান সরকারের হাত ধরে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক রূপান্তর ঘটছে। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা, সুদৃঢ় সংকল্প, দ্বিতীয় আরডিপিপি অনুমোদন ও সার্বক্ষণিক নিবিড় নজরদারির ফলেই ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো মেগা প্রকল্প বাস্তবতার মুখ দেখছে। একইসঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের সামগ্রিক যোগাযোগ অবকাঠামো নতুন এক উচ্চতায় উন্নীত হয়েছে।

 

 

সেতু সচিব আরও বলেন, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে রাজধানী ঢাকার সাথে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হবে। সাভার, আশুলিয়া ও ঢাকা-ইপিজেড এলাকার সংযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটবে। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর সাথে ঢাকার নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্প্রসারিত হবে, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে।

 

 

সিআরসিসি-এর চেয়ারম্যান মি. ইউ ইয়ানকুন (Mr. Wu Yankun) বাংলাদেশ সরকার, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং সেতু বিভাগকে সার্বিক সহযোগিতার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি আন্তর্জাতিক মানের প্রকৌশল প্রযুক্তি ও সর্বোচ্চ দক্ষতা প্রয়োগ এবং জনবল, যন্ত্রপাতি ও মালামাল সরবরাহ বৃদ্ধি করে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রকল্পটি সফলভাবে সম্পন্ন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

 

 

বৈঠকে নির্মাণাধীন এলাকায় চলাচলকারী সাধারণ জনগণের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে পর্যাপ্ত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, সাইনবোর্ড এবং উন্নত নিরাপত্তাবেষ্টনী নিশ্চিতের বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন। এ ছাড়া প্রকল্পের কাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালককে নির্দেশনা দেন সেতু বিভাগের সচিব।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ দ্রুত শেষ করতে সচিবের বৈঠক

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের গতি ত্বরান্বিত করার বিষয়ে সেতু সচিবের সাথে বৈঠকে করেছেন প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি চায়না রেলওয়ে ব্যুরো গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেডের (সিআরসিসি) উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।     মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বৈঠকে সিআরসিসি-এর চেয়ারম্যান মি. ইউ ইয়ানকুন (Mr. Wu Yankun) প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্ব দেন।     বৈঠকে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক জনাব মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, বর্তমান সরকারের হাত ধরে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক রূপান্তর ঘটছে। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা, সুদৃঢ় সংকল্প, দ্বিতীয় আরডিপিপি অনুমোদন ও সার্বক্ষণিক নিবিড় নজরদারির ফলেই ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো মেগা প্রকল্প বাস্তবতার মুখ দেখছে। একইসঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের সামগ্রিক যোগাযোগ অবকাঠামো নতুন এক উচ্চতায় উন্নীত হয়েছে।     সেতু সচিব আরও বলেন, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে রাজধানী ঢাকার সাথে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হবে। সাভার, আশুলিয়া ও ঢাকা-ইপিজেড এলাকার সংযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটবে। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর সাথে ঢাকার নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্প্রসারিত হবে, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে।     সিআরসিসি-এর চেয়ারম্যান মি. ইউ ইয়ানকুন (Mr. Wu Yankun) বাংলাদেশ সরকার, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং সেতু বিভাগকে সার্বিক সহযোগিতার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি আন্তর্জাতিক মানের প্রকৌশল প্রযুক্তি ও সর্বোচ্চ দক্ষতা প্রয়োগ এবং জনবল, যন্ত্রপাতি ও মালামাল সরবরাহ বৃদ্ধি করে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রকল্পটি সফলভাবে সম্পন্ন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।     বৈঠকে নির্মাণাধীন এলাকায় চলাচলকারী সাধারণ জনগণের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে পর্যাপ্ত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, সাইনবোর্ড এবং উন্নত নিরাপত্তাবেষ্টনী নিশ্চিতের বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন। এ ছাড়া প্রকল্পের কাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালককে নির্দেশনা দেন সেতু বিভাগের সচিব।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ভোটাধিকার প্রয়োগে কড়াকড়ি

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য বাড়াতে দুটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব

ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন : সিইসির সহায়তায় ইসির ২০ কর্মকর্তা নিয়োগ

ছবি: সংগৃহীত
সৌদি সফরের নিমন্ত্রণ পেলেন প্রধানমন্ত্রী, থমকে আছে ভারত সফর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ।     প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানান।       তিনি বলেন, সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফের এইচ. বিন আবিয়াহ আমন্ত্রণপত্রটি তুলে দেন।     এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে যোগ দেবেন নাকি দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারতে যাবেন তা নিয়ে বেশকিছু দিন ধরে আলোচনা চলছে। তবে তার ভারত সফর এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।       প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের জন্য ভারতকে অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রোববার (১৬ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম বলেছেন, আমরা মনে করি, সফরটির জন্য (ভারতকে) একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে।       তিনি জানান, ভারতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি দ্বিপাক্ষিক সফরের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরেই বাংলাদেশ এবং ভারতের কর্মকর্তারা আলোচনা করছেন।     তিনি বলেন, ৫ আগস্ট ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের কারণে প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে এই আলোচনার প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আমরা এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি। ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে শেখ হাসিনা ও অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের প্রত্যর্পণের অনুরোধের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে এবং দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি মেনে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৮, ২০২৬

শেখ হাসিনার সরকার চুক্তি করেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বারোটা বাজিয়েছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

এমপিও শিক্ষকদের বদলি নিয়ে মাউশির নতুন বিজ্ঞপ্তি

ছবি: সংগৃহীত

গুম প্রতিরোধ আইনের খসড়া নিয়ে প্রশ্ন, স্বাধীন তদন্তের দাবি বক্তাদের

ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক আরও ইতিবাচক রাখতে চায় ভারত: জয়সওয়াল

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত গঠনমূলক ও ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।   মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।   বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহের অনুরোধের বিষয়ে জয়সওয়াল বলেন, বিষয়টি ভারত ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে। তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ডিজেল সরবরাহ চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।   অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের অনুরোধের বিষয়ে তিনি বলেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা, পরিশোধন সক্ষমতা এবং সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়গুলো বিবেচনা করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।   এদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে জানতে চাইলে জয়সওয়াল বলেন, এ মুহূর্তে নতুন কোনো তথ্য জানানোর মতো নেই। নতুন কোনো অগ্রগতি হলে তা জানানো হবে। তবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের জন্য আগেই উষ্ণ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।   এর আগে এক ব্রিফিংয়ে জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, দ্বিপক্ষীয় সফরের পাশাপাশি ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে অংশ নিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ-সংক্রান্ত আমন্ত্রণপত্রও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।   প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর প্রসঙ্গে বাংলাদেশও জানিয়েছে, সফরের আগে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে বাংলাদেশের অবস্থান জানানো হয়েছে।   বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শহীদুল করিম সম্প্রতি জানান, তারেক রহমানের প্রথম দিল্লি সফর নিয়ে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে যোগাযোগ চলছে। তবে বিভিন্ন কূটনৈতিক বিষয়কে কেন্দ্র করে এখনো সফরের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।   এদিকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদের হস্তান্তরের বিষয়ে ভারতকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।   শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক একটি কর্মসূচি প্রসঙ্গে জয়সওয়াল বলেন, ওই আয়োজনের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। এটি একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের আয়োজিত অনুষ্ঠান ছিল এবং সেখানে দেওয়া বক্তব্যের দায় ভারত সরকার নেবে না বলেও জানান তিনি।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১৮, ২০২৬

গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম

রোহিঙ্গা ফেরাতে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াচ্ছে সরকার

জনগণের আস্থা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সতর্ক থাকতে হবে: ইশরাক হোসেন

0 Comments