জাতীয়

নির্বাচন কমিশনের সম্মতিতে আট উপজেলার ইউএনও বদলি

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ২১, ২০২৬

প্রশাসনে আটটি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদে রদবদল করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সম্মতির পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। বর্তমানে বদলি হওয়া কর্মকর্তারা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন।

 

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার ইউএনও ইসরাত জাহানকে ভোলার চরফ্যাশনে, চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের ইউএনও মো. আল-আমীনকে ফরিদপুরের নগরকান্দায়, পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ার ইউএনও রেহেনা আক্তারকে বগুড়ার ধুনটে এবং হবিগঞ্জের বাহুবলের ইউএনও লিটন চন্দ্র দে-কে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ইউএনও হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

এছাড়া বগুড়ার ধুনট উপজেলার ইউএনও প্রীতিলতা বর্মনকে হবিগঞ্জের বাহুবলে, ফরিদপুরের নগরকান্দার ইউএনও মেহরাজ শারবীনকে নেত্রকোনার কলমাকান্দায়, নেত্রকোনার কলমাকান্দার ইউএনও মাসুদুর রহমানকে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় এবং ভোলার চরফ্যাশনের ইউএনও মো. লোকমান হোসেনকে বরগুনার পাথরঘাটায় বদলি করা হয়েছে।

আদেশে আরও বলা হয়েছে, বদলি হওয়া কর্মকর্তারা নিজ নিজ কর্মস্থলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পাশাপাশি এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন। এ ক্ষেত্রে তারা ‘দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮’-এর ১৪৪ ধারার আওতায় ক্ষমতাপ্রাপ্ত থাকবেন।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আজকের মধ্যেই নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে ওই দিনের অপরাহ্নে তাদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) বলে গণ্য করা হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া পর্যটন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর নতুন উদ্যোগ

পর্যটন খাতকে আরও এগিয়ে নিতে একযোগে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া। দুই দেশের পর্যটকদের যাতায়াত সহজ করতে ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত করা, ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো এবং নতুন সম্ভাবনা তৈরির জোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় দেশটির পর্যটন, শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপমন্ত্রী ওয়াইবি তুয়ান চিউ চুন মানের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে করেছেন বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদউজ্জামান মিল্লাত। এ সময় মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।   বৈঠকে উভয় দেশের পর্যটকদের জন্য আরও আকর্ষণীয় ও সমৃদ্ধ ভ্রমণ অভিজ্ঞতা তৈরির উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এটি দীর্ঘদিনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র উন্মোচন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।   আলোচনায় দুই দেশের পর্যটন খাতের সেরা চর্চা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, পর্যটন খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ভিসা সুবিধা সহজ করা এবং প্রি-ভেরিফিকেশন ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া মালয়েশিয়ার পর্যটন সেবা খাতে প্রশিক্ষিত জনবল নিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে আতিথেয়তা শিল্পে যৌথ প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি পরিচালনার বিষয়ে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই মনে করে, এই ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা কেবল পর্যটন খাতের প্রসারেই ভূমিকা রাখবে না, বরং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের সুযোগ বহুলাংশে বাড়িয়ে দেবে।   বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি হাইকমিশনার মোসাম্মৎ শাহানারা মনিকা ও প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) প্রণব কুমার ঘোষ। অন্যদিকে মালয়েশিয়ার পক্ষে দেশটির পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপ-মহাপরিচালক চুয়া চুন হুয়া, ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক প্রচার (এশিয়া ও আফ্রিকা) বিভাগের পরিচালক মাদাম নুওয়াল ফাদিলাহ কু আজমিসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

৬ হাজার ৪৬৫ জন অমুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিলের সুপারিশ জামুকার

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ দ্রুত শেষ করতে সচিবের বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত

সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ভোটাধিকার প্রয়োগে কড়াকড়ি

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য বাড়াতে দুটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সম্পর্কে নতুন গতি আনতে দুটি যৌথ ব্যবসায়িক টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে ভারতের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই)। একটি টাস্কফোর্স দুই দেশের ডিজিটাল রূপান্তর ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নিয়ে কাজ করবে। অন্যটি কাজ করবে বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতে ভারতীয় বিনিয়োগ ও অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে। একই সঙ্গে বেনাপোলসহ স্থলবন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো, পণ্য খালাসে সময় কমানো ও সীমান্ত বাণিজ্যে জটিলতা দূর করার ওপর জোর দিয়েছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা।       মঙ্গলবার ঢাকায় সিআইআইয়ের ১৮ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। দুই দিনের সফরে আসা প্রতিনিধিদলটি সরকারের একাধিক মন্ত্রণালয় ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করে দুদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে মূল আলোচনায় ছিল দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের বাধা দূর করা, বিনিয়োগ বাড়ানো, স্থলবন্দর ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং দুদেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বিশেষ করে বেনাপোলসহ স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহণে বিদ্যমান জটিলতার বিষয়টি তুলে ধরেন।       বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনাকারী ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কাঁচামাল ও পণ্য পরিবহণে কিছু সমস্যার কথা জানিয়েছেন। বেনাপোলে কার্গো হ্যান্ডলিং আরও দক্ষ করা গেলে পণ্য পরিবহণে সময় ও ব্যয় দুটোই কমবে। এতে শুধু ভারতীয় প্রতিষ্ঠান নয়, দুদেশের সামগ্রিক বাণিজ্যই উপকৃত হবে। তিনি বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে শুধু শুল্ক কমানো বা নতুন চুক্তি করলেই হবে না। এর সঙ্গে যোগাযোগ, বন্দর, সড়ক, রেল, জ্বালানি ও লজিস্টিক ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।        বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে পুরোপুরি আলাদা করে দেখা যায় না। তবে দুই দেশের উন্নয়নের স্বার্থে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক যোগাযোগ যত বাড়বে, উভয় দেশই তত বেশি লাভবান হবে।     অর্থ মন্ত্রণালয়ে বৈঠক: সফররত ভারতীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও বৈঠক করেছে। সেখানে বিনিয়োগ ও অর্থায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দুদেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও কার্যকর করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ওই বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।        অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিদলকে জানানো হয়, বাংলাদেশ বর্তমানে বড় অবকাঠামো প্রকল্পে সরকারি অর্থের পাশাপাশি বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোয় গুরুত্ব দিচ্ছে। এ অবস্থায় ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো অবকাঠামো, যোগাযোগ, জ্বালানি, লজিস্টিক ও ডিজিটাল খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে এলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের পরিধি বাড়তে পারে। বিশেষ করে ভারতীয় অর্থায়ন ও বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী অবকাঠামো, পরিবহণ ও সরবরাহব্যবস্থা উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে। এ ধরনের বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি ভারতের বাজারে পণ্য রপ্তানির সক্ষমতাও বাড়তে পারে।       এফবিসিসিআইয়ের সঙ্গে বৈঠক: সিআইআই প্রতিনিধিদল পরে এফবিসিসিআইয়ের সঙ্গেও বৈঠক করে। বৈঠকে দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানো, যৌথ বিনিয়োগ, সরবরাহব্যবস্থা উন্নত করা এবং বাংলাদেশে ভারতীয় বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী এবং এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আব্দুল আউয়াল মিন্টু উপস্থিত ছিলেন। ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি দুদেশের বেসরকারি খাতের সরাসরি যোগাযোগ আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।      এ সময় ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতা চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি বলেন, কীভাবে দুদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও বাড়ানো যায়, সেটি নিয়ে আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছি। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাদেশি পণ্যের বড় সম্ভাবনা রয়েছে, সেই সুযোগকে কীভাবে কাজে লাগানো যায় তা নিয়েও কথাবার্তা হয়েছে। তিনি জানান, প্রতিনিধিদলের আগমনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো- কীভাবে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের সঙ্গে বিটুবি যোগাযোগ জোরদার করা যায়, তা নিয়ে কাজ করা।         এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, সিআইআই প্রতিনিধিদল যে প্রস্তাব দিয়েছে সেটিকে কাজে লাগিয়ে দুদেশের বিনিয়োগ ও বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করা যাবে বলে আমরা মনে করি। এ সময় ব্যবসায়ী নেতা ও বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান, মীর নাসির হোসেন, মো. জসিম উদ্দিন, ডিসিসিআইর সভাপতি তাসকিন আহমেদ, ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মশিউর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।       যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ের আগে এফবিসিসিআই ও সিআইআইর মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং নতুন নতুন খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, দুদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের বিদ্যমান বাধাগুলো দূর করতে উভয়পক্ষের ব্যবসায়ী ও অংশীজন নিয়ে সমস্যার সমাধান খোঁজা জরুরি।  সরকার মূলত নীতিমালা নির্ধারণ করে থাকে। তবে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রকৃত সমস্যার কথা ভালো জানেন ব্যবসায়ীরাই। তাই এফবিসিসিআই ও সিআইআইর মতো শীর্ষ সংগঠনগুলোর যৌথ উদ্যোগে আলোচনার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেলে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন : সিইসির সহায়তায় ইসির ২০ কর্মকর্তা নিয়োগ

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি সফরের নিমন্ত্রণ পেলেন প্রধানমন্ত্রী, থমকে আছে ভারত সফর

শেখ হাসিনার সরকার চুক্তি করেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বারোটা বাজিয়েছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
এমপিও শিক্ষকদের বদলি নিয়ে মাউশির নতুন বিজ্ঞপ্তি

বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।   মঙ্গলবার ১৪ দফা নির্দেশনা দিয়ে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে মাউশি।   বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ২১ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে। আদেশ জারির ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান বদলিকৃত শিক্ষক অবমুক্তি নিশ্চিত করবেন; অবমুক্ত হওয়ার পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে।   বদলি নীতিমালা অনুযায়ী বদলি হতে ইচ্ছুক শিক্ষকগণ http://ngttdshe.teletalk.com.bd এই লিংকে তার মোবাইলে প্রেরিত ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে আবেদন করতে হবে।  

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

গুম প্রতিরোধ আইনের খসড়া নিয়ে প্রশ্ন, স্বাধীন তদন্তের দাবি বক্তাদের

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক আরও ইতিবাচক রাখতে চায় ভারত: জয়সওয়াল

গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ

0 Comments