জাতীয়

সিলেটে র‌্যাবের অভিযানে উচ্চমাত্রার বিস্ফোরকদ্রব্য উদ্ধার

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ২৪, ২০২৬ 0

সিলেট জেলার শিববাড়ী রেললাইন সংলগ্ন এলাকা থেকে গতকাল ছয়টি ইন্ডিয়ান পাওয়ার জেল ও পাঁচটি নন-ইলেকট্রিক ডেটোনেটর উদ্ধার করেছে র‌্যাব।

আজ (শনিবার) সকালে র‌্যাব-৯ এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব-৯) এর একটি দল শুক্রবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ সুরমা থানার হুমায়ুন রশিদ চত্বর এলাকায় বিস্ফোরক থাকার তথ্য পায়। খবর পেয়ে র‌্যাব সদস্যরা দক্ষিণ সুরমা থানার ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের লাক্সজনপুর শিববাড়ী রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে রেলওয়ের একটি পুরাতন টয়লেটের ভেতর পরিত্যক্ত অবস্থায় ছয়টি ইন্ডিয়ান পাওয়ার জেল ও পাঁচটি নন-ইলেকট্রিক ডেটোনেটর উদ্ধার করে। এর সঙ্গে জড়িত কাউকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি।

র‌্যাব-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া অফিসার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, উদ্ধারকৃত ইন্ডিয়ান পাওয়ার জেল ও ডেটোনেটর উচ্চমাত্রার বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এসব আলামত নাশকতার জন্য সেখানে রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করতে র‌্যাব-৯ এর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্ধারকৃত বিস্ফোরকগুলো সাধারণ ডায়েরির (জিডি) মাধ্যমে সিলেট মহানগর পুলিশের দক্ষিণ সুরমা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে র‌্যাব।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি : সংগৃহীত
বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুযোগ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বিদেশে পড়াশোনা করতে যেতে অনেক সময় ব্যাংকে বড় অঙ্কের টাকা জমা রাখা শিক্ষার্থীদের জন্য বড় একটি বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের সহায়তায় একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এখন বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের ব্যাংক গ্যারান্টি বা ব্যাংক সলভেন্সির সাপোর্ট হিসেবে প্রায় ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহ ও নির্দেশনায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতায় কোরিয়া, জাপান, চীন, জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশে যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য এই ঋণ সুবিধা চালু করা হবে। ব্যাংক গ্যারান্টি বা সলভেন্সি সাপোর্ট হিসেবে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার জন্য প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককে দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের শ্রমবাজারের একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য নির্ভর। যুদ্ধের প্রভাবে সম্ভাব্য সংকট ও সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অবকাঠামো পুনর্গঠনের কারণে ভবিষ্যতে শ্রমবাজারে নতুন চাহিদা তৈরি হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করা হয়। তিনি আরও জানান, বিদেশে ভালো চাকরি পেতে ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ভাষাগত দক্ষতা বাড়লে কর্মীরা উন্নত বেতনের সুযোগ পেতে পারেন। এছাড়া জাপানে এক লাখ কর্মী পাঠানোর জন্য স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। জাপানসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানোর উপায় নিয়েও মতবিনিময় হয়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইউরোপের কিছু দেশের ভিসা প্রক্রিয়ার জন্য বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারতে যেতে হয়। এ সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে বাংলাদেশে কনস্যুলার সেবা চালুর জন্য উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। কিছু দেশ ইতোমধ্যে এ সেবা দিচ্ছে, বাকি দেশগুলোও যেন তা নিশ্চিত করে—সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ২৪, ২০২৬ 0

স্বাধীনতা দিবসে জামায়াতের দুই দিনের কর্মসূচি

ছবি: সংগৃহীত

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আইএমএফ পরিচালকের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত

ঈদের ছুটি শেষে সচিবালয়ে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য, স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু

ছবি: সংগৃহীত
হাইকোর্টে অর্ধশত আসনের ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় ঝুলে থাকতে পারে নিষ্পত্তি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে প্রায় অর্ধশত আসনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মামলা করেছেন বিভিন্ন দলের পরাজিত প্রার্থীরা। এসব মামলায় ইতোমধ্যে আদালত বিবাদীদের প্রতি নোটিশ জারি করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট আসনের ব্যালট পেপার ও ফলাফল শিট নির্বাচন কমিশনকে সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন।   মামলাকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, বিএনপির প্রার্থী এম এ কাইয়ুম ও হাবিবুর রহমান হাবিবসহ একাধিক প্রভাবশালী নেতা।   আইনজীবীরা বলছেন, এসব নির্বাচনসংক্রান্ত মামলা মূলত দেওয়ানি প্রকৃতির হওয়ায় বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ হয়। ফলে চলমান সংসদের মেয়াদের মধ্যেই এসব মামলার নিষ্পত্তি হওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে।   জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের মতে, বর্তমান ব্যবস্থায় সরাসরি হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা যায় এবং এর রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এতে করে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আরও বিলম্বিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।   আইনি প্রক্রিয়ায় প্রথমে মামলা গ্রহণ, নোটিশ প্রদান, ইস্যু নির্ধারণ, সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন, জেরা ও যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণা করা হয়। পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।   তাদের মতে, দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একাধিক ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং প্রতিদিন শুনানি পরিচালনা করা জরুরি। অন্যথায় বিপুল সংখ্যক মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হবে।   বর্তমানে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এসব নির্বাচনী পিটিশনের শুনানি গ্রহণ করছে। তবে মামলার সংখ্যা বাড়তে থাকায় বিচার প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   উল্লেখ্য, গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ অনুযায়ী নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে হাইকোর্টে নির্বাচনী পিটিশন দায়ের করা যায়, যেখানে পুনর্গণনা, ফল বাতিল বা পুনঃনির্বাচনের আবেদন করা হয়।

আক্তারুজ্জামান মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
অ্যাবিগেইল বয়েড। ছবি : সংগৃহীত

তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে প্রস্তাব

ছবি: সংগৃহীত

প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে মনোযোগ দিতে বিএনপির পদ ছাড়লেন মীর শাহে আলম

ছবি: সংগৃহীত

মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই আন্দোলনে গবেষণায় অনুদান দেবে সরকার

সিন্দুরমতি দিঘিকে ঘিরে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে : ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু

ঐতিহাসিক সিন্দুরমতি দিঘিকে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থানে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে পরিকল্পনা প্রণয়ন, সীমানা নির্ধারণ এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদসহ বিভিন্ন কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। মেলা উপলক্ষ্যে আজ সোমবার দুপুরে লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের সিন্দুরমতি দিঘির পাড়ে আয়োজিত এক প্রস্তুতি সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আগামী ২৭ মার্চ ঐতিহ্যবাহী সিন্দুরমতি মেলা সফলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়। প্রতিবছরের মতো এবারও লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার সীমান্তবর্তী এ এলাকায় লক্ষাধিক মানুষের সমাগমের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, সিন্দুরমতি দিঘিকে শুধু স্থানীয় পর্যায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত একটি পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে দিঘির সীমানা নির্ধারণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদে প্রশাসন সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন একটি আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থান হিসেবে গড়ে তুলতে দক্ষ নকশাবিদদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। পরিকল্পনা চূড়ান্ত হলেই দ্রুত উন্নয়ন কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, ঐতিহাসিক এ দিঘিটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত। অতীতে অবহেলার কারণে এর গুরুত্ব অনেকটাই ম্লান হয়ে পড়েছিল। তবে, দিঘিকে কেন্দ্র করে আয়োজিত মেলায় পূর্বে কিছু অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলেও, সেগুলো প্রতিরোধে প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে। মন্ত্রী তরুণ সমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়াতে সরকার জেলাভিত্তিক স্টেডিয়াম নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এতে সামাজিক অবক্ষয় কমে আসবে এবং তরুণদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, সিন্দুরমতি দিঘি লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের শেষ প্রান্তে, কুড়িগ্রামের রাজাহাট উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত। ঐতিহ্যবাহী এই মেলাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সভায় উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অন্নপূর্ণা দেবনাথ, লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এইচ এম রকিব হায়দার, দুই জেলার পুলিশ সুপারসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মার্চ ২৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে অফিস খুলছে কাল

ফাইল ছবি

কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষ: গাফিলতির অভিযোগে দুই গেটম্যানের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি: সংগৃহীত

যাচাই-বাছাই করে তথ্য গ্রহণ ও প্রচারের আহ্বান পানিসম্পদ মন্ত্রীর

0 Comments