জাতীয়

সরকার গঠন করতে পারলে চাঁদাবাজদের নির্মূল করব: গাইবান্ধায় জামায়াত আমির

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ২৪, ২০২৬

সরকার গঠন করতে পারলে দেশ থেকে চাঁদাবাজদের সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

আজ (শনিবার) গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে এস এম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘দুইটা কারণে আমাদের কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য পায় না। প্রথমত মধ্যস্বত্বভোগী, দ্বিতীয়ত ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজি। সরকার গঠন করতে পারলে দেশের সব অফিস-আদালত, গ্রামগঞ্জ, শহর থেকে আমরা চাঁদাবাজি-দখলবাজি বিতাড়িত করবো।’

জামায়াত আমির আরও বলেন, বিগত ৫৪ বছর যেই শাসন, যেই রাজনৈতিক ব্যবস্থা, যে বন্দোবস্ত দেশবাসীকে ফ্যাসিবাদ উপহার দিয়েছে-এই শাসন আমরা আর দেখতে চাই না। আমরা চাই তার আমূল পরিবর্তন। তাই আমরা চাঁদাবাজিকে সম্পূর্ণভাবে বিতাড়িত করবো।

তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের হাতে সম্মানের কাজ তুলে দিয়ে তাদের সঠিক পথে পরিচালনা করা হবে। তারাও এ সমাজে সম্মানের সঙ্গে বসবাস করতে পারবে।

এসময় উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের নদীগুলো এখন মরুভূমি হয়ে পড়েছে। নদীর জীবন ফিরে আসলে উত্তরবঙ্গের জীবন ফিরে আসবে। সরকার গঠন করতে পারলে আমরা  এই নদীগুলোর ওপর সবার আগে দৃষ্টি দেব। তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাশাপাশি নদীগুলোকে জীবন দেওয়ার মহাপরিকল্পনা নেওয়া হবে ইনশা আল্লাহ।

সেইসঙ্গে, উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক ইপিজেড প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, কর্মসংস্থানের জন্য এখানে ইপিজেড হওয়ার প্রয়োজন আছে। কৃষিপণ্য প্রসেস ও রপ্তানিযোগ্য করে তুলতে এখানে ইপিজেড করা হবে। উত্তরবঙ্গ কৃষির উর্বর ক্ষেত্র উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, উত্তরবঙ্গে একাধিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে আমাদের বিবেচনায় গাইবান্ধা অগ্রাধিকার পাবে।

সমাবেশে শফিকুর রহমান আরও বলেন, আমরা বাংলাদেশে আধিপত্যবাদের ছায়া দেখতে চাই না। অবশ্যই বিশ্বের সব সভ্য দেশের সঙ্গে আমরা বন্ধুত্বের সম্পর্ক চাই, আমরা প্রতিবেশীদেরও আমাদের প্রতিবেশী হিসেবে দেখতে চাই। আমরা কারও ওপর খবরদারি করতে চাই না। আর কেউ এসে বাংলাদেশের ওপর খবরদারি করুক, তাও দেখতে চাই না।

আসন্ন নির্বাচনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, গণভোট সফল হলে সাধারণ নির্বাচন সফল হবে। তাই গণভোটের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে। জুলাই শহীদের প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিতে হবে।

সমাবেশে বক্তব্য শেষে গাইবান্ধার পাঁটিটি আসনে জামায়াতের প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দেন শফিকুর রহমান।

এ সময় ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চেয়ে শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের সব প্রার্থী সৎ ও নির্ভীক। ২৪-এর বিপ্লবের পর আমাদের কোন প্রার্থী কোন এলাকাতেই চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব বা মামলাবাজি করেনি। তাই তাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করুন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সেবাখাতে দুর্নীতি বৃদ্ধির তথ্য টিআইবির জরিপে, কারণ কী?

ক্ষমতাচ্যূত আওয়ামী লীগ সরকারের চেয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সেবা খাতে দুর্নীতির পরিমাণ ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছিল- এমন তথ্য জানানো হয়েছে দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবি'র জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫'র প্রতিবেদনে।   তবে ২০১৭ সাল থেকে টিআইবির একই ধরনের আগের জরিপগুলোতে সেবাখাতে দুর্নীতি ক্রমশ বেড়েছে বলেই দেখা যাচ্ছে।   যদিও দুর্নীতি আর ঘুষ নেওয়ার প্রবণতা বাড়ার সাথে ক্ষমতায় থাকা সরকারের চেয়ে সামগ্রিক কাঠামোকেই মূল কারণ হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।   তারা বলছেন, দুর্নীতি হচ্ছে মূলত মাঠ পর্যায়ে। সরকার বদলালেও কাঠামো বরাবরই একই রকম ছিল। দুর্নীতি, ঘুষ কিংবা অবৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণের অপরাধে শাস্তির উদাহরণ না থাকায় তা সময়ের সাথে সাথে বেড়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নেওয়া বেশিরভাগ সিদ্ধান্তই ছিল রাজনীতিকেন্দ্রিক। দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের মুখে জোরালো আওয়াজ শোনা গেলেও তা কমাতে বাস্তবিক কোনো দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়নি। এমনকি কমিশন গঠন ছাড়া মাঠ পর্যায়ে যেহেতু দুর্নীতি দমনে বিশেষ কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, ফলে স্বাভাবিকভাবেই "যেভাবে দুর্নীতি হয়েছে সেই পরিস্থিতিরই অব্যাহত ধারা" দেখা গেছে।   তাছাড়া নির্বাচিত সরকার না হওয়ায় মাঠ পর্যায়ে চলা দুর্নীতি দমানো কিংবা কমানোর 'ক্যাপাসিটি' না থাকায় আগের সরকারের তুলনায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এ ধরনের প্রবণতা বেড়েছে বলেও মনে করছেন কেউ কেউ।   এদিকে, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল টিআইবির দেওয়া তথ্যকে তৃণমূল পর্যায়ের দুর্নীতি উল্লেখ করে বলছেন, "সেখানে দুর্নীতির যতটুকু বৃদ্ধি হয়েছে, প্রতি বছরের মুদ্রাস্ফীতির তুলনায় তা বেশি নয়"।   প্রতিবেদনে কী আছে? সেবা খাতে দুর্নীতির মাত্রা জানতে ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ১৫ হাজার ৭১৫টি খানার ওপর জরিপ চালায় টিআইবি।   জরিপের ফলাফলে বলা হয়েছে, গ্রাম ও শহরাঞ্চল মিলিয়ে দেশের ৮১ দশমিক ৬ শতাংশ খানা কমপক্ষে একটি সেবা খাতে দুর্নীতির শিকার হয়েছে, যা ২০২৩ সালে ছিল ৭০.৯ শতাংশ।   একইভাবে ২০২৫ সালে ৬৩ দশমিক ৬ শতাংশ খানা কমপক্ষে একটি সেবা খাতে ঘুষের শিকার হয়েছে; ২০২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ।   টিআইবি জানায়, দুই বছরের ব্যবধানে দুর্নীতি আর ঘুষ দুই ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীর সংখ্যা বেড়েছে যথাক্রমে ১০ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ১২ দশমিক ৮ শতাংশ।   তাদের আগের জরিপগুলোতেও দুর্নীতির হার ক্রমান্বয়ে বাড়তে দেখা গেছে। যেমন- ২০১৭ সালে সব মিলিয়ে দুর্নীতির শিকার হয়েছিল সাড়ে ৬৬ শতাংশ মানুষ। পাঁচ বছর পর ২০২১ সালের জরিপে এই সংখ্যা বেড়ে ৭০ দশমিক আট শতাংশে দাঁড়ায় বলেও জানানো হয়।   তবে ঘুষের ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতি ছিল কিছুটা আলাদা, বলছে টিআইবি। ২০১৭ সালে তাদের জরিপ প্রতিবেদনে যে সংখ্যা ছিল ৪৯ দশমিক আট শতাংশ, পাঁচ বছরের ব্যবধানে তা কমে ৪০ দশমিক এক শতাংশে দাঁড়ায়।   এই একটি বাদে বাকি সব উপাত্তেই পর্যায়ক্রমে দুর্নীতি ও ঘুষের পরিমাণ বাড়তে থাকার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।   বিশ্লেষকরা বলছেন, দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী ব্যবস্থা না নেওয়ায় সময়ের সাথে সাথে নিয়মিতভাবে দুর্নীতি বাড়ার এই প্রবণতা একটি কাঠামো হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে। ফলে যেই সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, দৃশ্যপট থাকছে অভিন্ন।   বেসরকারি সংস্থা সিপিডির গবেষণা পরিচালক অর্থনীতিবিদ ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের মতে, খাতভিত্তিক দুর্নীতির বেশিরভাগই হয় মাঠ পর্যায়ে। আর এই জায়গাগুলোতে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও কোনো পরিবর্তন আসেনি, কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের মূল লক্ষ্য ছিল 'পলিটিক্যাল ট্রানজিশন' বা রাজনৈতিক রূপান্তর।   "যতটুকু পরিবর্তন আমরা দেখেছি, সেটা একেবারে ম্যাক্রো লেভেলে পলিটিক্যাল লিডারশিপ পর্যায়ে (রাজনৈতিক নেতৃত্বের তৃণমূল পর্যায়ে)। কাঠামোগতভাবেও অন্তর্বর্তী সরকারের অল্প সময়ে এই পরিবর্তনগুলো (দুর্নীতিবিষয়ক) সম্ভব নয়"।   "দুর্নীতি এখানে সবার জন্যই কমন ফেনোমেনা বা একই পরিস্থিতি। এটার সাথে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, অন্তর্বর্তী বলে কিছু নাই। রাজনৈতিক কোনো চরিত্র নাই দুর্নীতির। সো সেটির ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব পড়েনি," বলছিলেন তিনি।   অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভবিষ্যতে পরিবর্তন আনার জন্য কিছু ক্ষেত্রে কমিশন গঠন করা হলেও মাঠপর্যায়ে গিয়ে প্রেক্ষাপট বদলানো কিংবা তার মাধ্যমে সংস্কার বা দুর্নীতির ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার তাদের 'প্রায়োরিটি' না থাকায় পরিস্থিতির অব্যাহত ধারা দেখা গেছে বলে মন্তব্য করেন মি. মোয়াজ্জেম।   একইসাথে নির্বাচিত সরকার না হওয়ায় রাজনৈতিকভাবে বিষয়গুলো সামলানোর যে প্রবণতা অন্য সরকারগুলোর কাছে থাকে, সেটাও অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে না থাকায় "আগের সরকারের তুলনায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুর্নীতি বেড়েছে" বলে মনে করেন এই পর্যবেক্ষক।   অন্যদিকে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জমান বলছেন, জরিপে আনা মন্তব্যগুলোতে দেখা গেছে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় করা সরকারি কর্মকর্তাদের কিংবা অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের সম্পদ প্রকাশের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন হয়নি।   "একদিকে এই অঙ্গীকারের প্রতি অবিশ্বাস, আস্থাহীনতা; অন্যদিক থেকে যারা এটা করে, তারা এটাকে স্বাভাবিক হিসেবে নিয়ে নিয়েছে। এই দৃষ্টান্তগুলো নেই, সে কারণে এই অবস্থা বেড়েছে", বলছিলেন তিনি।   'কিছু পরিসংখ্যান দেখে ব্যর্থতা খোঁজা অজ্ঞতার পরিচায়ক' 'বিচ্ছিন্নভাবে' কিছু পরিসংখ্যান দেখে ব্যর্থতা খোঁজাকে 'অজ্ঞতার পরিচায়ক' হিসেবে বর্ণনা করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।   তার দাবি, টিআইবি যে তথ্য দিয়েছে তা তৃণমূল পর্যায়ের দুর্নীতির। সেখানে দুর্নীতির যতটুকু বৃদ্ধি হয়েছে, প্রতিবছরের মুদ্রাস্ফীতির তুলনায় তা বেশি নয়।   "অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বরং বড় বড় ক্ষেত্রে, যেমন ব্যাংকিং ও করপোরেট খাতে, নতুন করে দুর্নীতির ঘটনা ঘটেনি। এর প্রতিফলন আমরা রিজার্ভ ও রেমিট্যান্সের ব্যাপক বৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ফিরে আসার মধ্যে দেখতে পাই। বিচ্ছিন্নভাবে কিছু পরিসংখ্যান দেখে আমাদের ব্যর্থতা খোঁজা তাই অজ্ঞতার পরিচায়ক," অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় দুর্নীতি বাড়ার প্রসঙ্গে বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি।   "তবে এটিও ঠিক যে, আমরা সব ক্ষেত্রে বা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় দুর্নীতি কমাতে পারিনি। আমরা দুর্নীতি রোধে প্রকিউরমেন্ট আইন, ব্যাংকিং সংক্রান্ত আইন, দেওয়ানি ও ফৌজদারী কার্যবিধি আইনসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইনগত সংস্কার করেছি; বিএমইটিসহ বহু প্রতিষ্ঠানে ডিজিটালাইজেশন করেছি; বিদ্যুৎক্ষেত্রে দায়মুক্তি আইন বাতিল করেছি, ডিজিটাল বেইল বন্ড ও অনলাইন সত্যায়নসহ কিছু ব্যবস্থা চালু করেছি," বলেন আসিফ নজরুল।   তিনি দাবি করেন, ক্ষমতাচ্যূত আওয়ামী লীগ আমলে দুর্নীতি এত বিস্তৃত ও গভীরভাবে সমাজে অনুপ্রবেশ করেছে যে এসব ব্যবস্থা যথেষ্ট নয় এবং এসবের সুফলও এত দ্রুত পাওয়া সম্ভব নয়।   পরিস্থিতি কতটা উদ্বেগের? বাংলাদেশের ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ দুর্নীতির শিকার হওয়ার তথ্য খুবই উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তারা বলছেন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে না বলেই তা বিকশিত হচ্ছে আর বর্তমানে তা স্বাভাবিক বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে।   জরিপে অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত খাতের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে পাসপোর্ট, বিআরটিএ, বিচারসংশ্লিষ্ট সেবা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও ভূমি খাত।   জরিপে ঘুষের শিকার ব্যক্তিদের ৮৬ শতাংশের বেশি মানুষ বলেছেন, ঘুষ না দিলে তারা সেবা পান না।   পরিস্থিতি সামাল দিতে পুরো ব্যবস্থাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার সুপারিশ করেছে জরিপে অংশগ্রহণকারীরা।   "যাদের ওপর দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব, তারা নিজেরাই দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। এটাতো একটা চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে গেছে," বলছিলেন ড. ইফতেখারুজ্জমান।   অন্যদিকে দুর্নীতির যে পর্যায়ে বাংলাদেশ পৌঁছেছে সেখানে কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নিয়ে কেবল উদ্বেগের কথা জানানোর আর কোনো অবকাশ নেই বলে মনে করছেন ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।   "প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা দুর্নীতির এতকিছু জেনেও যে উদ্যোগ নিচ্ছি না, সে জায়গাটা উদ্বেগের এবং সরকারগুলো সব জেনেও যে চোখ বুঁজে থাকছেন সেটা উদ্বেগের," বলছিলেন তিনি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৬, ২০২৬
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি : সংগৃহীত

মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের নাইন এম এম পিস্তল দিতে দ্রুত আইন সংশোধন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

তারেক-শি জিনপিং বৈঠক: তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও করিডোর নিয়ে আলোচনা

ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ছবি: সংগৃহীত
সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীরকে ফেরাতে দুবাই পুলিশকে নথিপত্র পাঠিয়েছে বাংলাদেশ

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব আইনি ও তদন্ত-সংশ্লিষ্ট নথি দুবাই পুলিশের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা অগ্রগতির তথ্য জানায়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।   শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার বেনজীর আহমেদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র দুবাই পুলিশের কাছে পাঠিয়েছে। তবে নথি গ্রহণের পর তারা এখনো বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে পরবর্তী কোনো পদক্ষেপ বা সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেনি।   একই অনুষ্ঠানে ওসমান হাদি হত্যা মামলা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, মামলার বিদেশে পলাতক আসামিকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।   ভারত সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ বা ‘পুশ ইন’-এর সাম্প্রতিক প্রচেষ্টা নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কঠোর নজরদারি ও সতর্ক অবস্থানের কারণে সীমান্তে বড় ধরনের কোনো অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটতে পারেনি।   তিনি বলেন, ভারত যেভাবে পুশ ইন করার চেষ্টা করছে, তা কোনো স্বীকৃত বা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়ে না। ভারতে অবস্থানরত কোনো বাংলাদেশি নাগরিক অবৈধভাবে সেখানে থাকলে, তাদের তালিকা যথাযথ কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের কাছে পাঠানো উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, কূটনৈতিকভাবে কোনো তালিকা পাওয়া গেলে বাংলাদেশ সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জাতীয়তা যাচাই-বাছাই করবে। যাচাই শেষে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মারিয়া রহমান জুন ২৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

তরুণ সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: ডেপুটি স্পিকার

ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর: মাহদী আমিন

ছবি - সংগৃহীত

বেনজীরকে দেশে ফেরানো নিয়ে যা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী

মালয়েশিয়া ও চীনে সরকারি সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সফরসঙ্গীদের নিয়ে দেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।    শুক্রবার (২৬ জুন) বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টা ৪০ মিনিটে চীনের রাজধানী বেইজিং থেকে তাকে বহনকারী বিমান ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে।    বাংলাদেশ সময় রাত ৮টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে বহনকারী বিমান অবতরণ করার কথা রয়েছে।   প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে দেশে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাতে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের সিনিয়র নেতারা, সরকারের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীরা এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।   এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ জুন মালয়েশিয়া সফরের  মধ্য দিয়ে তার প্রথম সরকারি বিদেশ সফর শুরু করেন। পরে তিনি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সামার দাভোস ২০২৬-এ অংশ নিতে চীনের দালিয়ান শহরে যান। সেখানে দুই দিন বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পর বুধবার বিকেলে বেইজিং পৌঁছান।   বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লালগালিচা সংবর্ধনাসহ উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। পরে দুদেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে ১৩টি সমঝোতা স্মারক আনুষ্ঠানিকভাবে সই হয়।   একই দিনে বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) মধ্যে বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই রাষ্ট্রীয় অতিথিশালায় একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এছাড়া চীনের পানি সম্পদমন্ত্রী লি গোয়িং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।   সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি বিনিয়োগ সম্মেলনে বক্তব্য দেন, যা যৌথভাবে আয়োজন করে চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রোমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড (সিসিপিআইটি) এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। তিনি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইসিংয়ের সঙ্গেও দলীয় পর্যায়ে বৈঠক করেন।   চীনে অবস্থানকালে বিভিন্ন বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর শীর্ষ নির্বাহী, চায়না ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এজেন্সি, চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশন, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দেশের উন্নয়নযাত্রায় আরও কার্যকর অবদান রাখার বিষয়ে আলোচনা করেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৬, ২০২৬

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশ আলোচনা করলে চীন সহায়তা করবে

প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরা ঘিরে বিমানবন্দরে শোডাউন না দেওয়ার নির্দেশ বিএনপির

মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

0 Comments