বিদেশ থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছিল টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে রংপুর পর্যন্ত মহাসড়ক সম্প্রসারণের জন্য। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে এই প্রকল্পে যুক্ত করা হয় গবেষণাগার উন্নয়নের নামে ভবন নির্মাণসহ নানা বিলাসী উপকরণ। যেমন মাল্টিপারপাস হল, সেমিনার হল, কনফারেন্স হল, লাউঞ্জ, দেড় শতাধিক পাঁচ তারকা হোটেলের সমমানের থাকার কক্ষ। আরও যোগ হয়েছে সুইমিংপুল, জিমনেসিয়াম, ইনডোর গেমস সরঞ্জাম বিলিয়ার্ড, স্নুকার, কার্ড রুম ইত্যাদি।
সবই করা হচ্ছে বড় বড় গাছ কেটে, পুকুর ভরাট করে। বর্তমান সরকার সারা দেশে বৃক্ষরোপণে জোর দিয়েছে। অথচ সরকারেরই একটি সংস্থা গাছ কেটে বিলাসী ভবন তৈরি করছে।
প্রকল্পটি সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের। প্রকল্পটির নাম সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২। আর বিলাসী ভবনগুলোর নির্মাণকাজ চলছে মিরপুরের পাইকপাড়ায় সড়ক গবেষণাগার এলাকায়। জায়গাটি মূল সড়ক থেকে ভেতরে, গাছগাছালিতে ঘেরা। এখানে নতুন ভবন নির্মাণ করতে ভাঙা হয়েছে পুরোনো স্থাপত্যশৈলীর ভবন। এগুলোর নকশা করেছিলেন স্থপতি মাজহারুল ইসলাম।
প্রকল্পে বিলাসী উপকরণ যোগ হওয়ার সঙ্গে বেড়েছে ব্যয়ও। শুরুতে এসব ভবন ও কিছু যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স (এনডিই) নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে। শুরুতে তারা কাজটি পেয়েছিল ২৩২ কোটি টাকায়। তিন দফা ব্যয় বাড়িয়ে এখন ৩৩৫ কোটি টাকায় ঠেকেছে।
সওজের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, ঠিকাদার সওজের প্রাক্কলনের চেয়ে সাড়ে ১৩ শতাংশ ছাড়ে (লেস) মূল্য প্রস্তাব করে কাজটি পান। অনেক উপকরণের (আইটেম) মূল্য কম দেখিয়ে কাজটি বাগিয়ে নেন। কিন্তু পরে যেসব আইটেমের মূল্য কম দেখানো হয়েছিল, এর বেশির ভাগই বাদ দেওয়া হয়। আর নতুন নতুন পণ্য ও কাজ যোগ করা হয়, যেগুলোর মূল্য বেশি। মূলত বাড়তি লাভের জন্যই এই কারসাজি করেছেন ঠিকাদার। কর্তৃপক্ষও তা অনুমোদন করেছে। সব মিলিয়ে ঠিকাদার কাজ নেওয়ার পর কৌশল করে প্রায় ৪৫ শতাংশ ব্যয় বাড়িয়েছেন, যা খুবই অস্বাভাবিক।
ঢাকার তেজগাঁওয়ে হাতিরঝিলের পাশেই ২০২৩ সালের শেষের দিকে সওজের নতুন প্রধান কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়। আধুনিক নকশা এবং দৃষ্টিনন্দন এই ভবন যে কারও নজর কাড়বে। এর পাশেই আরেকটি গোলাকার দৃষ্টিনন্দন ভবন তৈরি করা হয় একই সময়। এটির একাংশ ব্যবহার করে সওজ, অন্য অংশ ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। দুটি ভবনই ১৩ তলাবিশিষ্ট।
এই প্রধান কার্যালয়ে ৭০০ আসনবিশিষ্ট মিলনায়তনসহ বিভিন্ন আকারের সম্মেলনকক্ষ, বড় মসজিদ, পাবলিক প্লাজা, পাঠাগার, ক্যাফেটেরিয়া, ডে কেয়ার সেন্টার, ২০০ গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা আছে। সব মিলিয়ে দুটি ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৩৩৫ কোটি টাকা। দুটি ভবনে এক হাজারের মতো কর্মকর্তা-কর্মচারীর কক্ষ ও বসার জায়গা রয়েছে। অন্যদিকে সওজের গবেষণাগারে সাকল্যে লোকবল আছে ৫০ জনের মতো। তারপরও খরচ করা হচ্ছে দুই ভবনের সমান টাকা।
দৃষ্টিনন্দন ভবন থাকা সত্ত্বেও নতুন করে বিলাসী ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, সড়ক ভবনে সেমিনার হলসহ অন্যান্য সুবিধা থাকার পরও নতুন করে একই ধরনের বিলাসী স্থাপনা করার যৌক্তিকতা নেই। প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানোর এটা একটা কৌশল।
সওজ সূত্র জানায়, সাসেক-২ প্রকল্পে মোট ব্যয় শুরুতে ছিল ১১ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা। তিন দফা বাড়িয়ে তা ১৯ হাজার ৫৬ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। প্রকল্পে প্রতি কিলোমিটার চার লেন সড়ক নির্মাণে ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২০০ কোটি টাকার বেশি।
প্রকল্পের অধীন ভবন নির্মাণ, যানবাহন ক্রয়সহ বিভিন্ন প্যাকেজে একাধিকবার কাজ পরিবর্তন ও ব্যয় বাড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কম দামের আইটেম বাদ দিয়ে বেশি দামের আইটেম যুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সওজ সূত্র ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বারবার ভেরিয়েশন ও ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে স্বাধীন তদন্ত হওয়া উচিত, না হলে ঋণের টাকায় প্রকল্প ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়তেই থাকবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে আবারও আবেদন করেছেন এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম। নিজের, স্ত্রী ফারজানা পারভীন এবং দুই ছেলে আশরাফুল আলম ও আসাদুল আলম মাহিরের নাগরিকত্ব পরিত্যাগের আবেদন করেছেন তিনি। বিএনপি সরকার গঠনের পর গত ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ আবেদন করা হয়। তবে চলমান আইনি ও আর্থিক জটিলতার কারণে সরকার আপাতত সাইফুল আলম (এস আলম) পরিবারের নাগরিকত্ব পরিত্যাগের আবেদন মঞ্জুর করতে চাইছে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন মঞ্জুর করা হলে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা, দেশে থাকা সম্পদ ও সম্পত্তির ওপর ব্যবস্থা নেওয়া এবং আন্তর্জাতিক সালিসি মামলায় বাংলাদেশের আইনি অবস্থান—সব ক্ষেত্রেই জটিলতা তৈরি হতে পারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এস আলমের আবেদন পর্যালোচনা করে সরকার প্রাথমিকভাবে দুটি বড় ঝুঁকি দেখছে। প্রথমত, তাঁর বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। দ্বিতীয়ত, সাইফুল আলম নিজের সম্পদ সুরক্ষার দাবি তুলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতে মামলা করেছেন। নাগরিকত্বের প্রশ্নে তাঁর অবস্থান শক্তিশালী হলে ওই মামলায় বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হতে পারে বলে সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন। এর আগে ২০২০ সালেও বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পরিত্যাগের আবেদন করেছিলেন এস আলম গ্রুপের কর্ণধার। ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ইসলামী ব্যাংক গত বছরের নভেম্বরে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করে। ফলে তাঁর নাগরিকত্বের প্রশ্নটি এখনো অমীমাংসিত রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে এস আলমের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। সেই সূত্রে ব্যাংক দখল, ঋণ অনিয়ম ও অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে। তিনি ও তাঁর পরিবার বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন। এস আলমের সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, তাঁর আবেদন নিয়ে সাতটি সংস্থার মতামত চাওয়া হয়েছে এবং প্রতিবেদন পাওয়ার পর সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। এদিকে গত অক্টোবরে আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মামলা করেন সাইফুল আলম। সরকার ওই মামলায় দেশের পক্ষে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আইনজীবীদের মতে, নাগরিকত্ব ত্যাগের এই আবেদন চলমান মামলাগুলোতে বাংলাদেশের অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে—এ কারণেই সরকার এখন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে তাঁর নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত ঝুলে আছে।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুর জেরে অতর্কিত হামলায় আহত চিকিৎসক ডা. নাসিরকে দেখতে হাসপাতালে গেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটু। গত ১৫ মে রাতে হার্ট অ্যাটাকে এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. নাসিরের ওপর ওই হামলার চালানো হয়। গুরুতর অবস্থায় তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতালে গিয়ে বিশিষ্ট ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. মনোয়ারুল কাদির বলেন, ‘দায়িত্ব পালনরত চিকিৎসকদের ওপর এ ধরনের বর্বর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনা দেশের স্বাস্থ্যসেবার স্বাভাবিক পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং চিকিৎসকদের মাঝে চরম নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একজন চিকিৎসকের ওপর শারীরিক হামলা তাৎক্ষণিক ক্ষতিই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি মানসিক যন্ত্রণারও কারণ হয়ে দাঁড়ায়।’ ডা. নাসিরের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও যত্ন নিশ্চিতে দায়িত্বরতদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এ সময় ডা. নাসিরের সহধর্মিণী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দ্রুত ‘স্বাস্থ্যকর্মী নিরাপত্তা রক্ষা আইন’ প্রণয়নের জোর দাবি জানানো হয়। ডা. নাসিরের চিকিৎসার বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. আসাদুজ্জামান এবং উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মুসাররাত সুলতানার সঙ্গেও বিস্তারিত আলোচনা করেন ডা. বিটু। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী পরিচালক ডা. আশরাফুল আলম; অধ্যাপক ডা. জাহাঙ্গীর হোসেন; ড্যাবের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ডা. মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান নোমান; এসওএসবির সদস্য সচিব ডা. আহমেদ সামি আল হাসান; ডা. মাসুদ রানা; অধ্যাপক ডা. শাদরুল আলম; ডা. রাশেদুল হাসান রিপন; ডা. মাহমুদ আলী বাবু; ডা. মিনার হোসেন; ডা. সামিউর রহমান সামী; ডা. মেহরাব হোসেন; ডা. জামশেদ তুষার; ডা. জাহিদ হাসান; ডা. রুম্মান খান; ডা. মামুন; ডা. হাফিজুর রহমান; ডা. রাজিব হাসান; ডা. হারুন অর রশীদ; ডা. আশীক ও ডা. রাহাতসহ আরও অনেকে।
যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সুদানের প্রধানমন্ত্রী ড. কামিল ইদ্রিস সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। শনিবার সকালে লন্ডনের হোটেল হিলটনের লবিতে এই অনানুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব মো. দিদারুল আলম জানান, সাক্ষাৎকালে সুদানের প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ড. কামিল ইদ্রিস বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণ এবং রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্যের জন্য দোয়া করেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সুদানের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন এবং সুদানের জনগণের শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। সাক্ষাৎকালে সুদানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সময়ে নেতৃত্বের জন্য রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানান এবং দেশে শান্তিরক্ষী বাহিনীর অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। রাষ্ট্রপতি তার আন্তরিকতা ও শুভকামনার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ও সুদানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও জোরদার হবে বলে তিনি আশাবাদী।