চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদলকর্মী মুহাম্মদ করিম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। তাঁর দাবি, নিহত করিমের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ মোট নয়টি মামলা ছিল।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. জুনায়েত কাউছার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. সিরাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ, হাটহাজারী মডেল থানার ওসি মো. জাহিদুর রহমান, সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কেরানীহাটে হামলার পর হত্যা: পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, রাউজানের উরকিরচর এলাকার কেরানীহাটে করিমকে হত্যা করা হয়। এলাকাটি তুলনামূলক প্রত্যন্ত হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডটির সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।
এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানীহাট এলাকায় হামলার শিকার হন যুবদলকর্মী মুহাম্মদ করিম।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে আসা একদল হামলাকারী বাজারে ঢুকে করিমকে ঘিরে ফেলে। একপর্যায়ে তাকে কিরিচ দিয়ে মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে খুব কাছ থেকে গুলি করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
রাউজানে ২৭ হত্যাকাণ্ড: আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য তুলে ধরে এসপি জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে রাউজানে ২৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২০টি হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে হয়েছে বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে।
এই সময়ে রাউজানে শতাধিক গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় গুলিবিদ্ধসহ সাড়ে তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
চিকিৎসকের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি: সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক চাঁদাবাজি ও অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় পুলিশের অভিযান নিয়েও বিস্তারিত জানান পুলিশ সুপার।
তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে এক চিকিৎসক লিখিত ও মৌখিকভাবে পুলিশকে জানান, ‘রান’ ও ‘সাজ্জাদ’-এর নাম ব্যবহার করে একটি সন্ত্রাসী চক্র তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। পরে বিদেশি নম্বর থেকে মেসেজ পাঠিয়ে ২০ লাখ টাকা চাওয়া হয়। টাকা না দিলে রোগীর পরিচয়ে চেম্বারে ঢুকে তাকে গুলি করে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বায়েজিদ বোস্তামী ও হাটহাজারীর বিভিন্ন এলাকা থেকে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান এসপি।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে যোগাযোগ করতেন। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা মোবাইল ফোন ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে চাঁদাবাজ চক্রের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
এসপি বলেন, চক্রটি কয়েকটি স্তরে বিভক্ত হয়ে কাজ করত। একটি অংশ সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের তথ্য সংগ্রহ করত, আরেকটি অংশ চাঁদার দাবি জানাত। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভয়ভীতি দেখানো কিংবা হামলা চালানোর জন্য অন্য সদস্যরা সক্রিয় হতো।
জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চক্রটির সদস্যরা শুধু চাঁদা দাবি করত না; টাকা না দিলে ‘অ্যাকশন’ বা গুলি করার মতো কর্মকাণ্ডেও যুক্ত ছিল। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার হলেও আগ্নেয়াস্ত্র এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তাদের রিমান্ডে নিয়ে এ বিষয়ে আরও তথ্য জানার চেষ্টা করা হবে বলে জানান পুলিশ সুপার।
সীতাকুণ্ডে অস্ত্র প্রদর্শন, গ্রেপ্তার ৩: গত ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সীতাকুণ্ডে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়েও কথা বলেন এসপি মাসুদ আলম।
তিনি জানান, ওই সময় একটি পক্ষের মহড়ায় দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের দৃশ্য দেখা যায়। পরে সেই ভিডিও ও ছবি গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ অভিযান শুরু করে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাদেক, কামরুল ও হানিফ নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাদেকের বাড়ির পেছন থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। কামরুলের কাছেও অস্ত্র থাকার তথ্য পাওয়া গেলেও সেটি এখনো উদ্ধার হয়নি। হানিফ জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় বসবাস করেন বলে জানান পুলিশ সুপার।
গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদন করা হবে বলেও জানিয়েছেন এসপি মো. মাসুদ আলম।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পর্যটন মহাপরিকল্পনা চলতি বছরের শেষ নাগাদ চূড়ান্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের (বিটিবি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিবি কার্যালয়ে এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশের (এটিজেএফবি) সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা পর্যটকদের সর্বোত্তম সেবা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। আমরা পর্যটন মহাপরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এগিয়ে যেতে চাই। আশা করছি, এ বছরই মহাপরিকল্পনাটি চূড়ান্ত হবে।’ দেশের পর্যটন খাতের জন্য মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ বেশ কয়েক বছর ধরে চলছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অধীনে প্রণীত একটি কৌশলগত পর্যটন মহাপরিকল্পনা ২০১৯ সালে তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, কোভিড-১৯ মহামারি এবং পরবর্তী সরকার পরিবর্তনের কারণে এর অনুমোদন ও বাস্তবায়ন বিলম্বিত হয়। পরে পরিকল্পনাটি পর্যালোচনা ও সংশোধনের জন্য ফেরত পাঠানো হয়। বর্তমানে সরকার দেশের প্রায় ১,৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে কাজ করছে। পরিকল্পনায় সুশৃঙ্খল, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পর্যটন উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফারুকী বলেন, পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা ও সেবা উন্নয়নে বিটিবি বিভিন্ন পদক্ষেপ নেবে এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের বিষয়ে বিটিবি সিইও বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, দূতাবাস ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে চাই, যাতে তাদের দেশের নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণে উৎসাহিত করা যায়। বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রগুলোর সুযোগ-সুবিধা উন্নয়ন এবং পর্যটকদের ভ্রমণ আরও সহজ করার পরিকল্পনাও রয়েছে বিটিবির। সভায় এটিজেএফবির সভাপতি তানজিম আনোয়ারসহ সংগঠনটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদলকর্মী মুহাম্মদ করিম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। তাঁর দাবি, নিহত করিমের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ মোট নয়টি মামলা ছিল। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. জুনায়েত কাউছার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. সিরাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ, হাটহাজারী মডেল থানার ওসি মো. জাহিদুর রহমান, সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কেরানীহাটে হামলার পর হত্যা: পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, রাউজানের উরকিরচর এলাকার কেরানীহাটে করিমকে হত্যা করা হয়। এলাকাটি তুলনামূলক প্রত্যন্ত হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডটির সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানীহাট এলাকায় হামলার শিকার হন যুবদলকর্মী মুহাম্মদ করিম। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে আসা একদল হামলাকারী বাজারে ঢুকে করিমকে ঘিরে ফেলে। একপর্যায়ে তাকে কিরিচ দিয়ে মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে খুব কাছ থেকে গুলি করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। রাউজানে ২৭ হত্যাকাণ্ড: আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য তুলে ধরে এসপি জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে রাউজানে ২৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২০টি হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে হয়েছে বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। এই সময়ে রাউজানে শতাধিক গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় গুলিবিদ্ধসহ সাড়ে তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। চিকিৎসকের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি: সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক চাঁদাবাজি ও অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় পুলিশের অভিযান নিয়েও বিস্তারিত জানান পুলিশ সুপার। তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে এক চিকিৎসক লিখিত ও মৌখিকভাবে পুলিশকে জানান, ‘রান’ ও ‘সাজ্জাদ’-এর নাম ব্যবহার করে একটি সন্ত্রাসী চক্র তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। পরে বিদেশি নম্বর থেকে মেসেজ পাঠিয়ে ২০ লাখ টাকা চাওয়া হয়। টাকা না দিলে রোগীর পরিচয়ে চেম্বারে ঢুকে তাকে গুলি করে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বায়েজিদ বোস্তামী ও হাটহাজারীর বিভিন্ন এলাকা থেকে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান এসপি। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে যোগাযোগ করতেন। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা মোবাইল ফোন ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে চাঁদাবাজ চক্রের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসপি বলেন, চক্রটি কয়েকটি স্তরে বিভক্ত হয়ে কাজ করত। একটি অংশ সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের তথ্য সংগ্রহ করত, আরেকটি অংশ চাঁদার দাবি জানাত। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভয়ভীতি দেখানো কিংবা হামলা চালানোর জন্য অন্য সদস্যরা সক্রিয় হতো। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চক্রটির সদস্যরা শুধু চাঁদা দাবি করত না; টাকা না দিলে ‘অ্যাকশন’ বা গুলি করার মতো কর্মকাণ্ডেও যুক্ত ছিল। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার হলেও আগ্নেয়াস্ত্র এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তাদের রিমান্ডে নিয়ে এ বিষয়ে আরও তথ্য জানার চেষ্টা করা হবে বলে জানান পুলিশ সুপার। সীতাকুণ্ডে অস্ত্র প্রদর্শন, গ্রেপ্তার ৩: গত ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সীতাকুণ্ডে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়েও কথা বলেন এসপি মাসুদ আলম। তিনি জানান, ওই সময় একটি পক্ষের মহড়ায় দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের দৃশ্য দেখা যায়। পরে সেই ভিডিও ও ছবি গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ অভিযান শুরু করে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাদেক, কামরুল ও হানিফ নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাদেকের বাড়ির পেছন থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। কামরুলের কাছেও অস্ত্র থাকার তথ্য পাওয়া গেলেও সেটি এখনো উদ্ধার হয়নি। হানিফ জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় বসবাস করেন বলে জানান পুলিশ সুপার। গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদন করা হবে বলেও জানিয়েছেন এসপি মো. মাসুদ আলম।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা বাংলাদেশ ও ভারতের যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল আবারও শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং উভয় পক্ষই বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ বিষয়ে কথা বলেন। একই সময়ে ভারতীয় হাইকমিশনারও জানান, ঢাকা কলকাতা রুটের মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর বিষয়ে শিগগিরই সুখবর আসতে পারে। মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর বিষয়ে আশাবাদ ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, মৈত্রী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। খুব শিগগিরই ট্রেনটি চালুর একটি নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা সম্ভব হতে পারে বলেও জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যোগাযোগ, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক কীভাবে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌপথে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যাত্রীবাহী ট্রেন চালুতে দুই দেশের ইতিবাচক মনোভাব সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, বর্তমানে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকলেও সেটি কীভাবে পুনরায় চালু করা যায়, তা নিয়ে দুই দেশই ইতিবাচকভাবে ভাবছে। মন্ত্রী জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতীয় পক্ষ থেকে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ করা হয়েছিল। এখন পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আবারও এই রেল যোগাযোগ চালুর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তিনটি ট্রেন চালুর উদ্যোগ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে মৈত্রী এক্সপ্রেস, বন্ধন এক্সপ্রেস ও মিতালী এক্সপ্রেসের যাত্রীসেবা বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর তিনটি ট্রেনই পুনরায় চালুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ঢাকা কলকাতা রুটে মৈত্রী এক্সপ্রেস, খুলনা কলকাতা রুটে বন্ধন এক্সপ্রেস এবং ঢাকা নিউ জলপাইগুড়ি রুটে মিতালী এক্সপ্রেস চলাচল করত। দুই দেশের রেলওয়ে কর্মকর্তাদের বৈঠকে এসব ট্রেন পুনরায় চালুর পাশাপাশি আন্তদেশীয় রেল যোগাযোগ আরও কার্যকর করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন রেল রুটের প্রস্তাবও থাকছে বিদ্যমান ট্রেন সার্ভিস পুনরায় চালুর পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে নতুন কিছু প্রস্তাবও দেওয়া হতে পারে। এর মধ্যে রাজশাহী কলকাতা রুটে নতুন যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর বিষয়টি রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা কলকাতা রুটের মৈত্রী এক্সপ্রেসকে পদ্মা সেতু হয়ে পরিচালনার প্রস্তাবও আলোচনায় আসতে পারে। আন্তদেশীয় রেল যোগাযোগের সক্ষমতা বাড়ানো এবং যাত্রীদের জন্য আরও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করাই এসব প্রস্তাবের লক্ষ্য। নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা হয়নি তবে মৈত্রী এক্সপ্রেসসহ অন্য ট্রেনগুলো ঠিক কবে থেকে নিয়মিত চলাচল শুরু করবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। ট্রেন চালুর আগে নিরাপত্তা, প্রশাসনিক অনুমোদন এবং দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়সহ কয়েকটি বিষয় চূড়ান্ত করতে হবে। দুই দেশের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হলে চিকিৎসা, পর্যটন, শিক্ষা ও ব্যবসার কাজে যাতায়াতকারী মানুষের জন্য রেলপথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা আবারও চালু হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও ভারতের আন্তদেশীয় যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।