আন্তর্জাতিক

পশ্চিম তীরে বড় ধরনের যুদ্ধের হুঁশিয়ারি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে সেখানে ‘পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধ’ শুরু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা বাহিনী ইসরায়েলি সেনা বা ইহুদি বসতিতে ৭ অক্টোবরের মতো হামলা চালালে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

 

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কাৎজ এ হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, এমন হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেলেও পশ্চিম তীরে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানো হবে।

 

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তিনি দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

 

হামলার পরিকল্পনা প্রস্তুত: ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম আই২৪ নিউজের এক প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, পশ্চিম তীরে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের জন্য একটি খসড়া পরিকল্পনা তৈরি করেছে আইডিএফ।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেখানে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, নিরাপত্তা বাহিনী এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।

কাৎজের বক্তব্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য অভিযানের মধ্যে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, বেসামরিক জনগণকে বাস্তুচ্যুত করা, সশস্ত্র গোষ্ঠীর স্থাপনা ধ্বংস এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনাদের দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের মতো পদক্ষেপ থাকতে পারে।

তিনি এই কৌশলের সঙ্গে গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলের তৈরি করা নিরাপত্তা অঞ্চল এবং জেনিন ও পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলে অতীতের সামরিক অভিযানগুলোর তুলনা করেছেন।

কাৎজ বলেন, ফিলিস্তিনিদের দীর্ঘস্থায়ী ইন্তিফাদার মতো পরিস্থিতিতে ইসরায়েল আর ফিরে যেতে চায় না।

 

ছুরিকাঘাতের ঘটনার পর হুঁশিয়ারি

পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলে নাবলুসের কাছে সাম্প্রতিক একটি ছুরিকাঘাতের ঘটনার পর কাৎজের এই বক্তব্য সামনে এলো।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে জানিয়েছে, উসারিন এলাকায় ছুরি হাতে এক ব্যক্তি একজন ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিককে আঘাত করে পালিয়ে যায়। হামলার পর ওই এলাকায় সেনা মোতায়েন করা হয় এবং সন্দেহভাজন হামলাকারীর সন্ধানে অভিযান শুরু করে আইডিএফ।

 

এ সময় আশপাশের কয়েকটি গ্রাম ঘিরে ফেলে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলেও জানিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

 

সূত্র: আরব নিউজ

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের চেয়ে ৩ গুণেরও বেশি বেতন সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রীর

সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওংয়ের বেতনসহ দেশটির মন্ত্রী ও শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের পারিশ্রমিক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন কাঠামো কার্যকর হলে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া রাজনৈতিক নেতা হিসেবে ওংয়ের আয় আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।   বর্তমানে লরেন্স ওং বছরে প্রায় ২২ লাখ সিঙ্গাপুরি ডলার পান। নতুন কাঠামো অনুযায়ী তার বার্ষিক বেতন প্যাকেজ বেড়ে প্রায় ৩৬ লাখ সিঙ্গাপুরি ডলারে দাঁড়াবে। অর্থাৎ তার পারিশ্রমিক ৬০ শতাংশের বেশি বাড়ছে।   তবে বর্ধিত বেতনের পুরো অর্থ নিজের জন্য রাখবেন না ওং। আগামী পাঁচ বছর বাড়তি অর্থ দাতব্য কাজে দান করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।   কেন বাড়ছে মন্ত্রীদের বেতন? মঙ্গলবার বেতন বৃদ্ধির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে ওং বলেন, দক্ষ ও মেধাবী ব্যক্তিদের রাজনীতিতে আকৃষ্ট করতে মন্ত্রীদের পারিশ্রমিক বাড়ানো প্রয়োজন। তার মতে, বেসরকারি খাতের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের যে আয়, তার সঙ্গে সরকারি বেতন প্রতিযোগিতা করতে পারে না। ফলে আর্থিক কারণে যোগ্য ব্যক্তিদের রাজনীতিতে আসার পথ কঠিন করা উচিত নয়।   সিঙ্গাপুর সরকার দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ বেতন কাঠামোর পক্ষে যুক্তি দিয়ে আসছে। তাদের দাবি, মন্ত্রীদের পর্যাপ্ত বেতন দিলে ঘুষ ও দুর্নীতির প্রলোভন কমে এবং যোগ্য ব্যক্তিদের সরকারি দায়িত্বে আকৃষ্ট করা সম্ভব হয়।   তবে নতুন করে বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশটির অভ্যন্তরে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চাকরির নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের মধ্যে মন্ত্রীদের পারিশ্রমিক বাড়ানোর বিষয়টি প্রশ্নের মুখে পড়েছে।   বিশ্বনেতাদের মধ্যে ওংয়ের অবস্থান: বেতন বৃদ্ধির আগেই লরেন্স ওং বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া রাজনৈতিক নেতা। নতুন কাঠামো কার্যকর হলে অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তার আয়ের ব্যবধান আরও বাড়বে।   বর্তমানে হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী জন লি বছরে প্রায় ৭ লাখ ১৯ হাজার মার্কিন ডলার এবং সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিন প্রায় ৬ লাখ ৬ হাজার ডলার বেতন পান।   অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বার্ষিক বেতন ৪ লাখ ডলার এবং ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের বেতন প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার ডলার।   মন্ত্রীদের বেতনও বাড়ছে: সিঙ্গাপুরের মন্ত্রীদের বর্তমান মূল বেতন প্যাকেজ প্রায় ১১ লাখ সিঙ্গাপুরি ডলার। নতুন কাঠামোয় তা বেড়ে প্রায় ১২ লাখ ডলার হবে। লরেন্স ওং আশা করছেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অধিকাংশ মন্ত্রীর বার্ষিক বেতন প্রায় ১৩ লাখ ৫০ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলারে পৌঁছাবে। দায়িত্ব ও দক্ষতার ভিত্তিতে তাদের পারিশ্রমিক সমন্বয় করা হবে। মন্ত্রীদের বেতন নির্ধারণে দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া হয়। এর মধ্যে বেকারত্বের হার, আয় বৃদ্ধি এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধির মতো সূচক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   দীর্ঘদিনের বিতর্ক: সিঙ্গাপুরে মন্ত্রীদের উচ্চ বেতন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে ক্ষমতায় থাকা পিপলস অ্যাকশন পার্টির (পিএপি) জন্য বিষয়টি সমালোচনার অন্যতম কারণ। ২০১১ সালের সাধারণ নির্বাচনে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম ভোট পেয়েছিল পিএপি। বিশ্লেষকদের মতে, মন্ত্রীদের বেতন ও অভিবাসন নীতি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ ওই ফলাফলে ভূমিকা রেখেছিল। এর পরের বছর সরকার মন্ত্রীদের বেতন কমিয়েছিল। লরেন্স ওংয়ের পূর্বসূরি লি সিয়েন লুংও ২০০৭ সালে কয়েক বছরের জন্য নিজের বর্ধিত বেতন দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সরকার অবশ্য দাবি করে আসছে, উচ্চ বেতনভিত্তিক কাঠামো সিঙ্গাপুরের দীর্ঘদিনের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতি ধারণা সূচকেও সিঙ্গাপুর নিয়মিতভাবে বিশ্বের সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় ওপরের দিকে অবস্থান করছে।   সূত্র: বিবিসি

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিম তীরে বড় ধরনের যুদ্ধের হুঁশিয়ারি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশসহ কয়েক দেশে ইসরায়েলিদের ভ্রমণে সতর্কতা

ছবি: সংগৃহীত

অবৈধ ইসরায়েলি বসতির পণ্যে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য

ছবি: সংগৃহীত
হরমুজে জাহাজ চলাচলে বড় ধস, এক সপ্তাহে কমেছে ২৮%

ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে গত এক সপ্তাহে জাহাজ চলাচল কমেছে ২৮ শতাংশ। গত সপ্তাহে এই নৌপথ দিয়ে চলাচল করেছে মাত্র ৭৭টি জাহাজ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, জাহাজ চলাচল ও সামুদ্রিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার এসব তথ্য জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, সর্বশেষ সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করা পণ্যবোঝাই জাহাজের সংখ্যা ৪৫ থেকে কমে ৩৩টিতে নেমে এসেছে।   কেপলার আরও জানিয়েছে, গত ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করা মোট ২৮টি জাহাজের মধ্যে ২১টিই ইরানের নির্ধারণ করে দেওয়া পথ (রুট) ধরে চলাচল করেছে। এসব জাহাজ হরমুজের প্রচলিত নৌপথ এড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে গত রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) হরমুজ পাড়ি দেওয়া আটটি জাহাজের মধ্যে সাতটিই ইরানের নির্ধারিত পথ ধরে চলেছে বলে জানিয়েছে কেপলার।   প্রতিষ্ঠানটির মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল কমে যাওয়া এবং হরমুজ পাড়ি দিতে জাহাজগুলোর ইরানের ঠিক করে দেওয়া নৌপথ ব্যবহারের ঘটনা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এতে স্পষ্ট বোঝা যায়, জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে চলমান যুদ্ধাবস্থার প্রভাব পড়েছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর সামগ্রিক বাণিজ্যে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এ পরিস্থিতিতে কেপলার বলছে, এখন দেখার বিষয় হলো—হরমুজ প্রণালি ঘিরে গত সপ্তাহের শেষ দিকে দেখা দেওয়া এ প্রবণতা স্থায়ী হয় কিনা।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। এর পর থেকেই তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক–পঞ্চমাংশ সাধারণত এ পথ দিয়েই পরিবহন করা হয়। এটার প্রভাব পড়েছে জ্বালানির বাজারে। বেড়ে গেছে দাম।   সূত্র: আলজাজিরা

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নিরাপত্তার জন্য কেবল যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করা যাবে না : কাতার

ছবি: সংগৃহীত

৩৬ হাজার ফুট ওপরে বিপদ, ইঞ্জিন বন্ধ করে যেভাবে নামল বিমান

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলি দূতাবাসের কাছে দুটি ফ্ল্যাট বিক্রির সঙ্গে যেভাবে উঠে এলো মোজতবা খামেনির নাম

ছবি: সংগৃহীত
ইরানের হামলায় সৌদি জাহাজে ক্ষয়ক্ষতি, ১৬ নাবিককে উদ্ধার করল ওমান

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের হামলার শিকার সৌদি পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজের ১৬ নাবিককে উদ্ধার করেছে ওমানের নৌবাহিনী। হামলার এক সপ্তাহ পর সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে ওমান। খবর গালফ নিউজের।   ওমানের মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রয়্যাল নেভি অব ওমানের একটি জাহাজ তেলবাহী জাহাজটির ২৫ সদস্যের ক্রুকে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা দিয়েছে। পাশাপাশি ১৬ নাবিককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে।   তবে বাকি নাবিকদের কী হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি ওমান কর্তৃপক্ষ। তবে হামলার ঘটনায় সিডর নামের ওই জাহাজটির দুই নাবিক নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।   সৌদি আরবের জাতীয় নৌপরিবহন প্রতিষ্ঠান বুধবার জানিয়েছিল, সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার সময় হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজটিতে হামলা চালানো হয়। এতে ফিলিপাইনের দুই নাবিক নিহত হন।   ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধের পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে ইরান জাহাজ চলাচলে বাধা দিচ্ছে। অন্যদিকে ইরানের বন্দরগুলোকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা অবরোধ অব্যাহত রয়েছে।   সূত্র : গালফ নিউজ

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশি ছাত্রীকে নিপীড়নের চেষ্টা, পালাতে গিয়ে ভবন থেকে পড়ে ভারতীয়ের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় দুই শিশুসহ নিহত ১১

ছবি: সংগৃহীত

দেশে ফিরলে বিমানবন্দরেই হত্যার আশঙ্কা শেখ হাসিনার

0 Comments