অস্ট্রেলিয়ার আসন্ন বিগ ব্যাশ লিগে (বিবিএল) বাংলাদেশের গতিদানব নাহিদ রানার অংশগ্রহণের জন্য ‘নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (এনওসি) পাওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)। সংস্থাটির একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ।
আসন্ন ডিসেম্বর ১২ থেকে জানুয়ারি ২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিবিএলের নতুন মৌসুমে অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স এবং মেলবোর্নভিত্তিক একটি ফ্র্যাঞ্চাইজিসহ বেশ কয়েকটি দল রানাকে দলে নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে বোর্ডের এক কর্মকর্তা বিষয়টি স্পষ্ট করে জানান, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আমরা দেখছি কিছু বিবিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি রানাকে পেতে বেশ আগ্রহী। কিন্তু তার পক্ষ থেকে এনওসির জন্য এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন আমরা পাইনি। যদি সে আবেদন করে, তবে বোর্ড বিষয়টি বিবেচনা করবে। তবে জাতীয় দলের ঠাসা আন্তর্জাতিক সূচির কারণে তাকে এনওসি দেওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।
বোর্ডের ওই কর্মকর্তা আরও জানান যে, সম্প্রতি গ্রেড-২ সাইড স্ট্রেইন ইনজুরি থেকে সেরে উঠেছেন এই ডানহাতি ফাস্ট বোলার। চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজেও তিনি খেলতে পারেননি।
কর্মকর্তা আরও যোগ করেন, সে (রানা) মাত্রই ইনজুরি থেকে ফিরেছে এবং আমাদের এই বিষয়ে কড়া নজর রাখতে হবে। কারণ তাঁর ফিটনেস এবং ওয়ার্কলোড ব্যবস্থাপনা আমাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
২৩ বছর বয়সী এই গতিদানব চলতি সপ্তাহের শুরুতেই বোলিং অনুশীলনে ফিরেছেন। সেপ্টেম্বরের এশিয়ান গেমসে তার খেলা হচ্ছে না। তবে অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাতে হতে যাওয়া আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরবেন বলে আশা করছে বিসিবি।
আফগানিস্তান সিরিজের পরপরই আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে অক্টোবর-নভেম্বরে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। এরপর নভেম্বর-ডিসেম্বরে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করবে জাতীয় দল, যেখানে দুটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া, সেপ্টেম্বরে নির্ধারিত ভারতের বাংলাদেশ সফর স্থগিত হয়ে আগামী বছরের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার গুঞ্জন থাকলেও তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি। নতুন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল এই সিরিজটি আয়োজনের ব্যাপারে আশাবাদী। একই সাথে আগামী বছরের শুরুর দিকে ইংল্যান্ড দলকেও দুটি টেস্ট ম্যাচের সিরিজের জন্য আতিথেয়তা দেবে বাংলাদেশ।
সূত্র: ক্রিকবাজ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
নারী এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হারের হতাশা তো ছিলই, এবার সেই চরম বিপর্যয়ের মধ্যে যোগ হলো আরেক দুঃসংবাদ। স্লো ওভার রেটের কারণে আইসিসির শাস্তির মুখে পড়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। নির্ধারিত সময়ে ১ ওভার কম বোলিং করার অপরাধে ম্যাচ ফির ৫ শতাংশ জরিমানা গুণতে হচ্ছে জ্যোতিদের। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) এই শাস্তির কথা নিশ্চিত করেছে। দুবাইয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ‘বি’ গ্রুপের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১ ওভার পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ। আইসিসির এমিরেটস ম্যাচ রেফারি প্যানেলের সদস্য জি এস লক্ষ্মী অতিরিক্ত সময়ের হিসাব কষেও বাংলাদেশকে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং শাস্তির সুপারিশ জানান। আইসিসির আচরণবিধির ২.২২ ধারা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওভার শেষ করতে ব্যর্থ হলে প্রতি ওভারের জন্য দলের সব খেলোয়াড়ের ম্যাচ ফির ৫ শতাংশ কেটে নেওয়া হয়। টাইগ্রেস অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি নিজের ভুল স্বীকার করে নিয়ে শাস্তি মেনে নেওয়ায় কোনো আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন পড়েনি। তবে জরিমানার এই অনাকাঙ্ক্ষিত খবরের চেয়েও বাংলাদেশ শিবিরের জন্য বড় চিন্তা এখন সেমিফাইনালের জটিল সমীকরণ। বাঁচা-মরার লড়াইয়ে আজ রাতেই আয়োজক দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ‘এ’ গ্রুপ থেকে ইতোমধ্যে ভারত ও পাকিস্তান শেষ চারের টিকিট কেটে ফেলেছে, আর ‘বি’ গ্রুপ থেকে দৌড়ে এগিয়ে গেছে শ্রীলঙ্কা। ফলে এশিয়া কাপের সেমিফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে আমিরাতের বিরুদ্ধে জয়ের কোনো বিকল্প নেই জ্যোতিদের সামনে!
কিলিয়ান এমবাপের ক্যারিয়ারে ব্যক্তিগত অর্জনের তালিকা দিন দিন সমৃদ্ধ হচ্ছে। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে দুর্দান্ত গোলস্কোরিং পারফরম্যান্সের পর বিশ্বকাপেও গড়েছেন নতুন রেকর্ড। তবে এখনো তার ট্রফি ক্যাবিনেটে নেই ব্যালন ডি’অর। এবার সেই পুরস্কার জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ফরাসি তারকা। গত মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ৪৪ ম্যাচে ৪২ গোল করেছেন এমবাপে। দলীয়ভাবে অবশ্য মৌসুমটি প্রত্যাশামতো কাটেনি; বড় কোনো শিরোপা ছাড়াই শেষ হয়েছে তাদের অভিযান। এরপর ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপে দারুণ পারফরম্যান্স দেখান তিনি। টুর্নামেন্টে ১০ গোল করে গোল্ডেন বুট জেতার পাশাপাশি বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ২২-এ নিয়ে যান এমবাপে। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডও নিজের করে নেন তিনি। যদিও তার দল ফ্রান্স শেষ পর্যন্ত চতুর্থ হয়ে প্রতিযোগিতা শেষ করে। বিশ্বকাপের এমন পারফরম্যান্সের পর ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে এমবাপের অবস্থানও শক্ত হয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড় হিসেবে এই পুরস্কারের আলোচনায় থাকা স্বাভাবিক বলেই মনে করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে এমবাপে বলেন, রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবে খেললে ব্যালন ডি’অর নিয়ে আলোচনা হওয়াটা স্বাভাবিক। বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় তিনি ইতিহাস তৈরি করেছেন উল্লেখ করে ফরাসি তারকা বলেন, এ বছর পুরস্কারটি তার হাতে উঠতেও পারে। তবে শেষ সিদ্ধান্ত ভোটারদের ওপরই নির্ভর করবে বলে জানান তিনি। নিজের সামর্থ্য নিয়েও বেশ আত্মবিশ্বাসী এমবাপে। তার মতে, তিনি সব সময়ই নিজেকে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় মনে করেন। তবে ফুটবল নিয়ে প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব মতামত থাকায় এ বিষয়ে বিতর্কে যেতে চান না তিনি। ব্যালন ডি’অরে এমবাপের এখন পর্যন্ত সেরা সাফল্য তৃতীয় স্থান। ২০২৩ সালে পিএসজির হয়ে খেলার সময় তিনি এই অবস্থান অর্জন করেছিলেন। এবার অবশ্য পুরস্কারটির দৌড়ে তাকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বুকিদের হিসাব অনুযায়ী, এমবাপের সামনে রয়েছেন অন্তত তিনজন বড় দাবিদার। তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন। গত মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ৫১ ম্যাচে ৬১ গোল করেন তিনি। এই পারফরম্যান্সে বায়ার্নকে জার্মান ঘরোয়া ডাবল জেতাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন কেইন। বিশ্বকাপেও তার গোলসংখ্যা ছিল ছয়। ফেভারিটদের তালিকায় এরপর রয়েছেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল। লা লিগা ও বিশ্বকাপজয়ী এই ফুটবলারের পরের অবস্থানে রয়েছেন তার ক্লাব ও জাতীয় দলের সতীর্থ রদ্রি, যিনি এর আগে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে খেলেছেন। আগামী ২৬ অক্টোবর এবারের ব্যালন ডি’অরজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে। এমবাপের দুর্দান্ত ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান তাকে পুরস্কারের অন্যতম আলোচিত প্রার্থী করে তুললেও শেষ হাসি কে হাসবেন, সেটি জানতে অপেক্ষা করতে হবে ঘোষণার দিন পর্যন্ত।
প্রায় পাঁচ বছর আগে পাকিস্তান তাদের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সবচেয়ে বড় জয় পেয়েছিল। ভারতকে ১০ উইকেটে হারিয়েছিল তারা গ্রুপের ম্যাচে। তারপর! পাকিস্তানের অধঃপতনের শুরু। সাবেক পাকিস্তানি অধিনায়ক মোহাম্মদ ইউসুফের বিশ্বাস, দলের বর্তমান সমস্যার অন্যতম কারণ সেই ঐতিহাসিক জয়। ইউসুফের ব্যাখ্যা, ওই জয়ের পর খেলোয়াড়রা ভাবতে শুরু করেছিল তারা বড় কিছু অর্জন করে ফেলেছে এবং নেতৃত্বের লড়াই ড্রেসিংরুমের মধ্যে সমস্যা তৈরি করেছিল। বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ান কোনো উইকেট না হারিয়ে ১৫২ রানের জুটি গড়ে দলকে জেতান। সেই জয়ই আসলে পাকিস্তানের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে মনে করেন ইউসুফ। সামা টিভি-কে সাবেক পাকিস্তানি ব্যাটার বলেন, ‘২০২১ সালে ভারতের বিপক্ষে আমাদের জেতা সেই ম্যাচ অনেক ক্ষতি করেছে আমাদের। কারণ ওই জয়ের পর খেলোয়াড়রা ভাবছিল তারা বড় কিছু অর্জন করেছে। তারা বুঝতে পারেনি, পরবর্তীতে তাদের কী করতে হতো?’ তিনি বলে গেলেন, ‘যখন আপনি ভালো পারফরম্যান্স করছেন, তখন আপনার বিনয়ী থাকা উচিত। যদি আপনি উদ্ধত আচরণ করেন এবং অসম্মানজন হতে থাকেন, তাহলে সমস্যা আসবেই। পাকিস্তান ক্রিকেটেও সমস্যাগুলো এসেছে।’ অধিনায়কত্বও সমস্যা তৈরি করছে মনে করেন ইউসুফ, ‘দলে থাকা সবাই পাকিস্তান দলে অধিনায়ক হওয়ার চেষ্টা করছে। এর পরিণতি এখনও পাকিস্তান ক্রিকেটকে ভোগাচ্ছে। ক্রিকেটে বিপর্যয় চলছে। পিসিবি পাশে দাঁড়াচ্ছে। অনেক কোচ আসছে, যাচ্ছে। পাকিস্তান দলকে সাহায্যের জন্য অনেক কিছু পাল্টে যাচ্ছে। কিন্তু কোনো খেলোয়াড় দাঁড়াচ্ছেন না এবং দায়িত্ব নিচ্ছে না।’