দিনাজপুরে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ডিভাইসসহ ১৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রক্সি দিতে এসে দুজনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় ১৬টি ডিভাইস জব্দ করা হয়।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দিনাজপুরে মোট ৪৫টি পরীক্ষা কেন্দ্রের মধ্যে ১১টি কেন্দ্র থেকে ১৮ জনকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, আটকদের মধ্যে দিনাজপুরে মোট ৪৫টি পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ছিল ৩৩ হাজার ৮৫৬ জন। বিকাল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় দিনাজপুর ক্রিসেন্ট কিন্ডারগার্টেন গার্লস হাই স্কুল থেকে দুজন, দিনাজপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে একজন, কাদের বক্স মেমোরিয়াল কলেজ (কেবিএম) থেকে দুজন, দিনাজপুর কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে একজন, দিনাজপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে একজন, দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজ থেকে একজন, দিনাজপুর জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে একজন, দিনাজপুর মিউনিসিপ্যাল হাইস্কুল (বাংলা স্কুল) থেকে একজন, দিনাজপুর নূরজাহান কামিল মাদরাসা থেকে চারজন, দিনাজপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে একজন, কেরি মেমোরিয়াল হাই স্কুল থেকে একজনকে ডিভাইসহ আটক করা হয়।
এ ছাড়া কাদের বক্স মেমোরিয়াল কলেজ (কেবিএম) কেন্দ্রে প্রক্সি দিতে আসা দুজনকে আটক করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন (ক্রাইম) বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে আটককৃত পরীক্ষার্থীদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। আমরা এই চক্রটিকে ধরার জন্য কাজ করছি। আমাদের কাছে ডিভাইস ব্যবহারের কৌশল আগে থেকেই জানা ছিল। তাদেরকে পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে আটক করা হয়েছে।
আটকদের বিরুদ্ধে পাবলিক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ফেনীর দাগনভূঞায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে মোসলেহ উদ্দিন জনি (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের পূর্ব জয়নারায়ণপুর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জনি ওই এলাকার মৃত মো. মোস্তফার ছেলে। স্থানীয় সূত্র জানায়, জনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে নিয়ে একাধিক আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ পোস্ট করেন। বিষয়টি স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীদের নজরে এলে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সোমবার বিকেলে জনি নিজ বাড়ির সামনে অবস্থান করছেন- এমন খবর পেয়ে রাজাপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, আশিক, রনি ও পলাশের নেতৃত্বে স্থানীয় যুবকরা তাকে ঘেরাও করে আটক করে। পরে তাকে একটি ঘরের গ্রিলের সঙ্গে বেঁধে রেখে থানায় খবর দেন। একপর্যায়ে দাগনভূঞা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়। গ্রেপ্তারের পর ধারণ করা একটি ভিডিওতে জনিকে বলতে দেখা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া স্ক্রিনশটটি এডিট করা হয়েছে। তবে ব্যবহৃত ফেসবুক আইডিটি তার এবং যে মোবাইল ফোন থেকে পোস্ট করা হয়েছে সেটিও তার বলে তিনি স্বীকার করেছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, জনি রাজাপুর আলিম মাদরাসা থেকে ২০২১ সালে দাখিল পাস করার পর আর পড়াশোনা করেননি। বর্তমানে তিনি বেকার। এছাড়া অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনামূলক পোস্ট করতেন বলেও জানা গেছে। দাগনভূঞা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম বলেন, ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ পোস্ট করার অভিযোগে জনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি পুলিশের নজরে আসার পরই অভিযান চালানো হয়। এতে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সহায়তা নেওয়া হয়েছে। তবে ঘরের গ্রিলের সঙ্গে বেঁধে রাখার বিষয়টি সঠিক নয়। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
বিশ্ব বাণিজ্যের মানচিত্রে যখন একের পর এক বন্দর যুদ্ধ, জ্বালানি সংকট ও সরবরাহ শৃঙ্খলের অস্থিরতায় ধাক্কা খাচ্ছে, তখন বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর দেখিয়েছে ভিন্ন এক গল্প। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার চাপকে অতিক্রম করে কনটেইনার হ্যান্ডলিং, কার্গো পরিবহন, জাহাজ পরিচালনা এবং রাজস্ব আয়ে একযোগে রেকর্ড গড়ে বন্দরটি প্রমাণ করেছে- দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিকায়ন থাকলে সংকটও হতে পারে সাফল্যের সুযোগ। বিশ্বের অনেক আঞ্চলিক বন্দরে যেখানে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখাই চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে, সেখানে চট্টগ্রাম বন্দর শুধু প্রবৃদ্ধিই অর্জন করেনি; বরং ইতিহাসের সর্বোচ্চ কনটেইনার হ্যান্ডলিং, সর্বোচ্চ জাহাজ পরিচালনা এবং সর্বোচ্চ রাজস্ব উদ্বৃত্তের রেকর্ড গড়ে দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করেছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এক বছরে বন্দরের রাজস্ব উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২৮৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, যা সাম্প্রতিক বছরের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বন্দরের অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধির পেছনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং লজিস্টিক সমন্বয়কে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বন্দর সংশ্লিষ্টদের মতে, কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের চাপ বাড়লেও কার্যকর পরিকল্পনা ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার কারণে সার্বিক কার্যক্রমে গতি বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। বন্দর সূত্র জানায়, ২০২৫ সালে আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন এবং টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের ফলে জাহাজ ঘোরাঘুরি সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। বছরের বিভিন্ন সময়ে এমন পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে যেখানে একাধিক দিন জাহাজের গড় অবস্থান সময় প্রায় শূন্যের কাছাকাছি ছিল, যা বন্দরের ইতিহাসে অন্যতম সেরা অপারেশনাল সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের পর উৎপাদনশীলতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড দায়িত্ব নেওয়ার পর কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রায় ১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বন্দর সূত্রে জানা গেছে। একই সময়ে ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনায় উন্নয়নের ফলে ধারণ ক্ষমতাও আগের তুলনায় বেড়েছে। কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ করে বাল্ক কার্গোর পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। এক বছরে বাল্ক কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে ১৩ শতাংশেরও বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা শিল্প ও আমদানি খাতে চাহিদা বৃদ্ধির ইঙ্গিত বহন করছে। বন্দর সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত সময়ে বন্দরের মোট আয় ছিল ৪ হাজার ৯৫২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। একই সময়ের পরবর্তী অর্থবছরে (২০২৫-২৬ জুলাই থেকে মে) আয় বেড়ে দাঁড়ায় ৬ হাজার ৭৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বন্দরের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ২২ শতাংশ। একইসঙ্গে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে রাজস্ব উদ্বৃত্ত উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই সময়ে বন্দরটির রাজস্ব উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২৮৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। কর, ভ্যাট ও অন্যান্য সরকারি ব্যয় পরিশোধের পর নিট উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২২৮ কোটি টাকা। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক চাপের মধ্যেও এমন প্রবৃদ্ধি বন্দরের দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও কার্যকর নীতি-নির্ধারণের প্রতিফলন। গত পাঁচ বছরের আর্থিক পরিসংখ্যানেও ধারাবাহিক উন্নতির চিত্র পাওয়া গেছে। ২০২৫ সালে বন্দরের রাজস্ব আয় ছিল ৫ হাজার ৪৬০ কোটি ১৮ লাখ টাকা এবং ব্যয় ছিল ২ হাজার ৩১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ওই বছর রাজস্ব উদ্বৃত্ত দাঁড়ায় ৩ হাজার ১৪২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যা পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২৪ সালে রাজস্ব উদ্বৃত্ত ছিল ২ হাজার ৯২৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা, ২০২৩ সালে ২ হাজার ১৪৩ কোটি ১১ লাখ টাকা, ২০২২ সালে ১ হাজার ৭৩৪ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং ২০২১ সালে ১ হাজার ৬৩৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা রাজস্ব উদ্বৃত্ত অর্জিত হয়। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কঠোর আর্থিক শৃঙ্খলা, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হ্রাসের ফলে গত দুই বছরে রাজস্ব ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি এক অঙ্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হয়েছে। ২০২৫ সালে ব্যয় প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ছিল ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। এর বিপরীতে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। বন্দর সূত্র আরও জানায়, গত পাঁচ বছরে চট্টগ্রাম বন্দর সরকারি কোষাগারে মোট ৭ হাজার ৫৮০ কোটি ২০ লাখ টাকা জমা দিয়েছে। এরমধ্যে কর হিসেবে ৩ হাজার ৫৫৩ কোটি ৮ লাখ টাকা, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) হিসেবে ৩ হাজার ৪২৭ কোটি ১২ লাখ টাকা এবং কর-বহির্ভূত আয় (এনটিআর) হিসেবে ৬০০ কোটি টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। এটি জাতীয় রাজস্ব আহরণেও বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রতিফলন। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোট ৩৪ লাখ ৯ হাজার ৬৯ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। ২০২৪ সালে ছিল ৩২ লাখ ৭৫ হাজার ৬২৭ টিইইউস। এক বছরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং বেড়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪৪২ টিইইউস, প্রবৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ০৭ শতাংশ। এটি বন্দরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ কনটেইনার হ্যান্ডলিং রেকর্ড। একই বছরে আমদানি-রপ্তানি কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ১৩ কোটি ৮১ লাখ ৫১ হাজার ৮১২ মেট্রিক টন, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ২০২৪ সালে এই পরিমাণ ছিল ১২ কোটি ৩৯ হাজার ৮৩ হাজার ১৪ মেট্রিক টন। অর্থাৎ এক বছরে প্রায় ১ কোটি ৪১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৯৮ মেট্রিক টন বেশি পণ্য হ্যান্ডলিং হয়েছে, যা দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের বিস্তৃতি নির্দেশ করে। জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রেও রেকর্ড তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালে মোট ৪ হাজার ২৭৩টি জাহাজ পরিচালনা করা হয়েছে। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৮৫৭টি। অর্থাৎ এক বছরে ৪০৬টি জাহাজ বেশি পরিচালিত হয়েছে, প্রবৃদ্ধির হার ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ। কনটেইনার, কার্গো ও জাহাজ- তিনটি ক্ষেত্রেই এটি বন্দরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ কর্মক্ষমতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বন্দর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনতে অনলাইন ই-মুট পাস, অনলাইন বিল জেনারেশন এবং ই-পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এতে কার্যক্রমে গতি যেমন বেড়েছে, তেমনি স্বচ্ছতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর একদিনেই সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৭৬১টি ই-মুট পাস ইস্যু করা হয়, যা ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার একটি নতুন রেকর্ড। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ইউএস কোস্ট গার্ডের পরিদর্শনে ইতিবাচক স্বীকৃতি পাওয়ায় বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত হয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে ৭০ হাজার বর্গমিটার ইয়ার্ড নির্মাণ, আধুনিক হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্ট সংযোজন এবং লজিস্টিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ চলমান রয়েছে। এসব উদ্যোগ বন্দরের ধারণক্ষমতা ও দ্রুত সেবা প্রদানের সক্ষমতা আরও বাড়িয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্প এবং ১৩ হাজার ৫২৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে বে-টার্মিনাল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বন্দর আঞ্চলিক ট্রান্সশিপমেন্ট হাবে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অংশীজনদের সহযোগিতার ফলে বন্দরের কার্যক্রমে এই রেকর্ড অর্জিত হয়েছে। টার্নঅ্যারাউন্ড সময় কমানো, বার্থ ব্যবহারের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল ব্যবস্থার সম্প্রসারণের মাধ্যমে বন্দরের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশের রপ্তানি খাতের সম্প্রসারণ, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পের প্রবৃদ্ধি বন্দরের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করেছে। বন্দর, কাস্টমস, শিপিং এজেন্ট, টার্মিনাল অপারেটর এবং পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় চট্টগ্রাম বন্দর দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা ও সেবার মানে নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে। পরিসংখ্যান বিশ্লেষকরা বলছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সাফল্যের গুরুত্ব বোঝার জন্য বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা জরুরি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপের বেশ কয়েকটি বন্দর রেড সি সংকট ও সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘ্নে কার্যক্রমে চাপের মুখে পড়ে। এশিয়ার বহু বন্দরে জাহাজজট ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণে অপারেশনাল চ্যালেঞ্জ দেখা দেয়। এমন বাস্তবতায় চট্টগ্রাম বন্দর জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম কমিয়ে, ইয়ার্ড সক্ষমতা বাড়িয়ে এবং ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে উল্টো উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বছরে ৩৪ লাখের বেশি টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর এখন দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোর কাতারে আরও দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর ও বে-টার্মিনাল বাস্তবায়িত হলে এটি শুধু বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানির কেন্দ্রই নয়, বরং বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের একটি আঞ্চলিক ট্রান্সশিপমেন্ট হাবেও পরিণত হতে পারে।
জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির পুলিশের দোষ খুঁজে পেয়েছে। রোববার চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ-সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর কাছে এ প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এ ঘটনায় যারা দোষী তাদের চিহ্নিত করেছে তদন্ত কমিটি। যাদের বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল তার বাইরেও কিছু পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে কমিটি বেশ কিছু সুপারিশ করেছে বলেও জানিয়েছে সিএমপি কমিশনার। গত ১২ জুন রাতে নগরীর লালখান বাজার মোড়ে অটো রিকশা আটকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে খুলশী থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এসময় তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠে। ওই দিন ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশনের ম্যাচ খেলে বিমানে চট্টগ্রাম এসেছিলেন নাঈম হাসান। বিমানবন্দর থেকে অটো রিকশা করে চান্দগাঁও এলাকায় নিজের বাসায় যাওয়ার পথে তাকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। পরে ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তাদের ফোন পেয়েও নড়েচড়ে বসে পুলিশ। তার পরিবারের সদস্য এবং পুলিশের ঊর্দ্ধতনরা থানায় গিয়ে তাকে ছাড়িয়ে আনেন। পরদিন দুপুরে দিকে নগরীর বহদ্দারহাট ফরিদার পাড়া এলাকায় নাঈম হাসানের বাসায় গিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযানে থাকা খুলশী থানা পুলিশের এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করে ও খুলশী থানার ওসি আরিফ হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়। ঘটনা তদন্তে নগর পুলিশের উপ কমিশনার (পশ্চিম) আলমগীর হোসেনকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটির গঠন করেন সিএমপি কমিশনার। গেল ১৮ জুন কমিটি প্রতিবেদন দেয়ার কথা থাকলেও কমিশনার কমিটিকে আরও চার কার্যদিবস সময় দেন। সে সময় শেষ হওয়ার পর রোববার কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এ ঘটনায় নাঈম হাসানের ভাই কামরুল আলম দুই পুলিশ সদস্য ও সোর্স সোহেলকে আসামি করে মামলা করেছিলেন।