বিশ্ব বাণিজ্যের মানচিত্রে যখন একের পর এক বন্দর যুদ্ধ, জ্বালানি সংকট ও সরবরাহ শৃঙ্খলের অস্থিরতায় ধাক্কা খাচ্ছে, তখন বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর দেখিয়েছে ভিন্ন এক গল্প। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার চাপকে অতিক্রম করে কনটেইনার হ্যান্ডলিং, কার্গো পরিবহন, জাহাজ পরিচালনা এবং রাজস্ব আয়ে একযোগে রেকর্ড গড়ে বন্দরটি প্রমাণ করেছে- দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিকায়ন থাকলে সংকটও হতে পারে সাফল্যের সুযোগ।
বিশ্বের অনেক আঞ্চলিক বন্দরে যেখানে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখাই চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে, সেখানে চট্টগ্রাম বন্দর শুধু প্রবৃদ্ধিই অর্জন করেনি; বরং ইতিহাসের সর্বোচ্চ কনটেইনার হ্যান্ডলিং, সর্বোচ্চ জাহাজ পরিচালনা এবং সর্বোচ্চ রাজস্ব উদ্বৃত্তের রেকর্ড গড়ে দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এক বছরে বন্দরের রাজস্ব উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২৮৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, যা সাম্প্রতিক বছরের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বন্দরের অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধির পেছনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং লজিস্টিক সমন্বয়কে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বন্দর সংশ্লিষ্টদের মতে, কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের চাপ বাড়লেও কার্যকর পরিকল্পনা ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার কারণে সার্বিক কার্যক্রমে গতি বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।
বন্দর সূত্র জানায়, ২০২৫ সালে আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন এবং টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের ফলে জাহাজ ঘোরাঘুরি সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। বছরের বিভিন্ন সময়ে এমন পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে যেখানে একাধিক দিন জাহাজের গড় অবস্থান সময় প্রায় শূন্যের কাছাকাছি ছিল, যা বন্দরের ইতিহাসে অন্যতম সেরা অপারেশনাল সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের পর উৎপাদনশীলতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড দায়িত্ব নেওয়ার পর কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রায় ১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বন্দর সূত্রে জানা গেছে। একই সময়ে ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনায় উন্নয়নের ফলে ধারণ ক্ষমতাও আগের তুলনায় বেড়েছে।
কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ করে বাল্ক কার্গোর পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। এক বছরে বাল্ক কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে ১৩ শতাংশেরও বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা শিল্প ও আমদানি খাতে চাহিদা বৃদ্ধির ইঙ্গিত বহন করছে।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত সময়ে বন্দরের মোট আয় ছিল ৪ হাজার ৯৫২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। একই সময়ের পরবর্তী অর্থবছরে (২০২৫-২৬ জুলাই থেকে মে) আয় বেড়ে দাঁড়ায় ৬ হাজার ৭৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বন্দরের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ২২ শতাংশ। একইসঙ্গে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে রাজস্ব উদ্বৃত্ত উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এই সময়ে বন্দরটির রাজস্ব উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২৮৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। কর, ভ্যাট ও অন্যান্য সরকারি ব্যয় পরিশোধের পর নিট উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২২৮ কোটি টাকা। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক চাপের মধ্যেও এমন প্রবৃদ্ধি বন্দরের দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও কার্যকর নীতি-নির্ধারণের প্রতিফলন।
গত পাঁচ বছরের আর্থিক পরিসংখ্যানেও ধারাবাহিক উন্নতির চিত্র পাওয়া গেছে। ২০২৫ সালে বন্দরের রাজস্ব আয় ছিল ৫ হাজার ৪৬০ কোটি ১৮ লাখ টাকা এবং ব্যয় ছিল ২ হাজার ৩১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ওই বছর রাজস্ব উদ্বৃত্ত দাঁড়ায় ৩ হাজার ১৪২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যা পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২৪ সালে রাজস্ব উদ্বৃত্ত ছিল ২ হাজার ৯২৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা, ২০২৩ সালে ২ হাজার ১৪৩ কোটি ১১ লাখ টাকা, ২০২২ সালে ১ হাজার ৭৩৪ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং ২০২১ সালে ১ হাজার ৬৩৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা রাজস্ব উদ্বৃত্ত অর্জিত হয়।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কঠোর আর্থিক শৃঙ্খলা, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হ্রাসের ফলে গত দুই বছরে রাজস্ব ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি এক অঙ্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হয়েছে। ২০২৫ সালে ব্যয় প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ছিল ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। এর বিপরীতে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।
বন্দর সূত্র আরও জানায়, গত পাঁচ বছরে চট্টগ্রাম বন্দর সরকারি কোষাগারে মোট ৭ হাজার ৫৮০ কোটি ২০ লাখ টাকা জমা দিয়েছে। এরমধ্যে কর হিসেবে ৩ হাজার ৫৫৩ কোটি ৮ লাখ টাকা, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) হিসেবে ৩ হাজার ৪২৭ কোটি ১২ লাখ টাকা এবং কর-বহির্ভূত আয় (এনটিআর) হিসেবে ৬০০ কোটি টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। এটি জাতীয় রাজস্ব আহরণেও বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রতিফলন।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোট ৩৪ লাখ ৯ হাজার ৬৯ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। ২০২৪ সালে ছিল ৩২ লাখ ৭৫ হাজার ৬২৭ টিইইউস। এক বছরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং বেড়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪৪২ টিইইউস, প্রবৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ০৭ শতাংশ। এটি বন্দরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ কনটেইনার হ্যান্ডলিং রেকর্ড।
একই বছরে আমদানি-রপ্তানি কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ১৩ কোটি ৮১ লাখ ৫১ হাজার ৮১২ মেট্রিক টন, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ২০২৪ সালে এই পরিমাণ ছিল ১২ কোটি ৩৯ হাজার ৮৩ হাজার ১৪ মেট্রিক টন। অর্থাৎ এক বছরে প্রায় ১ কোটি ৪১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৯৮ মেট্রিক টন বেশি পণ্য হ্যান্ডলিং হয়েছে, যা দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের বিস্তৃতি নির্দেশ করে।
জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রেও রেকর্ড তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালে মোট ৪ হাজার ২৭৩টি জাহাজ পরিচালনা করা হয়েছে। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৮৫৭টি। অর্থাৎ এক বছরে ৪০৬টি জাহাজ বেশি পরিচালিত হয়েছে, প্রবৃদ্ধির হার ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ। কনটেইনার, কার্গো ও জাহাজ- তিনটি ক্ষেত্রেই এটি বন্দরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ কর্মক্ষমতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বন্দর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনতে অনলাইন ই-মুট পাস, অনলাইন বিল জেনারেশন এবং ই-পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এতে কার্যক্রমে গতি যেমন বেড়েছে, তেমনি স্বচ্ছতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর একদিনেই সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৭৬১টি ই-মুট পাস ইস্যু করা হয়, যা ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার একটি নতুন রেকর্ড।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ইউএস কোস্ট গার্ডের পরিদর্শনে ইতিবাচক স্বীকৃতি পাওয়ায় বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত হয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে ৭০ হাজার বর্গমিটার ইয়ার্ড নির্মাণ, আধুনিক হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্ট সংযোজন এবং লজিস্টিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ চলমান রয়েছে। এসব উদ্যোগ বন্দরের ধারণক্ষমতা ও দ্রুত সেবা প্রদানের সক্ষমতা আরও বাড়িয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্প এবং ১৩ হাজার ৫২৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে বে-টার্মিনাল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বন্দর আঞ্চলিক ট্রান্সশিপমেন্ট হাবে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অংশীজনদের সহযোগিতার ফলে বন্দরের কার্যক্রমে এই রেকর্ড অর্জিত হয়েছে। টার্নঅ্যারাউন্ড সময় কমানো, বার্থ ব্যবহারের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল ব্যবস্থার সম্প্রসারণের মাধ্যমে বন্দরের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের রপ্তানি খাতের সম্প্রসারণ, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পের প্রবৃদ্ধি বন্দরের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করেছে। বন্দর, কাস্টমস, শিপিং এজেন্ট, টার্মিনাল অপারেটর এবং পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় চট্টগ্রাম বন্দর দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা ও সেবার মানে নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষকরা বলছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সাফল্যের গুরুত্ব বোঝার জন্য বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা জরুরি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপের বেশ কয়েকটি বন্দর রেড সি সংকট ও সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘ্নে কার্যক্রমে চাপের মুখে পড়ে। এশিয়ার বহু বন্দরে জাহাজজট ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণে অপারেশনাল চ্যালেঞ্জ দেখা দেয়। এমন বাস্তবতায় চট্টগ্রাম বন্দর জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম কমিয়ে, ইয়ার্ড সক্ষমতা বাড়িয়ে এবং ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে উল্টো উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সক্ষম হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বছরে ৩৪ লাখের বেশি টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর এখন দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোর কাতারে আরও দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর ও বে-টার্মিনাল বাস্তবায়িত হলে এটি শুধু বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানির কেন্দ্রই নয়, বরং বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের একটি আঞ্চলিক ট্রান্সশিপমেন্ট হাবেও পরিণত হতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
গাজীপুরের টঙ্গীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আগুন নেভাতে সহযোগিতায় নেমেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এ ছাড়া আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ১৬টি ইউনিট কাজ করছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে সেনাবাহিনীর একটি দল তাদের নিজস্ব পানির টাংক নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এর আগে ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রাশেদ বিন খালিদ জানান, আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের ১৬ ইউনিট কাজ করছে। আরও ৩টি ইউনিট রাস্তায় রয়েছে। সড়কে শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে যোগ দিতে দেরি হচ্ছে। এর আগে একই দিন সকাল সোয়া ১০টার দিকে কারখানাটিতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। আগুনের তীব্রতা বিবেচনায় অতিরিক্ত ইউনিট পাঠানো হচ্ছে। এদিকে ওষুধ কারখানায় আগুন লাগার ঘটনায় আশপাশের এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে আগুনের সূত্রপাত, ক্ষতির পরিমাণ এবং হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেছে কিনা, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার প্রতিবাদ এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে বাংলা বিভাগের আয়োজনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলা ভাষা-সাহিত্য পরিষদের সহসভাপতি সাইফুল মালেক আকাশ কর্মসূচিটি সঞ্চালনা করেন। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন ও সিন্ডিকেট সদস্য বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. শামসুজ্জামান মিলকী, বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. গোলাম মাওলাসহ বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘বিচারের নামে প্রহসন, মানি না মানবো না’ এবং ‘বিচার বিচার বিচার চাই, অপ্রতিম হত্যার বিচার চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। মানববন্ধনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, অভিযুক্তদের প্রকৃত বয়স নির্ধারণ এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। বিচার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তাঁরা। বাংলা বিভাগের ১৮তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মোসাব আহমেদ সোহাগ বলেন, অপরাধীদের কিশোর হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আমরা চাই, বায়োলজিক্যাল টেস্টের মাধ্যমে তাদের প্রকৃত বয়স নির্ধারণ করে বিচারের আওতায় আনা হোক। বিভাগের ১৬তম আবর্তনের শিক্ষার্থী শানীন অশ্রু বলেন, অভিযুক্তরা ১৮ বছরের নিচে হলেও প্রচলিত আইন পরিবর্তন করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আমরা চাই, এই হত্যাকাণ্ডের কোনো অপরাধী যেন আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে পার পেয়ে না যায়। অধ্যাপক ড. শামসুজ্জামান মিলকী বলেন, যেখানে আমরা আজ মানববন্ধন করছি, সেখানে অপ্রতিমের বাবাকে আদালতে ঘুরতে হচ্ছে। যত দিন এই বিচার নিষ্পত্তি না হবে, যত দিন আমরা অপ্রতিম হত্যার বিচার না পাব, তত দিন আমরা রাস্তায় দাঁড়াব। বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. গোলাম মাওলা বলেন, বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। আমাদের সন্তানেরা মারা যাচ্ছে, কিন্তু আমরা এর যথার্থ বিচার পাচ্ছি না। আমরা যদি একটি সুষ্ঠু সমাজ নির্মাণ করতে চাই, তাহলে বিচারপ্রক্রিয়া সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
রাজধানী ঢাকার সঙ্গে মুন্সীগঞ্জের চার উপজেলার মানুষের যোগাযোগ সহজ করতে ধলেশ্বরীর শাখা নদীর ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে মোল্লাবাজার সেতু। ২০১৮ সালে শুরু হওয়া ২৫২ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের ডিসেম্বরে। পরে সময় বাড়িয়ে ২০২২ সাল পর্যন্ত করা হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়নি। এরই মধ্যে পেরিয়ে গেছে প্রায় ৯ বছর, পরিবর্তন হয়েছে তিনটি সরকার। কিন্তু ২০২৬ সালের অক্টোবরেও সেতুটি চালু করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, নির্মাণকাজের অগ্রগতি প্রায় ৮০ শতাংশ একটু বেশি। বাকি কাজ কবে শেষ হবে, তা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সেতুটি চালু হলে সিরাজদীখান, টঙ্গিবাড়ী, লৌহজং ও মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মানুষের রাজধানীতে যাতায়াত আরও সহজ হবে। যানজট এড়িয়ে অল্প সময়ে ঢাকায় পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে। অথচ বছরের পর বছর ধরে চলা নির্মাণকাজের ধীরগতিতে সেই প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না। সেতুটি নির্মাণে একদিকে বাড়ছে সময়, অন্যদিকে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে সেতুর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য নির্মিত সড়কের সম্ভাবনাও। সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর মূল কাঠামোর কিছু কাজ সম্পন্ন হলেও মাঝের স্প্যানের ওপর ঢালাইসহ বিভিন্ন কাজ বাকি রয়েছে। সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ও আনুষঙ্গিক কাজও এখনো শেষ হয়নি। নির্মাণস্থলে যে পরিমাণ লোকবল ও কর্মতৎপরতা থাকার কথা, তার উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি চোখে পড়ে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার নির্দিষ্ট সময়ও জানাতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শুরু হয় মোল্লাবাজার সেতুর নির্মাণকাজ। এরপর এসেছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এবং পরে বিএনপি সরকার। সরকারের পরিবর্তন হলেও সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে প্রকল্পটি ঝুলে থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যাতায়াতকারীদের মধ্যে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৯ বছর ধরে নির্মাণাধীন মুন্সীগঞ্জের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের রাজধানীতে যাতায়াত সহজ করার স্বপ্নের মোল্লাবাজার সেতুর কাজ এখনো শেষ হয়নি। মূল সেতুর পাশাপাশি দুই পাশের সংযোগ সড়ক ও আনুষঙ্গিক নির্মাণকাজও অসম্পূর্ণ। একটি সেতু নির্মাণে সাধারণত যে ধরনের কর্মতৎপরতা থাকার কথা, এখানে তার ঘাটতি রয়েছে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও কাজ শেষ না হওয়ায় তাদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে কবে শেষ হবে এই সেতু, আর কত দিন অপেক্ষা করতে হবে রাজধানীর সঙ্গে সহজ যোগাযোগের জন্য, প্রশ্ন এলাকাবাসীর। কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৩ কোটি ২৭ লাখ ৪২ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের ৬ জুলাই। সুরমা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজটি দেওয়া হয়। প্রকল্প অনুযায়ী, ১৩টি খুঁটির ওপর ১২টি স্প্যান বসিয়ে ২৫২ মিটার দৈর্ঘ্য ও প্রায় ৯ দশমিক ৮ মিটার প্রস্থের সেতুটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। প্রাথমিকভাবে ২০২০ সালের ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২২ সাল পর্যন্ত করা হয়। এরপরও কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৪ সালেও নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ থাকায় প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কাজে গাফিলতির অভিযোগ তুলে পরবর্তী সময়ে তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়। অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে নতুন করে প্রায় ১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে অতিরিক্ত বরাদ্দের পরও নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে সিরাজদীখান উপজেলা প্রকৌশলী মো. আসিফ উল্লাহ বলেন, মোল্লাবাজার সেতু নিয়ে আমাদের একটি মিটিং হয়েছে। মাঝখানের স্প্যানের ওপর ঢালাইয়ের কাজের প্রস্তুতি চলছে।সেতুর নির্মাণকাজ কবে নাগাদ শেষ হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এখনো নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।