সারাদেশ

ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্তার ঘটনায় পুলিশের দোষ পেল তদন্ত কমিটি

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির পুলিশের দোষ খুঁজে পেয়েছে।

 

রোববার চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ-সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর কাছে এ প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে।

 

সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এ ঘটনায় যারা দোষী তাদের চিহ্নিত করেছে তদন্ত কমিটি। যাদের বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল তার বাইরেও কিছু পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।

 

তদন্ত শেষে কমিটি বেশ কিছু সুপারিশ করেছে বলেও জানিয়েছে সিএমপি কমিশনার।

 

গত ১২ জুন রাতে নগরীর লালখান বাজার মোড়ে অটো রিকশা আটকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে খুলশী থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এসময় তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠে।

 

ওই দিন ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশনের ম্যাচ খেলে বিমানে চট্টগ্রাম এসেছিলেন নাঈম হাসান। বিমানবন্দর থেকে অটো রিকশা করে চান্দগাঁও এলাকায় নিজের বাসায় যাওয়ার পথে তাকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। পরে ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তাদের ফোন পেয়েও নড়েচড়ে বসে পুলিশ। তার পরিবারের সদস্য এবং পুলিশের ঊর্দ্ধতনরা থানায় গিয়ে তাকে ছাড়িয়ে আনেন।

 

পরদিন দুপুরে দিকে নগরীর বহদ্দারহাট ফরিদার পাড়া এলাকায় নাঈম হাসানের বাসায় গিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযানে থাকা খুলশী থানা পুলিশের এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করে ও খুলশী থানার ওসি আরিফ হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়।

 

ঘটনা তদন্তে নগর পুলিশের উপ কমিশনার (পশ্চিম) আলমগীর হোসেনকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটির গঠন করেন সিএমপি কমিশনার।

 

গেল ১৮ জুন কমিটি প্রতিবেদন দেয়ার কথা থাকলেও কমিশনার কমিটিকে আরও চার কার্যদিবস সময় দেন। সে সময় শেষ হওয়ার পর রোববার কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

 

এ ঘটনায় নাঈম হাসানের ভাই কামরুল আলম দুই পুলিশ সদস্য ও সোর্স সোহেলকে আসামি করে মামলা করেছিলেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
উজানের ঢলে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপরে

ভারি বৃষ্টি ও উজানের ঢলে আবারও ফুঁসে উঠেছে তিস্তা নদী। এর মধ্যে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে তিস্তার চরাঞ্চলের ফসলি জমি।   রোববার সন্ধ্যা ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার সাত সেন্টিমিটার ওপর (৫২ দশমিক ২২) দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নীলফামারীর ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী।   এর মধ্যে ভুটান ও সিকিম পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির চাপে তিস্তা নদী ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দো-মহনী ও মেখলিগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমা ছাড়িয়ে বাংলাদেশে ধেয়ে আসায় উভয় দেশের তিস্তায় লাল সতর্কতা জারির খবর পাওয়া গেছে।   পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, “আমরা সতর্কতার মধ্যে রয়েছি ও তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি স্লুইচ গেইট খুলে রাখা হয়েছে। নদীর আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।   নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের যে কোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া সমস্ত পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রেখেছে প্রশাসন।   তিস্তায় ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ধরা হয় ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার; যা অতিক্রম করে ৫২ দশমিক ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানান অমিতাভ চৌধুরী।   এর আগে মঙ্গলবার বেলা ৩টায় তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল; যা সন্ধ্যা নেমে যায়।   ​লালমনিরহাট তিস্তা পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাটের নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।   ​পাউবো জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে সবশেষ ২৩ জুন প্রথমবারের মত তিস্তার পানি বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার ওপরে উঠেছিল, যা পরদিনই নেমে যায়। তবে রোববার দুপুর থেকে পুনরায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার পাঁচটি উপজেলার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাট এবং ফসলি জমি তলিয়ে যেতে শুরু করেছে।   ​নদী তীরবর্তী হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দূর্না গ্রামের রহিমুদ্দিন বলেন, হঠাৎ পানি বাড়ায় চরাঞ্চলের বহু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বসতবাড়িতে পানি ওঠায় গবাদিপশু ও শিশু-বৃদ্ধদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা।   ​পানির চাপ বাড়ায় তিস্তার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও নদী তীরবর্তী উঁচু রাস্তাগুলো ঝুঁকিতে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে পাউবো বাঁধ সংস্কারের টেকসই কাজ না করে বর্ষা এলে জরুরি মেরামতের নামে সরকারি অর্থ অপচয় করে। ফলে প্রতি বছরই তাদের ভাঙন ও বন্যার ঝুঁকিতে থাকতে হয়।   বন্যা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন ​পাউবো কর্মকর্তারা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্তার ঘটনায় পুলিশের দোষ পেল তদন্ত কমিটি

সংগৃহীত ছবি

তারাগঞ্জে রোপা আমন ধানের প্রণোদনা কর্মসূচির উদ্বোধন

সংগৃহীত ছবি

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দুই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

ছবি: সংগৃহীত
আট বছরেও হয়নি এনআইডি সংশোধন, বন্ধ শিক্ষিকার বেতন

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট ও অভাব-অনটনের চাপেই তার অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে নুমিম আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে।   জানা গেছে, কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের ঘিলাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কানিজ তানিয়া সোলতানা ২০১৮ সালে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেন। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘ আট বছর পার হলেও তার এনআইডি সংশোধনের কাজ সম্পন্ন হয়নি। এ জটিলতার কারণে গত প্রায় দুই বছর ধরে তার সরকারি বেতনও বন্ধ রয়েছে।   পরিবারের সদস্যরা জানান, বেতন বন্ধ থাকায় তারা দীর্ঘদিন ধরে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ, সন্তানের লেখাপড়া ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।   গত রবিবার বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন শেষে বাসায় ফিরে অনেক ডাকাডাকি করেও ছেলে নুমিমের কোনো সাড়া পাননি কানিজ তানিয়া সোলতানা। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দরজা ভেঙে নুমিমকে উদ্ধার করে দ্রুত কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। বর্তমানে সে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।   পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের অভাব-অনটন, আর্থিক সংকট ও মানসিক চাপ থেকেই নুমিম আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে।   এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, বছরের পর বছর ধরে একটি এনআইডি সংশোধনের আবেদন ঝুলে থাকার কারণে যদি একজন সরকারি কর্মচারীর বেতন বন্ধ থাকে এবং তার পরিবার এমন চরম সংকটে পড়ে, তবে এর দায়ভার কার? ভুক্তভোগী শিক্ষিকা কানিজ তানিয়া সোলতানা বলেন, ‘২০১৮ সালে এনআইডি সংশোধনের আবেদন করেছি। বারবার সংশ্লিষ্ট দফতরে যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান পাইনি। দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পাওয়ায় পরিবার নিয়ে চরম কষ্টে আছি। আমার সন্তানের এমন ঘটনার পর আমি এর সুষ্ঠু সমাধান এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা কামনা করছি।’   স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রশাসনিক জটিলতা বা দায়িত্বে অবহেলার কারণে যদি একজন সরকারি শিক্ষকের বেতন বছরের পর বছর বন্ধ থাকে, তবে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া উচিত। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এনআইডি সংশোধনের আবেদনগুলোরও দ্রুত নিষ্পত্তি করার দাবি জানিয়েছেন তারা।   এ বিষয়ে কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমাদের জানা আছে। আবেদনটি বর্তমানে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত কবে শেষ হবে, সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছি না।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৮, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

দুই দল গ্রামবাসীর মাঝে তুমুল সংঘর্ষে আহত ২০

ছবি: সংগৃহীত

হঠাৎ ‘কালেমার পতাকা’ ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি

ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার রেস্টুরেন্টে শিশুকে রেখে চলে গেল বিদেশি পরিবার

ছবি: সংগৃহীত
যুবককে গলা কেটে হত্যার পর নিজেই ৯৯৯-এ ফোন দিলেন নারী!

কুমিল্লায় মো. বাহার নামের এক যুবককে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক নারীর বিরুদ্ধে। হত্যার পর ওই নারীই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধারের অনুরোধ জানান। পরে ঘটনাস্থল থেকে ঝুমুর নামের ওই নারীকে আটক করা হয়। শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে লালমাই থানার ওসি মো. নুরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে সকালে জেলার লালমাই উপজেলার বাগমারা উত্তর ইউনিয়নের দত্তপুর পূর্বপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত বাহার ওই এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে। আটক ঝুমুর প্রতিবেশী রাসেল মিয়ার স্ত্রী। পুলিশ জানায়, শনিবার সকালে বাহারকে (৩২) বাড়ির পাশের একটি নির্জন স্থানে ডেকে নেন ঝুমুর। পরে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন। হত্যার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে ঘটনা জানান ঝুমুর নিজেই। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধারসহ ঘটনাস্থল থেকে ঝুমুরকে আটক করে।  লালমাই থানার ওসি মো. নুরুজ্জামান বলেন, ওই নারীর ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নারীকে আটক করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ওই নারীর বরাতে ওসি আরও জানান, ওই নারী জানিয়েছেন, বাহার তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিল, তাই তিনি মাথায় ও ঘাড়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করেছেন। ওই নারীকে ঘটনার বিষয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

মারিয়া রহমান জুন ২৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিএনপি সবসময় আপসহীন: রাশেদ খান

ছবি : সংগৃহীত

আজ টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর কাঁটাবনের আবাসিক ভবনে আগুন, নিহত ২

0 Comments