খেলাধুলা

তামিমকে ভারতীয় দালাল বলে বিতর্কে বিসিবি পরিচালক

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০৯, ২০২৬

সাবেক জাতীয় দলের অধিনায়ক ও দেশের অন্যতম সফল ওপেনার তামিম ইকবালকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি মন্তব্য ঘিরে বিতর্কের মুখে পড়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম। ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার বিষয়ে বিসিবির সিদ্ধান্ত নিয়ে তামিমের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি ফেসবুকে কড়া ভাষায় পোস্ট দেন।

বর্তমানে বিসিবির অর্থ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা নাজমুল ইসলাম বৃহস্পতিবার তামিমের বক্তব্যসংবলিত একটি ফটোকার্ড শেয়ার করে ফেসবুকে লেখেন, ‘এইবার আরও একজন পরীক্ষিত ভারতীয় দালালের আত্মপ্রকাশ বাংলার জনগণ দুচোখ ভরে দেখলো।’

পোস্টটি কিছু সময় তার টাইমলাইনে থাকলেও তীব্র সমালোচনার মুখে গভীর রাতে তা সরিয়ে ফেলা হয়।

এর আগে সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তামিম ইকবাল ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার প্রসঙ্গে বলেন, মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া নিঃসন্দেহে হতাশাজনক। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, এমন সংবেদনশীল বিষয়ে হঠাৎ মন্তব্য না করে সবদিক বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

তামিম বলেন, ‘আমি বোর্ডে থাকলে দেশের ভবিষ্যৎ ও দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নিতাম। অনেক বিষয় আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা যায়।’

তার মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।

সরকারি হস্তক্ষেপ নিয়ে ওঠা আলোচনার জবাবেও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন তামিম। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখা উচিত। সরকার বড় অংশীদার হলেও বোর্ডের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, আজকের সিদ্ধান্তের প্রভাব আগামী ১০ বছর পর কী হবে—সেটাও বিবেচনায় রাখা জরুরি, বিশেষ করে যখন বোর্ডের বড় একটি আয়ের উৎস আইসিসি।

তামিমের এই বক্তব্যগুলো সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরই বিসিবি পরিচালক নাজমুল ইসলামের মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দেয়। উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর বিসিবির নির্বাচনে ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে পরিচালক নির্বাচিত হন নাজমুল ইসলাম। ওই নির্বাচন ঘিরেও অনিয়ম ও সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে তামিম ইকবালসহ একাধিক প্রার্থী তখন মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ফিফা সভাপতি পদে ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনে এশিয়ান কনফেডারেশনের সমর্থন

পুনরায় ফিফা সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সম্ভাবনা বড় ধরনের গতি পেয়েছে। তার পুনর্নির্বাচনের প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানিয়েছেন এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) প্রধান শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল-খালিফা, যিনি দুই মাস আগে ফিফা টুর্নামেন্টের একটি অংশ বিক্রি করার পরিকল্পনাকে ‘বিশ্বাসভঙ্গ’ বলে অভিহিত করেছিলেন।   বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের ২০ শতাংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার একটি পরিত্যক্ত পরিকল্পনার মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর তোপের মুখে পড়েন ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ফিফার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ইনফান্তিনো। এ সময় উয়েফা ও কনক্যাকাফের সভাপতিদের সঙ্গে যোগ দিয়ে ফিফা সভাপতির আচরণের সমালোচনা করে একটি খোলা চিঠি লেখেন শেখ সালমান।   ইনফান্তিনো চলতি মাসে জুরিখে অনুষ্ঠিত ফিফা কাউন্সিলের এক বৈঠকে ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) প্রকল্পের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি আগামী বছরের মার্চে পুনর্নির্বাচনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং এশিয়ান জোটের সমর্থন এক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।   টোকিওতে শুক্রবার এএফসির বিশেষ কংগ্রেসে ভাষণ দেওয়ার সময় শেখ সালমান বলেন, তিনি ইনফান্তিনোর সঙ্গে তার মতপার্থক্য মিটিয়ে ফেলেছেন।   বৈঠকে উপস্থিত ইনফান্তিনোকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “আমি মনে করি, ফিফা সভাপতি হিসেবে আপনি যখন নতুন মেয়াদের জন্য চেষ্টা করছেন, তখন আপনাকে এবং আপনার নেতৃত্বকে সমর্থন করার জন্য আমরা অবশ্যই আমাদের পূর্ণ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছি।   “আমি এটা স্পষ্ট করে বলতে চাই: হ্যাঁ, অতীতে কিছু বিষয় নিয়ে আমাদের মধ্যে কথা হয়েছিল, কিন্তু আসুন এই দুটি বিষয়কে এক করে না দেখি… আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, যখন আমরা একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি এবং লক্ষ্য নিয়ে একসঙ্গে কাজ করি, তখন ফুটবলই সবচেয়ে শক্তিশালী হয়।   আফ্রিকাও ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনকে সমর্থন করেছে। তবে ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিরোধিতার মুখে আছেন তিনি। উয়েফা তার সভাপতিত্ব নিয়ে উত্তর চেয়ে ফিফাকে একটি চিঠি পাঠিয়েছে, যার মধ্যে এফএফই প্রকল্প এবং ফিফা শান্তি পুরস্কার সংক্রান্ত প্রশ্নও রয়েছে।   এএফসি সভাপতির মন্তব্যের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে উয়েফার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।   ৫৬ বছর বয়সি ইনফান্তিনো ২০৩১ সাল পর্যন্ত চতুর্থ মেয়াদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবশ্যই ১৮ নভেম্বরের মধ্যে তাদের মনোনয়ন জমা দিতে হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

তিন লাল কার্ডের উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে আবাহনীর হার

ছবি: সংগৃহীত

এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে চমক দেখাতে প্রস্তুত বাংলাদেশ হকি দল

সংগৃহীত ছবি

গিলের রেকর্ড ভেঙে দ্রুততম ওয়ানডে ডাবল সেঞ্চুরি হ্যারি ব্রুকের

সংগৃহীত ছবি
রেকর্ড গড়ে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে এগিয়ে গেল ভারত

নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ২২৫ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করে নতুন ইতিহাস গড়েছে ভারত। ক্রাইস্টচার্চে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিকদের ৪ উইকেটে হারিয়েছে সফরকারীরা। সঞ্জু স্যামসনের ঝোড়ো ব্যাটিং এবং শেষ দিকে নামান ধীরের বিধ্বংসী ফিনিশিংয়ে ২ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে ভারত।     টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটিই ভারতের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে রায়পুরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই ২০৯ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে জিতেছিল ভারত।     টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২২৫ রান সংগ্রহ করে নিউজিল্যান্ড। দলের হয়ে দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন গ্লেন ফিলিপস। ৪০ বলে ৮২ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ৪টি ছক্কা। শেষ দিকে দ্রুত রান তুলে ভারতকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলে স্বাগতিকেরা।     জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই পালটা আক্রমণ চালায় ভারত। ওপেনিংয়ে সাঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মার ব্যাটে আসে ৯৩ রান। মাত্র ১২ বলে ২৯ রান করে বিদায় নেন অভিষেক। তবে অন্য প্রান্তে ঝড় অব্যাহত রাখেন স্যামসন। ৩৩ বলে ৬৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ভারতের জয়ের ভিত গড়ে দেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার।       এরপর অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারের ব্যাট থেকেও আসে গুরুত্বপূর্ণ রান। ২৮ বলে ৪২ রান করে দলকে লক্ষ্যের কাছাকাছি নিয়ে যান তিনি। তবে মাঝের দিকে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে ভারত।     সেই চাপ কাটিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেন নামান ধীর। মাত্র ১২ বলে ৩১ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। শেষ ওভারে ভারতের প্রয়োজন ছিল ৮ রান। ম্যাট হেনরির ওভারের প্রথম বলে চার হাঁকিয়ে সমীকরণ সহজ করেন ধীর। এরপর চতুর্থ বলে ছক্কা মেরে ভারতের জয় নিশ্চিত করেন এই ব্যাটার।     এই জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হবে শনিবার (২৪ অক্টোবর), একই ভেন্যু ক্রাইস্টচার্চে। প্রথম ম্যাচে রেকর্ড গড়া জয় আত্মবিশ্বাস বাড়াবে ভারতীয় দলের, অন্যদিকে সিরিজে সমতা ফেরানোর লক্ষ্যে পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে চাইবে নিউজিল্যান্ড।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ২২, ২০২৬
স্টিভ স্মিথ

টেস্টে ১১ হাজার রানের অভিজাত ক্লাবে প্রবেশ করলেন স্টিভ স্মিথ

ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার শামার জোসেফ।

সিরিজ শুরুর আগেই অসুস্থ জোসেফ, ঢাকা টেস্টে খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা

ছবি: সংগৃহীত

ইনজুরিতে জাতীয় ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়ন, খেলছেন না সোয়াদ

ছবি: সংগৃহীত
নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ অস্ট্রেলিয়ার তারকা পেসার মেগান শুট

অস্ট্রেলিয়া নারী ক্রিকেট দলের অভিজ্ঞ পেসার মেগান শুটকে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। নির্ধারিত ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বোর্ডের স্পোর্টস সায়েন্স ও মেডিসিন নীতিমালা লঙ্ঘন করায় এই শাস্তির মুখে পড়েছেন ৩৩ বছর বয়সী তারকা ক্রিকেটার।   সম্প্রতি বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে দুর্দান্ত বোলিং করে আলোচনায় এসেছিলেন শুট। সিরিজে ১০ উইকেট শিকার করে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জিতেছিলেন তিনি। তবে এবার মাঠের পারফরম্যান্স নয়, শৃঙ্খলাজনিত কারণে সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছেন অস্ট্রেলিয়ান এই পেসার।   ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করতে পারেননি শুট। তবে ঘটনাটি প্রতিযোগিতার বাইরে ঘটেছে এবং এর সঙ্গে মাঠে পারফরম্যান্স বাড়ানোর কোনো উদ্দেশ্য জড়িত ছিল না।   বোর্ড আরও জানিয়েছে, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। শুটের ওপর আরোপিত দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেট মিলিয়ে কার্যকর হবে। একই সঙ্গে খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান এবং নিয়ম মেনে চলার বিষয়ে আরও সচেতনতা তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।   এই নিষেধাজ্ঞার কারণে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অংশ নিতে পারবেন না শুট। এরপর আগামী ৩১ অক্টোবর নারী বিগ ব্যাশ লিগে অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্সের প্রথম ম্যাচেও মাঠের বাইরে থাকতে হবে তাকে।   এদিকে, নিজের ভুল স্বীকার করে শাস্তি মেনে নিয়েছেন অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার। এক প্রতিক্রিয়ায় শুট জানান, নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি দুঃখিত এবং এ জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে আরও সতর্ক থাকার গুরুত্বও স্বীকার করেছেন তিনি।   অস্ট্রেলিয়া নারী ক্রিকেটের অন্যতম সফল বোলার মেগান শুট দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তার অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স অস্ট্রেলিয়া দলের বোলিং আক্রমণের অন্যতম শক্তি।   নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে মাঠে নামেননি শুট। এবার নিষেধাজ্ঞার কারণে তৃতীয় ম্যাচেও তাকে ছাড়াই খেলতে হবে অস্ট্রেলিয়াকে।   বাংলাদেশের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর এমন নিষেধাজ্ঞা অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২২, ২০২৬

তিনশ বলে ১৬০, টাইগাররা কি পারবে ৪১ রানে জিততে

ইউরোপা লিগের ম্যাচের আগে বড় ধাক্কা, ইনজুরিতে ছিটকে গেলেন চুকউয়েজে

ছবি: সংগৃহীত

ইমন-সাইফের জুটির পরও স্বস্তি নেই বাংলাদেশের, দ্রুত ফিরলেন মিরাজ

0 Comments