সারাদেশ

তারাগঞ্জে রোপা আমন ধানের প্রণোদনা কর্মসূচির উদ্বোধন

মারিয়া রহমান জুন ২৮, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
সংগৃহীত ছবি

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিফ-২ মৌসুমে রোপা আমন ধানের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। রবিবার (২৮ জুন) উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাববর হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃষকদের মাঝে প্রণোদনা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি বলেন, কৃষিকে আরও উৎপাদনমুখী ও টেকসই করতে সরকার বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এসব সহায়তার মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুসরণ করে অধিক ফলন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।


অনুষ্ঠানে জানানো হয়, উপজেলার মোট ১ হাজার ৯০০ জন কৃষক এ কর্মসূচির আওতায় সরকারি প্রণোদনার সুবিধা পাচ্ছেন। নির্বাচিত কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে উন্নতমানের রোপা আমন ধানের বীজ, রাসায়নিক সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হবে, যাতে চলতি মৌসুমে আবাদ বৃদ্ধি এবং অধিক উৎপাদন নিশ্চিত করা যায়।


অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা প্রণোদনা কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং কৃষকদের যথাযথভাবে বিতরণকৃত উপকরণ ব্যবহার করে কাঙ্ক্ষিত ফলন অর্জনের পরামর্শ দেন। তারা বলেন, সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির অংশ হিসেবে এ ধরনের প্রণোদনা কৃষকদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করছে এবং দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সুবিধাভোগী কৃষক, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত কৃষকরা সরকারের এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দাবি জানান। তারা বলেন, কৃষি উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার এ সময়ে সরকারি প্রণোদনা তাদের জন্য বড় ধরনের সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।


আয়োজকরা জানান, কৃষকদের উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষির আধুনিকায়ন এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কৃষি সহায়তা কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। অনুষ্ঠানের শেষে সুবিধাভোগী কৃষকদের মাঝে প্রতীকীভাবে প্রণোদনার কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
পাহাড়ে ‘ব্ল্যাক রাইস’ চাষে সফলতা তরুণ উদ্যোক্তা এনামুলের

খাগড়াছড়িতে ফসলী জমিতে ‘ব্ল্যাক রাইস’ বা কালো ধানের চাষ করে সফল হয়েছেন জেলার পানছড়ি উপজেলার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা এনামুল। তার হাত ধরেই জেলার পানছড়িতে এটাই প্রথম ব্ল্যাক রাইস চাষের সফলতা।   খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার গোলাক প্রতিমাছড়া এলাকায় এনামুলের নিজস্ব ফসলী জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ব্ল্যাক রাইস’ বা কালো ধানের চাষ করে সফলতা পান তিনি। সফল কৃষি উদ্যোক্তা এনামুলের এই জমিতে সারিবদ্ধভাবে এখন ‘ব্ল্যাক রাইস’ বা কালো ধানের শীষের শোভা পাচ্ছে।   সবুজের বিস্তীর্ণ ধানের মাঠ। তারই মাঝে হঠাৎ চোখ আটকে যায় কালচে রঙের ধানের ছড়ায়। বাতাসে দুলতে থাকা কালো ধানের শীষ যেন সবুজের বুকে এক টুকরো ব্যতিক্রমী সৌন্দর্য।   এ বিষয়ে এনামুল বাসস’কে জানান, বগুড়া থেকে প্রতি কেজি ৫শ’ টাকা দরে কালো জাতের ধানের বীজ সংগ্রহ করি। এরপর নিজস্ব জমিতে বীজতলা তৈরি করে চারা রোপণ করার পর যত্ন সহকারে পরিচর্যার পর বর্তমানে ধানের চারা থেকে বের হতে শুরু করেছে কালচে রঙের ধানের ছড়া। ধানের ছড়া বেশ বড় ও পরিপুষ্ট হওয়ায় ভালো ফলনের আশা করছে এনামুল।   এনামুল জানান, বাজারে ব্ল্যাক রাইসের চাহিদা ও দামও তুলনামূলক ভালো। প্রতি কেজি চাল ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। পাশাপাশি পুষ্টিগুণের দিক থেকেও কালো চালের আলাদা চাহিদা রয়েছে। পরীক্ষামূলক চাষে আশানুরূপ ফলন পেলে আগামী বছর আরও বড় পরিসরে ব্ল্যাক রাইস চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান এই তরুণ উদ্যোক্তা।   সবুজের মাঝে এনামুলের কালো ধানের এই ব্যতিক্রমী দোলা শুধু সবার দৃষ্টিই কাড়ছে না, পানছড়িসহ পুরো জেলাতেই কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার বার্তাও দিচ্ছে।   এ বিষয়ে পানছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাশিদুল কবির বাসস’কে জানান, তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা এনামুলের হাত ধরে পানছড়িতে ব্লাক রাইসের চাষের ফলন ভালো হয়েছে। এটি একটি উচ্চমানের পুষ্টি সম্পন্ন। ব্ল্যাক রাইসের চাষ পাহাড়ের প্রত্যন্ত এলাকায় সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকরা অনেক বেশী লাভবান হবে এবং ফসলের ভালো দামও পাবে।     তিনি বলেন, এনামুলকে আমরা এ বিষয়ে কৃষি বিভাগ থেকে সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগিতা করছি।   উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তা নয়ন্টু চাকমা বাসস’কে জানান, এনামুলের কালো ধান চাষ আমি মাঠ পর্যায়ে গিয়ে পরিদর্শন করেছি।    তিনি জানান, আমি এই ব্লকের দায়িত্বে আছি। উদ্যেক্তা এনামুল সমতল জেলা থেকে বীজ এনে ব্লাক রাইচ চাষ করেছেন। কৃষক পর্যায়ে চাষাবাদ শুরু করতে পারলে এটার ব্যাপকতা ছড়িয়ে যাবে। কৃষকরাও লাভবান হবে। এটা বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ব্রি কর্তৃক উৎপাদিত একটি নতুন জাতের ধান।   কৃষি উদ্যেক্তা এনামুল হক এনাম বাসস’কে আরো জানান, প্রাথমিকভাবে আমার নিজস্ব ১২ শতক জমিতে আমি ব্লাক রাইস চাষাবাদ করে সফলতা পেয়েছি। এ বিষয়ে কৃষি অফিস থেকে সব ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ পেয়েছি। ব্ল্যাক রাইস চাষাবাদ সামনে আরো বাড়ানোর চিন্তা ভাবনা করছেন এনামুল।   তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা এনামুলের হাত ধরে পাহাড়ে ব্ল্যাক রাইসের সফলতা তিন পার্বত্য জেলার সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে পারলে ব্ল্যাক রাইস কৃষি উৎপাদনে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আশা স্থানীয়দের।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রূপগঞ্জে ব্যবসায়ীর বাড়িতে ভয়াবহ আগুন, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

সংগৃহীত

বরিশালে ওসিসহ ৭ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লায় জামায়াতের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ, ভাঙচুর

দুর্গাপূজার ছুটিতে কক্সবাজারে ৬ লাখ পর্যটক সমাগমের প্রত্যাশা

২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত দুর্গাপূজার পাঁচ দিনের ছুটিতে ৬ লাখেরও বেশি পর্যটককে বরণ করে নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে কক্সবাজার। ইতিমধ্যে উপকূলীয় জেলাজুড়ে হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে অগ্রিম বুকিংয়ের হার ব্যাপকভাবে বেড়েছে।   টানা ছুটির এই সময়ে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগমের আশা করছেন পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা, কারণ আবাসন ব্যবস্থার প্রায় ৭০ শতাংশই ইতিমধ্যে অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে।   সম্ভাব্য ভিড় সামাল দিতে পরিবহন সেবা সম্প্রসারণ, আতিথেয়তার মানোন্নয়ন এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রস্তুতি চলছে।   কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বাসসকে বলেন, ‘আমরা আশা করছি, প্রতিদিন গড়ে এক লাখের বেশি পর্যটক কক্সবাজারে আসবেন। সে হিসাবে পাঁচ দিনে ৬ লক্ষাধিক পর্যটকের সমাগম হতে পারে।’   তিনি জানান, কক্সবাজারে বিভিন্ন শ্রেণির ৫ শতাধিক হোটেল-মোটেল ও কটেজ রয়েছে। এরমধ্যে বেশির ভাগ আবাসিক প্রতিষ্ঠানের কক্ষ আগাম বুকিং হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক হোটেলে প্রায় ৭০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে।   কক্সবাজার হোটেল এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সভাপতি নাজিম উদ্দীন বাসসকে বলেন, টানা পাঁচ দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে হোটেল-মোটেলে ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যে তারকা মানের হোটেলগুলোর বেশির ভাগ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটন ব্যবসায়ীরা ভালো একটি সপ্তাহের প্রত্যাশা করছেন।   রামুর মেরিন ড্রাইভ-সংলগ্ন পেঁচারদ্বীপের মারমেইড বিচ রিসোর্টের ব্যবস্থাপক রানা কর্মকার বাসসকে বলেন, তাদের রিসোর্টের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ ইতোমধ্যে অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে অতিথিদের শুভেচ্ছা জানানো হবে। পাশাপাশি রিসোর্টের রেস্তোরাঁ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। যে কেউ সেখানে এসে ঘুরে যেতে পারবেন এবং খাবার খেতে পারবেন।   অন্যদিকে, তারকা মানের হোটেল বেস্ট ওয়েস্টার্ন হেরিটেজের ফ্রন্ট অফিস ম্যানেজার তারেক আজিজ জানান, তাদের হোটেলের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকদের জন্য ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবর ১ হাজার ২শ’ টাকায় ৫০টির বেশি পদের বুফে ডিনারের আয়োজন করা হয়েছে।   টানা ছুটিতে পর্যটক ও যাত্রীদের বাড়তি চাপ সামাল দিতে ২০, ২৩ ও ২৪ অক্টোবর বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ‘ঢাকা স্পেশাল’ দুপুর আড়াইটায় ছেড়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ঢাকায় পৌঁছাবে। একই দিন ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী ‘ট্যুরিস্ট স্পেশাল’ রাত সাড়ে ১০টায় ছেড়ে পরদিন সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে কক্সবাজার পৌঁছাবে।   ২৩ অক্টোবর কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী বিশেষ ট্রেন সকাল সাড়ে ১১টায় ছেড়ে রাত ৮টায় ঢাকায় পৌঁছাবে। একই দিন ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী ‘ট্যুরিস্ট স্পেশাল’ রাত সাড়ে ১০টায় ছেড়ে পরদিন সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে গন্তব্যে পৌঁছাবে।   এ ছাড়া ২৪ অক্টোবর কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী ‘ট্যুরিস্ট স্পেশাল’ সকাল সাড়ে ১১টায় ছেড়ে রাত ৮টায় ঢাকায় পৌঁছাবে। একই দিন ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী ‘চট্টগ্রাম স্পেশাল’ রাত সাড়ে ১০টায় ছেড়ে পরদিন ভোর ৪টায় চট্টগ্রামে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।   কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার জয়নাল আবেদীন বিশেষ ট্রেন পরিচালনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   তিনি বলেন, টানা ছুটিতে কক্সবাজারগামী যাত্রীর চাপ অনেক বেশি থাকে। এ চাপ সামাল দিতেই বিশেষ ট্রেন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।   বর্তমানে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে আন্তনগর কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে সৈকত এক্সপ্রেস ও প্রবাল এক্সপ্রেস চলাচল করছে। নিয়মিত ট্রেনের পাশাপাশি বিশেষ ট্রেন চালু হলে যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়বে। এতে সড়কপথের ওপর চাপ কমার পাশাপাশি পর্যটকদের যাতায়াতও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।   তবে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আগমন সামাল দিতে আবাসন ও পরিবহন ব্যবস্থার পাশাপাশি সৈকতসহ পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।   কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহান বাসসকে বলেন, ‘পর্যটন মৌসুমকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দুর্গাপূজার ছুটিতে পর্যটকের চাপ বাড়বে। তাদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

টঙ্গীর ওষুধ কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে সেনাবাহিনী

ছবি: সংগৃহীত

প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষিকার মারামারি, স্কুলের অফিসকক্ষের ভিডিও ভাইরাল

প্রতীকী ছবি

দুই মাস কারাভোগের পর মিথ্যা মামলার বাদীর এক বছরের জেল

পুরান ঢাকার চকবাজারে মনসুর খান প্লাজার অগ্নিকাণ্ড আবারও সামনে এনেছে পুরোনো ঢাকার অগ্নিনিরাপত্তার দুর্বলতা। ছবি: সংগৃহীত
চকবাজারে ১২ ঘণ্টার আগুন: সরুগলি ও দাহ্য প্লাস্টিকে বেগ পেতে হয় ফায়ার সার্ভিসকে

রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে মনসুর খান প্লাজার অগ্নিকাণ্ড আবারও সামনে এনেছে পুরোনো ঢাকার অগ্নিনিরাপত্তার দুর্বলতা। সরু অলি-গলি, গিঞ্জি পরিবেশ, অপরিকল্পিত স্থাপনা এবং ভবনের ভেতরে ঘন ধোঁয়া, তালাবদ্ধ গুদাম, প্লাস্টিকের ব্যাগ ও কসমেটিকসের মতো পণ্যের মজুত এবং পানির সংকটে আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছে ফায়ার সার্ভিসকে। প্রায় ১২ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও পরদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত পুরোপুরি নেভাতে পারেনি সংস্থাটি। অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, পুড়ে গেছে কোটি কোটি টাকার মালামাল। অনেকের দীর্ঘদিনের পুঁজি এখন ধ্বংসস্তূপে।     সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকালে পাঁচটা লাগা আগুন মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভোর পাঁচটা ২০ মিনিটে নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু গুদামে থাকা মালামালের নিচে তাপ ও আগুনের অবশিষ্টাংশ থেকে নতুন করে অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা থাকায় সন্ধ্যা পর্যন্ত নির্বাপণ কার্যক্রম চলতে থাকে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের চার সদস্য ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।    আগুনের সূত্রপাত, ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিয়ে তদন্তের অপেক্ষা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরু সড়ক, তালাবদ্ধ গুদাম ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকাল ৫টা ৪ মিনিটে চকবাজারের ছোট কাটারা এলাকার মনসুর খান প্লাজায় আগুন লাগার খবর পায় সংস্থাটি। প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিকাল ৫টা ২২ মিনিটে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় পর্যায়ক্রমে ইউনিটের সংখ্যা বাড়ানো হয়। শেষ পর্যন্ত ১০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।    ভবনটির ষষ্ঠ ও সপ্তম তলায় প্রচণ্ড ধোঁয়া ও তাপের সৃষ্টি হয়। ষষ্ঠ তলায় থাকা গুদামগুলোর দরজা ও শাটারে একাধিক তালা লাগানো ছিল। কোনো কোনো গুদামে চার-পাঁচটি তালা ছিল। ভেতরের ক্রসফায়ার গেটেও তালা থাকায় আগুনের উৎসে পৌঁছাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের বাধার মুখে পড়তে হয়। প্রচণ্ড তাপ ও ধোঁয়ার মধ্যে তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে আগুন নেভানোর কাজ চালাতে হয়েছে।     ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান জানান, মঙ্গলবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে গুদামে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিকের মালামাল থাকায় সেগুলো সরানো এবং আগুন পুরোপুরি নির্বাপণের কাজ চলছে। ষষ্ঠ তলার ১২ থেকে ১৪টি বড় গুদামের মধ্যে সাত থেকে আটটিতে আগুন লেগেছিল। সেখানে ছাতা, ব্যাগ, কসমেটিকস, আতরের বোতল ও আতরসহ বিভিন্ন পণ্য ছিল।   প্লাস্টিকের ব্যাগে আটকে ছিল আগুন আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেওয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় গুদামে থাকা প্লাস্টিকের ব্যাগ। পানি দেওয়ার পর ব্যাগগুলো পুড়ে শক্ত হয়ে যাওয়ায় নিচে থাকা আগুন পর্যন্ত পানি পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।  মঙ্গলবার বিকালে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী মো. উদয় জানান, ভবনের ভেতরে প্রায় দুই ঘণ্টা আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ করে তিনি বাইরে আসেন। তার ভাষ্য, প্লাস্টিকের ব্যাগে পানি দেওয়ার পর সেগুলো শক্ত হয়ে যায়। এতে নিচে পানি পৌঁছায় না। পানি দেওয়া বন্ধ করলেই আগুন আবার জ্বলে ওঠে।   ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক ওসমান গনী বলেন, ভবনের ভেতরে প্রচুর ধোঁয়া জমে থাকায় প্রথমে তা বের করার ব্যবস্থা করতে হয়েছে। অক্সিজেন সিলিন্ডার ছাড়া ভেতরে প্রবেশ করে কাজ করাও সম্ভব ছিল না। এসব কারণে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণে বেশি সময় লাগছে।   পানির সংকটও ছিল বড় বাধা ফায়ার সার্ভিস জানায়, আগুন নেভাতে পর্যাপ্ত পানির জোগান নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়ে। আশপাশের বিভিন্ন ভবনের পানির রিজার্ভার থেকে পানি সংগ্রহ করা হয়। এক ভবনের পানি শেষ হলে অন্য ভবনের রিজার্ভার ব্যবহার করতে হয়েছে। আশপাশে পুকুর না থাকায় দূর থেকে পানি আনতে হয়েছে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা।   এর সঙ্গে যুক্ত হয় পুরান ঢাকার সরু রাস্তা। বড় ও ভারী অগ্নিনির্বাপণ গাড়ি ঘটনাস্থলের কাছাকাছি নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। যানজটের কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে গাড়ি চলাচলেও বাধা তৈরি হয়েছে। ভবনের ভেতরে ধোঁয়া বের হওয়ার পর্যাপ্ত পথ না থাকায় তাপ ও ধোঁয়ার মধ্যে কাজ করতে হয়েছে কর্মীদের।      ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান জানান, আগুনে ভবনের ষষ্ঠ তলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সপ্তম তলায় ক্ষতি তুলনামূলক কম। আগুন যাতে পাশের মার্কেট ও দোকানে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য কর্মীদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হয়েছে। আগুন নির্বাপণের সময় চার সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়।   পুঁজি হারিয়ে দিশাহারা ব্যবসায়ীরা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের কাছে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখন পুঁজি হারানোর শঙ্কা। কেউ গুদামে রাখা কয়েক লাখ টাকার মালামাল হারিয়েছেন, কেউ আবার দোকান ও গুদাম মিলিয়ে বিপুল ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ব্যবসায়ী খোরশেদ জানান, ভবনটির দ্বিতীয় তলায় তার এফএম লেদারের দোকান এবং ষষ্ঠ তলায় গুদাম ছিল। গুদামে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকার মালামাল ছিল। আগুনে সব পুড়ে গেছে। গুদাম থেকে কোনো মালামাল সরানোর সুযোগ পাননি তিনি। একই মার্কেটের ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন বলেন, তার নিচতলার দোকানের ব্যাগ আগুন থেকে রক্ষা পেলেও পানি ঢুকে নষ্ট হয়ে গেছে। আগের দিনই তিনি মালামাল এনেছিলেন। এখন সেগুলো বিক্রির উপযোগী নেই। অন্যদিকে।ওপরে তার একটি গোডাউনে কয়েক লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে।    ব্যবসায়ী ইমতিয়াজের দাবি, মার্কেটটিতে কোটি কোটি টাকার মালামাল ছিল। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘ সময় লাগায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, আগুন নেভানোর কাজে কোনো গাফিলতি ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা দরকার। সপ্তম তলার একটি গুদামের মালিক রবিন জানান, আগুন লাগার পর পানি দিয়েও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছিল না। পরে কালো ধোঁয়ায় ভবন ভরে যায়। একপর্যায়ে তিনিও ভেতরে আটকা পড়েন। শ্বাস নিতে ও চোখে দেখতে কষ্ট হচ্ছিল। সারা রাত পানি দেওয়ার পরও পরদিন আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করা সম্ভব হয়নি।   আগুনের কারণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুনের সূত্রপাত হয়েছে গুদাম থেকে। সেখানে ব্যাগ ও কসমেটিকসসহ বিভিন্ন পণ্য মজুত ছিল। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার সম্ভাবনা থাকলেও তদন্তের আগে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। ভবন নির্মাণের অনুমোদন, ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র, গুদামের অগ্নিনিরাপত্তা এবং বৈদ্যুতিক সংযোগের অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এসব বিষয়ে তদন্তের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।   অপরিকল্পিত ভবন-মার্কেটে বিপাকে ফায়ার সার্ভিস ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, আগুন লাগা মনসুর খান প্লাজাসহ এখানে সিংহভাগ ভবন-মার্কেট অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। প্রতিটি ভবনে প্রবেশ পথে সরু, ভেতরে নেই পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা। এমনকি কোনো ভবনেই অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থাও নেই। এরআগেই চকবাজারসহ পুরান ঢাকার সবগুলো আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হয়েছে।    এই অগ্নিকাণ্ড আবারও প্রশ্ন তুলেছে, পুরান ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় অগ্নিনিরাপত্তার নিয়ম কতটা মানা হচ্ছে। গুদামে দাহ্য পণ্য সংরক্ষণ, জরুরি বহির্গমন পথ, কার্যকর অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ও পানির উৎস নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে সরু সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা প্রয়োজন, যাতে জরুরি মুহূর্তে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারে।   এর আগে সোমবার রাতে চকবাজার আগুন সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম জানিয়েছেন, চকবাজারের মনজুর খান প্লাজার একটি ব্যাগের গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি এ তথ্য পেয়েছেন। তবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে। এ বিষয় তদন্ত করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৩, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

অপ্রতিম হত্যার দ্রুত বিচারের দাবিতে কুবিতে মানববন্ধন

সংগৃহীত ছবি

নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে ষড়যন্ত্র করছে জামায়াত : মির্জা ফয়সল

ছবি: সংগৃহীত

১২৩ বছরেও চশমা ছাড়া কুরআন পড়া সেই আব্বাস প্রামাণিক মারা গেছেন

0 Comments