শিক্ষা

প্রাথমিক বৃত্তির ফল প্রকাশের সময় জানাল অধিদপ্তর

মারিয়া রহমান জুন ১৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। বর্তমানে ফল প্রকাশের আগে চলছে শেষ ধাপের যাচাই-বাছাই কার্যক্রম।


অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, ফলে কোনো ধরনের ভুল বা অসংগতি এড়াতে তথ্যগুলো একাধিকবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।


ডিপিইর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, শিক্ষা পদক, গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতাসহ অধিদপ্তরের অন্যান্য নিয়মিত কার্যক্রমের ব্যস্ততার কারণে ফল প্রস্তুতের কাজ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। তবে এখন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন মিললেই ফলাফল প্রকাশ করা হবে।


ফলাফলা জানা যাবে যেভাবে
ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই তা জানতে পারবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিশিয়াল পোর্টাল (আইপিইএমআইএস) ছাড়াও মোবাইল ফোনের খুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে দ্রুত ফল সংগ্রহের সুযোগ থাকবে।


উল্লেখ্য, গত ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া সারা দেশে একযোগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আর রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বিশেষ সূচিতে পরীক্ষা নেওয়া হয় ১৭ থেকে ২০ এপ্রিল।


এবার সাড়ে ৬ লাখ পরীক্ষার্থীর মধ্য থেকে মেধার ভিত্তিতে মোট ৮২ হাজার ৫০০ জনকে বৃত্তির জন্য মনোনীত করা হবে। তবে এবার সরকারি ও বেসরকারি (কিন্ডারগার্টেন) বিদ্যালয়ের জন্য কোটা ভাগ করা হয়েছে। মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ অর্থাৎ ৬৬ হাজার শিক্ষার্থী নির্বাচিত হবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। বাকি ২০ শতাংশ বা ১৬ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী বৃত্তি পাবে বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে। মেধা তালিকায় ছাত্র ও ছাত্রীর সংখ্যা থাকবে সমান (৫০ শতাংশ করে)।


নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ‘ট্যালেন্টপুল’ ও ‘সাধারণ গ্রেড’–এই দুই ভাগে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে। ট্যালেন্টপুলে ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী মাসিক ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং সাধারণ গ্রেডে ৪৯ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী মাসিক ২২৫ থেকে ২৫০ টাকা করে পাবে। উভয় গ্রেডের শিক্ষার্থীরাই প্রতিবছর এককালীন ২২৫ টাকা করে অতিরিক্ত ভাতা পাবে।


ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পরবর্তী তিন বছর শিক্ষার্থীরা এ সুবিধা ভোগ করবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভবিষ্যতে এ বৃত্তির টাকার পরিমাণ দ্বিগুণ থেকে চার গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর একটি প্রস্তাবও সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

শিক্ষা

আরও দেখুন
‘শিবিরের অপপ্রচার ও গুম-নাটকের’ বিরুদ্ধে জবি ছাত্রদলের বিক্ষোভ

অপপ্রচার ও গুম-অপহরণ নিয়ে নাটক সাজানো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালানোর অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদল।   রোববার (১৪ জুন) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠালতলা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। পরবর্তীতে মিছিলটি সমগ্র ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।   সমাবেশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, ‘গুম, অপহরণ কিংবা নারী নির্যাতনের মতো সংবেদনশীল বিষয়কে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যারা এসব ঘটনার নাটক সাজিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে, তাদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস, অপপ্রচার ও গোপন রাজনৈতিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার থাকব।’   তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা রোধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে তাঁরা যেকোনো ধরনের সহিংসতা, নারী নির্যাতন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।’   শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা চলছে। আমরা এ ধরনের অপতৎপরতার তীব্র নিন্দা জানাই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত এসব বিষয়ে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।   বিক্ষোভ মিছিলে শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক জাফর আহমেদ, যুগ্ম-আহবায়ক সুমন সরদার, মোস্তাফিজুর রহমান রুমি, শাহরিয়ার হোসাইন, মাহমুদুল হাসান, রফিকুল ইসলাম, রবিউল আউয়াল ,ইয়াকুব শেখ অনিক, শাখাওয়াতুল ইসলাম খান পরাগ, ইয়াসির আরাফাতসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সপ্তম শ্রেণি থেকেই বাস্তবভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ জোবাইদা রহমানের

ছবি: সংগৃহীত

শিবিরের বিরুদ্ধে গুমের নাটকের অভিযোগ, রাবিতে ছাত্রদলের প্রতিবাদ

ছবি : সংগৃহীত

প্রাথমিক বৃত্তির ফল প্রকাশের সময় জানাল অধিদপ্তর

সংগৃহীত ছবি
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা ফি চালুর ঘোষণা

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার জন্য এখন থেকে নির্ধারিত ফি দিতে হবে। পরীক্ষা পরিচালনার খরচ সামাল দিতেই এই নতুন নিয়ম চালু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন। শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর বেইলি রোডে বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। সচিব জানান, এখন থেকে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য শ্রেণিভেদে নির্ধারিত ফি নেওয়া হবে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ৩০ টাকা, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ টাকা এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০ টাকা করে পরীক্ষা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। হঠাৎ এই ফি নির্ধারণের কারণ ব্যাখ্যা করে গণশিক্ষা সচিব বলেন, ‘বর্তমানে প্রধান শিক্ষকদের যে স্লিপ বরাদ্দ দেওয়া হয় তা দিয়ে অনেক সময় পরীক্ষা আয়োজনের খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, শিক্ষকদের নিজেদের পকেট থেকে টাকা খরচ করতে হয়। শিক্ষকদের ওপর এমন ব্যক্তিগত আর্থিক চাপ তৈরি হওয়া কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয়। তাই নির্ধারিত সীমার মধ্যে এই অর্থ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং এটি কোনো অন্যায় কাজ নয়।’ এ সিদ্ধান্তের ফলে জনমনে বা অভিভাবকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠতে পারে–এমনটি ধরে নিয়েই সচিব বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনে আমি নিজেই ব্যাখ্যা দেব। দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এর চেয়েও অনেক বেশি হারে পরীক্ষা ফি নেওয়ার উদাহরণ রয়েছে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষকদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ না দিয়ে পরীক্ষার মতো জরুরি একটি কার্যক্রম সুচারুভাবে পরিচালনা করা।’ তবে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আশার কথাও শুনিয়েছেন সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানান, বর্তমানে সরকারি স্লিপের বরাদ্দ কিছুটা সীমিত হলেও ভবিষ্যতের জন্য এই বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। আগামী অর্থবছর থেকেই বিদ্যালয়গুলো আগের চেয়ে তুলনামূলক বেশি অর্থ পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় কমিশনার কাজী জেবুন্নেছা বেগমের সঞ্চালনায় এই সম্মেলনে আরো বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (পরিকল্পনা) ছাইফুল ইসলাম এবং অ্যাসোসিয়েশনের হলদে পাখি কমিশনার বেলা রাণী সরকারসহ অন্য আঞ্চলিক কমিশনাররা।

মারিয়া রহমান জুন ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষকরা অবসরের এক লাখ টাকা জুলাইয়ের শুরুতে পাবেন: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষাব্যবস্থাকে মালয়েশিয়া-অস্ট্রেলিয়ার মানে উন্নীত করার কাজ চলছে: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

বাংলা-ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক

ছবি: সংগৃহীত
‘খুনি খালেদার বিচার চাই’ স্লোগান দেওয়া ৫ কর্মকর্তা বরখাস্ত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে আয়োজন হতে যাওয়া অনুষ্ঠানের আয়োজক কমিটিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ‘খুনি’ হিসেবে স্লোগান দেওয়া মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) পাঁচ কর্মকর্তাকে রাখা হয়েছিল। তবে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা এবং বিতর্ক ওঠায় তাদের আয়োজক কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।   বিষয়টি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে নিশ্চিত করেছেন মাউশি মহাপরিচালক অধ্যাপক  ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। তিনি বলেন, আগের কমিটির বিষয়টি ড্রাফট ছিল। সেখানে বিতর্কিত কয়েকজনের নাম চলে এসেছিল। তবে আয়োজক কমিটির চূড়ান্ত তালিকা থেকে বিতর্কিতদের বাদ দেওয়া হয়েছে।’   জানা গেছে, সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এসইডিপি) এর আওতাভুক্ত মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (EESS) এর আওতায় জেলা, উপজেলা/থানা ও জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিতব্য “Startup, Science Project and Innovation ldea Showcasing” অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২৮ জুন রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় পর্যায়ের এ অনুষ্ঠান হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর এই অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়াকে ‘খুনি’ বলে স্লোগান দেওয়া কর্মকর্তাদের রাখা হয়েছিল।   সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলন চলাকালীন ৪ আগস্ট মাউশির গেটে মিছিল করেছিলেন আওয়ামীপন্থি কর্মকর্তারা। মিছিল শেষে মাউশির গেটে অবস্থান নিয়ে ‘খুনি খালেদার বিচার চাই’ বলে স্লোগান দিয়েছিলেন। প্রধামন্ত্রী তারেক রহমানের ওই অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য গঠিত কমিটি খালেদা জিয়াকে ‘খুনি’ বলা পাঁচ কর্মকর্তাকে রাখা হয়েছিল। সূত্রর তথ্য বলছে, মিছিলকারী শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা হলেন- মাউশির বাজেট শাখার (অর্থ ও ক্রয় উইং) সহকারী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম, পিসিইউ, এসইডিপি প্রজেক্টের গবেষণা কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম, বিশেষ শিক্ষা শাখার উপ-পরিচালক তারিকুল ইসলাম, পিসিইউ, এসইডিপি প্রজেক্টের পরিসংখ্যানবিদ মো. ওয়াহিদুর রহমান এবং এসইডিপি প্রজেক্টের উপ-পরিচালক মাহবুবা ইয়াসমীন ।  এদের মধ্যে মাউশির বাজেট শাখার (অর্থ ও ক্রয় উইং) সহকারী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমকে খাবার, আতিথিয়তা ও আপ্যায়ন উপকমিটি, প্রতিযোগীদের সাথে যোগাযোগ ও মহড়া আয়োজন উপকমিটি এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা উপকমিটিতে রাখা হয়েছিল।    পিসিইউ, এসইডিপি প্রজেক্টের গবেষণা কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলামকে সারা দেশ থেকে আগত জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগীদের রিসিভিং, আবাদন ও পরিবহণ কমিটিতে রাখা হয়েছিল। শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিজয়ী প্রতিযোগীদের তালিকা তৈরি ও পুরস্কার বিতরণ উপকমিটি ও প্রতিযোগীদের রিসিভিং, আবাদন ও পরিবহণ কমিটিতে রাখা হয়েছিল বিশেষ শিক্ষা শাখার উপ-পরিচালক তরিকুল ইসলামকে।    এছাড়া পিসিইউ, এসইডিপি প্রজেক্টের পরিসংখ্যানবিদ মো. ওয়াহিদুর রহমানকে মিডিয়া, প্রচার ও ডিজিটাল সাপোর্ট উপকমিটিতে এবং এসইডিপি প্রজেক্টের উপ-পরিচালক মাহবুবা ইয়াসমীনকে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগীদের রিসিভিং, আবাদন ও পরিবহন কমিটিতে রাখা হয়েছিল। তবে সমালোচনার মুখে আয়োজক কমিটি থেকে বিতর্কিত এই কর্মকর্তাদের বাদ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।   নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে ঢাকা কলেজের প্রভাষক ও শিক্ষা ক্যাডারের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে যারা খুনি বলেছিল, তাদের কীভাবে প্রথম কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছিল সেটি খুঁজে বের করা দরকার। এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কিনা সেটিও খোঁজ নেওয়া দরকার।’

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বাউবির প্রো-ভিসি পদ থেকে অপসারিত ড. দিল রওশন আরা

শিক্ষামন্ত্রীকে শূন্যে ভাসিয়ে এমআইএসটি গ্র্যাজুয়েটদের অভিনব উল্লাস

ছবি : সংগৃহীত

প্রাথমিকে যোগদানে তিন দফা দাবি সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের

0 Comments