হাতে স্নাতক বা স্নাতকোত্তরের ঝকঝকে সনদ, অথচ চাকরির বাজারে কাঙ্ক্ষিত সুযোগ নেই। সীমিত কর্মসংস্থানে তীব্র প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন তরুণরা, বাড়ছে বেকারত্ব ও হতাশা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, কর্মমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা-প্রশিক্ষণই কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে কার্যকর সমাধান হতে পারে। এমন কর্মমুখী শিক্ষায় জীবন বদলাচ্ছেও অনেকের।
খাগড়াছড়ির এক সাধারণ কৃষক পরিবারের সন্তান আমানত শাহ। বাবা কৃষক, মা গৃহিণী। ছয় সদস্যের পরিবারের বড় স্বপ্নগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়া সবসময় সহজ ছিল না। এইচএসসি শেষ করার পর তিনি বুঝতে পেরেছিলেন- শুধু সার্টিফিকেট নয়, জীবনে এগিয়ে যেতে প্রয়োজন বাস্তবমুখী দক্ষতা।
নিজের এলাকায় বা বাইরে কম্পিউটার অপারেশন কোর্স করতে ১০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়, যা অনেক পরিবারের পক্ষেই বহন করা কঠিন। ঠিক তখনই আমানত শাহ জানতে পারেন ‘ইউসেপ মিরপুর টিভেট ইনস্টিটিউটের’ কথা।
দেশের অন্যতম মানসম্পন্ন এই কারিগরি প্রতিষ্ঠানে তিনি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ছয় মাসের কম্পিউটার অপারেশন কোর্সে ভর্তি হন। পাঁচ মাস তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি এক মাসের ইন্টার্নশিপ তাকে প্রস্তুত করেছে বাস্তব কর্মজীবনের জন্য।
আমানত বলেন, ‘এখানকার সুন্দর ক্যাম্পাস, আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ উপকরণ এবং সবচেয়ে বড় কথা শিক্ষকদের আন্তরিকতা আমাকে প্রতিদিন নতুন করে শেখার অনুপ্রেরণা দেয়। ইউসেপে শুধু কম্পিউটার নয়, কেয়ারগিভিং, অটোমোবাইলসহ মোট ২২টি ট্রেডে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে।’
পাবনার মেয়ে আফসানা খানমের গল্পটাও প্রায় একই রকম। সরকারি বাঙলা কলেজ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করার পর তারও স্বপ্ন ছিল একটি সম্মানজনক চাকরি। কিন্তু বাস্তবতা তাকে ভিন্ন এক সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করায়।
আফসানা বলেন, ‘শুধু সাধারণ বিষয়ে ডিগ্রি থাকলেই আজকাল চাকরি পাওয়া সহজ নয়। প্রায় প্রতিটি নিয়োগেই দক্ষতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। স্বামীর এক বন্ধুর মাধ্যমে ইউসেপ সম্পর্কে জানতে পেরে ক্যাম্পাস পরিদর্শনের পর আমি কেয়ারগিভিং ট্রেডে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেই।’ এখানকার শিক্ষকদের আন্তরিকতা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পদ্ধতি এবং কর্মমুখী পরিবেশ তাকে মুগ্ধ করেছে বলে জানান তিনি।
তরুণদের উদ্দেশে আফসানার আন্তরিক আহ্বান- ‘অকারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বা আড্ডায় সময় নষ্ট করবেন না। একবার ইউসেপ বাংলাদেশে এসে দেখুন। একটি দক্ষতা অর্জন করুন। কারণ একটি দক্ষতাই আপনার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে এবং স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারে।’
আমানত শাহ বা আফসানার মতো এই তরুণ-তরুণীদের গল্প কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; এটি হাজারো স্বপ্নবাজ তরুণের সম্ভাবনার প্রতিচ্ছবি। সুবিধাবঞ্চিত ও কর্মপ্রত্যাশী তরুণদের আলোর পথ দেখাতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে ইউসেপ।
যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে নিউজিল্যান্ডের নাগরিক লিন্ডসে অ্যালান চেইনির হাত ধরে বাংলাদেশে যাত্রা করে সংস্থাটি। সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও যুবসমাজকে সাধারণ শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা এবং বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ (টিভিইটি) প্রদানের মাধ্যমে দেশীয় তরুণদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ইউসেপ।
ইউসেপের সামগ্রিক কার্যক্রম সম্পর্কে বলতে গিয়ে ইউসেপের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান বলেন, ‘যুগের সঙ্গে তালমিলিয়ে তরুণ সমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর না করলে কেবল সনদের জোরে বেকারত্ব দূর করা সম্ভব নয়। আমরা স্বল্প ও মানসম্মত খরচে বা ক্ষেত্রবিশেষে বিনামূল্যে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ দিয়ে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তুলছি। তরুণদের এই কর্মমুখী শিক্ষায় আরও বেশি আগ্রহী হতে হবে।’
প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইউসেপ বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ২ লাখ ৮৫ হাজার ২৬ জনকে বিভিন্ন ট্রেডে পেশাদার প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। এর মধ্যে সফলভাবে কর্মসংস্থান বা চাকরি পেয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮৯৯ জন। শুধু কারিগরি প্রশিক্ষণই নয়, এর পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত ৪ লাখ ৩ হাজার ৯৫৭ জনকে আনুষ্ঠানিক শিক্ষাও প্রদান করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপে দেখা গেছে, দেশে প্রায় ২৭ লাখ ৩০ হাজার বেকার, যার আনুপাতিক হার ৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ। সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টরা কর্মমুখী শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই ডিগ্রি আছে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা নেই- তরুণ প্রজন্মের এই শূন্যতা পূরণে এবং বেকারত্ব দূরীকরণে ইউসেপ বাংলাদেশ আজ এক নতুন সম্ভাবনার নাম। তাদের হাত ধরে চাকরির দুয়ার খুলছে লাখো তরুণ-তরুণীর।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
দেশের প্রতিটি সংসদীয় আসনে ক্যাডেট কলেজের আদলে দুটি করে মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন নরসিংদী-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন। এ হিসাবে সারা দেশে মোট ৬০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নরসিংদীর ঘোড়াদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রাথমিক বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সদর উপজেলার ৪০০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে বৃত্তির সনদ ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। খায়রুল কবির খোকন বলেন, প্রতিটি সংসদীয় আসনে ক্যাডেট কলেজের মতো মানসম্পন্ন দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হলে সাধারণ পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত শিক্ষার সুযোগ তৈরি হবে। এসব প্রতিষ্ঠানে নামমাত্র খরচে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, নরসিংদী সদর এলাকাতেও দুটি এমন প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হবে। এতে এলাকার মেধাবী শিক্ষার্থীরা আধুনিক ও মানসম্মত পরিবেশে পড়াশোনা করার সুযোগ পাবে এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারবে। শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একসময় শিক্ষকদের পেনশন কিংবা বদলি সংক্রান্ত কাজে দীর্ঘদিন ধরে দাপ্তরিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হতো। অনেক ক্ষেত্রে আর্থিক হয়রানিরও অভিযোগ ছিল। বর্তমানে অনলাইনভিত্তিক কার্যক্রম চালু হওয়ায় এসব জটিলতা অনেকটাই কমেছে। তিনি আরও বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পেনশনের অর্থের জন্য এখন আর বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরতে হবে না। ডিজিটাল ব্যবস্থায় তাঁদের প্রাপ্য অর্থ সরাসরি ব্যাংক হিসাবে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শিক্ষকদের বদলি ও পদায়ন নিয়েও বক্তব্য দেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, আগের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা ভিআইপির সুপারিশে শিক্ষক বদলির সুযোগ থাকবে না। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী যৌক্তিক ও মানবিক কারণ থাকলেই বদলির আবেদন বিবেচনা করা হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা জাহান সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিরঞ্জন কুমার রায়, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।
এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে ৭৯ জন পরীক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে। একই সঙ্গে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১২ জন। এ ছাড়া পুনঃনিরীক্ষণের পর ১ হাজার ৫ জন পরীক্ষার্থীর গ্রেড পয়েন্ট এবং ৩ হাজার ১১৮ জনের প্রাপ্ত নম্বরে পরিবর্তন এসেছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হয়। বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক শরীফ মোর্শেদ রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এবার বরিশাল বোর্ডের ১৭ হাজার ২৮৩ জন পরীক্ষার্থী উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছিলেন। পুনঃনিরীক্ষণের পর ৭৯ জন ফেল থেকে পাস করেছে এবং ১১২ জন নতুন করে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। এ ছাড়া ১ হাজার ৫ জন পরীক্ষার্থীর গ্রেড পয়েন্ট পরিবর্তন হয়েছে। নম্বরের ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছে ৩ হাজার ১১৮ জনের। এর আগে গত ১০ আগস্ট এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ওই ফলে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এবার বরিশাল বোর্ডের অধীনে ১ হাজার ৫১৫টি বিদ্যালয়ের মোট ৮২ হাজার ৯০১ জন পরীক্ষার্থী ছিল। তাদের মধ্যে ৮০ হাজার ৪৫৮ জন ২১৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে ৪৮ হাজার ৫৫৫ জন। এসএসসি পরীক্ষায় বরিশাল বোর্ডে ২৪ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষকদের বদলি নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের মধ্যে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা। তারা জানিয়েছেন, সিনিয়র শিক্ষকদের বদলি সংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্তের বিষয়ে তাদের কোনো বিরোধিতা বা মন্তব্য নেই। একই সঙ্গে ব্যাচের নাম ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তির বিতর্কিত বক্তব্যের দায়ও নেবে না ২০২৫ ব্যাচ। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ অবস্থান তুলে ধরেন চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সিনিয়র ও নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ ব্যাচের পক্ষ থেকে তাদের সামষ্টিক অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর ১৪ হাজার ৩৮৪ জন চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকের যোগদান ও পদায়নের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান এবং ৪ অক্টোবরের মধ্যে পদায়ন হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, সিনিয়র শিক্ষকদের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই তারা স্পষ্ট করতে চান যে, বদলি সংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্তের বিষয়ে ২০২৫ ব্যাচের কোনো বিরোধিতা নেই। তারা আরও জানান, সম্প্রতি একজন ব্যক্তি ২০২৫ ব্যাচের নাম ব্যবহার করে যে বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি তার ব্যক্তিগত বক্তব্য। এর সঙ্গে পুরো ব্যাচের কোনো সম্পর্ক নেই। ভবিষ্যতে কেউ ব্যাচের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত বা বিতর্কিত বক্তব্য দিলে তার দায়ও ২০২৫ ব্যাচ নেবে না। চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা বলেন, ১৪ হাজার ৩৮৪ জনের একটি ব্যাচের সামষ্টিক অবস্থান কোনো একক ব্যক্তির বক্তব্য দিয়ে নির্ধারিত হতে পারে না। তাদের মূল অবস্থান হলো—সিনিয়র ও জুনিয়রের মধ্যে বিভাজন নয়; বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও ঐক্যের পরিবেশ বজায় রাখা। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সিনিয়র শিক্ষকদের কোনো যৌক্তিক সমস্যা বা উদ্বেগ থাকলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক সংগঠন ও দায়িত্বশীল নেতারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেবেন—এটাই ২০২৫ ব্যাচের প্রত্যাশা। এ ধরনের গঠনমূলক উদ্যোগে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরাও সহযোগিতার মানসিকতা নিয়ে পাশে থাকবেন। পদায়নের আগে বদলি স্থগিতের উদ্যোগ: এদিকে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের পদায়নের আগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক এক আদেশে বলা হয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ জনের মধ্য থেকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত শিক্ষকদের ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান এবং ৪ অক্টোবরের মধ্যে পদায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫-এর ৭(২)(ক) ধারার উল্লেখ করে বলা হয়, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ উপজেলা ও ক্ষেত্রবিশেষে থানাভিত্তিক হবে। তবে গত ২১ জুনের ৩৫০ নম্বর প্রজ্ঞাপনের আলোকে বদলি কার্যক্রম চলমান থাকায় কিছু উপজেলা বা থানায় নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পদায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক শূন্য পদ নেই। অধিদপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন শিক্ষকদের পদায়নের আগে বদলি কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে বিভিন্ন এলাকায় পদায়ন নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ কারণে নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের পদায়ন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সহকারী শিক্ষক বদলি কার্যক্রম স্থগিত রাখা প্রয়োজন। এ অবস্থায় ৮ সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ৪ অক্টোবর পর্যন্ত সব পর্যায়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে সহকারী শিক্ষক বদলি কার্যক্রম স্থগিত রাখার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা চেয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।