গত পাঁচ বছরে প্রায় ৯ লাখ ভারতীয় নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় এক লিখিত উত্তরে এই তথ্য তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং।
শুক্রবার ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য ইকোনমিক টাইমস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় দেশটির মন্ত্রী জানায়, বিপুলসংখ্যক ভারতীয় নাগরিক তাদের নাগরিকত্ব ত্যাগ অব্যাহত রেখেছেন, এবং গত পাঁচ বছরে প্রায় ৯ লাখ মানুষ এই কাজ করেছেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং রাজ্যসভায় একটি লিখিত বক্তব্যে এই তথ্য দেন।
মন্ত্রী জানান, যারা ভারতীয় নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন, সরকার তাদের বার্ষিক রেকর্ড রাখে। ২০১১ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে মোট ১১ লাখ ৮৯ হাজার ১৯৪ জন ভারতীয় তাদের নাগরিকত্ব ছেড়ে দিয়েছেন।
সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ বছরে ২০ লাখেরও বেশি মানুষ ভারতীয় নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। এই পরিসংখ্যানগুলো বলছে, বিদেশি নাগরিকত্ব বেছে নেওয়া ভারতীয়দের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতেই বার্ষিক সর্বোচ্চসংখ্যক লোক নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় বছর অনুযায়ী এই সংখ্যাগুলো পেশ করেন।
তালিকা অনুসারে, ২০১১ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর যে সংখ্যক ভারতীয় নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন, তার সংখ্যাটি ওঠানামা করেছে। ২০১১ সালে ১,২২,৮১৯ জন নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন, যা পরের বছর সামান্য কমে ১,২০,৯২৩ জনে দাঁড়ায়। এরপর ২০১৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সংখ্যাটি মূলত ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজারের মধ্যে ছিল। যেমন: ২০১৩ সালে ১,৩১,৪০৫ জন, ২০১৪ সালে ১,২৯,৩২৮ জন, এবং ২০১৫ সালে ১,৩১,৪৮৯ জন নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন। ২০১৬ সালে এই সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ ১,৪১,৬০৩ জন এবং ২০১৯ সালে ছিল ১,৪৪,০১৭ জন। তবে ২০২০ সালে নাগরিকত্ব ত্যাগের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৮৫,২৫৬ জনে দাঁড়ায়। এরপরের বছরগুলোতে এই সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ২০২১ সালে ১,৬৩,৩৭০ জন, ২০২২ সালে ২,২৫,৬২০ জন এবং ২০২৩ সালে ২,১৬,২১৯ জন নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভারতীয় নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন ২,০৬,৩৭৮ জন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল–ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত ও উত্তেজনার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই বড় জ্বালানি তেলের চালান পেয়েছে পাকিস্তান। ইতোমধ্যে চারটি পেট্রোলবাহী জাহাজ দেশটির পোর্ট কাসিম বন্দরে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) পাকিস্তানের গণমাধ্যম জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে এসব জাহাজে করে পেট্রোল আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ৩৭ হাজার টন পেট্রোল খালাস করা হয়েছে। এছাড়া আরও প্রায় ৫০ হাজার টন পেট্রোলবোঝাই একটি চালান খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। পোর্ট কাসিম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আরও দুটি জাহাজ শিগগিরই বন্দরে পৌঁছাবে। এর মধ্যে একটি ১২ মার্চ প্রায় ৫৫ হাজার টন এবং অন্যটি ১৩ মার্চ প্রায় ৩৪ হাজার টন পেট্রোল নিয়ে পাকিস্তানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ব্যয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে দেশটির ফেডারেল সরকার পেট্রোল ও ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ৫৫ রুপি বাড়িয়েছে। সর্বশেষ মূল্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে পেট্রোলের দাম প্রতি লিটার ৩২১ দশমিক ১৭ রুপি নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ২৬৬ দশমিক ১৭ রুপি। অন্যদিকে ডিজেলের দাম ২৮০ দশমিক ৮৬ রুপি থেকে বাড়িয়ে ৩৩৫ দশমিক ৮৬ রুপি করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব মোকাবিলায় জ্বালানি সাশ্রয় ও সংরক্ষণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে পাকিস্তান সরকার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ বলেছেন, পুরো অঞ্চলই বর্তমানে সংঘাতের প্রভাবের মধ্যে রয়েছে। সংকট নিরসনে ইসলামাবাদ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu নিহত হয়েছেন—এমন গুঞ্জন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এই গুঞ্জনের মধ্যেই নতুন বার্তা দিয়েছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে BBC। নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ইরানের শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেওয়া। ইরানে চলমান অভিযানের প্রসঙ্গে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলের উদ্দেশ্য হলো ইরানের জনগণকে বর্তমান সরকারের অত্যাচার থেকে মুক্ত করা। তবে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি ইরানের জনগণের ওপরই নির্ভর করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত নেওয়া পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানের শক্তির মূল ভিত্তিকে বড় ধরনের আঘাত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, ইসরায়েলের অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে। এদিকে নানা গুঞ্জনের মধ্যে নেতানিয়াহুর একটি নতুন ছবি প্রকাশ করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম The Times of Israel। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছবিটি গত সোমবার (৯ মার্চ) তোলা। এর আগে ইরানের সংবাদমাধ্যম Tasnim News Agency-এর হিব্রু সংস্করণে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে নেতানিয়াহুকে ঘিরে জল্পনা-কল্পনার কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ তুলে ধরা হয়। তবে এসব দাবি বা গুজব এখনো কোনো পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত কিংবা খণ্ডন করা হয়নি। তাসনিমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়— ১. নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত চ্যানেলে সর্বশেষ ভিডিও প্রকাশ হয়েছে প্রায় তিন দিন আগে। ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রেও বিরতি আরও বেশি—প্রায় চার দিন। এরপর তার নামে যেসব বিবৃতি প্রকাশ হয়েছে, সেগুলো কেবল লিখিত আকারে। ২. আগে প্রায় প্রতিদিনই অন্তত একটি, কখনো কখনো তিনটি পর্যন্ত ভিডিও প্রকাশ পেত। কিন্তু গত তিন দিনে কোনো ভিডিও না আসায় জল্পনা আরও বাড়ে। ৩. হিব্রু সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, ৮ মার্চ থেকে নেতানিয়াহুর বাসভবনের চারপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে আত্মঘাতী ড্রোন হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। ৪. মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর জামাতা Jared Kushner এবং ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিনিধি Steve Witkoff-এর ইসরায়েল সফর হঠাৎ বাতিল হয়েছে। সফরটি মঙ্গলবার হওয়ার কথা ছিল। অনেকে মনে করছেন, নেতানিয়াহুর স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কোনো ঘটনার সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকতে পারে। ৫. ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট Emmanuel Macron-এর সঙ্গে নেতানিয়াহুর কথিত টেলিফোন আলাপ নিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্টের দপ্তর Élysée Palace যে বিবৃতি দিয়েছে, সেখানে কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। কেবল লিখিত বিবরণ প্রকাশ করা হয়েছে, যা সাধারণত সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্রে কম দেখা যায়। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হিব্রু ভাষার বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতানিয়াহুর শারীরিক অবস্থা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ইসরায়েল সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা খণ্ডন দেওয়া হয়নি।
সিরিয়া জানিয়েছে, ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ রাতভর লেবানন থেকে তাদের এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এদিকে ইসরাইল ও লেবাননভিত্তিক শিয়া সংগঠন হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান সংঘাত চলছে। দেশটির সরকারি সংবাদ মাধ্যম আজ মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। সিরিয়ার সেনা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা আজ মঙ্গলবার জানিয়েছে, লেবানন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র দামেস্কের পশ্চিমে সেরঘায়া শহরের কাছে আঘাত হেনেছে। সেনাবাহিনী হিজবুল্লাহকে সিরিয়ার সেনা অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ করেছে। সেনাবাহিনী সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছে, তারা সিরিয়া-লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহর শক্তিবৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করেছে। দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা সানা’কে দেওয়া এক বিবৃতিতে সিরিয়ার আরব সেনা ঘোষণা করেছে, কোনো ভাবেই সিরিয়াকে লক্ষ্য করে আক্রমণ সহ্য করা হবে না।’ গত সপ্তাহে মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে হিজবুল্লাহ ইসরাইলে আক্রমণ করলে লেবানন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পূর্ব লেবাননে হিজবুল্লাহ এবং ইসরাইলি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে এবং ইসরাইল রাজধানী বৈরুতসহ লেবানন জুড়ে হামলা চালিয়েছে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন হিজবুল্লাহকে দেশকে ‘ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা’ করার অভিযোগ করেছেন। সংসদীয় দলের প্রধান বলেছেন, তাদের ‘প্রতিরোধ ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।’