পদত্যাগ করার পরিকল্পনা করেছেন বলে ছড়িয়ে পড়া একটি গুজব প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি জানিয়েছেন, তিনি তার দপ্তরে আছেন এবং কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
তার প্রশাসনের সঙ্গে ইসলামি বিপ্লবের নেতাদের নেতাদের মতবিরোধ হয়েছে, এমন দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।
বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, তার প্রশাসনের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেন, তার প্রশাসন দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে পুরো সমন্বয় বজায় রেখেছে।
সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচারের আগেই এর অংশবিশেষ ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি) এ প্রকাশ করা হয়।
তাতে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, “আমরা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে পুরোপুরি সমন্বয় বজায় রাখছি।”
তার পদত্যাগের বিষয়ে ওঠা গুঞ্জনকে তিনি ‘পুরোপুরি গুজব’ বলে উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, “আমি যদি কখনো পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেই, আমি নিজেই তা ঘোষণা করবো। কিন্তু আমি পদত্যাগ করবো না, আমি নিজের অবস্থানে অটল থাকবো।
পেজেশকিয়ান জানান, কিছু মানুষ এমন ধারণা তৈরির চেষ্টা করছে যে তার প্রশাসন ও ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনির মধ্যে পার্থক্য তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি পেজেশকিয়ানের পদত্যাগের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি এসব মন্তব্য করলেন।
এর আগে প্রেসিডেন্টের দপ্তরের তথ্য ও জনসংযোগ উপকর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহদি তাবাতাবায়ী এসব প্রতিবেদনকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘পুরোপুরি মিথ্যা’ বলে বাতিল করেছিলেন।
এসব গুজব ছড়ানোর জন্য রাজনৈতিক কট্টরপন্থিদের দায়ী করেছেন তিনি; বলেছেন, ইরানের শত্রুদের স্বার্থ রক্ষায় জাতীয় ঐক্য দুর্বল করতে এসব গুজব ছড়ানো হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। তবে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে গত প্রায় দুই সপ্তাহে তার একের পর এক মন্তব্য ও সিদ্ধান্ত নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে। ভোটারদের জন্য ৫ হাজার ডলারের অর্থপ্রদানের প্রতিশ্রুতি থেকে শুরু করে দুর্যোগ সহায়তা নিয়ে মন্তব্য, সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার সীমিত করা এবং ২০২৪ সালের হত্যাচেষ্টার সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ—সব মিলিয়ে তার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্মেলনে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তার দল প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে ‘ডিভিডেন্ড’ দেওয়া হবে। তবে কীভাবে এই অর্থ দেওয়া হবে বা এর অর্থায়ন কোথা থেকে হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি। সিএনএনের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ২৬ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে এই অর্থ দিতে হলে মোট ব্যয় ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি হতে পারে। এর আগে ট্রাম্প শুল্ক থেকে পাওয়া অর্থের ভিত্তিতে ২ হাজার ডলারের ‘টারিফ ডিভিডেন্ড’ এবং ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি (ডজ) থেকে সাশ্রয় হওয়া অর্থের একটি অংশ নাগরিকদের দেওয়ার কথাও বলেছিলেন। সেগুলো বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে নতুন ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে অর্থায়ন ও আইনগত প্রশ্ন উঠেছে। দুর্যোগ সহায়তা নিয়েও বিতর্ক নর্থ ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলির পক্ষে প্রচারণার সময় ট্রাম্প বলেন, রাজ্যটি যদি ওই প্রার্থীকে নির্বাচিত না করে, তাহলে বকেয়া দুর্যোগ সহায়তার অর্থ দেওয়া হবে না। পরে তিনি বলেন, মন্তব্যটি তিনি রসিকতা করে করেছিলেন। তবে এমন মন্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রেসিডেন্টের সরকারি সহায়তাকে নির্বাচনী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করার প্রশ্ন উঠেছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প ভোটারদের উদ্দেশে নিজেকে কার্যত ব্যালটে থাকা প্রার্থীর মতো বিবেচনা করার আহ্বানও জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নভেম্বরে ভোটারদের উচিত তার সমর্থিত কংগ্রেস সদস্য ও সিনেটরদের নির্বাচিত করা। ৯/১১ ও হত্যাচেষ্টা নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য ৯/১১ হামলার ২৫তম বার্ষিকীর আগে ট্রাম্প নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এলাকায় নিজের উপস্থিতি ও সে সময়কার অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি গল্প বলেন। কিন্তু তার বর্ণনার বিভিন্ন অংশের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। একই সময়ে ২০২৪ সালে পেনসিলভানিয়ার বাটলারে তাকে হত্যার চেষ্টাকে ‘ডেমোক্র্যাটদের ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনও প্রমাণ দেননি। এ ঘটনায় হামলাকারী থমাস ক্রুকসের সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের সম্পৃক্ততার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলও পরে কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিয়ে বলেন, ক্রুকস অন্য কারও সঙ্গে যোগাযোগ করছিল—এমন কোনও প্রমাণ নেই। বাণিজ্য বন্ধের হুমকি ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার না কমালে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে—এমন দেশগুলোর সঙ্গে বড় অংশের বৈদেশিক বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প। উত্তর ক্যারোলাইনায় তিনি বলেন, যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, তাদের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করলে বছরে অন্তত ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার পাওয়া যেতে পারে। তবে বাণিজ্য ঘাটতি ও বাণিজ্য বন্ধের মাধ্যমে এ ধরনের আয় করার যুক্তি নিয়ে অর্থনৈতিক প্রশ্ন রয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার সীমিত এরপর হোয়াইট হাউসে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়। ট্রাম্প সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকোকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেন। এর পরদিন সিএনএনের এক প্রতিবেদককে হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি এবং তার প্রেস পাস নিয়ে নেওয়া হয়। পলিটিকো ও এমএস নাওয়ের সাংবাদিকদেরও প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। আরও কিছু সিদ্ধান্ত ও মন্তব্য ট্রাম্প সম্প্রতি তার মনোনীত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের সম্পর্কে তিনি বলেন, তারা নাকি তার সাক্ষাৎকারের সময়কার ব্যক্তিদের মতো আর নেই। দীর্ঘদিনের মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির অবস্থান থেকে সরে গিয়ে আয়ারল্যান্ডের পুনরেকত্রীকরণের সম্ভাবনাকে ইতিবাচকভাবে দেখার কথাও বলেছেন তিনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগকেও ‘ভাঁওতা’ বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। অথচ একই সময়ে প্রযুক্তি খাতের কিছু গবেষক ও প্রতিষ্ঠান এআইয়ের দ্রুত বিকাশের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করে আসছে। এছাড়া কেনেডি সেন্টারে নিজের নাম যুক্ত করার বিষয়ে আদালতের অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। তার নাম যুক্ত করার উদ্যোগের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তিনি এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন যে আদালত অনুমোদন না দিলে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি আগ্রহ হারাতে পারেন। নির্বাচনের আগে নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও তার আচরণ, বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, ইরান যুদ্ধ, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন—সবকিছু একসঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জনমত জরিপে ট্রাম্পের নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগের বিষয়টি উঠে এসেছে। সিএনএন ও ফক্স নিউজের জরিপে সাতজনের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক ও নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে ১০ জন বলেছেন, ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের কোনও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই—যদিও এ ধরনের জরিপ নির্দিষ্ট সময়ের জনমতকে প্রতিফলিত করে এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে মধ্যবর্তী নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তার রাজনৈতিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আরও বেশি আলোচনায় আসছে। তার সমর্থকেরা এসব পদক্ষেপকে প্রশাসনের এজেন্ডা এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন, আর সমালোচকেরা এগুলোর আইনগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। সূত্র: সিএনএন
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ ও সামরিক উত্তেজনা প্রশমনে তিনটি স্পষ্ট শর্ত দিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই এক সাক্ষাৎকারে তেহরানের এই অবস্থানের কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা, ইরানের অবরুদ্ধ অর্থ ফেরত দেওয়া এবং নৌবাহিনীর ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নেওয়াই তাদের মূল দাবি। কাতারের মধ্যস্থতায় ইতোমধ্যে এই শর্তগুলো মার্কিন প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং ইরান এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে। রেজাই আরও উল্লেখ করেন, ইরান শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেই নয়, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথিদের মধ্যকার যুদ্ধেরও স্থায়ী অবসান চায়। তার মতে, হুথিরাও সৌদি আরবের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। সূত্র: আল-জাজিরা
ইয়েমেনের তাইজ ও লাহজ প্রদেশের মধ্যবর্তী এলাকায় হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা দুটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান পুনর্দখলের দাবি করেছে দেশটির সরকারি বাহিনী। সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের সহকারী আন্ডার সেক্রেটারি ফায়াদ আল-নুমান তুরস্কের বার্তাসংস্থা আনাদোলুকে এ তথ্য জানিয়েছেন। ফায়াদ আল-নুমানের ভাষ্য অনুযায়ী, আল-আঘবারা রণাঙ্গনে হুথি যোদ্ধাদের সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষের পর আল-বাজলা পর্বত ও মাদখুলা এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সরকারি বাহিনী। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তিনি আনাদোলুকে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, সংঘর্ষের সময় সরকারি বাহিনীর অভিযানে হুথিদের জনবল ও সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি হুথিদের সহায়তায় আসা শক্তিবর্ধক বাহিনীর ওপরও হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ইয়েমেনি কর্মকর্তার দাবি, তাইজের পশ্চিমাঞ্চলের আল-ওয়াজিয়াহ জেলার আল-দারিফা এলাকার আল-হারথা গ্রামেও হুথিদের কয়েকটি অবস্থান ও সামরিক যানবাহন লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়েছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে আল-আঘবারা এলাকাটিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাইজ ও লাহজ প্রদেশের মাঝামাঝি অবস্থানের কারণে এলাকাটি দুই অঞ্চলের বিভিন্ন সামরিক অবস্থানের মধ্যে যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। তবে এ বিষয়ে হুথিদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে। পরের বছর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনর্বহালের লক্ষ্যে সামরিক অভিযান শুরু করে। বর্তমানে ইয়েমেনের বিভিন্ন অঞ্চল হুথি ও সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় সময় সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সামরিক লড়াই ও ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তন ঘটছে। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তরাঞ্চলে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং দক্ষিণাঞ্চলের বড় অংশ সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গত জুলাই থেকে হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতে সরকারি বাহিনীর অভিযান জোরদার হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি