প্রাক-মৌসুম প্রীতি ম্যাচে চেলসিকে ২-১ গোলে হারিয়েছে টটেনহ্যাম হটস্পার। যোগ করা সময়ে ব্রাজিলিয়ান তারকা রিচার্লিসনের গোলে জয় তুলে স্পার্সরা। ১০ জনের দলে পরিণত হয়েও নাটকীয় এই জয় তুলে নেয় টটেনহ্যাম।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টটেনহ্যামের হয়ে ১৭ মিনিটে গোল করে লিড এনে দেন সান্দ্রো টোনালি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কেভিন ডানসো লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় টটেনহ্যাম। ৪৯ মিনিটে চেলসির হয়ে সমতায় ফেরান এস্তেভাও।
খেলার একেবারে শেষ মুহূর্তে জেমি ডনলির শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে বক্সে সবচেয়ে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে বল জালে পাঠান রিচার্লিসন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
গত তিন বছরে ফুটবলে ব্রাজিলিয়ানদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। যদিও জনসংখ্যার বেশিরভাগই ফুটবলকে অনুসরণ করেন। ডাটাফোলহার জরিপে উঠে এসেছে, ১৬ বছর বা তার ঊর্ধ্বের ৬৪ শতাংশ ব্রাজিলিয়ান বলেছেন, ফুটবলে তাদের অনেক (২৮ শতাংশ) বা কিছু আগ্রহ (৩৫ শতাংশ) আছে। বাকি ৩৬ শতাংশ বলেছেন, তারা ফুটবল দেখেনই না। এই বিষয়ে আগের জরিপের সঙ্গে তুলনা করা যাক। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত জরিপে ৭২ শতাংশ উত্তর প্রদানকারী বলেছিলেন, তারা ফুটবল অনুসরণ করেন, ২৮% বলেছিলেন তাদের কোনো আগ্রহ নেই। মানে এবার ফুটবলে অনাগ্রহীর সংখ্যা ৮% কমেছে। এই গবেষণায় উঠে এসেছে, আরেকটি বড় ধরনের পার্থক্য। পুরুষদের মধ্যে ৭৭% বলেছেন, তারা ফুটবল অনুসরণ করেন। নারীদের মধ্যে এই হার ৫২%। ব্রাজিল ফুটবলে আগ্রহ হারানোর অন্যতম কারণ হচ্ছে, নিকট অতীতে তাদের তেমন কোনো সাফল্য নেই। ২০১৯ সালে কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। ২০০২ সালে জিতেছিল শেষ বিশ্বকাপ। তারপর সেরা সাফল্য তারা পেয়েছিল ২০১৪ সালে সেমিফাইনালে উঠে। আর শেষ আসরে ১৯৯০ সালের পর প্রথমবার শেষ ষোলোতেই থেমে গিয়েছিল তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা। তাছাড়া দলের পারফরম্যান্সেও মন্ত্রমুগ্ধ হওয়ার মতো কিছু চোখে পড়ে না। ছন্দহীন তাদের খেলার ধরন। ব্রাজিল কি ফিরে পাবে তাদের নান্দনিক ফুটবল খেলার ধরন, তাহলেই হয়তো ব্রাজিলিয়ানদের ফুটবলের প্রতি আগ্রহ আবার ফিরবে!
ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে আরও একটি বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটতে পারে ফিফা। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৪৮ থেকে বাড়িয়ে ৬৪ করা যায় কিনা, তা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দেখা একটি গবেষণা নথি অনুযায়ী, ফিফা একটি স্বাধীন সংস্থা নিয়োগ দিতে চায়। যারা ৪৮ দলের পরিবর্তে ৬৪ দল নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজনের সম্ভাবনা, সুফল-চ্যালেঞ্জ এবং আর্থিক প্রভাব বিশ্লেষণ করবে। এর আগে ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত সেই আসরে নতুন ফরম্যাটে ১২টি গ্রুপ, অতিরিক্ত নকআউট রাউন্ড এবং মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়, যা টুর্নামেন্টের দৈর্ঘ্যও পাঁচ সপ্তাহের বেশি বাড়িয়ে দেয়। ২০২৫ সালে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা-কনমেবল আনুষ্ঠানিকভাবে ২০৩০ বিশ্বকাপে ৬৪ দল রাখার প্রস্তাব দেয়। তাদের যুক্তি ছিল, বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদ্যাপনের বিশেষ আসরে আরও বেশি দেশকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া উচিত। ফিফা এখন সেই প্রস্তাবের বাস্তবতা যাচাই করতে চায়। ৬৪ দলের টুর্নামেন্ট বিশ্বকাপকে আরও শক্তিশালী করবে নাকি প্রতিযোগিতার মান, সূচির অতিরিক্ত চাপ, আয়োজনে জটিলতা ও বাজারে আগ্রহ কমে যাওয়ার মতো ঝুঁকিগুলো সম্ভাব্য লাভকে ছাড়িয়ে যাবে; এসব দেখা হবে গবেষণায়। স্বাধীন সংস্থাটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিশ্লেষণ করবে। এর মধ্যে রয়েছে— টুর্নামেন্টের প্রতিযোগিতার মান ও ভারসাম্য বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের কাঠামোর পরিবর্তন খেলোয়াড়দের শারীরিক চাপ ও কল্যাণ আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যালেন্ডারের ওপর প্রভাব আয়োজনে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও পরিচালনাগত সক্ষমতা টিকিট বিক্রি, সম্প্রচারস্বত্ব ও স্পন্সরশিপ থেকে সম্ভাব্য অতিরিক্ত আয় ফিফার গবেষণা নথিতে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত সুপারিশে অতিরিক্ত আর্থিক মূল্য সৃষ্টি হবে কিনা শুধু তাই নয়, সেই মূল্য দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে কিনা সেটিও স্পষ্ট করতে হবে।তবে প্রস্তাবটি নিয়ে সবাই একমত নন। উয়েফা সভাপতি আলেকসান্দার চেফেরিন আগেই ৬৪ দলের বিশ্বকাপের বিরোধিতা করে এটিকে ‘ভালো ধারণা নয়’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। ইউরোপীয় ফুটলবের নিয়ন্ত্রক সংস্থার অবস্থান এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিকে এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (এএফসি) এর সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফাও প্রশ্ন তুলেছিলেন, বিশ্বকাপের পরিধি বাড়ানোর এই ধারা শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামবে। ফিফা জানিয়েছে, গবেষণা পরিচালনার জন্য কোন সংস্থাকে দায়িত্ব দেয়া হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে ১৪ আগস্ট। নির্বাচিত সংস্থাকে মাত্র চার সপ্তাহের মধ্যে, অর্থাৎ ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণী প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। বিশ্বকাপের শতবর্ষের আসর ২০৩০ যৌথভাবে আয়োজন করবে মরক্কো, পর্তুগাল ও স্পেন। পাশাপাশি শতবর্ষ উদ্যাপনের অংশ হিসেবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে একটি করে ম্যাচ আয়োজন করবে।
ফিফার বিভিন্ন টুর্নামেন্টের শেয়ার বিক্রির প্রস্তাবে উয়েফা সদস্যদের বিশ্বকাপ বয়কটের হুংকার এখন ফুটবল বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তবে কোনো দল বা মহাদেশীয় সংস্থার ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে এমন কঠোর অবস্থান নেওয়ার নজির ইতিহাসে এবারই প্রথম নয়। ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা সম্প্রতি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রস্তাবিত ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসরের শেয়ার বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনার প্রতিবাদে বিশ্বকাপ বয়কটের পক্ষে ভোট দিয়েছে। উয়েফার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘কনকাকাফ’। উত্তর ও মধ্য আমেরিকায় সদ্য সমাপ্ত হওয়া এ বছরের বিশ্বকাপের আয়োজক সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের ৪১টি সদস্য সংস্থাই ইনফান্তিনোর এই প্রস্তাবটি ‘প্রত্যাখ্যান’ করেছে। উয়েফার মতো শক্তিশালী কোনো সংস্থা আগে কখনো সরাসরি এমন বর্জনের হুমকি না দিলেও, ভূ-রাজনীতি কিংবা ফুটবলের অভ্যন্তরীণ কারণে বিভিন্ন দেশ ও পরিচালনা পর্ষদের বিশ্বকাপ বর্জন করার বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক উদাহরণ রয়েছে। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে চার বছর পর ১৯৩৪ সালের বিশ্বকাপে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। দক্ষিণ আমেরিকায় আয়োজিত সেই প্রথম টুর্নামেন্টে পর্যাপ্ত ইউরোপীয় দল অংশ না নেওয়ার প্রতিবাদেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৩৮ সালে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় প্রতিবেশী দেশ আর্জেন্টিনাও, যারা নিজেরা সেই টুর্নামেন্ট আয়োজনের আশা করেছিল। অন্যদিকে, ১৯৫৮ বিশ্বকাপের এশিয়ান বাছাইপর্বে ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলতে অস্বীকৃতি জানায় তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, মিসর ও সুদান। পরবর্তীতে ইসরায়েলকে হারাতে একটি বিশেষ প্লে-অফ ম্যাচ খেলতে হয়েছিল ওয়েলসকে। ১৯৬৪ সালের অক্টোবরে আফ্রিকান ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ‘ক্যাফ’-এর অন্তর্ভুক্ত ১৫টি আফ্রিকান দেশ বাছাইপর্ব থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয়। তাদের ক্ষোভ ছিল—যেখানে ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে ইউরোপের জন্য ১০টি স্পট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, সেখানে আফ্রিকা, এশিয়া ও ওশেনিয়া মহাদেশের জন্য যৌথভাবে মাত্র ১টি স্পট রাখা স্পষ্টতই বৈষম্যমূলক। এর আট বছর পর, ১৯৭৩ সালে চিলিতে অগুস্তো পিনোশের ক্ষমতা দখলের পর সেনা অভ্যুত্থান ঘটে। এর প্রতিবাদে সান্তিয়াগোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্লে-অফ টাইয়ের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচটি খেলতে অস্বীকার করে সোভিয়েত ইউনিয়ন। ফলে চিলির একাদশ একাই সান্তিয়াগোর ‘এস্তাদিও নাসিওনাল’ মাঠে নামে এবং কিক-অফের পর অধিনায়ক ফ্রান্সিসকো ভালদেস হেঁটে গিয়ে ফাঁকা জালে বল প্রবেশ করান। পরবর্তীতে চিলিকে ২-০ গোলে জয়ী ঘোষণা করা হয়।