অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বিখ্যাত বন্ডি বিচে হামলাকারীদের মধ্যে একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী যুবক ২৪ বছর বয়সী নাভিদ আকরাম। তিনি সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমের বনিরিগ এলাকার বাসিন্দা।
সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার সময় নাভিদ গুলিবিদ্ধ হন। এরপর পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অপর এক বন্দুকধারী ঘটনাস্থলেই পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন।
বনিরিগের পাতিয়া এলাকায় নাভিদের বাড়িতে অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে পুলিশ। বাড়িটি তাঁর পরিবার গত এক বছর ধরে ব্যবহার করছে।
সামাজিক মাধ্যমে নাভিদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের ছবি ও হামলার সময়ের তাঁর ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ কেউ বলছেন, নাভিদ আকরাম পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত। এক্সে এক পোস্টে একজন লিখেছেন, ‘আমি নাভিদের সঙ্গে ব্রিক কারখানায় কাজ করেছি অনেকদিন। ও পাকিস্তানি।’ অপর একজন লিখেছেন, ‘ও পাকিস্তানের লাহোর থেকে এসেছে।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘ড্রাইভিং লাইসেন্সের ছবিতে ওকে পাকিস্তানের জার্সি পরা দেখা যাচ্ছে।’ তবে নাভিদ আকরামের সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু এখনো জানা যায়নি।
স্থানীয় সময় আজ রোববার সন্ধ্যায় বন্ডি সমুদ্র সৈকতে বন্দুক হামলায় এখন পর্যন্ত শিশুসহ ১২ জন নিহত ও অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। হামলার সময় বন্ডি বিচে ইহুদিদের অন্যতম প্রধান উৎসব হানুক্কাহর অনুষ্ঠান চলছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আজ সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে ক্যাম্পবেল প্যারেডসংলগ্ন বন্ডি প্যাভিলিয়নের কাছে একটি গাড়ি থেকে দুই ব্যক্তি নেমে আসেন। এরপর তাঁরা গুলি চালাতে শুরু করেন।
এদিকে এ ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইমামস কাউন্সিল ও কাউন্সিল অব ইমামস এনএসডব্লিউ এক যৌথ বিবৃতিতে বন্ডি বিচে গুলির ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমাদের সমাজে সহিংসতার কোনো স্থান নেই। এ ঘটনার জন্য দায়ীদের পূর্ণ জবাবদিহি ও আইনের আওতায় এনে শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে।’ নিহত ব্যক্তিদের পরিবার, আহত ও এই হামলার প্রত্যক্ষদর্শীদের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
আগামী সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ সফরে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সফরসূচিতে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইন। শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এ তথ্য জানিয়েছে। তবে সফরের উদ্দেশ্য বা সম্ভাব্য আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক সমঝোতা, লেবাননের পরিস্থিতি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ইস্যুকে ঘিরে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এর আগে শুক্রবার লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন মার্কো রুবিও। এ সময় তিনি লেবাননের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব জোরদারে দেশটির সরকারের প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরকে কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
পার্সটুডে- পারস্য উপসাগরীয় জলপথ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক অনুসারে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় শর্তাবলী ও নির্দেশনা প্রকাশ করেছে। ফার্স নিউজ এজেন্সিকে উদ্ধৃত করে পার্সটুডে জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরীয় জলপথ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এক্স সামাজিক নেটওয়ার্কে দেয়া এক বার্তায় ঘোষণা করেছে, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আদেশ জারির পরিপ্রেক্ষিতে, এতদ্বারা জানানো হচ্ছে যে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের আবেদনকারীদেরকে ঘোষিত সময়সীমার মধ্যে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হবে। ঘোষণাটি নীচে উল্লেখ করা হলো: ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আদেশ জারির পরিপ্রেক্ষিতে, এতদ্বারা জানানো হচ্ছে যে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের আবেদনকারীদেরকে ঘোষিত সময়সীমার মধ্যে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হবে। পারস্য উপসাগরীয় জলপথ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কাছে ট্রানজিট অনুরোধ জমা দেওয়ার আনুষ্ঠানিক সাইট: PGSA.ir অনুরোধের পর কাজের অগ্রগতি জানার জন্য ইমেল: Info@PGSA.ir গুরুত্বপূর্ণ শর্তাবলী: ১. ট্রানজিট অনুরোধ প্রক্রিয়াকরণের একমাত্র আনুষ্ঠানিক মাধ্যম হলো উপরের এই ওয়েবসাইট এবং ইমেল। ২. জমা দেওয়া অনুরোধে জাহাজের সাথে যোগাযোগের জন্য বৈধ এবং সহজলভ্য রুট অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। ৩. হরমুজ প্রণালীর প্রবেশ বা প্রস্থানে বিলম্ব এড়াতে, প্রণালীতে পৌঁছানোর কমপক্ষে ৪৮ ঘন্টা আগে প্রয়োজনীয় সম্পূর্ণ তথ্যসহ একটি ট্রানজিট অনুরোধ জমা দেওয়া আবশ্যক। ৪. ৬০ দিনের এই সময়কালে, জাহাজ থেকে কোনো ফি নেওয়া হবে না এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সরকার নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও পরিবেশগত পরিষেবা বাবদ শুল্ক গ্রহণ এবং সেইসাথে সংশ্লিষ্ট ইরানি বীমার দায়িত্বে থাকবে। ৫. জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় ও প্রণালী অতিক্রমে কিছু নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে নিরাপদ ও সুরক্ষিত জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা ও সামুদ্রিক দুর্ঘটনা রোধের প্রয়োজনে, প্রণালীর দিকে অগ্রসর হওয়ার পূর্বে প্রতিটি জাহাজের জন্য রুট এবং ঘোষিত ট্রানজিটের সময় সমন্বয় করা আবশ্যক; এটি অমান্য করার দায় জাহাজের মালিকের উপর বর্তাবে।
বিধানসভায় পরিষদীয় দল ও লোকসভায় সংসদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর এবার নিজের হাতে গড়া দলের নাম, নির্বাচনী প্রতীক এবং হাজার কোটি রুপির তহবিল নিয়েও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে স্থানীয় পর্যায়ে দলটির সিনিয়র ও জুনিয়র নেতাদের একাংশ ধারাবাহিকভাবে তার সঙ্গ ছাড়ছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে, ফলে ক্রমেই আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন মমতা। শুক্রবার (১৯ জুন) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অবস্থানে নতুন করে ধাক্কা দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক মন্ত্রী ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক দল ছাড়ার ঘোষণা দেন। এদিকে একের পর এক নেতা-কর্মীর পদত্যাগ ও দলত্যাগের ঘটনায় তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। এর ফলে রাজনৈতিকভাবে আরও চাপে পড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সদ্য শেষ হওয়া ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর শেষবার গত শনিবার দলের সাংগঠনিক পদে রদবদল করা হয়েছিল। তৃণমূলের ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটিতে (জাতীয় কর্ম সমিতি) জায়গা দেওয়া হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা হয়েছিল জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে। কিন্তু এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই সেই পদ থেকে ইস্তফা দিলেন। তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক এই মন্ত্রী। শুক্রবার তিনি তার এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জিকে। নিজের শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি উল্লেখ করে মমতা ঘনিষ্ঠ এই তৃণমূল নেতা মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে হাতে লেখা চিঠিতে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমি শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছি। আমার ৩৫০-এর ওপর সুগার, কিডনিও খারাপ হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসকদের পরামর্শে আমার সম্পূর্ণ বিশ্রামের প্রয়োজন এবং কোনপ্রকার মানসিক ও শারীরিক চাপ নেওয়া সম্ভব নয়। এমতাবস্থায়, দলের জাতীয় কর্ম সমিতির সদস্যপদের দায়িত্ব পালনে অব্যাহতি চেয়ে নিলাম।’ জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ১৯৯৮ সালে দলের প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই সঙ্গে ছিলেন। ২০১১ সাল থেকে পরপর তিনটি মেয়াদে হাবড়া আসন থেকে বিধায়ক হন। তারও আগে গাইঘাটা আসনের বিধায়ক ছিলেন তিনি। ২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের খাদ্য ও খাদ্য সরবরাহ দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন। এরপর বন (ফরেস্ট) মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় দলের সংগঠন বিস্তারে গত ২ দশক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল জ্যোতিপ্রিয়র ওপর। যদিও রেশন দুর্নীতি মামলায় ২০২৩ সালে তাকে গ্রেপ্তার করে অ্যানফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এরপর কারাগারে যেতে হয় তাকে। পরে জামিনে মুক্তি পান। কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পরেও তার পাশেই ছিলেন দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জি। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে ফাঁসানো হয়েছিল বলেও দাবি করেছিলেন মমতা। এমনকি সদ্য শেষ হওয়া ২০২৬ সালের বিধানসভার নির্বাচনেও তার ওপর ভরসা রেখে তাকেই হাবড়া আসনে চতুর্থবারের জন্য প্রার্থী করেছিল দল। যদিও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠা এমন একজন নেতাকে নির্বাচনে প্রার্থী করায় সমালোচনার ঝড় ওঠে। তাকে প্রার্থী করার পর দলের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা যায়। দুর্নীতির অভিযুক্ত সেই জ্যোতিপ্রিয়কে যে হাবড়ার মানুষ গ্রহণ করেনি তা নির্বাচনের ফলাফলই পরিষ্কার। এই নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী দেবদাস মন্ডল এর কাছে পরাজিত হতে হয় তাকে। এমনকি এই নির্বাচনে তার দল তৃণমূল কংগ্রেস ও পর্যদুস্ত হয় গেরুয়ার শিবিরের কাছে। রাজ্যের ২৯৪ আসনের মধ্যে তৃণমূল জয় পায় ৮০ আসনে। নির্বাচনে ভরাডুবির পরই দলে ভাঙন শুরু হয়। দলের অন্দরে তৈরি হয় কোন্দল। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অভিযোগ আঙ্গুল তুলে ইতিমধ্যেই কেউ দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন, কেউ নিজেদের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। রাজ্য বিধানসভায় এবং সংসদেও তৃণমূল ভেঙে তৈরি হয়েছে আরেকটা তৃণমূল। গত ১৫ বছরের শাসন ক্ষমতায় থাকা তৃণমূলের একাধিক নেতা নেত্রীর বিরুদ্ধে উঠেছে দুর্নীতি, তোলাবাজি, হুমকি প্রদর্শন, বেআইনি নির্মাণ, পায়ে বহির্ভূত সম্পত্তি গড়ে তোলা সহ একাধিক অভিযোগ। দিন যত যাচ্ছে, সেই সমস্ত তৃণমূল নেতা-নেত্রীদের বিরুদ্ধে জায়গায় জায়গায় জনরোষ ছড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু দল যখন বিপাকে, একে একে মমতাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছেন তারই ঘনিষ্ঠ নেতা-নেত্রীরা... সেসময় মমতার সঙ্গ ছাড়লেন বালুও। অন্যদিকে এদিনই শিলিগুড়ি পৌরসভার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন গৌতম দেব। পুর কমিশনার অশ্বিনী কুমার রায়ের হাতে ইস্তফা পত্র তুলে দেন গৌতম দেব। তবে কী কারণে এই ইস্তফা তা এখনও জানা যায়নি। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি কেন্দ্র থেকে জিতে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী হয়েছিলেন গৌতম। ২০১৬ সালে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর পর্যটনমন্ত্রী হন তিনি। ২০২১ সালের নির্বাচনে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি আসনে দাঁড়িয়ে বিজেপি প্রার্থী শিখা চট্টোপাধ্যায়ের কাছে হেরে যান। ২০২৬ সালে শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী হয়েও জয়ের মুখ দেখতে পারেননি তিনি। হেরে যান বিজেপি প্রার্থী তথা রাজ্যের বর্তমান মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের কাছে। এরই মাঝে ২০২২ সালের শিলিগুড়ি পুরনিগমের নির্বাচনে গৌতমের নেতৃত্বে জয় পেয়েছিল তৃণমূল। এবার সেই পুরনির্বাচনও হাতাছাড়া হচ্ছে তাদের। এছাড়াও শুক্রবার পদত্যাগ করেছেন নবদ্বীপ পৌরসভার পৌর প্রধান শচীন্দ্র বসাক। আলিপুরদুয়ার পৌরসভার চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ কর। এর আগে বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করেছেন বহরমপুর পৌরসভার পৌর প্রধান নাড়ু গোপাল মুখোপাধ্যায়। ব্যারাকপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান উত্তম দাস। বেলডাঙা পৌরসভার চেয়ারম্যান অনুরাধা হাজরা। উত্তর দমদম পৌরসভার চেয়ারম্যান বিধান বিশ্বাসসহ প্রায় ৩০টি পৌরসভার চেয়ারম্যান। পদত্যাগ করেছেন ২ শতাধিকের বেশি পৌর কাউন্সিলর। দুর্নীতির দায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে অশোকনগর পৌরসভার চেয়ারম্যান প্রবোধ সরকারসহ বেশ কয়েকজন চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলকে। নির্বাচনের পরে অনেকেই আবার বেপাত্তা। পশ্চিমবঙ্গের তিন হাজার পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদ ও ১২৮ পৌরসভায় রীতিমতো পদত্যাগের হিড়িক শুরু হয়েছে। আর প্রতিদিনই রাজনৈতিক শক্তি একটু একটু করে হারিয়ে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনে একবার হেরেই কঠিন বাস্তবতার মুখে পড়েছেন মমতা। কিন্তু কেন ওই পদত্যাগের জোয়ার? পদত্যাগীরা বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবথেকে বড় ভুল হেরে যাওয়ার পরে হার স্বীকার করে না নেওয়া। এতে মানুষের মধ্যে ভুল বার্তা গিয়েছে। মাঠে ময়দানে নেমে তাদের জন্য রাজনীতি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। একটানা ১৭ বছর ব্যারাকপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন উত্তম দাস। পদত্যাগের পর তিনি বলেছেন, মানুষ আমাদের দল ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাই সমস্ত দায়ভার নিয়ে আমি চেয়ারম্যান এবং দলের সব পদ থেকে পদত্যাগ করছি। এর আগে মমতাকে বড় রাজনৈতিক ধাক্কা দিয়েছেন কলকাতার সাবেক মেয়র ফিরহাদ হাকিম ওরফে ববি হাকিম। তিনিও আসল তৃণমূল দাবী করা ঋতব্রত তৃণমূলে মিশে গিয়েছেন ছেড়েছেন কালীঘাট তৃণমূলের সমস্ত পদ। রাজনৈতিক এই ধাক্কা নিজের পরিবারেও ভালোভাবেই অনুভব করছেন মমতা। মমতার ভাই বাবন বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে ভাই বউ কাজরি বন্দ্যোপাধ্যায়। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে শুভেন্দু অধিকারী কে মমতার থেকে বেশি আপন করেছেন তারা। পরিস্থিতি যেদিকে গড়াচ্ছে তাতে চলতি বছরের শেষে আসন্ন ১২৮ পৌর নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার মত অবস্থায় নেই তৃণমূল কংগ্রেস। এমন পরিস্থিতিতে পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘর গোছাতে শুরু করেছে বিজেপি। যেখানে সাফল্য পেলে বিজেপি গ্রাসরুটে প্রশাসনিক পর্যায়ে যেমন পায়ের তলায় যেমন মাটি পাবে তেমনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক শক্তি একেবারেই তলানিতে ঠেকবে।