ম্যানচেস্টার সিটি কোচ পেপ গুয়ার্দিওলার চাওয়া পূরণ হলো না। আর্সেনালকে আটকাতে পারল না ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেড। খুব কষ্টে হলেও, জয়ের ধারা ধরে রেখে লিগ শিরোপা জয়ের পথে আরেকটু এগিয়ে গেল মিকেল আর্তেতার দল।
প্রতিপক্ষের মাঠে রোববার প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে ১-০ গোলে জিতেছে আর্সেনাল। তাদের জয়ের নায়ক লেয়ান্ড্রো ট্রসাড।
আসরে আর্সেনালের এটা টানা তৃতীয় জয়। ৩৬ ম্যাচে ২৪ জয় ও ৭ ড্রয়ে ৭৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে তারা। এক ম্যাচ কম খেলে ৫ পয়েন্ট কম নিয়ে দুইয়ে ম্যানচেস্টার সিটি।
বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ম্যাচের শুরুটা করে আর্সেনাল। পরপর দুই মিনিটে দারুণ তিনটি সুযোগ তৈরি করে তারা।
নবম মিনিটে ছয় গজ বক্সের মুখ থেকে রিকার্দো কালাফিওরির শট কোনোমতে আটকান এক ডিফেন্ডার, বল চলে যায় বাইরে। ওই কর্নারে প্রথমে লেয়ান্ড্রো ট্রসাডের হেড দারুণ ক্ষিপ্রতায় ঠেকান গোলরক্ষক, ফিরতি বল অন্যদের থেকে পেয়ে আবার হেড করেন ট্রসাড, এবার বল লাগে পোস্টে।
প্রতিপক্ষের শুরুর টানা আক্রমণ সামলে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে ওয়েস্ট হ্যাম। আর আর্সেনালের পারফরম্যান্সে ধার কমে আসে।
গতিময় এক পাল্টা আক্রমণে ৪৫তম মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ পায় স্বাগতিকরা। তবে ডি-বক্সে অরক্ষিত ভালেন্তিনের হেড ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন আর্সেনাল গোলরক্ষক দাভিদ রায়া।
দ্বিতীয়ার্ধে অনেকটা সময় কেউই উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারেনি। ৭৮তম মিনিটে একবার দাভিদ রায়ার পরীক্ষা নেয় ওয়েস্ট হ্যাম, তবে মাতেউস ফের্নান্দেসের শট দারুণ দৃঢ়তায় আটকে দেন স্প্যানিশ গোলরক্ষক।
এর পাঁচ মিনিট পরই উদযাপনের উপলক্ষ পায় আর্সেনাল। ডি-বক্সে মার্টিন ওদেগোর ছোট পাস বাড়ান পাশে ট্রসাডকে, আর প্রথম ছোঁয়ায় নিচু শটে ব্যবধান গড়ে দেন বেলজিয়ান ফরোয়ার্ড।
ছয় মিনিট যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে কর্নারে উড়ে আসা বল ডি-বক্সে আর্সেনাল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে, জোরাল শটে বল জালে পাঠান ক্যালাম উইলসন। আবারও লাগাম হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কায় পড়ে যায় সফরকারীরা।
তবে ভিএআর মনিটরে সময় নিয়ে দেখে ফাউলের বাঁশি বাজান রেফারি; গোলরক্ষক রায়াকে লাফ দিতে বাধা দিয়েছিলেন ওয়েস্ট হ্যামের বদলি ফরোয়ার্ড পাবলো।
বেঁচে যায় আর্সেনাল, তাদের শিরোপা স্বপ্নও তাতে উজ্জ্বল হয় আরেকটু। আগামী সপ্তাহে তারা ঘরের মাঠে খেলবে বার্নলির বিপক্ষে, এবং শেষ রাউন্ডে খেলবে ক্রিস্টাল প্যালেসের মাঠে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
রবার্তো বাজ্জো ফুটবল ইতিহাসের এক কিংবদন্তি নাম। কিন্তু এই নাম উচ্চারণ হলেই অনেকের চোখে ভেসে ওঠে এক বিষণ্ন মুখ। ১৯৯৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে টাইব্রেকারে পেনাল্টি মিস করে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকা সেই দৃশ্য আজও ফুটবলপ্রেমীদের মনে গেঁথে আছে। তিন দশক পেরিয়ে গেলেও সেই স্মৃতি এখনো তাড়া করে ফেরে ইতালিয়ান এই কিংবদন্তিকে। সম্প্রতি নিজের নতুন বই ‘অন্ধকারে আলো’ প্রকাশ উপলক্ষে ইতালির একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে বাজ্জো খুলে বলেছেন জীবনের সবচেয়ে কষ্টের মুহূর্তগুলোর কথা। সেখানে উঠে এসেছে বিশ্বকাপ ফাইনালের সেই পেনাল্টি মিস, ভয়াবহ চোটের সঙ্গে লড়াই এবং আধ্যাত্মিক জীবনের নানা অভিজ্ঞতা। সাক্ষাৎকারে বাজ্জো স্বীকার করেন, ১৯৯৪ সালের সেই মুহূর্ত আজও তাকে ঘুমের মধ্যে তাড়া করে। তিনি বলেন, পুরো ইতালির মানুষের কাছে নিজেকে অপরাধী মনে হয়েছিল। মনে হয়েছিল পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাই। এত বড় লজ্জা ও কষ্টের স্মৃতি জীবনে আর কখনো ভুলতে পারেননি। তার ভাষায়, কখনো কখনো মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায়। মনে হয় পেনাল্টিটা গোল হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে ফিরে আসতেই আবার সেই ব্যর্থতার অনুভূতি তাকে গ্রাস করে। তিন দশক পরও যেন সেই বলটি এখনো আকাশে ভাসছে। তবে বাজ্জোর জীবন কেবল একটি পেনাল্টি মিসের গল্প নয়। এটি লড়াই, যন্ত্রণা ও ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পও। ১৯৮৫ সালে ফিওরেন্তিনায় যোগ দেওয়ার পরই ভয়াবহ চোটে ছিঁড়ে যায় তার হাঁটুর গুরুত্বপূর্ণ লিগামেন্ট। সেই সময় পরিবারের পুরোনো গাড়িতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে চিকিৎসার জন্য যেতে হয়েছিল তাকে। পুরো পথজুড়ে একটাই ভয় কাজ করছিল তিনি কি আর কখনো ফুটবল খেলতে পারবেন? অস্ত্রোপচারের পরের অভিজ্ঞতা ছিল আরও ভয়ংকর। সে সময় চিকিৎসাব্যবস্থা এত উন্নত ছিল না। অস্ত্রোপচারের পর অসহনীয় যন্ত্রণায় কাতর হয়ে পড়েছিলেন বাজ্জো। তিনি বলেন, জ্ঞান ফেরার পর ব্যথায় চিৎকার করছিলাম। তখন মাকে বলেছিলাম, যদি সত্যিই আমাকে ভালোবাসো, তবে আমাকে মেরে ফেলো। কিন্তু সেই যন্ত্রণাই তাকে মানসিকভাবে আরও শক্ত করে তোলে। ইনজুরির কারণে খেলতে না পারায় ক্লাবের বেতন পর্যন্ত নিতে চাননি তিনি। আত্মসম্মান ও দায়িত্ববোধকে সবসময় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন এই কিংবদন্তি ফুটবলার। জীবনের কঠিন সময়গুলোতে আধ্যাত্মিক বিশ্বাসই তাকে শক্তি জুগিয়েছে বলে জানান বাজ্জো। বৌদ্ধধর্মের দর্শন তাকে নতুনভাবে জীবন বুঝতে সাহায্য করেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষের ভেতরেই অসীম শক্তি লুকিয়ে থাকে। তার ভাষায়, সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোতে বৌদ্ধধর্ম তাকে ভেঙে পড়তে দেয়নি, বরং আবার উঠে দাঁড়ানোর সাহস দিয়েছে। বিশ্বকাপের সেই পেনাল্টি মিস আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত। কিন্তু রবার্তো বাজ্জোর গল্প শুধু একটি ব্যর্থতার গল্প নয়, বরং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে টিকে থাকার এক অনন্য উদাহরণ।
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ নিয়োগের প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। হাভিয়ের কাবরেরার উত্তরসূরি খুঁজতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। এ বিষয়ে জাতীয় টিমস কমিটি রবিবারও বৈঠক করেছে। তবে আগামী ১৫ মের আগে নতুন কোচের নাম ঘোষণা করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। রাজধানীর ফর্টিস ডাউন টাউনে অনুষ্ঠিত জাতীয় টিমস কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তাবিথ জানান, সম্ভাব্য কোচদের নিয়ে বাছাই প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, অনলাইন সাক্ষাৎকারের জন্য ১১ জন কোচকে ডাকা হয়েছিল। পুরো আলোচনা শেষ করে ১৫ মে বাংলাদেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে। নির্দিষ্ট কোনো কোচের নাম প্রকাশ করতে চাননি বাফুফে সভাপতি। তাঁর ভাষ্য, আলোচনায় থাকা প্রত্যেক কোচের সঙ্গেই ইতিবাচক পরিবেশে কথা হচ্ছে এবং উভয় পক্ষই নিজেদের বিকল্প খোলা রেখেছে। সব প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার আহ্বানও জানান তিনি। তাবিথ আউয়াল বলেন, প্রতিটি কোচের সঙ্গে আলাদা করে আলোচনা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য কোচদের চাহিদা, পরিকল্পনা ও ফুটবল দর্শন বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। মূল লক্ষ্য আগামী দুই বছরে বাংলাদেশ দলকে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিয়ে যাওয়া। নতুন কোচের আর্থিক বিষয় নিয়েও কথা বলেন বাফুফে সভাপতি। তিনি জানান, ফেডারেশনের নির্ধারিত বাজেট রয়েছে। সেই সীমার মধ্যে সমঝোতা হলে সমস্যা থাকবে না। প্রয়োজনে স্পনসর, দাতা সংস্থা এবং ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সহায়তা নেওয়ার বিষয়ও খোলা রাখা হয়েছে। তাঁর মতে, শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেবে বাফুফেই এবং প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তিনি আরও জানান, আপাতত দুই বছরের জন্য কোচ নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েই এগোচ্ছে ফেডারেশন।
বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই বাংলাদেশে এক অন্যরকম উন্মাদনা। পাড়ায় পাড়ায় পতাকা ওড়ানো আর টেলিভিশনের সামনে প্রিয় দলের জন্য প্রার্থনায় বসা এ দেশের চিরায়ত দৃশ্য। তবে আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ নিয়ে এবার তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা। টুর্নামেন্ট শুরু হতে হাতে ৩২ দিনের মত থাকলেও এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো সম্প্রচারমাধ্যম বিশ্বকাপের স্বত্ব কিনতে সক্ষম হয়নি। বাংলাদেশি দর্শকরা হয়তো এবার টিভিতে বিশ্বকাপ দেখতে পারবেন না। জানা গেছে, বিশ্বকাপের মিডিয়া স্বত্ব পাওয়া সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্প্রিংবক প্রাইভেট লিমিটেড সম্প্রচারস্বত্বের জন্য প্রায় ১৫১ কোটি টাকা দাবি করেছে। এর সঙ্গে কর (এআইটি) ও ভ্যাট যোগ করলে খরচ দাঁড়াবে প্রায় ২০০ কোটি টাকায়। বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এত বিশাল অঙ্কের টাকা দিয়ে স্বত্ব কেনা স্থানীয় চ্যানেলগুলোর জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। টি স্পোর্টসসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখালেও বিশাল এই আর্থিক ব্যবধানের কারণে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ম্যাচের সময়সূচি। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য এবারের বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে ৫২টি ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টার আগে এবং বাকি ৫২টি ম্যাচ ভোর ৪টার পর। অর্থাৎ সিংহভাগ ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে ভোরের দিকে। সম্প্রচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভোরের দিকে ম্যাচ হওয়ায় দর্শক সংখ্যা কম থাকবে। এতে বইনিয়োগ করা টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে বড় ধরনের ব্যবসায়িক ঝুঁকি দেখছেন তারা। তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সরকার এই মুহূর্তে বিপুল টাকা খরচ করে সম্প্রচারস্বত্ব কেনার বিষয়ে আগ্রহী নয়। সম্প্রচার নিয়ে এই সংকট কেবল বাংলাদেশেই নয়। ভারত ও চীনের মতো বিশাল বাজারেও এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের তথ্যমতে, ভারতে রিলায়েন্স-ডিজনি ফিফার চাহিদার চেয়ে অনেক কম দাম প্রস্তাব করেছে, অন্যদিকে সনি কোনো প্রস্তাব দিতেই রাজি হয়নি। চীনেও এখন পর্যন্ত কোনো অফিশিয়াল ব্রডকাস্টারের নাম ঘোষিত হয়নি। বৈশ্বিক এই মন্দা ও ফিফার অতিরিক্ত চাহিদার চাপে দক্ষিণ এশিয়াসহ বড় একটি অংশ বিশ্বকাপ দেখা থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে।