রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে পেঁয়াজের ন্যায্য দাম না পেয়ে ক্ষোভে হড়াই নদীর পানিতে সেগুলো ফেলে দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এক কৃষক।
মঙ্গলবার উপজেলার সোনাপুর বাজার সংলগ্ন সেতুর ওপর থেকে নদীতে এসব পেঁয়াজ ফেলেন কৃষক পলাশ মিয়া। পরে এ ঘটনার ভিডিও বুধবার দুপুর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
১ মিনিট ৪০ সেকেন্ড দীর্ঘ ভিডিওতে দেখা যায়, সেতুর রেলিংয়ের পাশে পেয়াজের বস্তা ভর্তি একটি ভ্যানের ওপরে উঠেছেন একজন ব্যক্তি। এরপর ভ্যানে থাকা বস্তার রশি খুলে পেঁয়াজ নদীর পানিতে ফেলে দিচ্ছেন তিনি।
এ সময় যে কৃষক মোবাইলে ভিডিও ধারণ করছেন তাকে পেঁয়াজ ফেলে দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে শোনা যায়।
নিজের ভাষায় তিনি বলেন, “এই যে পেজ পানিতে ফেলে দিতিচি।পেজ ফেলে দিয়ে খালি বস্তা নিয়ে যাতিছি। যে দাম কয় তাতে কৃষকের পোষায় না এজন্নি পেজ পানিতে ফ্যালা দিয়ে যাতিচি।
তিনি আরও বলেন, “কৃষকের মনে অনেক দুঃখ, অনেক কষ্ট। এই দেহেন ভালো পেজ। আমরা পেজ ফ্যালা দিছি সোনাপুর ব্রীজির পর। এই দেহেন পানিতে ভাসে যাচ্ছে। কৃষক ম্যালা কষ্টে পেজ ফ্যালা দিচ্ছে, হাটে পেজ চলতেছে না। সোনাপুর বাজারে মঙ্গলবারের দিন।”
এরপর ভিডিওতে নদীর পানিতে পেয়াজগুলো ভেসে যেতেও দেখা যায়।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর খবর নিয়ে জানা যায় ভুক্তভোগী ওই কৃষকের নাম পলাশ মিয়া। তিনি বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের হলুদবাড়িয়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক মিয়ার ছেলে।
বৃহস্পতিবার তার সঙ্গে কথা হয় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
এ বছর ১০ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করে, ভালো ফলন পেয়েছেন জানিয়ে পলাশ মিয়া বলেন, “বাজারে তো পেজের দাম নাই। যহন পেজ মাঠ থেকে তুলি তহন ১ হাজার থেকে ১১শ টাকা মণ পেজ বিক্রি করছি। এহন আসে সেই পেজ ৬শ-৭শ টাকায় বিক্রি করা লাগতেছে।
“এক মণ পেজ ঘরে তুলতি প্রায় ১৫শ টাকা খরচ হইছে। আর বিক্রি হচ্ছে ৬শ-৭শ টাকায়। এতে তো অনেক লস যাচ্ছে আমাদের।”
পেঁয়াজ নদীতে ফেলে দেওয়া প্রসঙ্গে এ চাষি বলেন, “পেজের তো মেলা গ্রেড আছে। ভালো পেজ বিক্রি হচ্ছে ৮শ টাকা মণ। মঙ্গলবার আমি যে পেজ আনছিলাম বাজারে তা ছিলো বি গ্রেডের পেজ। যে কারণে বাজারে কোনো ব্যাপারি দামই কয় নাই। যে কারণে রাগে-দুঃখে ব্রিজের ওপর থেকে পেজ নদী ফেলে দিয়ে খালি বস্তা কয়ডা নিয়ে আসি।”
তিনটি বস্তায় চার মণ পেঁয়াজ ছিল বলেও জানান তিনি।
‘পিজ এহন বোঝার ওপর শাকের আঁটি’
এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে বালিয়াকান্দি উপজেলার সোনাপুর পেঁয়াজ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ভোর থেকেই কৃষকেরা তাদের পেঁয়াজ বাজারে বিক্রির জন্য আনছেন। কেউ ভ্যানে, কেউ ইঞ্জিন চালিত নছিমনে।
স্থানীয় ব্যাপারিরা কৃষকের কাছ থেকে ক্রয় করা পেঁয়াজ তাদের শ্রমিক দিয়ে বস্তায় ভরে ট্রাকে করে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠিয়ে দিচ্ছে।
এ বাজারে মানভেদে প্রতিমণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা মণ। দাম কম থাকায় অনেক কৃষকই তাদের পেঁয়াজ বিক্রি না করেই চলে যাচ্ছে।
পেঁয়াজের হাটে কথা হয় কৃষক আয়নাল শেখের সঙ্গে। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কৃষক এবার একদম শ্যাষ। পিজির দাম নাই। এক বিঘেয় পিজি উৎপাদনে ম্যালা খরচ হয়ছে। সারের দাম বেশি, ত্যালের দাম বেশি, শ্রমিকের দাম বেশি। প্রতি বিঘেয় খরচ পড়ছে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায়।
“আর যারা জমি শোনকারি নিছে তাদের তো আরও খরচ বেশি। এই দামে পিজি বেচে খরচ উটতেছে না।”
পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন আরেক পেঁয়াজ চাষি কাশেম প্রামাণিক। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পিজ এহন বোঝার ওপর শাকের আঁটি। একে তো মণ প্রতি তিন চারশ করে লস যাচ্ছে তার ওপর বাড়িতে সংগ্রহ করে রাকতে গেলেও খরচ বাড়তেছে।
“পিজ যাতে না পচে তার জন্য ঘরে ফ্যান লাগাইছি। বিদুতের দাম বাড়েচে ডাবল। আগে ৫শ টাকা লাগলি এহন লাগে ১ হাজার। তালি কন কোন দিক যাবো।”
আরেক কৃষক সুলতান বিশ্বাস বলেন, “যে দাম পাচ্চি আরবছর আমি পিজির আবাদ কম করবো। পিজি যদি লস যায় তালি সেতা তো করা যাবি না। সরকার ব্যাটারে কন আমাগে ইটু বাচাক। পিজির দাম ইটু বাড়ালি আমরা বাচপো না হলি শ্যাষ।”
কৃষকের ঘরে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টন পেঁয়াজ
রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, এ বছর রাজবাড়ীতে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। স্থানীয় জাতের পেঁয়াজ আবাদ না করে হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজ আবাদ করায় উৎপাদন বেড়েছে।
তিনি বলেন, “এখনো কৃষকের ঘরে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টন পেঁয়াজ সংরক্ষণে আছে। বর্তমানে বাজারে দাম কম পাওয়ায় কৃষকদের মনটা খারাপ। সাথে সংরক্ষণ খরচও রয়েছে। আমি আশা করি সামনে পেঁয়াজের দাম বাড়বে, কৃষক ন্যায্য মূল্য পাবে।”
রাজবাড়ী জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা নাঈম আহম্মেদ বলেন, “পেঁয়াজ নদীতে ফেলে দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে কোনো পণ্যের দাম নির্ধারণ করাটা চ্যালেঞ্জিং। সেক্ষেত্রে ডিমান্ড ও সাপ্লাইয়ের ওপরে মূল্য নির্ধারণ হয়ে থাকে।
“কৃষি বিপণন অধিদপ্তর প্রতিবছর ন্যূনতম মূল্য বেঁধে দেয়। তবে এ বছর এখনো মূল্য নির্ধারণ করে দেয়নি।”
নাঈম আহম্মেদ আরও বলেন, “আমি মনে করি চাহিদার থেকে উৎপাদন যখন বেশি হয় তখন বাজারটা কমে যায়। এক্ষেত্রে কৃষকের বাজার বুঝে উৎপাদন করাটায় তাদের কমতি আছে। অতিরিক্ত উৎপাদন করেছে এবং চাষিরা সঠিক পেঁয়াজের জাত নির্বাচন না করায় তারা সংরক্ষণ করতে পারছে না।
তিনি বলেন, “কৃষক যদি উৎপাদনের আগে কৃষি অধিদপ্তর ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সাথে যোগাযোগ করে উৎপাদন করে তাহলে তারা এ ধরণের ক্ষতি থেকে মুক্তি পাবে।”
পেয়াজ চাষিদের জন্য সরকার কিছু ভালো উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের জেলাতে সাড়ে ৫ হাজার ব্লোয়ার মেশিন দিয়েছে। সেটা দিয়ে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টন পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা সম্ভব। পাশাপাশি সরকার যদি উপজেলা পর্যায়ে বা ইউনিয়ন পর্যায়ে কালেকশন সেন্টার করে এবং টিসিবির মাধ্যমে সরকার যদি পেঁয়াজ ক্রয় করে তাহলে কৃষকেরা কিছুটা মুক্তি পাবে।”
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
সিরাজগঞ্জ–বগুড়া নতুন রেলপথ কোন দিক দিয়ে কোন পর্যন্ত যাবে, আগে থেকেই নির্ধারণ হয়ে আছে। কিন্তু বিএনপি সরকার গঠনের পর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম নতুন রেলপথে কিছুটা পরিবর্তন আনতে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। প্রতিমন্ত্রীর সেই চাওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নাকচ করে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, এটি পরিবর্তন করা যাবে না। আগে থেকে ঠিক করা পথ (রুট) ধরে রেললাইন বসবে। বর্তমান সরকার সিরাজগঞ্জ–বগুড়ার মধ্যে নতুন ৭৬ কিলোমিটার মিশ্র গেজ (মিটারগেজ ও ব্রডগেজ) রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে জোর দিয়েছে। এ রেলপথ নির্মাণ হলে সিরাজগঞ্জ থেকে রেলপথে বগুড়ার দূরত্ব ১১৪ কিলোমিটার কমে যাবে। এতে যাত্রার সময় প্রায় তিন ঘণ্টা কমে আসবে। এখন ট্রেনে ঘুরপথে বগুড়ায় যেতে হয়। ঢাকা থেকে ট্রেন সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও নাটোর হয়ে সান্তাহার দিয়ে বগুড়া শহরে যায়। নতুন রেললাইন হলে ট্রেন সিরাজগঞ্জ থেকে কামারখন্দ, রায়গঞ্জ, শেরপুর, শাজাহানপুর ও কাহালু হয়ে বগুড়া শহরে যাবে। প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পায়। ভারতীয় ঋণের অর্থে এটি বাস্তবায়ন করার কথা ছিল। কিন্তু জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারতীয় সরকার প্রকল্পে অর্থায়ন না করার কথা জানিয়ে দেয়। ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা ছিল। এতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। ভারত সরে যাওয়ার পর এ প্রকল্পে অর্থায়নে রাজি হয়েছে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি)। এ কারণে প্রকল্প প্রস্তাব সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশোধনের পর ব্যয় বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১২ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত করা হচ্ছে। সংশোধন প্রস্তাবটি এখন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে আছে। অনুমোদনের পর তা একনেকে ওঠার কথা। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণ হলো সময়মতো প্রকল্পটির কাজ শুরু করতে না পারা। এর মধ্যে ডলারের দাম বেড়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পে নতুন কিছু সেতু ও উড়ালসড়ক যুক্ত করা হয়েছে। জমির মূল্যও বেড়ে গেছে। এসব কারণে প্রকল্পের ব্যয়ও বাড়ছে। প্রতিমন্ত্রী যা চেয়েছিলেন রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন রেলপথটি সিরাজগঞ্জ থেকে বগুড়ার রানীরহাট হয়ে বগুড়া শহর পর্যন্ত যাওয়ার কথা। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম চেয়েছিলেন, নতুন রেলপথটি বগুড়া শহর অবধি না নিয়ে রানীরহাট থেকে শহরের বাইরে দিয়ে গাবতলী উপজেলা পর্যন্ত যাবে। এর ফলে ১৫ কিলোমিটার বাড়তি রেলপথ নির্মাণ করতে হতো। বিষয়টি নিয়ে ১ জুন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে একটি চিঠি লেখেন। চিঠিতে প্রতিমন্ত্রী লেখেন, নতুন যে রেলপথটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেটি বগুড়া শহরের ভেতর না নিয়ে গাবতলী নিয়ে গেলে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যুক্ত হবে। বর্তমানে কাহালু থেকে বগুড়া শহরের ভেতর দিয়ে গাবতলী পর্যন্ত রেলপথ রয়েছে। পুরোনো এ রেলপথ উঠিয়ে ফেলার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে লেখা চিঠিতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান রেলপথটি ঘনবসতিপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকার মধ্য দিয়ে গেছে। এ পথে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ রেলক্রসিং আছে। এসব রেলক্রসিংয়ে প্রতিদিন একাধিকবার ট্রেন চলাচলের কারণে দীর্ঘ সময় যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে শহরের গুরুত্বপূর্ণ নানা স্থানে ব্যাপক যানজট দেখা দেয়। চিঠিতে প্রতিমন্ত্রী আরও লেখেন, রেলক্রসিংগুলোর কারণে অনেক ক্ষেত্রে প্রতিদিন গড়ে প্রায় চার ঘণ্টা পর্যন্ত যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে সেসব এলাকার বাসিন্দারা দুর্ভোগের শিকার হন। সেই সঙ্গে নগর ব্যবস্থাপনা, জরুরি সেবা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব দেখা দেয়। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি নেই নতুন সরকারের প্রভাবশালী প্রতিমন্ত্রীর কাছ থেকে এমন চিঠি পেয়ে খানিকটা বিপাকে পড়েন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কারণ, প্রতিমন্ত্রীর কথা মেনে রেলপথ বসালে প্রকল্পের ব্যয় আরও বেড়ে যাবে। নতুন করে জমি অধিগ্রহণ ও নকশা করতে গেলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আরও সময় লাগবে। প্রতিমন্ত্রীর চাওয়া অনুযায়ী প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলে শহর থেকে বেশ দূর দিয়ে রেলপথ যাবে। বিষয়টি জানার পর বগুড়া শহর বিএনপির নেতা–কর্মী ও স্থানীয় লোকজন এর বিরোধিতা করেন। শেষ পর্যন্ত রেলপথ মন্ত্রণালয় ১৬ জুন বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনে। তাঁর পরামর্শ চায়। সব শুনে প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের অনুরোধ আমলে না নিয়ে আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মৌখিক নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রতিমন্ত্রীর চাওয়া প্রধানমন্ত্রী নাকচ করার বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে। রেলপথে পরিবর্তন আনা হবে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। রেল কর্তৃপক্ষ যা বলছে পুরোনো রেললাইনের কারণে বগুড়া শহরের যানজটের প্রসঙ্গ চিঠিতে লিখেছিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ বিষয়ে সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম বলেন, রেললাইনের কারণে বগুড়া শহরে যানজটের যে বিষয়টি আছে, সেটি আলাদা প্রকল্প করে সমাধান করা হবে। নতুন রেললাইনে প্রয়োজন অনুযায়ী পাতাল ও উড়ালসড়ক নির্মাণ করা হবে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, বগুড়া শহরে থাকা পুরোনো রেলপথ উঠিয়ে ফেলতে গেলে স্থানীয় মানুষ বাধা দেবেন। এ ছাড়া শহরের ভেতর রেলের দামি জমি ও স্থাপনা রয়েছে, সেগুলোও পরিত্যক্ত হয়ে যাবে। দখল হয়ে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়েও প্রতিমন্ত্রীর অনুরোধ নাকচ করেছেন। সিরাজগঞ্জ–বগুড়া রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটি ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব। তিনি বলেন, সংশোধন প্রস্তাব অনুমোদন করা হলেই ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে। জমি অধিগ্রহণে ব্যয় বাড়ছে প্রতিমন্ত্রীর চাওয়া মেনে পরিকল্পনা কিংবা নকশায় বদল না হলেও সিরাজগঞ্জ–বগুড়া রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণে ব্যয় বাড়ছে। প্রকল্প–সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মূল ডিপিপিতে মোট ৯৬০ একর জমি অধিগ্রহণের কথা বলা আছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। তবে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত পথনকশা নির্ধারণ ও ভূমি অধিগ্রহণ পরিকল্পনা প্রণয়ন করার পর প্রয়োজনীয় জমির পরিমাণ দাঁড়ায় ৯০১ দশমিক ৭৭ একর। পরবর্তী সময় বগুড়া ও সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসকের চূড়ান্ত ব্যয় প্রাক্কলনে এ খাতে ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৪৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা। প্রকল্প–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, স্থানীয় পর্যায়ে জমির দাম বেড়ে যাওয়ায় অধিগ্রহণ ব্যয়ও বেড়েছে। জমি অধিগ্রহণ বাবদ প্রয়োজনীয় অর্থ এরই মধ্যে সিরাজগঞ্জ ও বগুড়া জেলার প্রশাসকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রকল্পে যা থাকছে প্রকল্পের আওতায় ৮৬ দশমিক ৫১ কিলোমিটার মূল রেললাইন ও ৩৭ কিলোমিটার শাখা রেললাইন নির্মাণ করা হবে। করতোয়া নদীর ওপর ২৪৬ মিটার ও ইছামতী নদীর ওপর ২০৫ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি বড় সেতুসহ মোট ১২১টি ছোট–বড় সেতু নির্মাণের পরিকল্পনাও এ প্রকল্পে রয়েছে। ঢাকা–রংপুর মহাসড়কের ওপর একটি রেল ওভারপাস ও ঢাকা–নাটোর মহাসড়কের ওপর আরেকটি ওভারপাস নির্মাণ করা হবে। এ পথে মোট ১১টি রেলস্টেশন থাকবে। সিরাজগঞ্জ জংশন, কৃষ্ণদিয়া, রায়গঞ্জ, চান্দাইকোনা, সনকা, শেরপুর, আরিয়া বাজার ও রানীরহাটে নতুন আটটি রেলস্টেশন নির্মাণ করা হবে। অন্যদিকে বগুড়া, কাহালু ও সদানন্দপুর রেলস্টেশন পুনর্নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া রানীরহাট এলাকায় একটি ‘ওয়াই’ আকৃতির রেললাইন নির্মাণ করা হবে, যার একটি মুখ বগুড়ার দিকে, অন্যটি কাহালুর দিকে যাবে।
অনুপ্রবেশকারীর তকমা দিয়ে মানুষজনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া নিয়ে ভারত সীমান্তে যেসব সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেগুলো ‘দ্রুত’ সমাধান হয়ে যাবে বলে মনে করছেন দীনেশ ত্রিবেদী। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করতে গিয়ে এ আশার কথা শোনান ঢাকায় ভারতের নতুন এই হাই কমিশনার। এদিন ঢাকা মিশনে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেন রাজনীতিক থেকে কূটনীতিক বনে যাওয়া ত্রিবেদী। রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় পরিচয়পত্র পেশের পর সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে হাই কমিশনারের সৌজন্য বৈঠক হওয়ার তথ্য দিয়েছেন রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম। বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু তুলে ধরে তিনি বলেন, “দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সীমান্ত সমস্যাসহ অমীমাংসিত ইস্যু সমাধানে ইতিবাচক উদ্যোগের উপর রাষ্ট্রপতি গুরুত্বারোপ করেন। “সীমান্ত সমস্যা সম্পর্কে হাইকমিশনার বলেন যে, সম্প্রতি বিএসএফ ও বিজিবির উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তিনি দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও কর্মকর্তাদের মধ্যে স্থানীয় ও উচ্চ পর্যায়ে এ ধরনের বৈঠক আরও নিয়মিত আয়োজনের উপর গুরুত্বারোপ করে সীমান্ত সমস্যা দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।” রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব বলেন, নবনিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনারকে স্বাগত জানিয়ে সাহাবুদ্দিন আশা প্রকাশ করেন যে, তার কর্মকাল বাংলাদেশ-ভারত পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ়, ফলপ্রসূ ও জনকল্যাণমুখী করতে সহায়ক হবে। প্রেস সচিব বলেন, বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার অংশগ্রহণের কথা ‘কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন’। রাষ্ট্রপতিকে উদ্ধৃত করে সরওয়ার আলম বলেন, “নিকটতম প্রতিবেশী এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব দেয়।” রাষ্ট্রপতি বলেন, সার্বভৌম সমতা, জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদা এবং জনগণের কল্যাণকে সমুন্নত রেখে ভারতের সঙ্গে সম্মানজনক ও ভবিষ্যতমুখী অংশীদারত্ব বজায় রাখতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ প্রসঙ্গে হাইকমিশনার বলেন, “আমাদের দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সৌহার্দময় সম্পর্ক বিদ্যমান, আর এটাই স্বাভাবিক।” দীনেশ ত্রিবেদী ভারতের রাষ্ট্রপতির ও নেতৃত্বের শুভেচ্ছা রাষ্ট্রপতির কাছে পৌঁছে দেন এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদারে ভারতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন বলে সরওয়ার আলম জানান। রাষ্ট্রপতি হাই কমিশনারের মাধ্যমে ভারতের রাষ্ট্রপতির প্রতি শুভেচ্ছা জানান। হাই কমিশনার বাংলাদেশে তার দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতি ও বাংলাদেশের জনগণের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় রাষ্ট্রপতি তার সফল মেয়াদ কামনা করেন এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও সৌহার্দপূর্ণ ও সুসংহত করতে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন বলে বঙ্গভবনের তরফে বলা হয়। চব্বিশের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা ঘোচানোর জন্য পোড় খাওয়া রাজনীতিক দীনেশ ত্রিবেদীকে রাষ্ট্রদূত করে বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিসের সেরা কর্মকর্তাদের ঢাকা মিশনে পদায়নের যে ধারা, সেখান থেকে সরে এসে সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের প্রভাবশালী এই রাজনীতিককে পাঠানো ‘কূটনীতির সুর ও পদ্ধতির ক্ষেত্রে নতুন বিন্যাসের ইঙ্গিত দেয়’। পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরের সাবেক এমপি ও বিজেপি নেতা ত্রিবেদীকে মন্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে বুধবার অফিস আদেশ জারি করেছে ভারত সরকার। এই মর্যাদা শুধু আনুষ্ঠানিক বা প্রটোকল-সংশ্লিষ্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। দীনেশ ত্রিবেদী বাংলা বলতে পারেন এবং দুই বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কেও ভালো ধারণা রাখেন। সেতারবাদক হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে। গুজরাটি দম্পতি হীরালাল ত্রিবেদী এবং উর্মিলাবেন ত্রিবেদীর ছোট ছেলে দীনেশ ত্রিবেদী হিমাচল প্রদেশের বোর্ডিং স্কুল থেকে পড়াশোনার পর কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে কমার্সে স্নাতক ডিগ্রি পান। তারপর টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ করেন। প্রবীণ এই রাজনীতিক দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। আশির দশকে ছিলেন কংগ্রেস নেতা। পরে ১৯৯০ সালে জনতা দলে চলে যান। ১৯৯০-৯৬ পর্যন্ত তিনি রাজ্যসভায় জনতা দলের সদস্য ছিলেন। ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করলে সেই দলে যোগ দেন দীনেশ ত্রিবেদী। তিনিই দলটির প্রথম সাধারণ সম্পাদক। ২০০২-০৮ পর্যন্ত রাজ্যসভায় তৃণমূলের এমপি ছিলেন দীনেশ। ২০০৯ সালে ব্যারাকপুর থেকে তৃণমূলের হয়ে লোকসভা ভোটে প্রার্থী হন। ওই আসনে জিতে কেন্দ্রের মনমোহন সিংহ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী হন। ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব ছেড়ে দিলে সেই দায়িত্ব সামলান দীনেশ। পরে তাকে সেই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ২০১৯ সালের নির্বাচনে ব্যারাকপুর থেকে আবারও তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন দীনেশ, কিন্তু সেবার বিজেপির অর্জুন সিংয়ের কাছে হেরে যান। তারপর তৃণমূল তাকে আবার রাজ্যসভায় পাঠায়। কিছুদিন পর তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় দীনেশের। এর ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তিনি তৃণমূল থেকে পদত্যাগ করেন এবং ৬ মার্চ বিজেপিতে যোগ দেন। বৃহস্পতিবার পরিচয়পত্র পেশের পরপরই ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (আইভ্যাক) পরিদর্শনে গিয়ে প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকা পর্যটন ভিসা চালুর ঘোষণা দেন নতুন হাই কমিশনার।
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বিভিন্ন দেশের জাতীয় পতাকার বদলে কালেমা খচিত পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। ব্যতিক্রমী এই দৃশ্যটি স্থানীয়দের নজর কাড়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। জানা গেছে, বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে কোটালীপাড়া উপজেলার ঘাঘর ব্রিজের ওপর কে বা কারা এই পতাকাগুলো টানিয়ে দেয়। সাধারণত ফুটবল উন্মাদনায় আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, জার্মানি, ইতালি বা স্পেনের মতো দেশগুলোর পতাকা উড়তে দেখা গেলেও, এখানে এর বদলে আরবিতে কালেমা লেখা পতাকা দিয়ে ব্রিজের দুই পাশ সাজানো হয়েছে। রাতে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনরা এই ঘটনাকে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ বলে মন্তব্য করছেন। ব্রিজের ওপর দিয়ে চলাচলের সময় পথচারীদেরও নজর কাড়ছে সারি সারি এই পতাকাগুলো। অনেকেই দাঁড়িয়ে মনোযোগ দিয়ে দেখছেন, আবার কেউ কেউ স্মৃতি হিসেবে ছবি বা ফটোসেশন করে রাখছেন। ধর্মপ্রাণ মানুষের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও বিষয়টিকে বেশ ইতিবাচকভাবেই গ্রহণ করেছেন। ব্যতিক্রমী এই সাজসজ্জা দেখে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য না করে বরং সবাই একবাক্যেই বলছেন- ‘দৃশ্যটি দেখতে সত্যিই খুব সুন্দর লাগছে।’