আলোচনায় বসছে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান। আগামী মঙ্গলবার (১৯ মে) দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বৈঠকে বসবেন।
রোববার (১৭ মে) বার্তা সংস্থা রয়টার্স সিউলের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।
লি জে মিয়ংয়ের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই বৈঠক দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও বন্ধুত্ব আরও গভীর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হয়ে উঠবে।
এর আগে জানুয়ারিতে তাকাইচির নিজ শহরে প্রথম শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ফলে এবার লি জে মিয়ংয়ের নিজ শহর আন্দোংয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। এ বৈঠককে রাষ্ট্রীয় সফর হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এ উপলক্ষে নৈশভোজের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক পরিবেশনারও আয়োজন করা হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফর শেষ হতে না হতেই আগামী সপ্তাহে চীন সফরে যাচ্ছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টে গত শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ২০ মে পুতিনের এক দিনের এই সংক্ষিপ্ত সফর অনুষ্ঠিত হতে পারে। সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, এই সফর বেইজিং ও মস্কোর মধ্যকার নিয়মিত দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগের অংশ। তাই এ সফরে বড় কোনো আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজ বা জমকালো অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা কম।
তবে বেইজিং বা মস্কো কোনো পক্ষই এখনো সফরের সুনির্দিষ্ট তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
গতকাল ট্রাম্প তিন দিনের চীন সফর শেষ করেছেন। দীর্ঘ নয় বছরের মধ্যে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের এটাই প্রথম চীন সফর। সফরে ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য, তাইওয়ান, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বৈঠক করেন।
পুতিনের এ সফরের মাধ্যমে বহুপক্ষীয় কোনো সম্মেলন বা আন্তর্জাতিক আয়োজন ছাড়াই ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একই মাসে বিশ্বের দুই শীর্ষ পরাশক্তির নেতাকে আতিথেয়তা দেওয়ার নজির গড়তে যাচ্ছে চীন।
এর আগে চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি ভার্চুয়াল মাধ্যমে শি জিনপিং ও পুতিনের মধ্যে সর্বশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, পুতিনের চীন সফরের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত। তিনি বলেন, ‘আমরা খুব শিগগির সফরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেব। সফরের প্রস্তুতি চলছে। বলা যায়, প্রস্তুতি এরই মধ্যে শেষ। এখন শুধু শেষ মুহূর্তের কিছু কাজ বাকি। নিকট ভবিষ্যতেই এটি অনুষ্ঠিত হবে।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
চলতি গ্রীষ্মে ইউরোপের তাপমাত্রা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। গ্রীষ্মের শুরুতেই তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে মহাদেশজুড়ে দেখা দিয়েছে নানা শারীরিক অসুস্থতা, প্রাণহানি এবং ভেঙে পড়েছে নাগরিক অবকাঠামো। সম্প্রতি জার্মানি, চেক প্রজাতন্ত্র এবং পোল্যান্ডে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোয় পরিবহন ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়ে। ফ্রান্সেও গড় তাপমাত্রা ছিল রেকর্ড ছুঁইছুঁই, যার ফলে প্রায় এক হাজার মানুষের অতিরিক্ত মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক ড. হ্যান্স ক্লুগে সতর্ক করে বলেছেন, ইউরোপকে এখন শীতকালীন ফ্লুর মতোই স্থায়ী প্রস্তুতি নিয়ে এই চরম গরমের মোকাবিলা করতে হবে। বিজ্ঞানীদের মতে, দৃশ্যপটটি এখন ইউরোপের জন্য একটি স্থায়ী বা নতুন স্বাভাবিক রূপ নিতে যাচ্ছে। ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন ডাব্লিউডাব্লিউএ-র একটি গবেষণায় দেখা গেছে, তীব্র তাপপ্রবাহের এই প্রবণতা ২০০৩ সালের তুলনায় এখন শতগুণ বেশি শক্তিশালী এবং ৫০ বছর আগে যা ছিল সম্পূর্ণ অকল্পনীয়। গবেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে ১৯৮০-এর দশক থেকে ইউরোপ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে উত্তপ্ত হচ্ছে। জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা একে লুডোর ছক্কায় চাল দেওয়ার মতো পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে চরম আবহাওয়ার সম্ভাবনা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির পেছনে মূল কারণ হিসেবে কাজ করছে একটি স্থবির উচ্চ-চাপ বলয়, যা 'হিট ডোম' নামে পরিচিত। এই সিস্টেমটি একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে দিনের পর দিন বা সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে তীব্র গরমকে আটকে রাখছে। রিডিং ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক হ্যানা ক্লোক আল জাজিরাকে জানান, আমরা এখন মূলত কয়েক দশক আগের দূষণের খেসারত দিচ্ছি, কারণ জলবায়ু ব্যবস্থা প্রতিক্রিয়া জানাতে কিছুটা সময় নেয়। আল্পস পর্বতের হিমবাহগুলো ইতোমধ্যেই এমন এক পর্যায়ে সংকুচিত হয়ে গেছে যা আর পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এর ফলে গ্রীষ্মকালে ইউরোপের প্রধান নদীগুলোর পানির প্রবাহ চিরতরে কমে গেছে। ক্রমবর্ধমান এই তাপমাত্রা মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। ‘দ্য ল্যানসেট কাউন্টডাউন ইউরোপ’-এর তথ্য অনুযায়ী বিগত বছরেই ইউরোপজুড়ে গরমে প্রায় ৬২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ড. হ্যান্স ক্লুগে উল্লেখ করেন, ইউরোপের বেশিরভাগ বাড়িঘর তৈরি করা হয়েছিল শীতপ্রধান আবহাওয়ার উপযোগী করে, যা তাপ আটকে রাখে কিন্তু বের হতে দেয় না। ফলে বড় ধরনের পরিকাঠামোগত পরিবর্তন না আনলে ২০৫০ সালের মধ্যে এই মৃত্যুর মিছিল আরও দীর্ঘ হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতিকে জরুরি আপৎকালীন সংকট হিসেবে না দেখে একটি নিয়মিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বিবেচনা করে স্থায়ী পরিকল্পনা করতে হবে। এখনও যদি গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানো যায় এবং পানি ও বাসস্থান অবকাঠামো আধুনিকায়ন করা সম্ভব হয়, তবেই ২০৫০ সালের ইউরোপের গ্রীষ্মকালকে পুরোপুরি বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করা যাবে।
শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে ইন্দোনেশিয়া। শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে দেশটির পূর্ব উপকূলের কাছে আঘাত হানা ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ২। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৩১ মিনিটে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১২০ কিলোমিটার গভীরে। এর কেন্দ্র ছিল উত্তর মালুকু প্রদেশের তোবেলো শহর থেকে প্রায় ৫৮ কিলোমিটার পশ্চিমে। ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা (বিএমকেজি) জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের পর সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই।
সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের কেন্দ্রস্থলে একটি ক্যাফেতে বোমা বিস্ফোরণে অন্তত পাঁচজন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত প্যালেস অব জাস্টিসের কাছে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। খবর আল জাজিরার। তাৎক্ষণিকভাবে হামলার কারণ বা এর দায় কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা জরুরি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ প্রধানের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বিস্ফোরণে পাঁচজন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দামেস্কের গভর্নর মাহের মারওয়ান বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সামনে আসবে। যারা সিরীয়দের রক্ত ঝরিয়েছে, তাদের অবশ্যই এর মূল্য দিতে হবে। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে সিরিয়া শক্ত অবস্থানে থাকবে এবং এ ধরনের ঘটনা রাষ্ট্রকে দুর্বল করতে পারবে না।