জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি জোরদার করছে ইসি

মারিয়া রহমান মে ১৭, ২০২৬
নির্বাচন কমিশন
নির্বাচন কমিশন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট শেষ হওয়ার পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ-এই পাঁচ স্তরের নির্বাচনের আগে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সাংবিধানিক সংস্থাটি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু হতে পারে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের ব্যবহার বাতিল হওয়ায় নতুন বাস্তবতায় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশ জারি করে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন বন্ধ করে দেয়। পরে সদ্যসমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সেই অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করা হয়। ফলে নির্দলীয় ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পথ সুগম হয়েছে।

সম্প্রতি জেলা প্রশাসক সম্মেলনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, সরকার এক বছরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে চায়। একই সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জেলা প্রশাসকদের নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেন। অন্য নির্বাচন কমিশনাররাও একই ধরনের বার্তা দিয়েছেন।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ও আচরণ বিধিমালায় সংশোধন আনা হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) আলোকে এসব পরিবর্তন করা হবে। ইতোমধ্যে ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বিধিমালার খসড়া সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। বিধিমালা সংশোধনের পরই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশের অধিকাংশ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া প্রায় সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে আদালতের আদেশে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শাহাদাত হোসেন।

আইন অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে এবং পৌরসভার ক্ষেত্রে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হয়। ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষেত্রে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।

এখন কোন স্তর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি ইসি। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়েই কার্যক্রম শুরু হতে পারে। তবে ইসির একটি অংশ মনে করছে, একযোগে হাজারো ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আয়োজন বর্তমান কমিশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। সে কারণে প্রথমে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনের চিন্তাভাবনা চলছে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, কোন স্তরের নির্বাচন আগে হবে, সে বিষয়ে এখনও কমিশন আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়নি। আপাতত সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
ডেঙ্গুতে আরও ৪ মৃত্যু, একদিনে হাসপাতালে ভর্তি বছরের সর্বোচ্চ ২১৯৩ জন

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ১৯৩ জন, যা চলতি বছরের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ রোগী ভর্তির ঘটনা।   রোববার (১১ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নতুন চারজনসহ চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০৩ জনে। এর মধ্যে অক্টোবরের প্রথম ১০ দিনেই প্রাণ হারিয়েছেন ৫৮ জন।   মাসভিত্তিক মৃত্যুর হিসাবে সেপ্টেম্বরে সর্বাধিক ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে মারা গেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২ হাজার ১৯৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৯ হাজার ২৭৫ জনে। অর্থাৎ হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা এক লাখের কাছাকাছি পৌঁছেছে।   একই সময়ে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৭৯৬ জন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মোট ৯২ হাজার ৪০৩ জন রোগী।   বিভাগভিত্তিক হিসাবে গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৩০ জন।   এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৩০৪ জন, চট্টগ্রামে ২৯৩ জন, বরিশালে ২৩৬ জন, রাজশাহীতে ১৬০ জন, রংপুরে ৮৪ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৭০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।   ডেঙ্গুতে মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর সড়কে বাসের শৃঙ্খলা ফেরাতে মাঠে মালিক-শ্রমিকরা, ২০ পয়েন্টে তৎপরতা

সংগৃহীত ছবি

বন্দর ব্যবস্থাপনায় নতুন কৌশল নিচ্ছে সরকার : নৌপরিবহনমন্ত্রী

ফাইল ছবি।

হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
ব্যাগ উদ্ধারে রাজশাহী পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ ক্রিলের

নাটোর থেকে চুরি যাওয়া সেই ব্যাগ উদ্ধারে রাজশাহী পুলিশ কতটা সময় ব্যয় করছে, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী জার্মান নাগরিক ক্রিল লেন্ডার উইবার। রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে কালবেলা অনলাইনকে তিনি বলেন, এক ঘণ্টা আগেও ম্যাকবুকের লোকেশন শনাক্ত করে আমি পুলিশকে পাঠিয়েছি। জানি না, পাব কি না।   এদিকে, ১৮ বছর বয়সী এই তরুণ রোববার গভীর রাতেই ঢাকা ছেড়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে ব্যাগে থাকা ল্যাপটপ ও ক্যামেরা হয়তো ফেরত পাবেন না বলে শঙ্কা তার।   ক্রিল হোয়াটসঅ্যাপে বলেন, ‘আমি জানি না, পুলিশ ঠিক কতটা আন্তরিকভাবে এর পেছনে সময় ব্যায় করছে। ঘণ্টাখানেক আগেও আমি তাদের লোকেশন পাঠিয়েছি। আশা করছি, হয়তো পুলিশের চেষ্টায় ব্যাগ ফেরত পাব।’ বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থাপনা ঘুরে দেখতে বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে বগুড়া থেকে ট্রেনে নাটোর রেলস্টেশনে পৌঁছান ক্রিল। সেখানে রেলস্টেশনের ওয়েটিং রুমে তার ব্যাগ চুরি হয়।   ক্রিলের ভাষ্য, হলুদ কটি পরা এক ব্যক্তি নিজেকে রেলের স্টাফ পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন। পরে টিকিট কাটতে যাওয়ার সময় সরল বিশ্বাসে ওই ব্যক্তির কাছে ব্যাগ রেখে যান তিনি। ফিরে এসে দেখেন, ব্যাগসহ ওই ব্যক্তি আর সেখানে নেই।   হারানো ব্যাগে ম্যাকবুক, ক্যামেরাসহ ব্যক্তিগত গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী থাকায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তিনি। থানায় জিডি করার সময় তাকে কাঁদতে দেখা যায়। এই খবরে নাটোরের প্রশাসন ও সাংবাদিকেরা তার পাশে দাঁড়ান।   ট্রেন থেকে ক্রিলের ব্যাগ চুরি হওয়ার পর নাটোর পুলিশ উদ্ধার অভিযানে নামে। নাটোর রেলওয়ে স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে এক সন্দেহভাজন যুবকের গতিবিধি শনাক্তের দাবি করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী; কিন্তু ব্যাগ আর পাওয়া যায়নি। ওই রাতে ক্রিলকে নাটোর থেকে রাজশাহী পাঠানো হয়।   রাজশাহী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইন্সপেক্টর হাফিজুর রহমান শনিবার রাতে কালবেলাকে বলেন, ‘জার্মান পর্যটকের চুরি হওয়া ব্যাগ উদ্ধারে বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে। সন্দেহভাজন যুবকের ছবি পাওয়া গেছে। তাকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং ব্যাগ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। একপর্যায়ে রাতে রাজশাহীতে ব্যাগটির অবস্থান শনাক্ত হলেও অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরদিন সকালে নাটোরের আব্দুলপুরে সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত হয়। এরপর আর অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি। ঘটনাটি নাটোরে হওয়ায় সেখানে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। রাজশাহীতে অবস্থান শনাক্ত হওয়ায় রেলওয়ে পুলিশ অভিযানে সহায়তা করছে।’   এই কর্মকর্তা জানান, সান্তাহার, পাকশী রেলওয়ে পুলিশ, নাটোর জেলা পুলিশ, ডিবি, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও এসআরবি সমন্বিতভাবে কাজ করছে।   এত চেষ্টার পরও চোরকে ধরতে না পারার কারণ হিসেবে কর্মকর্তারা বলছেন, সিসিটিভি ফুটেজ কিছুটা অস্পষ্ট। এ ছাড়া সন্দেহভাজন ব্যক্তি ঘটনার পর দ্রুত একাধিকবার স্থান পরিবর্তন করেন।   ক্রিলকে এরই মধ্যে মুক্তি মাহমুদ নামের এক ব্যক্তি নতুন আরেকটি ম্যাকবুক উপহার দিয়েছেন। বাংলাদেশিদের কাছ থেকে এমন আতিথেয়তা পেয়ে তিনি আপ্লুত। তবে নিজের ল্যাপটপে গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টস থাকায় তিনি এখনো হতাশ।   ক্রিল জানিয়েছেন, ভারত হয়ে তিনি পাকিস্তান যাবেন। নিজ দেশ জার্মানিতে ফিরতে ফিরতে তার কয়েক মাস লেগে যাবে।   নতুন ল্যাপটপ পেলেও ক্রিলের মন খারাপ, কারণ এটি অনেক পুরোনো মডেলের। তিনি থ্রিডি মডেলসহ যেসব কাজ করেন, তা উপহারের ল্যাপটপ দিয়ে করা সম্ভব হবে না।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১১, ২০২৬
প্রতীকী ছবি

সোমবার থেকে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ, প্রচার হবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে

ফাইল ছবি।

মুগ্ধসহ ১১ হত্যা মামলায় ২৬ জনের বিচার শুরু, অভিযোগ গঠন

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের পথে বড় বাধা শেখ হাসিনাকে আশ্রয়: রাষ্ট্রদূত মুশফিক

ছবি: সংগৃহীত
ছোট ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, প্রাণ গেল দুই সহোদরের

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মুয়াজ (৭) ও আরাফাত (৬) নামে দুই সহোদর শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ছোট ভাইকে বিদ্যুতের সংস্পর্শ থেকে বাঁচাতে গিয়ে বড় ভাইও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র। মর্মান্তিক এ ঘটনায় পরিবারসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।   রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নের কাওয়ালীকান্দা গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুই শিশু ওই গ্রামের মো. আব্দুস সাত্তারের ছেলে।   স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে বাড়ির কাছেই খেলছিল দুই ভাই। এ সময় অসাবধানতাবশত একজন বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। ছোট ভাইকে বিপদে পড়তে দেখে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করে বড় ভাই। কিন্তু তাকে বাঁচাতে গিয়ে সেও বিদ্যুতায়িত হয়।   ঘটনার সময় শিশুদের বাবা-মা বাড়ির পাশের গোয়ালঘরে গরুর দুধ দোহাচ্ছিলেন। সন্তানদের চিৎকার শুনে তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে দুই শিশুকে উদ্ধার করেন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা শেষে দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।   পেমই তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত শিশুদের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কাজ করছে। পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ফটিকছড়িতে নিখোঁজের ১৪ ঘণ্টা পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩

ছবি: সংগৃহীত

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার জেরে ৫ ফ্লাইট বাতিল, মাঝপথ থেকে ঢাকায় ফিরল ইউএস-বাংলা

ছবি: সংগৃহীত

তুরস্ক সফর ও ওমরাহ শেষে দেশে ফিরলেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

0 Comments