সুইজারল্যান্ডের কাছে ২-০ গোলে হেরে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল আলজেরিয়া। আর এই পরাজয়ের পরপরই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে চিরতরে বিদায় জানালেন দলটির অধিনায়ক রিয়াদ মাহরেজ। ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেসে রাউন্ড অব ৩২-এর এই ম্যাচটিই ছিল আলজেরিয়ার জার্সিতে ৩৫ বছর বয়সি এই তারকার শেষ ম্যাচ।
শুক্রবার (৩ জুলাই) শেষ ষোলোতে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছিল সুইজারল্যান্ড ও আলজেরিয়া। ম্যাচের শুরু থেকেই আলজেরিয়াকে চেপে ধরে সুইজারল্যান্ড। খেলার ঠিক ১০ মিনিটে জোহান মাঞ্জাম্বির ক্রস থেকে সুইসদের এগিয়ে নেন ব্রেল এমবোলো। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বক্সের বাইরে থেকে এক জোরালো শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ড্যান এনদয়ে।
কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচের অধীনে আলজেরিয়া বল দখলে এগিয়ে থাকলেও সুইস রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি। রিয়াদ মাহরেজ ও ইব্রাহিম মাজা বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করলেও সুইস গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল তা দারুণভাবে রুখে দেন।
গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনার কাছে বড় ব্যবধানে হেরে আসর শুরু করেছিল আলজেরিয়া। তবে জর্ডানের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় এবং অস্ট্রিয়ার সঙ্গে ৩-৩ গোলে ড্র করে (যেখানে মাহরেজ জোড়া গোল করেছিলেন) অন্যতম সেরা তৃতীয় দল হিসেবে ২০১৪ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছিল তারা।
বিশ্বকাপ থেকে দল ছিটকে যাওয়ার পর পরই এক আবেগঘন বার্তায় রিয়াদ মাহরেজ বলেন, ‘আমি নিশ্চিত করছি, এটাই ছিল আমার শেষ টুর্নামেন্ট। এখানেই সমাপ্তি।’ এর মাধ্যমে অবসান ঘটল আলজেরিয়ান ফুটবলের এক সোনালী অধ্যায়ের।
উল্লেখ্য, এক দশকেরও বেশি সময়ের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে আলজেরিয়ার হয়ে ১১৩টি ম্যাচ খেলে ৩৯টি গোল করেছেন রিয়াদ মাহরেজ।
আলজেরিয়ার ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সফল সময়ের মূল রূপকার ছিলেন তিনি। তার নেতৃত্বেই ২০১৯ সালে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে সেমিফাইনালে শেষ মুহূর্তের সেই বিখ্যাত ফ্রি-কিক গোলে ফাইনালে ওঠে এবং দ্বিতীয়বারের মতো আফ্রিকা কাপ অব নেশনস শিরোপা জেতে আলজেরিয়া।
মাঠের নিখুঁত টেকনিক, সিগনেচার কাট-ইন আর অসাধারণ নেতৃত্বের কারণে আলজেরিয়ার ফুটবল ইতিহাসে রিয়াদ মাহরেজের নাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ। ডারউইনে অজিদের বিপক্ষে ৯ উইকেটের জয়ের পর বিশ্বের বিভিন্ন ক্রিকেট খেলুড়ে দেশের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন পাচ্ছে নাজমুল হোসেনের দল। দলের ম্যানেজার ও জাতীয় দলের সাবেক ওপেনার নাফিস ইকবাল গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ডারউইনে জয়ের পর বিভিন্ন দেশের ক্রিকেট বোর্ড ফোন করে ও মুঠোফোন বার্তায় বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন জানাচ্ছে। তিনি বলেন, যখনই আমরা সকালে নাশতা করতে যাই বা যাদের সঙ্গেই দেখা হয়, তারা সব সময় সম্মান করছে যে আমরা এখানে টেস্ট ম্যাচ খেলতে এসেছি। তারা টেস্ট ম্যাচকে খুব গুরুত্ব দেয়। সেই সম্মানটা এখন বেড়ে গিয়েছে। নাফিস বলেন, এই ম্যাচের পর আমি নানান জায়গা থেকে, অন্যান্য বোর্ডের কর্মকর্তাদের থেকেও অভিনন্দনবার্তা পেয়েছি। এটাই বলে দেয়, এই জয়টা কত বড়। তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কা থেকে পেয়েছি (অভিনন্দন), পাকিস্তান থেকে পেয়েছি। এ রকম অনেক দেশ, যেখানে যেখানে আমরা গিয়েছি, যেখানে আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক হয়েছে, আফগানিস্তানসহ অনেক জায়গা থেকেই আমরা পেয়েছি। সব জায়গা থেকে অভিনন্দন জানিয়ে মেসেজ আসছে। অস্ট্রেলিয়ায় এখানকার মানুষদের কাছ থেকেও দারুণ সম্মান আর অভিনন্দন পাচ্ছে জানিয়ে নাফিস বলেন, যখনই আমরা সকালে নাশতা করতে যাই বা যাদের সঙ্গেই দেখা হয়, তারা সব সময় সম্মান করছে যে আমরা এখানে টেস্ট ম্যাচ খেলতে এসেছি। তারা টেস্ট ম্যাচকে খুব গুরুত্ব দেয়। সেই সম্মানটা এখন বেড়ে গিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের ধন্যবাদ জানিয়ে নাফিস বলেন, এখানে অনেক ছাত্র আছেন বা এখানকার কমিউনিটি যারা, অসাধারণ সমর্থন পেয়েছি। তারা এখানে কাজ করছেন বা ছুটি নিয়ে পুরো টিমকে সাপোর্ট করতে এসেছিলেন। তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। অনেকের সঙ্গে দেখা হয়েছে, তাদের ধন্যবাদ দিয়েছি। সবার সঙ্গে যদি দেখা না হয়ে থাকে, আপনাদের মাধ্যমে ধন্যবাদ দিতে চাই।
স্পেনের তারকা মিডফিল্ডার রদ্রিকে দলে ভেড়াতে বার্সেলোনার তৃতীয় প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। ৭ কোটি ৬৫ লাখ ইউরোর বিনিময়ে ৩০ বছর বয়সী এই তারকাকে কাতালান ক্লাবটির কাছে ছেড়ে দেওয়ার চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইএসপিএন। এর আগে রদ্রিকে দলে নিতে দুইবার প্রস্তাব দিয়েছিল বার্সেলোনা। তবে দুই দফাতেই ম্যানচেস্টার সিটির কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পায়নি স্প্যানিশ ক্লাবটি। তৃতীয় প্রস্তাবে শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। সূত্রের বরাত দিয়ে ইএসপিএন জানিয়েছে, দুই ক্লাবের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বিনিময় এবং চুক্তির আনুষ্ঠানিকতাও সম্পন্ন হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বার্সেলোনায় যোগ দেবেন রদ্রি। চার বছরের চুক্তিতে তাকে দলে নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। বার্সেলোনা বুধবার স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যুতে আল আহলির বিপক্ষে হোয়ান গাম্পার ট্রফির ম্যাচের আগে রদ্রিকে সমর্থকদের সামনে পরিচয় করিয়ে দিতে পারে। চলতি গ্রীষ্মের দলবদলে রদ্রিই বার্সেলোনার অন্যতম বড় সংযোজন হতে যাচ্ছেন। ফ্রি এজেন্ট হিসেবে হোয়াও কানসেলোও কাতালান ক্লাবে ফিরছেন। এ ছাড়া আক্রমণভাগ শক্তিশালী করতে এখনও নতুন স্ট্রাইকারের সন্ধানে রয়েছে বার্সা। রবার্ট লেভানডোভস্কি ও ফেরান তোরেসের বিদায়ের পর অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের হুলিয়ান আলভারেজের দিকে তাদের নজর রয়েছে। অন্যদিকে রদ্রির বিদায়ের পর তার বিকল্প হিসেবে চেলসির এনজো ফার্নান্দেজকে দলে ভেড়ানোর পরিকল্পনা করছে ম্যানচেস্টার সিটি। ২০১৯ সালে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ থেকে ৬২ দশমিক ৮ মিলিয়ন পাউন্ডে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দিয়েছিলেন রদ্রি। ক্লাবটির হয়ে সাত মৌসুমে চারটি প্রিমিয়ার লিগ, দুটি এফএ কাপ, তিনটি ইএফএল কাপ ও একটি চ্যাম্পিয়নস লিগসহ মোট ১২টি বড় শিরোপা জিতেছেন তিনি। হাঁটুর গুরুতর চোটের কারণে গত মৌসুমের বড় একটি অংশ মাঠের বাইরে ছিলেন রদ্রি। তবে দুর্দান্তভাবে ফিরে এসে স্পেনকে বিশ্বকাপ জয়ে নেতৃত্ব দেন তিনি। এবার ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়ে বার্সেলোনার জার্সিতে দেখা যাবে এই ব্যালন ডি’অরজয়ী তারকাকে।
গল টেস্টের দ্বিতীয় দিনে প্রতিকূল আবহাওয়ার দাপট। বৃষ্টির কারণে খেলা শুরু হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা পর। নষ্ট হয়েছে ৫৫ ওভার। তবু শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দিন শেষে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে ভারত। ৯ উইকেটে ৪৬০ রান করেছে শুবমান গিলের দল। প্রথম দিনের ২৮৮ রানের সঙ্গে আজ দ্বিতীয় দিনে আরো ১৭২ রান যোগ করেছে তারা। প্রথম দিনে ১৩১ রানে অপরাজিত থাকা দেবদূত পাডিক্কাল আজও দারুণ ব্যাটিং করেছেন। শেষ পর্যন্ত ১৬৭ রানে থামেন তিনি। পাডিক্কালের সঙ্গে ধ্রুব জুরেলও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান করেন ৫১ রান। তবে শ্রীলঙ্কার অভিষিক্ত অফ স্পিনার কেশারা নুয়ান্থার ৩ উইকেট স্বাগতিকদের ম্যাচে ফেরার সুযোগ তৈরি করে দেয়। দিনের খেলা শুরু সময় স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে। শুরুতে ঋষভ পন্ত কিছুটা আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে একটি চার মারেন। কিন্তু দ্বিতীয় নতুন বল নেওয়ার পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তিনি। এরপর ব্যাটিংয়ে ফেরেন লোকেশ রাহুল। আগের দিন পেশিতে টান ধরায় ৭৭ রানে থাকতে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তাকে। আজ তিনি মাত্র ৫ রান যোগ করতে পারেন। রাহুল ফেরার পরও ভারতকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন পাডিক্কাল। উইকেট ছিল মোটামুটি ব্যাটিং উপযোগী। তবে স্পিনাররা বল ঘোরাতে পারছিলেন। ১৬৭ রানে থাকতে প্রভাত জয়াসুরিয়াকে ডাউন দ্য ট্র্যাকে গিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন পাডিক্কাল। কিন্তু বলে ব্যাটের সংযোগ না হওয়ায় স্টাম্পড হন তিনি। তার ক্যারিয়ারসেরা ইনিংসে ছিল ১৫টি চার ও একটি ছক্কা। পাডিক্কালের বিদায়ের পর ভারতের ওপর চাপ আরো বাড়ে। রবীন্দ্র জাদেজাও নুয়ান্থার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে যান। ফলে ৩৭৭ রানে ৬ উইকেট হারায় ভারত। এরপর পরিস্থিতি সামাল দেন ধ্রুব জুরেল ও মানব সুতার। জুরেল শুরুতে ২৯ রানে জীবন পান। স্লিপে তার ক্যাচ ফেলেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক ধনঞ্জয়া ডি সিলভা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জুরেল দ্রুত রান তুলতে থাকেন। লাহিরু কুমারার অনিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সুযোগ নিয়ে এক ওভারেই তিনটি চার মারেন তিনি। সুতারের সঙ্গে গড়েন ৫৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। তাদের ব্যাটেই ভারত ৪০০ রানের ঘর পার করে। অবশেষে নিজের ‘ভুলের প্রায়শ্চিত্ত’ করেন ধনঞ্জয়া। জুরেল ৫১ রান পূর্ণ করার পর স্লিপে দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে তাকে ফেরান। এরপর ভারতের নিচের সারির ব্যাটারা খুব বেশি রান যোগ করতে না পারলেও ৯ উইকেটে ৪৬০ রানের পাহাড় গড়ে। দ্বিতীয় দিন শেষে ভারত শক্ত অবস্থানে থাকলেও ম্যাচের ফল নিয়ে এখনো নিশ্চয়তা নেই। হাতে রয়েছে আর তিন দিন। তবে গলে আবারো বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। সংক্ষিপ্ত স্কোর ভারত ১ম ইনিংস : ১১৬ ওভারে ৪৬০/৯ [পাডিক্কাল ১৬৭, রাহুল ৮২, জুরেল ৫১; জয়াসুরিয়া ৪/১০৯, নুয়ান্থা ৩/১৭৫] * ২য় দিন শেষে।