জাতীয়

লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসে ই-পাসপোর্ট সেবার শুভ উদ্বোধন

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২৩, ২০২৬

লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ই-পাসপোর্ট সেবা উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সেবার উদ্বোধন করা হয়।

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স কাজী আসিফ আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. জসিম উদ্দিন এবং ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।

অনুষ্ঠানে দূতাবাসের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ত্রিপলিস্থ বাংলাদেশ কমিউনিটির প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) মো. আমিনুর রহমানের সঞ্চালনায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

অনুষ্ঠানে ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন ই-পাসপোর্ট প্রকল্পের ওপর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি ই-পাসপোর্টে ব্যবহৃত আধুনিক প্রযুক্তি এবং এর বিভিন্ন সুবিধা সম্পর্কে আলোকপাত করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. জসিম উদ্দিন ই-পাসপোর্টের মাধ্যমে প্রবাসীদের জন্য নিরাপদ ও উন্নত সেবা প্রদানের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাজী আসিফ আহমেদ বলেন, লিবিয়ায় অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ই-পাসপোর্ট সেবা চালু হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসীরা ই-পাসপোর্ট নবায়ন ও নতুন পাসপোর্ট প্রাপ্তির জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। আজ থেকে সেই অধ্যায়ের অবসান ঘটল। এখন থেকে দূতাবাসেই ই-পাসপোর্টের আবেদন, তথ্য সংগ্রহ ও বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে, যা প্রবাসীদের জীবনযাত্রাকে আরও সহজ ও নিরাপদ করবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ দূরে অবস্থান করলেও রাষ্ট্রের সেবা কখনোই প্রবাসীদের থেকে দূরে থাকে না।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিরা দীর্ঘদিন পর লিবিয়ায় ই-পাসপোর্ট সেবা চালু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা জানান, এ সেবার মাধ্যমে প্রবাসীদের ভোগান্তি কমবে এবং তাদের আইনগত সুরক্ষা আরও সুদৃঢ় হবে। লিবিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে আধুনিক এ পাসপোর্ট সেবা পৌঁছে দেওয়ায় সরকারের উদ্যোগকে তারা আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান।

 

৭১তম মিশন হিসেবে ই-পাসপোর্ট সেবার উদ্বোধনের মাধ্যমে লিবিয়া ও দূতাবাসের আওতাভুক্ত দেশগুলোতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা এখন থেকে আরও উন্নত, দ্রুত ও নিরাপদ কনস্যুলার সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি : সংগৃহীত
তরুণ সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: ডেপুটি স্পিকার

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, তরুণ সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চার কোনো বিকল্প নেই। খেলাধুলা তরুণদের শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে এবং একটি সুস্থ, সচেতন ও দায়িত্বশীল প্রজন্ম গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   শুক্রবার (২৬ জুন) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজ মাঠে বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন (বাগাছাস) আয়োজিত ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   ডেপুটি স্পিকার বলেন, খেলাধুলা তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি তাদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ, দায়িত্বশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে সহায়ক। ক্রীড়াচর্চার মাধ্যমে তরুণদের ইতিবাচক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা সম্ভব, যা একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মানবিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ একটি বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক দেশ। গারো, হাজং, সাঁওতাল, চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, রাখাইনসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর তরুণরা ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আরও সুদৃঢ় করতে পারে।   তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন শুধু খেলাধুলার বিকাশেই ভূমিকা রাখে না, বরং ভ্রাতৃত্ববোধ, সহমর্মিতা এবং সামাজিক সম্প্রীতি জোরদার করতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ২৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর: মাহদী আমিন

ছবি - সংগৃহীত

বেনজীরকে দেশে ফেরানো নিয়ে যা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশ আলোচনা করলে চীন সহায়তা করবে

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা করতে চাইলে চীন সহায়তা করবে বলে জানিয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বৈঠকের পর একথা জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহাদী আমিন।   তিনি বলেন, রোহিঙ্গার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান খুব সুনিশ্চিত। আমরা চাই নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন, আমাদের দেশের রোহিঙ্গা যারা রয়েছে, তারা নিজ দেশে ফেরত যাক। এ বিষয়ে চীন আমাদের কথা দিয়েছে যে, আমরা যখন চাই তারা মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের কোনও ডায়লগ প্রয়োজন হলে সেখানে ফ্যাসিলিটেট করবে এবং আমরা সেই ভলেন্টারি এবং ডিগনিফাইতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, যেটা ইতোপূর্বে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার সময় শুধু সম্ভব হয়েছিল, আমরা এ বিষয়ে সামনে আলোচনা শুরু করবো।   মাহাদী আমিন বলেন, ফরেন এবং ডিফেন্স এই দুটো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রথমবার বাংলাদেশের সঙ্গে চায়নার ‘টু প্লাস টু’ একটা আন্ডারস্ট্যান্ডিং হয়েছে। যেখানে দুই দেশের ফরেন মিনিস্ট্রি এবং ডিফেন্স মিনিস্ট্রি থেকে রেপ্রেজেন্টেটিভ যারা রয়েছেন, তাদের নিয়মিত ভিত্তিতে সামনের দিনগুলোতে ডায়লগ শুরু হবে। এই ইন্স্ট্রুমেন্টের ডিটেলসটা ওয়ার্ক আউট করা হচ্ছে। একটি সরকার যেটি পররাষ্ট্রনীতি হবে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের বহিঃপ্রকাশ সেটি নিশ্চিত করা হবে প্রত্যেকটা দেশের সঙ্গে। স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশ চায় যেমন স্বাধীন সার্বভৌমভাবে করতে, চীনও চায় তার স্বাধীন সার্বভৌমভাবে দেশ পরিচালনা করতে। এটা একটা গ্লোবাল ভ্যালিউ যেটা আমরা হোল্ড করতে চাচ্ছি। বাংলাদেশ এবং চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি মাল্টিল্যাটারাল টাইস অর্থাৎ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইউএন বিভিন্ন বডি বাংলাদেশের এসপারেশনস রয়েছে। স্বাভাবিকভাবে যেমন আমরা ইউএনজিতে যেখানে বাংলাদেশ বিজয়ী হয়েছে সেখানে চীন সহযোগিতা করেছে। চীন বাংলাদেশকে কংগ্রাচুলেট করেছে এবং বাংলাদেশ থেকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।     তিনি বলেন, তাদের সহযোগিতার জন্য ব্রিকস মেম্বারশিপের জন্য বাংলাদেশ আবেদন করবে। চীন সেটাকে স্বাগত জানিয়েছেন। সবমিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেহেতু জনগণ দ্বারা ক্ষমতায়িত একজন রাষ্ট্র প্রধান সরকার প্রধান, দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশ থেকে বিদেশে এসেছেন। স্বাভাবিকভাবে আমরা দেখেছি, মালয়েশিয়া তারপর ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম এবং বর্তমানে চীনে উনাকে অনেক বেশি সম্মান, আন্তরিকতা ও ভালোবাসা দিয়ে বরণ করা হচ্ছে। তিনি সমগ্র দেশের আবেগ ও গৌরবকে ধারণ করে বিশ্ব দরবারে যেভাবে বাংলাদেশকে তুলে ধরছেন, শোল্ডার টু শোল্ডার স্ট্যান্ড করছেন এবং যেভাবে রিসিভড হচ্ছেন, হি ডিগনিফাইড ওয়েতে এটা বাংলাদেশের জন্য এটা অনেক বড় গৌরবের বিষয়। আমাদের আজকের যে আলোচনা হয়েছে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমাদের বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এখানে একটা বিষয় ক্লিয়ার যে, আমাদের একটা নিউ ব্লুপ্রিন্ট হয়েছে ফর লং টার্ম সাস্টেইন এবং এই নিউ ব্লুপ্রিন্টের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশ এবং চীনের সম্পর্ককে একটি নতুন উচ্চতা নিয়ে গিয়েছি এবং তার ওপর ভিত্তি করে আগামী বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন অধ্যায় সূচিত হবে।   রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, চীন ভূমিকা রাখবে এবং যেখানে আমাদের কোঅপারেশন দরকার চীনের, আমরা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি। আর সমস্যাটা হলো, আমাদের দেশে একটা দুর্বল সরকার ছিল বিগত বছরগুলোতে, একটা রেজিম ছিল, তার দুর্বলতার ভিত্তিকে ভর করে এই ক্রাইসিসটা একটা কন্ট্রোলার বাইরে নিয়ে চলে গেছে।    তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের আমাদের দেশে প্রবেশ একটা টপ ন্যাশনাল সিকিউরিটি কন্সার্ন। প্রথম উদ্যোগ যে নিতে হবে, আমরা নেবো। গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে আমরা চীনকে সঙ্গে নিয়ে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবো।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ২৬, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরা ঘিরে বিমানবন্দরে শোডাউন না দেওয়ার নির্দেশ বিএনপির

মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে করিডোরের প্রস্তাব চীনের

ভিসা, পাসপোর্ট ও বাংলাদেশ-ভারতের পতাকা। ছবি : সংগৃহীত
সামান্য ভুলেই বাতিল হতে পারে ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা

প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য আবারও চালু হচ্ছে ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা। আগামী ২৮ জুন থেকে দেশের পাঁচটি ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে (আইভ্যাক) আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। ঘরে বসেই অনলাইন আবেদন, অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ভিসা প্রক্রিয়াকরণের নিয়ম জেনে আবেদন সম্পন্ন করা যাবে। এক্ষেত্রে সামান্য ভুলের জন্যও বাতিল হতে পারে ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন।   প্রায় দুই বছর পর ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।   অনলাইনে আবেদন যেভাবে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে প্রথমে অনলাইনে ভিসা আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। আবেদনপত্র সঠিকভাবে পূরণ করার পর সেটি ডাউনলোড করতে হবে। এরপর অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বুক করার মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ সম্পন্ন হবে।   অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের নিয়ম প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার আগের দিন অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বুক করতে হবে। পরবর্তী কার্যদিবসের জন্য স্লট আগের কার্যদিবসে প্রকাশ করা হয়।   দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সাইনআপ এবং ওয়েবফাইল আপলোড করা যাবে। সফলভাবে ওয়েবফাইল আপলোড করা আবেদনকারীরাই একই দিন বিকেল ৫টা থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের সুযোগ পাবেন।   সাইনআপের সময় ভিসা আবেদনপত্রে ব্যবহৃত ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করতে হবে। নিবন্ধনের পর একটি ওটিপি ই-মেইলে এবং আরেকটি মোবাইল নম্বরে পাঠানো হবে। নির্ধারিত ধাপে উভয় ওটিপি যাচাই করে ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। বিকেল সাড়ে ৪টার আগে সাইনআপ না করলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করা যাবে না।   সাইনআপ সম্পন্ন হওয়ার পর মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে হবে। ওটিপি যাচাইয়ের পর ডকুমেন্ট আপলোড করতে হবে। আপলোড করা তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিস্টেমে যুক্ত হবে। সন্ধ্যা ৬টায় অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট চালু হলে পুনরায় লগইন করলে পরবর্তী দিনের একটি নির্ধারিত স্লট দেখা যাবে। প্রয়োজন হলে একবার স্লট পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত হওয়ার পর ভিসা প্রসেসিং চার্জ অনলাইনে পরিশোধ করতে হবে।   তবে আপলোড করা ওয়েবফাইল অবশ্যই মূল ভিসা আবেদনপত্রের পিডিএফ হতে হবে এবং সেটি ৩০ দিনের বেশি পুরোনো হওয়া যাবে না। পরিবর্তিত বা সম্পাদিত ফাইল গ্রহণ করা হবে না।   যেসব কাগজপত্র লাগবে ভিসা আবেদনের সঙ্গে জমা দিতে হবে—  কমপক্ষে ছয় মাস মেয়াদসহ দুটি খালি পৃষ্ঠা থাকা মূল পাসপোর্ট। * পাসপোর্টের প্রথম চার পৃষ্ঠার কপি এবং মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদন থাকলে তার কপি। * পূর্বের সব পাসপোর্ট। * তিন মাসের মধ্যে তোলা ২×২ সাইজের রঙিন পাসপোর্ট ছবি। * জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্মনিবন্ধন সনদের কপি। * সর্বোচ্চ ছয় মাসের মধ্যে ইস্যু করা বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি বা টেলিফোন বিল। * চাকরিজীবীদের জন্য নিয়োগকর্তার প্রত্যয়নপত্র, শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র এবং ব্যবসায়ীদের জন্য ট্রেড লাইসেন্স। * ১৫০ মার্কিন ডলার সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা এনডোর্সমেন্ট, অথবা আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের কপি কিংবা প্রয়োজন অনুযায়ী হালনাগাদ ব্যাংক স্টেটমেন্ট। * রেজিস্ট্রেশন নম্বরসহ অনলাইন ভিসা আবেদনপত্র। * আবেদনপত্রে নির্ধারিত স্থানে আবেদনকারীর ছবি স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে।   পূর্বের সব পাসপোর্ট জমা না দিলে আবেদন অসম্পূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবে। ভিসা ফি পর্যটন ভিসার জন্য কোনো ভিসা ফি নেই। তবে সব ধরনের ভিসার ক্ষেত্রে আইভ্যাক ১ হাজার ৫০০ টাকা ভিসা প্রক্রিয়াকরণ চার্জ নেয়। অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের সময় অনলাইনে এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে। পাসপোর্ট সংগ্রহ ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আবেদনকারীর মোবাইল নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে জানানো হবে। এরপর নির্ধারিত নিয়মে পাসপোর্ট সংগ্রহ করা যাবে। উল্লেখ্য, উপরোক্ত বিষয়গুলো সঠিকভাবে সম্পন্ন করা না হলে ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন বাতিল হতে পারে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

৬ হাজার কোটি টাকার বিদ্যুৎকেন্দ্র, চালুর আগেই বিকল

ছবি: সংগৃহীত

১ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য সরকারের: অর্থমন্ত্রী

স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে বিদ্যুতের খুঁটিতে উঠলেন যুবক

0 Comments