ভাষা মানুষের চিন্তা, ইতিহাস ও সভ্যতার প্রধান বাহন। আরবি ভাষার ইতিহাসে কোরআন অবতীর্ণ হওয়ার মধ্য দিয়ে ভাষার যে বিপ্লব ঘটে, তা শুধু ধর্মীয় নয়—সাহিত্য, ব্যাকরণ, বাক্যতত্ত্ব এমনকি আধুনিক ভাষাবিজ্ঞানের গবেষণাতেও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। সপ্তম শতকের আরব ছিল মৌখিক সাহিত্যের রত্নভাণ্ডার, সেখানে কবিতা ছিল মর্যাদার সর্বোচ্চ আসন। শক্তিশালী কবি গোত্রের প্রতিচ্ছবি, মর্যাদা এবং সাংস্কৃতিক শক্তির প্রতীক ছিল কবিতা। আর এই সমাজেই কোরআন অবতীর্ণ হলো এমন এক ভাষা-রূপে, যা আরবি কবিদের বিস্মিত করেছে, বাকরুদ্ধ করেছে এবং সাহিত্যিকদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে।
কোরআনের ভাষা কখনো কবিতা নয়, আবার সরল গদ্যও নয়। এর ছন্দ, রূপক, উপমা, যুক্তি, শব্দচয়ন, বাক্যবিন্যাস—সব মিলিয়ে এটি গদ্য ও কবিতার মাঝামাঝি এক নতুন শৈলী। ভাষাতত্ত্ববিদেরা এটিকে “Qur’anic Style” নামে ডাকে। ভাষার এমন গঠন আরবিতে আগে কখনো ছিল না।

অপ্রতিদ্বন্দ্বী চ্যালেঞ্জ: “এমন একটি সূরা তৈরি করে আনো”
কোরআনে বহুবার চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে—
“যদি সন্দেহ থাকে, তবে এর মতো একটি সূরা এনে দেখাও।”
আরব ছিল ভাষার ওস্তাদদের কেন্দ্র। তবুও কেউ সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে সফল হতে পারেনি। কারণ—
• কোরআনের গঠনশৈলী তৎকালীন আরবি কবিতার নিয়ম মানে না,
• আবার তাদের প্রচলিত গদ্যের ধরনেও পড়ে না।
এটি এক স্বতন্ত্র, অনন্য রূপ।
শব্দের গণিত: কোরআনে শব্দ ব্যবহারের পরিমিতি

আধুনিক কম্পিউটেশনাল ভাষা বিশ্লেষণে দেখা গেছে—
• “দিন” শব্দটি এসেছে ৩৬৫ বার
• “মাস” এসেছে ১২ বার
• “পুরুষ-নারী” শব্দদ্বয় সমান সংখ্যকবার
• “শয়তান” ও “ফেরেশতা” প্রতিপক্ষ শব্দ হিসেবেও সমান সংখ্যায় ব্যবহৃত
এগুলো কাকতালীয় হিসেবেই মেনে নেওয়া কঠিন।
আধুনিক ভাষাবিজ্ঞান কী বলে?
MIT ও আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা গবেষকেরা দেখিয়েছেন—
• কোরআনের বাক্য গঠনে বিশেষ ছন্দ থাকে
• শব্দের পুনরাবৃত্তি ও শব্দ-সমতা ভাষাবিজ্ঞানের “balanced structure” ধারণার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ
• কোরআনের ব্যাকরণিক শৈলী আরবি ভাষায় নতুন ব্যাকরণ রচনা করে দিয়েছে—আজও “নাহু” ও “সরফ” এর ভিত্তি কোরআন
কোরআনের ভাষা কি অলৌকিক?
ভাষাবিজ্ঞানীরা এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন—
• যে ভাষা সাধারণ মানুষের সৃষ্টির বাইরে বিশেষ গঠনমূলক বৈশিষ্ট্য দেখায়
• দীর্ঘ ১৪০০ বছর ধরে যার শৈলী অনুকরণযোগ্য নয়
• এবং যেটি পরবর্তীতে একটি ভাষার ব্যাকরণিক কাঠামো তৈরি করে—
তা অবশ্যই ব্যাখ্যাতীত ‘linguistic miracle’ এর পথ খুলে দেয়।

আধুনিক যুগে প্রাসঙ্গিকতা
আজকের যুগে, যেখানে ভাষা বিশ্লেষণ, AI ভাষা মডেলিং, computational linguistics—এসবের ব্যাপক ব্যবহার, কোরআনের ভাষা নতুন গবেষণার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। AI গবেষকেরা কোরআনের ছন্দ-গঠনকে 'mathematical symmetry' বলে উল্লেখ করেছেন।
ফুটনোট:
১. M. Abdel Haleem, Oxford Univ. Press—“The Qur’anic Style is simply inimitable.”
২. Dr. Raymond Farrin—“Qur'an demonstrates ring composition and mathematical precision.”
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
হাজার বছর ধরে পৃথিবীর নানা সভ্যতায় চা শুধু একটি পানীয় নয়, বরং একটি প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবেই পরিচিত। মানসিক চাপ কমানো, ব্যথা উপশম, মনোযোগ বাড়ানো কিংবা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করা—প্রায় প্রতিটি সমস্যার জন্যই রয়েছে কোনো না কোনো চা-সমাধান। চায়ে রয়েছে অসাধারণ কিছু গুণাগুণ, যা নিয়মিত পান করলে চুলের স্বাস্থ্য উন্নত হতে পারে। বিভিন্ন ধরনের চা শুধু শরীর নয়, চুলকেও করে তোলে ঘন, শক্তিশালী ও প্রাণবন্ত—জানলে অবাক হবেন এর বিস্ময়কর উপকারিতা! কীভাবে? তাই জানাচ্ছেন বৃষ্টি শেখ খাদিজা স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে প্রকৃতি সবসময়ই একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে। সেখানে চুল কীভাবে এর প্রভাবের বাইরে থাকতে পারে? আয়ুর্বেদ ইতিহাসে এমন বহু প্রাকৃতিক উপাদান ও ঘরোয়া উপায়ের কথা বলা হয়েছে, যা চুলকে করে তোলে আরও স্বাস্থ্যবান, শক্তিশালী ও উজ্জ্বল। আর সেই প্রাকৃতিক সমাধানগুলোর মধ্যেই স্বাদ ছাড়িয়ে আজকের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—চা পান। স্বাদে তৃপ্তি দেওয়ার পাশাপাশি সঠিক ধরনের চা নিয়মিত পান করলে চুলের গঠন মজবুত হয়, উজ্জ্বলতা বাড়ে এবং সামগ্রিকভাবে চুলের স্বাস্থ্য উন্নত হয়। আজকের জানব, কীভাবে চা হতে পারে আপনার চুলের যত্নে এক অনন্য প্রাকৃতিক সঙ্গী। চুলের বৃদ্ধিতে চায়ের ভূমিকা জীবন যতই এলোমেলো হোক, চুল যেন তেমন না হয়—এ চাওয়াই তো সবার। আয়ুর্বেদ থেকে শুরু করে প্রাচীন ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতির দীর্ঘ যাত্রায় প্রকৃতির নিরাময় ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে এসেছে সার্বিক সুস্থতার জন্য। সেই ধারাবাহিকতায় সাধারণ চা ও হারবাল চা প্রাচীনকাল থেকেই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। আজকাল চুলের যত্নে অনেকেই বেছে নিচ্ছেন হেয়ার গ্রোথের জন্য চা। সতেজ স্বাদের পাশাপাশি চা যে নানা স্বাস্থ্যগুণে ভরপুর, তা তো জানা কথাই। তবে জানলে অবাক হবেন—সঠিক ধরনের চা আপনার স্ক্যাল্পকে রাখতে পারে সুস্থ এবং চুলকে করে তুলতে পারে আরও উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত। চুলের বৃদ্ধিতে চা ব্যবহারের ইতিহাস ইতিহাসের পাতা উল্টালে কিংবা পৌরাণিক কাহিনির দিকে তাকালেই দেখা যাবে, চুলের যত্নে জবা (হিবিস্কাস) চা, নানা হারবাল চা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক চা ব্যবহারের উল্লেখ। সে সময় কেমিক্যালের ব্যবহার ছিল না বললেই চলে, অথচ চুলের গুণমান ছিল আজকের তুলনায় অনেক ভালো। বিশেষ কিছু হারবাল চা ও প্রাকৃতিক চা চুলের গোড়া থেকে পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে বলে বিশ্বাস করা হয়। যেমন—নেটল চা, ব্লু ফ্লাওয়ার চা, হিবিস্কাস চা, গ্রিন টি, রোজমেরি চা, পেপারমিন্ট ইত্যাদি। এসব চা স্ক্যাল্পে রক্তসঞ্চালন বাড়াতে ও প্রদাহ কমাতে সহায়ক হিসেবে পরিচিত। কেউ এগুলো পানীয় হিসেবে উপভোগ করেন, আবার কেউ চুল ধোয়ার জন্য ব্যবহার করেন। আমলকী চা: যাকে বিশ্বাস করতেন সাধু-সন্তরাও চুলের যত্নে আমলকীর ভূমিকা বরাবরই অনস্বীকার্য। দাদি-নানিদের ঘরোয়া টোটকায় সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর চুলের কথা উঠলেই আমলকীর নাম যেন অবধারিত। আমলা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চুলের যত্নে নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করে এসেছে। আমলকী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন ‘সি’তে ভরপুর। আর যখন এটি দিয়ে চা তৈরি করা হয়, তখন তা হয়ে ওঠে এক কাপ চুল-সঞ্জীবনী পানীয়। আমলকী চা চুল পড়া নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, চুলের গোড়া শক্তিশালী করে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে অকালপক্বতা বা অসময়ে চুল পাকা রোধে সহায়ক ভূমিকা রাখে। ক্যামোমাইল চা: চুলের জন্য গ্রিন টির বিশেষ উপকারিতা ক্যামোমাইল চা স্ক্যাল্পকে শান্ত করে এবং চুলের ফোলিকলগুলোকে স্বাস্থ্যবান রাখতে সাহায্য করে। এটি চুলে পুষ্টি জোগাতে পারে এবং যদি আপনি এটি দিয়ে চুল ধোয়ার জন্য ব্যবহার করেন, তবে চুল আরও উজ্জ্বল ও কোমল দেখাবে, সঙ্গে আকর্ষণীয় হালকা আভা বা লাইটনিং এফেক্টও আসতে পারে। পদ্ধতি খুবই সহজ—ক্যামোমাইল চা ফুটিয়ে নিন এবং কিছু সময় ঠান্ডা হতে দিন, যতক্ষণ না এটি রুম টেম্পারেচারে পৌঁছায়। এরপর চুল শ্যাম্পু করার পর এ চা দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। অন্তত পাঁচ মিনিট রেখে দিন, তারপর সাধারণ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নেটল চা: চুলের জন্য এক অনন্য সমাধান নেটল চা শুধু সার্বিক সুস্থতার জন্যই নয়, চুলের যত্নেও অসাধারণ উপকারী। এটি চুলের বৃদ্ধির জন্য যেন একটি শক্তিশালী সহায়ক স্তম্ভ এবং অধিকাংশ চুলের সমস্যার জন্য একক সমাধান হিসেবে পরিচিত। নেটল চা ভিটামিন ‘এ’, ‘সি’ ও ‘কে’তে সমৃদ্ধ। এতে এমন উপাদান আছে, যা চুলকে গভীরভাবে পুষ্টি দেয় এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চুলের বৃদ্ধি প্ররোচিত করে। এ ছাড়া, এতে সিলিকা ও আয়রনের মতো খনিজও বিদ্যমান, যা চুলের স্বাস্থ্য ও ঘনত্ব বাড়াতে সাহায্য করে। এ চা স্ক্যাল্প ও হরমোনাল সঞ্চালনকে উদ্দীপিত করে, যা চুলের স্বাস্থ্য বৃদ্ধিতে সরাসরি সহায়ক। নিয়মিত ব্যবহার করলে চুল হয় আরও শক্তিশালী, ঘন ও প্রাণবন্ত। গ্রিন টি: চুলের জন্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভরপুর খোঁজ গ্রিন টি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পলিফেনলে ভরপুর। এটি চুলের বৃদ্ধির জন্য এক চমৎকার প্রাকৃতিক উৎস হিসেবে পরিচিত। গ্রিন টি চুলের ফোলিকলকে শক্তিশালী করতে সরাসরি সাহায্য করে এবং চুল পড়া কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পেপারমিন্ট চা: স্ক্যাল্প ও মনকে ঠান্ডা রাখে চুলের বৃদ্ধির জন্য অন্যান্য চায়ের মধ্যে পেপারমিন্ট চা বিশেষভাবে কার্যকর। এটি শরীর ও চুলের জন্য অনেক স্বাস্থ্যকর উপাদানে ভরপুর। পেপারমিন্ট চা সরাসরি চুলের বৃদ্ধিকে উদ্দীপিত করে এবং স্ক্যাল্পকে সতেজ রাখে। ভৃংগরাজ চা: চুলের পুনর্জীবন ও স্বাস্থ্যবর্ধক চুলের যত্নে ভৃংগরাজকে বলা হয় ‘হের্বের রাজা’ বা সমস্ত উৎকৃষ্ট হের্বের উত্তরসূরি। এটি চুলকে পুনরুজ্জীবিত করতে ও স্বাস্থ্য বাড়াতে দারুণ। শুকনো ভৃংগরাজ পাতার চা আপনার চুলের রুটিনে যোগ করলে নতুন চুল গজানো এবং চুল পড়া কমানো সম্ভব। নিয়মিত ব্যবহার করলে চুলের ঘনত্ব বাড়ে এবং স্ক্যাল্প সুস্থ থাকে। মেথি চা: শুকনো চুলে জীবন সঞ্চার মেথি হলো রান্নাঘরের সাধারণ মসলার মধ্যে অন্যতম, কিন্তু চুলের যত্নেও এটি বিস্ময়কর। মেথি চা তৈরি করতে মেথি ভিজিয়ে পানি ফুটিয়ে ঠান্ডা করতে হবে। এরপর এটি স্ক্যাল্পে ঢালুন। ধীরে ধীরে এটি স্ক্যাল্পকে আর্দ্রতা যোগ করে এবং অপ্রয়োজনীয় খসখসানি দূর করে। মেথি চা প্রোটিনে সমৃদ্ধ, যা চুলের গোড়ায় পুষ্টি জোগায় এবং চুলের বৃদ্ধি বাড়াতে সাহায্য করে। ব্ল্যাক চা: চুলে নতুন রং ও উজ্জ্বলতা ব্ল্যাক চা অনেকের প্রিয় পানীয়। এতে থাকা ক্যাফেইন চুলের ফোলিকল ও ফ্ল্যাভনয়েড উদ্দীপিত করতে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যবহার করলে চুলে স্বাভাবিকভাবে আরও উজ্জ্বলতা ও ঘনত্ব আসে। ল্যাভেন্ডার চা: শান্তি ও পুষ্টির খোঁজ যারা মনে করেন ল্যাভেন্ডার চা শুধু আপনার সন্ধ্যায় স্নিগ্ধতা যোগ করতে পারে, তাদের জন্য বলি—এটি অনেক বেশি। এই চা শান্তিদায়ক উপাদানে ভরপুর, যা স্ট্রেস কমাতে এবং রক্তসঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি চুলের বৃদ্ধিও উৎসাহিত করতে পারে। ল্যাভেন্ডার চা ব্যবহার করতে চাইলে চা ফুটিয়ে ছাঁকনি দিয়ে ঝরিয়ে নিন এবং চুল ধোয়ার জন্য ব্যবহার করুন। চায়ের সুগন্ধ ও উপাদান চুলকে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে সাহায্য করে, চুলকে করে সুস্থ ও প্রাণবন্ত। হিবিস্কাস চা: ফুলের চা ও ট্রপিক্যাল উপহার হিবিস্কাস চা চুলের বৃদ্ধির জন্য প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবহৃত। দাদি-নানির ঘরোয়া টোটকায় হিবিস্কাস বা জবা ফুল প্রায় সর্বদা চুলের যত্নের অংশ ছিল। হিবিস্কাস চা তৈরি করা হয় শুকনো পাপড়ি দিয়ে, তবে কেউ কেউ তাজা পাপড়ি ব্যবহার করতেও পছন্দ করেন। হিবিস্কাস চা অ্যামিনো অ্যাসিড ও ভিটামিনে সমৃদ্ধ। এটি চুলকে সম্পূর্ণভাবে পুষ্টি দেয়, চুল পড়া নিয়ন্ত্রণ করে এবং চুলকে ঘন, মসৃণ ও ঝলমলে রাখে। এ ছাড়া অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর এই চা অকালপক্ব চুলের ধূসরতা নিয়ন্ত্রণ করে এবং স্ক্যাল্পকে স্বাস্থ্যবান রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যবহার করলে চুল সামলানো সহজ হয় এবং চুল সর্বোপরি সুস্থ ও উজ্জ্বল থাকে।
রাঙামাটিতে এনসিপি ও জাতীয় শ্রমিক শক্তির তিন নেতা যোগ দিয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনে। মঙ্গলবার রাঙামাটি পার্বত্য জেলার সদরে নিউ মার্কেটের আশিকা কনফারেন্স হলে এই যোগদান অনুষ্ঠান হয়। গণসংহতি আন্দোলনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কমিটির সাবেক আহ্বায়ক বিপিন জ্যোতি চাকমা, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক উজ্জ্বল চাকমা ও জাতীয় শ্রমিক শক্তির সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক কলিন্স চাকমার নেতৃত্বে রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্যসহ শতাধিক ব্যক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে গণসংহতি আন্দোলনে যোগ দেন ওই অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী (ভারপ্রাপ্ত) দেওয়ান আব্দুর রশিদ নীলু। দলের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মারুফ রুমী, মনির উদ্দীন পাপ্পু, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শহীদ শিমুল, উবা থোয়াই মারমাসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলু বলেন, “পাহাড়ে যারা বসবাস করে, তাদের সংস্কৃতি, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। পাহাড়ের মানুষের আলাদা যে অস্তিত্ব আছে, সেই অস্তিত্বকে স্বীকার করতে হবে রাষ্ট্রকে। বাংলাদেশ একটি বহু জাতির রাষ্ট্র, এই হিসেবে নতুন করে রাষ্ট্রকে গঠন করতে হবে।” আবুল হাসান রুবেল বলেন, “আমরা পুরো বাংলাদেশকে এমন জায়গায় নিয়ে যেতে চাই, যেখানে বাংলাদেশের সমস্ত নাগরিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তাকে বাংলাদেশের অস্তিত্বের সাথে ধরে রাখা যায়। পাহাড়িরা একটা দাবি করলেই তারা বিচ্ছিন্নতাবাদী বলে যে গালি দেওয়া হয়, এই সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। পাহাড়িদের সমস্ত অধিকার দাও, কেন তারা বাংলাদেশ ছেড়ে অন্য জায়গায় যেতে চাইবে?” তিনি বলেন, “কাউকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশ হবে না। তাহলে বাংলাদেশটাকে সকলের হতে হবে। এই রাজনীতিটাকেই আমরা সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।”
শিক্ষাকে জীবনব্যাপী একটি নীতি-কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। অন্তর্ভুক্তিমূলক জীবনব্যাপী শিক্ষা ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না হলে চলমান ডিজিটাল, সবুজ ও জনমিতিক পরিবর্তন দেশগুলোর ভেতরে এবং এক দেশের সাথে আরেক দেশের বৈষম্য আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) নতুন এক প্রতিবেদনে এই মন্তব্য করেছে। ‘ভবিষ্যতের জন্য জীবনব্যাপী শিক্ষা এবং দক্ষতা’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনে বলা হয়, আধুনিকায়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সবুজ রূপান্তর এবং জনমিতিক পরিবর্তনের ফলে বিশ্বজুড়ে শ্রমবাজার দ্রুত বদলে যাচ্ছে। কর্মী জরিপ, অনলাইন চাকরির চাহিদা বিশ্লেষণ, প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য এবং প্রশিক্ষণ কার্যকারিতা নিয়ে ১৭৪টি গবেষণার পর্যালোচনার ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। আইএলও’র মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ. হংবো বলেন, ‘জীবনব্যাপী শিক্ষা বর্তমানের কাজ ও ভবিষ্যতের সুযোগের মধ্যে সেতুবন্ধন। এটি শুধু কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতার বিষয় নয়; বরং শোভন কাজ নিশ্চিত করা, উদ্ভাবনকে এগিয়ে নেওয়া এবং যা স্থিতিশীল সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এটি টেকসই উন্নয়ন কৌশলের একটি অপরিহার্য উপাদান।’ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে মাত্র ১৬ শতাংশ গত এক বছরে কোনো কাঠামোবদ্ধ প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন। অন্যদিকে আনুষ্ঠানিক খাতে স্থায়ী পদে নিযুক্ত পূর্ণকালীন কর্মীদের মধ্যে নিয়োগকর্তাদের মাধ্যমে পরিচালিত এই ধরনের প্রশিক্ষণের হার ৫১ শতাংশ। এই ব্যবধানটি শেখার সুযোগে স্পষ্ট বৈষম্য তুলে ধরে, বিশেষ করে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক শ্রমিকদের মধ্যে এবং বিভিন্ন শিক্ষাস্তরের ক্ষেত্রে। বাংলাদেশে আইএলও’র কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন বলেন, ‘প্রতিবেদনের বৈশ্বিক প্রবণতাগুলো বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। নিয়োগদাতারা এখন প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি ‘সফট স্কিল’ সম্পন্ন কর্মী খোঁজেন। এজন্য প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদার এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা জরুরি, যাতে পরিবর্তনশীল শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী মানসম্মত প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়।’ অনলাইন চাকরির বিজ্ঞাপনের আইএলও বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিজিটাল দক্ষতার পাশাপাশি যোগাযোগ, দলগত কাজ ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতার চাহিদা অনেক বেশি। আইএলওর হিসাবে, বিশ্বে প্রায় ৩২ শতাংশ কর্মী পরিবেশ সম্পর্কিত কাজে যুক্ত। তবে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, সবুজ রূপান্তরের সঙ্গে যুক্ত সব কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শোভন কাজ নয়। সঠিক দক্ষতা ও নীতির সমন্বয় না থাকলে এসব নতুন সুযোগ উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত নাও করতে পারে। বিশ্বে দীর্ঘমেয়াদি সেবা খাতে কর্মীর চাহিদা দ্রুত বাড়ছে - ২০২৩ সালে যেখানে সাড়ে ৮কোটি ছিল, তা ২০৫০ সালে ১৫.৮ কোটিতে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এই খাতের অনেক বেতনভুক্ত কর্মী এখনো কম মজুরি ও অনুপযুক্ত কর্মপরিবেশে কাজ করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জীবনব্যাপী শিক্ষাকে কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কর্মক্ষেত্র ও সামাজিকভাবে প্রসারিত করতে হবে। জীবনব্যাপী শিক্ষা শুধু চাকরি পাওয়ার সক্ষমতা বা উৎপাদনশীলতা নয়; বরং এটি শোভন কাজ, উদ্ভাবন, নাগরিক অংশগ্রহণ এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির ভিত্তি। তবে অনেক দেশেই শিক্ষা ব্যবস্থা এখনো খণ্ডিত এবং পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাবে ভুগছে। উচ্চ আয়ের দেশগুলোর ৩৪ শতাংশ দেশ প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষায় শিক্ষা বাজেটের ১ শতাংশের কম ব্যয় করে। নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে এই হার ৬৩ শতাংশ। প্রতিবেদনে সরকার, নিয়োগদাতা ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শেখার সুযোগ সম্প্রসারণ, শক্তিশালী প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং মানুষের জীবনের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতি গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসাথে প্রতিবেদনটি সুশাসন, সমন্বয়, অর্থায়ন এবং সামাজিক সংলাপের প্রয়োজনীয়তাকেও তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনের সতর্কবার্তা - দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতের কর্মজগতের এই পরিবর্তন বিশ্বজুড়ে বিপুলসংখ্যক কর্মীকে পিছিয়ে ফেলতে পারে।