অর্থনীতি

কোমল পানীয়ে কর কমালেই রাজস্ব বাড়বে তিন গুণ: কাজী নাজমুল হাসান

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

‘অতিরিক্ত’ কর আরোপের কারণে দেশের কোমল পানীয় খাতের প্রবৃদ্ধি ‘থমকে আছে’ বলে মনে করছেন কাজী নাজমুল হাসান।

 

আব্দুল মোনেম লিমিটেডের কোকাকোলা বিজনেস ইউনিটের এই প্রধান নির্বাহীর (সিইও) পর্যবেক্ষণ হলো, কর কমালে কোমল পানীয় খাতে সরকারের রাজস্ব তিন গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

 

নানা উৎসব কিংবা গ্রীষ্মের খরতাপে কোমল পানীয়ের চাহিদা বেড়ে যায়। সামনে কোরবানির ঈদেও পণ্যটির কাটতি বাড়বে।

 

এমন প্রেক্ষাপটে কোমল পানীয় খাতের ব্যবসার হালচাল কেমন যাচ্ছে, রপ্তানির সুযোগ কতটা কিংবা ব্যবসা বাড়াতে কেমন পরিবেশ প্রয়োজন— এমন নানা বিষয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের নিয়মিত আয়োজন ‘চিনওয়্যাগ উইথ দ্য চিফস’ এ কথা বলেন কাজী নাজমুল হাসান।

 

পণ্যটির প্রধান ক্রেতা কারা, সেই প্রশ্নে কোমল পানীয় খাতে দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করা কাজী নাজমুল বলেন, “যে দেশে মধ্যবয়সী মানুষ যত বেশি, সে দেশে কোমল পানীয়ের গ্রোথ ততো বেশি।

 

আমাদের দেশে, বিশেষ করে তরুণ থেকে মধ্যবয়সী ভোক্তা অনেক বেশি। আমরা পণ্যটাকে এমনভাবে বাজারজাত করেছি, যেন সেটা প্রত্যেকে কিনতে পারেন। আমরা কাঁচের বোতল ২০ টাকায় দিচ্ছি। আবার ‘প্রিমিয়াম সেগমেন্টের’ জন্য ৭০ টাকা আছে। সুতরাং পণ্যটা সবার জন্য।

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশে আমরা ২০২১ সালে কোকাকোলা বিক্রিতে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি দেখেছি। আমাদের মরহুম মোনেম স্যার যখন ছিলেন, উনার যে অ্যাগ্রেসিভনেস ছিল কোকাকোলার প্রতি, দেখা গেছে যে কোকাকোলা উনাকে একটা লক্ষ্য দিয়েছে। উনি সেটা কমপ্লিট করার জন্য এমনও হয়েছে যে, এক কেইস কোকাকোলা বিক্রি করলে যে রেভিনিউ আসে, তার চেয়ে বেশি খরচ উনি সেখানে করেছেন।

 

কোমল পানীয় খাতে আব্দুল মোনেমের যুক্ত হওয়া নিয়ে কাজী নাজমুল বলেন, “আমরা কোকাকোলার সঙ্গে আছি ১৯৮২ সাল থেকে। আমাদের বর্তমানে কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে দুটি কারখানা আছে।

 

চট্টগ্রামেরটা মূলত কাঁচের বোতলের। ওটাতে এখন প্রোডাকশন হচ্ছে না। আমাদের পুরো প্রোডাকশন এখন আসছে কুমিল্লা থেকে।

 

আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে এই খাতের প্রবৃদ্ধি কেমন হতে পারে, সেই জিজ্ঞাসায় কাজী নাজমুল বলেন, এটা নির্ভর করবে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং এই খাতের প্লেয়ারদের চেষ্টার ওপর। তবে আমরা যেটা দেখছি, বর্তমান মন্দাবস্থার কারণে গ্রোথ অনেকটা থমকে আছে।

 

ইকোনমি যতো পজিটিভ টার্নে যাবে… আমরা যেটা দেখছি, আগামী পাঁচ বছরে বর্তমান ইন্ডাস্ট্রি যেটা আছে, সেটা অন্তত দ্বিগুণ হবে।

 

সরকারের কাছে কী প্রত্যাশা, সেটা জানতে চাইলে কাজী নাজমুল বলেন, “যত বেশি বিজনেস হবে, সরকার তত রেভিনিউ পাবে।

 

আমাদের বেভারেজে ৪৯ দশমিক ৫ শতাংশ ট্যাক্স। এত ট্যাক্স আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোতে কোথাও নেই। আমরা যেটা চাইব, যদি ট্যাক্সটা সহনীয় পর্যায়ে আনা যায়, তাহলে সরকারের রাজস্ব তিন থেকে চারগুণ বাড়বে।

 

রাজস্ব বাড়ার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। অতিরিক্ত ট্যাক্সের কারণে আমরা দামটা কমাতে পারছি না। ইন্ডাস্ট্রির গ্রোথ গড়পড়তা। সরকার যদি ট্যাক্স কিছুটা কমায়, তাহলে আমরা দাম কমাতে পারব। তখনই পণ্যটা দেশের সবাই কিনতে পারবে। বিক্রি বাড়লে এখন এই খাত থেকে সরকারের যে রেভিনিউ, তা তিন থেকে চারগুণ করা সম্ভব।

 

কোমল পানীয় স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়, এমন একটা ধারণা অনেকের মধ্যে আছে। তবে এ ধারণার সঙ্গে একমত নন কোকাকোলার এই কর্মকর্তা।

 

পাল্টা প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “কোকে (কোকাকোলা) কী আছে, যেটা স্বাস্থ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক? আছে চিনি। আমাদের প্রত্যেকটা জিনিসে চিনি আছে। কোক অস্বাস্থ্যকর নয়।

 

আমি যে চা খাচ্ছি…একটা কোকে ১১ শতাংশ চিনি থাকে। কিন্তু চায়ে কত চিনি খাচ্ছি, সেটা কিন্তু বলছি না। আমাদের চিনিমুক্ত পণ্য আছে; স্বাদ একই রকম। যারা একেবারে চিনি এড়িয়ে চলতে চান, তাদের জন্যও পণ্য আছে। তাই কোক ও সুস্বাস্থ্যকে আমি সাংঘর্ষিক মনে করি না।

 

দেশের বাজারে নতুন নতুন দেশীয় ব্যান্ডের সঙ্গে প্রতিযোগিতা বাড়ছে।

 

সেই প্রতিযোগিতা সামলাচ্ছেন কীভাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাজার বড় হলে নতুন নতুন ব্র্যান্ড আসে। আর এই বাজারে কিন্তু বহুজাতিক ব্র্যান্ডগুলোই এতদিন প্রভাব বিস্তার করেছে। যখন ইন্ডাস্ট্রির পরিসর বাড়ছে, তখন নতুন নতুন স্থানীয় ব্র্যান্ড আসছে এবং প্রতিযোগিতা করছে।

 

দাম বাড়ানোর প্রশ্নে কাজী নাজমুল বলেন, কোভিডের পর পশ্চিম এশিয়া নিয়ে সংকট, ইউক্রেইন যুদ্ধ… সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার কারণে প্রত্যেকটা জিনিসের দাম বেড়েছে।

 

আমরা চিনির কেজি কিনতাম ৪৬ টাকায়। সেই একই চিনি আমাদের ১৪৫ টাকায় কিনতে হয়। আমাদের বোতলে যে প্লাস্টিক ব্যবহার হয়…এর প্রত্যেকটা জিনিসের দাম বেড়েছে।

 

২০২২-২৩ সালের দিকে এসব কারণে সবগুলো ব্র্যান্ড যখন দাম বাড়াল, তখন বিক্রি উল্লেখযোগ্য কমে গেল। তখন কোম্পানিগুলো দামটাকে সহনীয় পর্যায়ে আনার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্যাকে মনোযোগ দিল। যেমন আমরা ২০০ মিলিতে মনোযোগ দিলাম। কোম্পানিগুলোর সবাই মুনাফা কমিয়ে চেষ্টা করেছে বাজারকে সহনীয় রাখা। 

 

কিছুদিন আগে ইসরায়েল সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে দেশব্যাপী কোকাকোলা বর্জনের ডাক দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টিকে কীভাবে সামলালেন, সেই প্রশ্নও করা হয় কাজী নাজমুলকে।

 

জবাবে তিনি বলেন, প্রথমত এটা ডিজিটাল যুগ। সবার কাছেই তথ্য সহজলভ্য। কোকাকোলা যুক্তরাষ্ট্রের ব্র্যান্ড, এটা সবাই জানে। কোকাকোলার যখন জন্ম হয়, তখন ইসরায়েল বলে কোনো রাষ্ট্র ছিল না।

 

কোকাকোলার প্রতিষ্ঠাতা জন পোমবারটন ইসরায়েলের ছিলেন, এরকম কোনো তথ্য নেই। তিনি খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী ছিলেন। উনাকে ইহুদিদের সঙ্গে যুক্ত করে, এমন কোনো তথ্য নেই। কোকাকোলা পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি। এটাকে কেউ যদি মুসলমান কোম্পানি বলে, বলতে পারে, মুসলিম শেয়ার হোল্ডার আছে। হিন্দু কিংবা খ্রিষ্টানও বলতে পারে। কিন্তু এগুলো আসলে কোনোটাই সত্য না; এটা একটা গ্লোবাল কোম্পানি।

 

বোতলজাত পানীয় খাতের অন্যতম সমালোচনা প্লাস্টিক দূষণ। কোকাকোলা এ বিষয়ে কী ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে জানতে চাইলে সিইও বলেন, “আপনারা লক্ষ্য করলে দেখবেন, বাজারে অন্য পানীয়ের চেয়ে কোকাকোলার বোতলের প্লাস্টিক একটু পাতলা। এটা করা হয়েছে প্লাস্টিকের ব্যবহারটা কমানোর জন্য। আর দ্বিতীয়ত দেখবেন, আমাদের বোতলে লেখা আছে, আমরা ‘রিসাইকেল’ করি। এটার জন্য আমাদের পার্টনার আছে।

 

আমরা চেষ্টা করি, আমরা যতটুকু প্লাস্টিক মার্কেটে দিচ্ছি, অন্তত তার ৭০ শতাংশ যেন আমরা ‘রিসাইকেল’ করে ব্যবহার করতে পারি। আমরা এখনো ৭০ শতাংশে পৌঁছাতে পারিনি, তবে চেষ্টা করছি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ইসলামী ব্যাংকের লোগো। ছবি : সংগৃহীত
ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান হলেন খুরশীদ আলম

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের পদ হারানো মো. খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রোববার (২৪ মে) ব্যাংকটির চেয়ারম্যান জুবাইদুর রহমান পদত্যাগ করার পর তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।   এ বিষয়ে ইসলামী ব্যাংককে একটি চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।   সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হিসেবে তিন বছরের চুক্তিতে নিয়োগ পান খুরশীদ আলম। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে পদত্যাগ করেন।   পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে তিনি ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান। এর আগে সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করার পর তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কোমল পানীয়ে কর কমালেই রাজস্ব বাড়বে তিন গুণ: কাজী নাজমুল হাসান

ফাইল ছবি

সিএমএসএমই পুনঃঅর্থায়ন নীতিমালা শিথিল করলো বাংলাদেশ ব্যাংক

ফাইল ছবি

যমুনা সেতুতে ২৪ ঘন্টায় ২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা টোল আদায়

ছবি: সংগৃহীত
২ হাজার কোটি টাকার কম মূলধনের ব্যাংক নগদ লভ্যাংশ দিতে পারবে না: বাংলাদেশ ব্যাংক

শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ ঘোষণা ও বিতরণের বিষয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য আরও কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ২ হাজার কোটি টাকার কম, তারা চলতি বছর থেকে কোনো নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে না।   শনিবার (২৩ মে) এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোর মূলধনভিত্তি আরও শক্তিশালী করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   সার্কুলারে আরও বলা হয়, যেসব ব্যাংক সব ধরনের সংবিধিবদ্ধ বা আইনি শর্ত পূরণ করে মুনাফা বিতরণের যোগ্যতা অর্জন করবে, তারা তাদের মোট ঘোষিত লভ্যাংশের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ নগদে পরিশোধ করতে পারবে।   এই নতুন নিয়মাবলী ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের লভ্যাংশ ঘোষণা থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী বছরগুলোতেও তা একইভাবে প্রযোজ্য থাকবে।   কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট করেছে যে, এই নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে লভ্যাংশ বিতরণে কঠোর সর্বোচ্চ সীমা (ক্যাপ) আরোপ করা হলেও, পূর্ববর্তী সংশ্লিষ্ট সার্কুলারগুলোর অন্যান্য সমস্ত বিদ্যমান নির্দেশনা—যার মধ্যে ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ জারিকৃত ডিওএস সার্কুলার নম্বর ০১-ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে—তা পুরোপুরি বহাল ও কার্যকর থাকবে।   বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, চলমান অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা, ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিকভাবে ব্যাংকিং খাতের মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী করাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

টেক্সটাইল খাতকে টেকসই করতে শিল্পের দক্ষতা ও শিক্ষার মানোন্নয়ন জরুরি: মুক্তাদির

ছবি : সংগৃহীত

মোবাইল খাতে কর সংস্কারে ২ বিলিয়ন ডলার রাজস্বের সম্ভাবনা

ছবি : সংগৃহীত

জার্মানির আমান গ্রুপ বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও কারখানা সম্প্রসারণ করছে : সিইও মার্কাস নিকোলাউস

ফাইল ছবি
‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ ইউনিট’-এর নাম পরিবর্তন করল বাংলাদেশ ব্যাংক

দেশে ডিজিটাল পেমেন্টের প্রসার ত্বরান্বিত করতে ও ক্যাশলেস (নগদবিহীন) লেনদেন ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যমান ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ ইউনিট’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলা কিউআর বাস্তবায়ন ইউনিট’ নামকরণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক (বিবি)।  আজ জারি করা বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সার্কুলারে বলা হয়, দেশব্যাপী বাংলা কিউআরভিত্তিক লেনদেন সম্প্রসারণে অধিকতর গুরুত্ব নিশ্চিত করতে সব তফসিলি ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) ও পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরদের (পিএসও) নিজ নিজ প্রধান কার্যালয়ে বিদ্যমান ইউনিটের নাম অবিলম্বে পরিবর্তন করে ‘বাংলা কিউআর বাস্তবায়ন ইউনিট’ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, নগদ লেনদেনের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং সারাদেশে বাংলা কিউআর প্ল্যাটফর্মের সম্প্রসারণ ত্বরান্বিত করার মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল পেমেন্ট অবকাঠামোকে শক্তিশালী করাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য। নতুন নির্দেশনার অংশ হিসেবে ব্যাংক, এমএফএস প্রদানকারী ও পিএসপিগুলোকে তাদের মোবাইল অ্যাপে গ্রাহক নিবন্ধন বাড়াতে ও গ্রাহকদের সহজ ব্যবহারের জন্য অ্যাপের হোমপেজে বাংলা কিউআর পেমেন্ট অপশন দৃশ্যমান রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সার্কুলারে আরও বলা হয়, মার্চেন্ট পেমেন্ট নেটওয়ার্ক দ্রুত সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বৈধ ট্রেড লাইসেন্সধারী খুচরা হিসাবধারীদের বাংলা কিউআর চ্যানেলের আওতায় আনতে সব তফসিলি ব্যাংককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ছাড়া, ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত মোবাইল অ্যাপে গ্রাহকের নিবন্ধন বৃদ্ধি ও বাংলা কিউআর চ্যানেলে নতুন করে মার্চেন্ট অনবোর্ডিং-এর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রাসহ কর্মপরিকল্পনা আগামী ৩ জুন ২০২৬-এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের পিএসডি-১ বিভাগে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও নির্দেশ দিয়েছে, মাঠপর্যায়ে সেবাটির প্রচার ও বাস্তবায়ন তদারকির জন্য প্রতিটি তফসিলি ব্যাংকের প্রতিটি শাখায় একজন করে ‘বাংলা কিউআর ব্র্যান্ডিং অফিসার’ নিয়োগ দিতে হবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শিল্প ও কৃষিখাতে নতুন গতি আনতে বিশাল সহায়তা প্যাকেজ

ছবি : সংগৃহীত

কিছু ব্যাংকমালিকের বিলাসী জীবনযাপন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ অর্থমন্ত্রীর

ছবি : সংগৃহীত

এক বছরে কৃষিঋণে খেলাপি বেড়েছে ২৯০ শতাংশ, নেপথ্যে কী কারণ?

0 Comments