ক্যারিয়ারের প্রথম তিন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মোট উইকেট ছিল মাত্র তিনটি। এবার সেই সংখ্যার দ্বিগুণ উইকেট এক ম্যাচেই শিকার করে ইতিহাস গড়লেন বতসোয়ানার পেসার নাবিল মাস্টার। মিতব্যয়ী বোলিংয়ে গড়ে ফেলেছেন নতুন বিশ্বরেকর্ডও।
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আফ্রিকান উপ-আঞ্চলিক বাছাইপর্বে রোববার মালির বিপক্ষে ২.৪ ওভারে মাত্র ২ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন ৩৪ বছর বয়সী এই পেসার। পুরুষদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৬ বা তার বেশি উইকেট নেওয়া বোলারদের মধ্যে এটিই সবচেয়ে কম রান খরচের রেকর্ড।
এর আগে এই রেকর্ড ছিল সিঙ্গাপুরের হার্শা ভারদ্বাজের দখলে। ২০২৪ সালে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে ৪ ওভারে ৩ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।
টি-টোয়েন্টি সংস্করণে বতসোয়ানার হয়ে এক ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া প্রথম বোলার এখন নাবিল। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সেরা বোলিংয়ের তালিকাতেও জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।
মালির ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে প্রথম বোলিংয়ে এসে মাত্র ১ রান দেন নাবিল। পরে অষ্টম ওভারে ফিরে টানা আঘাতে কোনো রান না দিয়ে তুলে নেন ৩ উইকেট। নিজের পরের ওভারের প্রথম চার বলেই আরও ৩ উইকেট নিয়ে মালির ইনিংস গুটিয়ে দেন মাত্র ২৪ রানে।
সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বতসোয়ানা ১০ উইকেটের বড় জয় তুলে নেয় মাত্র ২.২ ওভারে।
২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয়েছিল নাবিলের। প্রথম ম্যাচে একটি উইকেট পেলেও পরের ম্যাচে বোলিং করার সুযোগই পাননি। এরপর দীর্ঘ সাত বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর গত শনিবার আবার মাঠে ফেরেন তিনি। সেদিন ১০ রানে ২ উইকেট নিয়ে জয়ে অবদান রাখা এই পেসার এবার হয়ে গেলেন ম্যাচের নায়ক।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
আধুনিক ফুটবলের রাজা কে? লিওনেল মেসি নাকি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো? এই তর্ক বোধহয় আরও অনেকদিন থেকে যাবে। দু'জনকে প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে খেলতে দেখা গেলেও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে একে অপরকে বেশ সম্মান দিয়েই কথা বলতে দেখা গেছে। তেমনই এক সাক্ষাৎকার একটি গণমাধ্যমকে দু'জন দিয়েছিলেন ২০১৯ সালের ইউসিএল ড্র'তে। যে সাক্ষাৎকারে অবশ্য বেশিরভাগ কথা রোনালদোই বলেছেন। মেসি স্প্যানিশ ভাষায় অল্প কথা বলে অংশ নিয়েছিলেন মাত্র। সেই সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ যমুনার পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো। উপস্থাপক: ক্রিশ্চিয়ানো, আপনি এখনও এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা, সেই রেকর্ড এখনও আপনারই আছে। ক্লাব এবং দেশের হয়ে আপনার দারুণ একটা বছর কেটেছে, ইতালিতে আপনার প্রথম মৌসুমেই স্কুদেত্তো জিতেছেন, পর্তুগালের হয়ে নেশন্স লিগও জিতেছেন। আপনি চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসেন। ইতালিতে এই প্রথম বছরটা আপনার কেমন কাটলো? ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো: অসাধারণ। এটি একটি বিশেষ বছর ছিল কারণ আমি রিয়াল মাদ্রিদে ৯ বছর ছিলাম এবং সেখান থেকে ইতালিয়ান লিগে যাওয়াটা একটি বড় সিদ্ধান্ত ছিল। তবে এটি বেশ ভালো ছিল। বছরটি চমৎকার ছিল। আমি তিনটি শিরোপা জিতেছি। সুপার কাপ, সিরি এ, এবং নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে নেশন্স কাপ, যা অসাধারণ। বছরটা অসাধারণ ছিল এবং আমি খুবই আনন্দিত। আরও এক বছর, আরও একটি রেকর্ড। একদম নিখুঁত। উপস্থাপক: আপনাদের দুজনকেই (মেসি ও রোনালদো) আমরা বেশ কিছুদিন একসাথে পাইনি। তাই আপনারা যখন দুজনেই এখানে আছেন, আমরা লক্ষ্য করেছি আপনারা অনেক কথা বলছেন। আপনারা কি একে অপরকে মিস করেন? লিওনেল মেসি: হ্যাঁ, আমি তো আগেই বলেছিলাম, ওকে স্পেনে পাওয়াটা দারুণ ছিল। আমাদের একটা সুন্দর প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল, বিশেষ করে ও রিয়াল মাদ্রিদে ছিল বলে। আর এখন ও অন্য একটা বড় দলে আছে এবং আমরা স্পেন থেকে ওকে দেখি। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো: বিষয়টা মজার। কারণ আমরা ১৫ বছর ধরে এই মঞ্চটি ভাগ করে নিচ্ছি, আমি এবং সে (মেসি)। ফুটবলে এমনটা কখনও ঘটেছে কি না আমার জানা নেই। একই মঞ্চে সব সময় একই দুজন মানুষ। আপনারা জানেন এটা সহজ নয়। আর অবশ্যই, আমাদের সম্পর্ক ভালো। যদিও আমরা এখনও একসাথে রাতের খাবার খাইনি, তবে আশা করি ভবিষ্যতে খাবো। আরেকটা কথা, স্পেনে খেলাটা আমি মিস করি। গত ১৫ বছর ধরে আমাদের মধ্যে যে লড়াইটা ছিল, তা দারুণ। সে আমাকে অনুপ্রাণিত করত, আমিও তাকে তাগিদ দিতাম। ফুটবলের এমন ইতিহাসের অংশ হতে পেরে ভালো লাগছে। আমি সেখানে আছি এবং অবশ্যই লিও-ও সেখানে আছে। উপস্থাপক: সম্প্রতি আপনার একটি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল? আপনি বলেছিলেন যে আপনি আগামী বছর অবসর নিতে পারেন (২০১৯ সালে বলা কথা)। আমার মনে হয় এটা খুব স্পষ্ট যে আপনি এখনই অবসর নিচ্ছেন না, আপনি আরও কিছুদিন খেলবেন। আমরা কি আপনাকে একটা অনুরোধ করতে পারি, যাতে আপনি আর লিও একই সময়ে অবসর নেন? ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো: ও আমার চেয়ে দুই বছরের ছোট। তাই চালিয়ে যাওয়া উচিত। তবে আমি মনে করি আমার বয়সের তুলনায় আমাকে ভালোই দেখায়। আমি এখনও খারাপ নেই (মজার ছলে)। আমি আশা করি আগামী বছর, দুই বছর পর, এমনকি তিন বছর পরও এখানে থাকবো। তাই যারা আমাকে অপছন্দ করে, তাদের আমাকে এখানেই দেখতে হবে। উপস্থাপক: নিন্দুকেরা তো খেলারই অংশ, তাই না ক্রিশ্চিয়ানো? আমরা চাই এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা যতদিন সম্ভব চলতে থাকুক। আপনাদের দুজনকেই অনেক ধন্যবাদ।
‘লিবার্তে, এগালিতে, ফ্রাতের্নেতে’। ফ্রান্সের এই তিন জাতীয় মূলমন্ত্রের বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘স্বাধীনতা, সমতা ও একতা’। ২০১৮ বিশ্বকাপ জয়ের পর ফ্রান্সের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই তিন মূলমন্ত্র বদলে হয়ে যায় ‘স্বাধীনতা, সমতা ও এমবাপ্পে’। আর এই বিশ্বকাপে ফ্রান্সের ত্রয়ী যেমন খেলছে, তাতে আপনি চাইলে এই মূলমন্ত্রটি বদলে ‘এমবাপ্পে, দেম্বেলে ও ওলিসে’ করে ফেলতে পারেন! এই বিশ্বকাপে ‘ছবির দেশে, কবিতার দেশের’ ফ্রান্সের খেলা মানেই কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসের সবুজ মাঠে শিল্পীর তুলিতে আঁকা কোনো চিত্রকর্ম। বিশ্বকাপে এই তিন জনের অবদান দেখুন—এখন পর্যন্ত এমবাপ্পে ৮টি গোল করে ফেলেছেন, সঙ্গে ৩টি অ্যাসিস্ট। বেশি অ্যাসিস্টের সুবাদে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার ওপরে। পরশু মরক্কোর বিপক্ষে দেম্বেলেও করে ফেলেছেন টুর্নামেন্টে নিজের পঞ্চম গোল, বিশ্বকাপে ফ্রান্সের একমাত্র হ্যাটট্রিকটি ব্যালন ডি’অরজয়ী ফরোয়ার্ডেরই। ওলিসের এখনো গোল না পাওয়াটাকে দুর্ভাগ্যের সঙ্গে রহস্যও বলতে পারেন। তবে পাঁচ গোল করিয়ে অ্যাসিস্টের তালিকায় তিনি আবার সবার ওপরে। সামনে হাতছানি দিচ্ছে কিংবদন্তি পেলের এক বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ছয় অ্যাসিস্টের কীর্তি। এর বাইরেও তিনজনের ‘টেলিপ্যাথিক’ বোঝাপড়াটা এমনই দুর্দান্ত যে কে বলবে তিনজন এই প্রথম বড় কোনো আসরে একসঙ্গে খেলছেন! এক বিশ্বকাপে একই দলের দুজনের অন্তত পাঁচ গোল করার আরেকটা কীর্তিও মনে করিয়ে দিয়েছেন এমবাপ্পে ও দেম্বেলে। সর্বশেষ ২০০২ বিশ্বকাপে যেটি ছিল দুই ব্রাজিলিয়ান গ্রেট রোনালদো ও রিভালদোর। কাকতালীয়ই বটে, এমবাপ্পে-দেম্বেলের মতো রোনালদো-রিভালদোর গোলও ছিল ৮টি ও ৫টি। এবার ওলিসেকে যদি সেই বিশ্বকাপের তরুণ রোনালদিনিওর সঙ্গে তুলনা করেন, তাহলে এই ত্রয়ী ব্রাজিলের সেই স্মৃতি মনে করিয়ে দিতে পারে। তুলনাটা এখনই বাড়াবাড়িই হয়ে যাবে, ফ্রান্সের এই ত্রয়ী তো এখনো বিশ্বকাপ জেতা থেকে আরও দুই ম্যাচ দূরে। কিন্তু একটা জায়গায় ব্রাজিলের সেই ‘থ্রি আর’ কেও ছাড়িয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। ফ্রান্সের তিনজনের এই বিশ্বকাপে মোট গোল ও অ্যাসিস্ট হয়ে গেছে ২৩টি, ২০০২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সেই তিনজনের যা ছিল মোট ২০টি। সেটি আরও বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ ফ্রান্সের এই তিনজনের সামনে। প্রতিপক্ষ রক্ষণের নাভিশ্বাস ছড়ানো এই তিনজনকে নিয়ে ম্যাচের পর তাই স্তুতি গাইছেন সবাই। ফ্রান্স-নরওয়ে ম্যাচের পর তাদের কোচ স্তালে সলবাকেন যেমন ঘোষণা করে দিয়েছেন, ‘ফ্রান্সের আক্রমণ সন্দেহাতীতভাবে এই বিশ্বকাপের সেরা।’ এই তিনজনের সঙ্গে দেজিরে দুয়ের নাম যোগ করে সলবাকেন বলেছিলেন, আক্রমণে বিশ্বকাপে এই চারজন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। সুইডেন কোচ গ্রাহাম পটার যেমন বলেছিলেন, ফ্রান্সের এই আক্রমণকে কীভাবে থামানো সম্ভব, তিনি জানেন না! আর এই সতীর্থদের নিয়ে ফ্রান্সেরই আক্রমণভাগের আরেক সদস্য ব্রাডলি বারকোলা বলেছেন, এই তিনজনের সঙ্গে খেলাটাই অবিশ্বাস্য অনুভূতি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই ত্রয়ীর জায়গা কোথায়? ফ্রান্সেরই ২০১৮ বিশ্বকাপজয়ী দলে এই ত্রয়ীর মধ্যে শুধু এমবাপ্পে ছিলেন, সেবার আক্রমণের বাকি দুজন ছিলেন গ্রিজমান ও জিরু। এমবাপ্পে ও গ্রিজমানময় সেই টুর্নামেন্টে জিরু অবশ্য কিছুটা আড়ালেই ছিলেন। অন্যদিকে ১৯৯৮ ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী দলে সেই অর্থে কোনো ত্রয়ী ছিলেন না। সেবার ফ্রান্সের হয়ে ফাইনালে তাদের সর্বোচ্চ স্কোরার থিয়েরি অঁরিই প্রথম একাদশে খেলেননি। আর ষাট ও সত্তরের দশকে ফুটবলেও চার, এমনকি পাঁচজন ফরোয়ার্ডও একসঙ্গে খেলতেন। সত্তরের ব্রাজিল দলে যেমন পেলে-তোস্তাও-জেয়ারজিনহো ও রিভেলিনো এই চারজনের নাম একসঙ্গেই নিতে হয়। ক্লাব ফুটবলে ত্রয়ী বলতে বার্সেলোনায় মেসি-নেইমার-সুয়ারেজের এমএসএন বা রিয়াল মাদ্রিদের বেল-বেনজেমা-রোনালদোর বিবিসি ত্রয়ীর নাম আসে। এমবাপ্পে-দেম্বেলে-ওলিসে যেভাবে খেলছেন, তাতে এই দুই ত্রয়ীর স্মৃতিও মনে পড়ে যেতে পারে আপনার!
খেলাধুলার ইতিহাসে এমন কিছু ব্যক্তিত্ব আছেন, যাদের সাফল্যের চেয়ে সংগ্রামের গল্প মানুষকে বেশি স্পর্শ করে। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো তেমনই একজন। অন্যদিকে ভারতীয় মহাকাব্য মহাভারত-এর কর্ণও এমন এক চরিত্র, যিনি পরাজিত হয়েও মানুষের শ্রদ্ধা ও সহানুভূতি অর্জন করেছেন। দুই ভিন্ন সময়, ভিন্ন বাস্তবতা ও ভিন্ন পরিচয়ের এই দুই ব্যক্তিত্বের জীবনে কিছু বিস্ময়কর মিল খুঁজে পাওয়া যায়। কর্ণ জন্ম থেকেই নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হন। নিজের পরিচয় ও সামাজিক অবস্থানের কারণে তাঁকে বারবার অবমূল্যায়নের শিকার হতে হয়েছিল। কিন্তু অসাধারণ দক্ষতা ও কঠোর সাধনার মাধ্যমে তিনি নিজেকে ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর জীবনেও ছিল একই ধরনের সংগ্রাম। পর্তুগালের মাদেইরার সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে তিনি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছেন। তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল শৃঙ্খলা, কঠোর পরিশ্রম এবং কখনো হাল না ছাড়ার মানসিকতা। কর্ণকে যেমন সারাজীবন অর্জুনের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, তেমনি রোনালদোকেও দীর্ঘ দুই দশক লিওনেল মেসির সঙ্গে তুলনার মুখে পড়তে হয়েছে। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আধুনিক ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত অধ্যায়। তবে দুই খেলোয়াড়ের পথ, সামর্থ্য ও অর্জন ভিন্ন হওয়ায় তাদের মূল্যায়নও ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে করা উচিত। রোনালদোর ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ও আবেগঘন। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে পারফরম্যান্সে পরিবর্তন এসেছে, জাতীয় দলে নিজের জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তবু দেশের হয়ে শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার ইচ্ছা তিনি কখনো হারাননি। এই অদম্য মানসিকতাই তাঁকে কোটি ভক্তের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক করে তুলেছে। কর্ণের জীবন আমাদের শেখায়, সব লড়াইয়ের শেষ বিজয়ে হয় না; কখনো কখনো সম্মান ও আত্মত্যাগই একজন মানুষকে অমর করে তোলে। একইভাবে রোনালদোর গল্পও শুধু ট্রফি, গোল কিংবা ব্যক্তিগত পুরস্কারের গল্প নয়; এটি অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস এবং প্রতিকূলতাকে জয় করার এক অনন্য উদাহরণ। তাই রোনালদোকে কর্ণের সঙ্গে তুলনা করা একটি সাহিত্যিক রূপক হতে পারে, তবে এটি ঐতিহাসিক বা বাস্তব সমতুল্যতা নয়। একজন পৌরাণিক বীর এবং অন্যজন আধুনিক ফুটবলের কিংবদন্তি—দুজনেরই পরিচয় আলাদা, কিন্তু সংগ্রাম, আত্মনিবেদন এবং অসম্পূর্ণতার মধ্যেও মহান হয়ে ওঠার গল্প তাদের এক সুতোয় গেঁথে দিয়েছে।