দেশের পাঁচটি নদীর পানি এখনো ছয় জেলার সাতটি পয়েন্টে বিপৎসীমার উপরে থাকার তথ্য দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
এসব নদীর পানি কোনো কোনো পয়েন্টে কিছুটা কমলেও অন্যান্য স্থানে বেড়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
পানি বাড়ায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, হবিগঞ্জ ও চট্টগ্রামের পাশাপাশি নেত্রকোণা জেলাও বন্যার কবলে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় সোমেশ্বরী নদীর পানি নেত্রকোণার কলমাকান্দা পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্র করে।
সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়ে সাঙ্গু নদীর পানি। শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় সাঙ্গুর পানি বান্দরবান পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৯০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে এই পয়েন্টে বিকাল ৩টার তুলনায় পানি ১১ সেন্টিমিটার কমেছে।
বান্দরবানের লামা পয়েন্টে মাতামুহুরী নদীর পানি সন্ধ্যা ৬টায় বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল, যা বিকাল ৩টার চেয়ে ১৫ সেন্টিমিটার।
তবে চট্টগ্রামে সাঙ্গু নদীর পানি দোহাজারী পয়েন্টে আরো বেড়ে বিপৎসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বিকাল ৩টায় পানির উচ্চতা ছিল ৪ সেন্টিমিটার কম।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুশিয়ারা নদীর পানি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ৩ ঘণ্টার ব্যবধানে ১ সেন্টিমিটার বেড়ে সন্ধ্যায় ৬টায় বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি অপরিবর্তিত থাকলেও তা বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
মৌলভীবাজারের মনু নদীর পানি ৩ ঘণ্টায় ১১ সেন্টিমিটার কমলেও সন্ধ্যা ৬টায় বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার উপরে ছিল। তবে এ অঞ্চলে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে সোমেশ্বরী নদী।
৩ ঘণ্টায় ১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে সন্ধ্যা ৬টায় কলমাকান্দা পয়েন্টে নদীটি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সুরমা, সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, সোমেশ্বরী ও ভুগাই-কংস নদী অববাহিকার সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদী বন্যা দেখা দিতে পারে।
উত্তরাঞ্চলীয় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদী অববাহিকার নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলায় নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলেও একই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরি ইত্যাদি নদীর পানি আগামী ২৪ ঘণ্টায় ধীর গতিতে কমতে পারে। এতে নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির ধীর গতিতে উন্নতি হতে পারে।
“মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, ধলাই, খোয়াই ইত্যাদি নদীর পানি আগামী ২৪ ঘণ্টায় ধীর গতিতে কমতে পারে এবং নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির ধীর গতিতে উন্নতি হতে পারে।”
মৌসুমী বায়ু ও নিম্নচাপের প্রভাবে গেল রোববার থেকে টানা বৃষ্টি ঝড়ছে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে। এই বৃষ্টির পানি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বন্যার কবলে পড়েছে দেশের আটটি জেলা।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১০ লাখের বেশি মানুষ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
দেশের পাঁচটি নদীর পানি এখনো ছয় জেলার সাতটি পয়েন্টে বিপৎসীমার উপরে থাকার তথ্য দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এসব নদীর পানি কোনো কোনো পয়েন্টে কিছুটা কমলেও অন্যান্য স্থানে বেড়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। পানি বাড়ায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, হবিগঞ্জ ও চট্টগ্রামের পাশাপাশি নেত্রকোণা জেলাও বন্যার কবলে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় সোমেশ্বরী নদীর পানি নেত্রকোণার কলমাকান্দা পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্র করে। সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়ে সাঙ্গু নদীর পানি। শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় সাঙ্গুর পানি বান্দরবান পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৯০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে এই পয়েন্টে বিকাল ৩টার তুলনায় পানি ১১ সেন্টিমিটার কমেছে। বান্দরবানের লামা পয়েন্টে মাতামুহুরী নদীর পানি সন্ধ্যা ৬টায় বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল, যা বিকাল ৩টার চেয়ে ১৫ সেন্টিমিটার। তবে চট্টগ্রামে সাঙ্গু নদীর পানি দোহাজারী পয়েন্টে আরো বেড়ে বিপৎসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বিকাল ৩টায় পানির উচ্চতা ছিল ৪ সেন্টিমিটার কম। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুশিয়ারা নদীর পানি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ৩ ঘণ্টার ব্যবধানে ১ সেন্টিমিটার বেড়ে সন্ধ্যায় ৬টায় বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি অপরিবর্তিত থাকলেও তা বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। মৌলভীবাজারের মনু নদীর পানি ৩ ঘণ্টায় ১১ সেন্টিমিটার কমলেও সন্ধ্যা ৬টায় বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার উপরে ছিল। তবে এ অঞ্চলে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে সোমেশ্বরী নদী। ৩ ঘণ্টায় ১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে সন্ধ্যা ৬টায় কলমাকান্দা পয়েন্টে নদীটি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সুরমা, সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, সোমেশ্বরী ও ভুগাই-কংস নদী অববাহিকার সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদী বন্যা দেখা দিতে পারে। উত্তরাঞ্চলীয় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদী অববাহিকার নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলায় নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলেও একই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরি ইত্যাদি নদীর পানি আগামী ২৪ ঘণ্টায় ধীর গতিতে কমতে পারে। এতে নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির ধীর গতিতে উন্নতি হতে পারে। “মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, ধলাই, খোয়াই ইত্যাদি নদীর পানি আগামী ২৪ ঘণ্টায় ধীর গতিতে কমতে পারে এবং নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির ধীর গতিতে উন্নতি হতে পারে।” মৌসুমী বায়ু ও নিম্নচাপের প্রভাবে গেল রোববার থেকে টানা বৃষ্টি ঝড়ছে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে। এই বৃষ্টির পানি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বন্যার কবলে পড়েছে দেশের আটটি জেলা। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১০ লাখের বেশি মানুষ।
কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণে অবহেলার অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বরখাস্ত হওয়া ছাদেকুর রহমান পদোন্নতি পেয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের তদন্ত চলছিল। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন তিনি। এ দিন উপসচিব থেকে যুগ্ম সচিব হয়েছেন ১৭৯ জন কর্মকর্তা। সেই তালিকায় ৬৭ নম্বরে রয়েছেন ছাদেকুর রহমান। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, বর্জ্য অপসারণে ছাদেকুরের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি এখনও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত হিসেবে আছেন। গত ২৮ মে ছিল ঈদুল আজহা। নগরবাসী নানা স্থানে কোরবানি দেয়। সেই বর্জ্য ঠিকমতো অপসারণ করা হয়েছে কিনা তা দেখতে ঈদের পরদিন নিজেই গাড়ি নিয়ে বের হন প্রধানমন্ত্রী। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সিটি করপোরেশন কর্মীদের পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম দেখেন তিনি। পরিদর্শনের সময় হাতিরপুল, এলিফ্যান্ট রোড, গ্রিন রোড, ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজার এলাকায় কোরবানির পশুর বর্জ্যের পাশাপাশি আগের জমে থাকা ময়লা রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। বর্জ্য অপসারণে অবহেলার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। এরপর তাঁর নির্দেশে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। একই সঙ্গে নির্দেশ ছিল দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার। পরে দায়িত্বে অবহেলার কারণে এই দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্তের নির্দেশ দেন। তারা হলেন- ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৫ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ছাদেকুর রহমান এবং এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল- ১ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী সালেহ মুস্তানজির। জানা যায়, কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
চার দশকের রেকর্ড বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম। নগরীর জলাবদ্ধতা কিছুটা কমলেও উপজেলাগুলোয় চরম মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। সাঙ্গু, ডলু, ফেনী, হালদা নদীর পানির উচ্চতা বেড়ে লোকালয়ে বইছে পানির স্রোত। ১০ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের। বন্যা, জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসে গত তিনদিনে নারী-শিশুসহ আট জনের মৃত্যু হয়েছে। অনেকের গৃহপালিত পশু, পুকুরের মাছ, খামার ভেসে গেছে পানিতে। স্থগিত করা হয়েছে এইচএসসি পরীক্ষা। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, মৌসুমী বায়ু ও উজানের ঢলে দেশের দক্ষিণ পূর্ব ও উত্তর পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। এরমধ্যে চট্টগ্রামের সাঙ্গু নদীর বান্দরবান পয়েন্টে ৯৫ সেন্টিমিটার ও দোহাজারী পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া মাতামুহুরী নদীর লামা পয়েন্ট ৪৭ সেন্টিমিটার ও চিরিঙ্গা পয়েন্ট ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল থেকে চট্টগ্রামসহ দেশের আট বিভাগে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী দুইদিনে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে ২-৫’শ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টির আভাস দিয়েছে সংস্থাটি। সমুদ্র বন্দরগুলোতে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ী ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের উপজেলাগুলো বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সকল স্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সব উপজেলায় ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে।’ জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বন্যা কবলিত মানুষকে উদ্ধার ও খাবার পৌঁছে দিতে স্পিডবোটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ২’শ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে আরও ২০ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। আরো বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলছে। ৬২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত আছে। দুর্গতদের সেখানে নেওয়া হচ্ছে। সেখানে পর্যাপ্ত শুকনো খাবার ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জানা গেছে, চট্টগ্রামের বন্যা কবলিত এলাকাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিপর্যস্ত অবস্থায় আছে বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ ও সন্দ্বীপ উপজেলা। এসব উপজেলার অধিকাংশ এলাকাই পানির নিচে তলিয়ে আছে। কোথাও বুক সমান, কোথাও কোমর সমান পানির কারণে মানুষ গৃহবন্ধী হয়ে আছে। এর বাইরেও বোয়ালখালী, হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। বাঁশখালী উপজেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, প্রায় ৫ লাখ জনসংখ্যার এই উপজেলার অধিকাংশ গ্রামই পানির নিচে। পানির স্রোতে বঙ্গোপসাগরের তীরে নির্মিত বেড়িবাঁধের অনেকাংশ ভেঙ্গে যাওয়ায় জোয়ারের সময় পানির তীব্রতা বেড়ে যাচ্ছে। আবার সাঙ্গু নদী দিয়ে অনবরত পাহাড়ী ঢলের পানি এসে পুরো উপজেলাকে প্লাবিত করেছে। গণ্ডামারা, পুঁইছড়ি, ছনুয়াসহ উপকূলীয় ইউনিয়নগুলোর পানির উচ্চতা ৮-১০ ফুট পর্যন্ত ছাড়িয়ে গেছে। বন্যার স্রোতে চট্টগ্রাম-বাঁশখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙ্গে গিয়ে যান চলাচল চরম ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। পাশের উপজেলা সাতকানিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, সাতকানিয়া উপজেলার ৭০ শতাংশের অধিক এলাকা বন্যা কবলিত। সামর্থ্য থাকার পরও অনেকে পযাপ্ত খাবারের যোগান পাচ্ছেন না। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৪ ঘন্টার কন্ট্রোল রুম চালু করে সার্বক্ষনিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি অনেকে বেসরকারিভাবেও অনেকে এগিয়ে আসতে শুরু করেছেন। বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক বলেন, বোয়ালখালীর অধিকাংশ এলাকাও বন্যার পানিতে তলিয়ে আছে। বিশেষ করে নদী তীরবর্তী মানুষ চরম সংকটে আছে। টানা ৪-৫ দিনের বৃষ্টিতে চুলা বন্ধ হয়ে গেছে। নিম্ন আয়ের মানুষের সংকট তুলনামূলক বেশি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধ্যমতো রান্না করা ও শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ঢলে ভেসে গেলো দুই শিশু: বাঁশখালী উপজেলার বাহারছাড়া ইউনিয়নে পাহাড়ি ঢলে মিরাজ (৫) ও আশিক (৬) নামের দুই শিশু পাাহাড়ী ঢলে ভেসে গেছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পৃথক দুর্ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়। এদের মধ্যে আশিক ওই ইউনিয়নের দক্ষিণ ইলশা গ্রামের কামাল উদ্দিনের পুত্র। মিরাজ রত্নপুর এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে। স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার সকাল ১১টায় দুই শিশু নিজ নিজ বাড়ির উঠানে খেলছিলো। এসসয় পূর্বদিক থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তীব্রতায় তারা ভেসে যায়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এই দুই শিশুসহ চট্টগ্রাম নগর, আনোয়ারা, রাউজান ও হাটহাজারীতে পাহাড়ী ঢল, পাহাড়ধ্বস, দেয়াল ধ্বস ও বন্যার পানিতে গত তিনদিনে মোট আট জনের মৃত্যু হয়েছে।